ট্যাগ কুবি

  • অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

    প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • কুবির আইন বিভাগে তালা, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

    কুবির আইন বিভাগে তালা, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না নেওয়া এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভাগে তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রকৌশল অনুষদের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটিতে প্রায় আট মাসের সেশনজট বিদ্যমান। অনেক সময় পরীক্ষার আগের রাতে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয় এবং পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়েই কোর্স সম্পন্ন করা হয়। কারণ ছাড়াই অনলাইন ক্লাস নেওয়া, ইনকোর্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করা ইত্যাদি।

    এছাড়া শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই কোর্সে একাধিক শিক্ষক দায়িত্ব পালন করায় সেমিস্টার দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিভাগে কোনো সুস্পষ্ট একাডেমিক রোডম্যাপ না থাকা, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস গ্রহণ না করা এবং বারবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে তা পেছানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

    শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কখনো কখনো একই দিনে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করতে গেলে পদত্যাগের ভয় দেখানো, সনদপত্র আটকে রাখার হুমকি দেওয়া এবং মামলা করার ভয় প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    কর্মসুচিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবি সমূহ হলো –

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স রেজাল্ট প্রকাশ করতে হবে, ৭ মাসের মধ্যে বাকি ২ সেমিস্টার শেষ করার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স ও ফাইনাল পরীক্ষার পূর্ণ একাডেমিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষা শেষের ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, শিক্ষক সংকট থাকলে গেস্ট টিচার দিয়ে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখতে হবে ও এসব বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং আন্দোলনের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ফল বা একাডেমিক ক্ষতি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আইন বিভাগ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা সেলিম ছোঁয়া বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছিলো ইনকোর্স পরীক্ষার এক সপ্তাহ পর আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবে। সেই হিসেবে আগামীকাল ২৪ জুন আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবার কথা। কিন্তু আজকে এসে উনারা বলছেন ১টা কোর্সের প্রথম মিডটার্ম আবার দিতে হবে। আমরা যে বাকি ডিপার্টমেন্টের থেকে পিছিয়ে আছে, সেখানে ওনারা আমাদের সেমিস্টার পিছিয়ে নিচ্ছেন শুধু।

    বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম বলেন, গত কয়েক মাসে আমাদের বিভাগে একাধিকবার বিভাগীয় প্রধান পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তাদের নেওয়া কোর্সগুলোর ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কয়েক মাসের সেশনজটে পড়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এত কমসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে বিভাগ পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভাগীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রো-ভিসি ম্যাডাম বিভাগে এসে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনেছেন। আগামী সোমবার থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হবে। এছাড়া পরবর্তী দুই সেমিস্টারের একাডেমিক রোডম্যাপ আগামীকালের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

    উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনেছি। এর মধ্যে যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভাগের শিক্ষক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।