ট্যাগ কুটনীতি

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। দেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এই শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, সোলার প্যানেলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, হালাল ফুড খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। খুব দ্রুতই এই সকল প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ শ্রমিক তারা নেবে। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে।

    বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো: শহিদুল হাসান।

    পরে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তা আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের রেজিস্টার্ড শ্রমিক মালয়েশিয়াতে রয়েছে প্রায় আট লাখের মতো। আনরেজিস্টার্ড কিছু রয়েছে। সেগুলো যাতে রেজিস্টার্ড হয়- এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করে।

    মালয়েশিয়ারও প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আমাদের দেশের ঢাকা মেডিক্যাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যালসহ বিভিন্ন মেডিক্যালে পড়াশোনা করে।

    রাজধানীর সড়কে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মূল সড়কে ই-রিকশা আমরা চলতে দেবো না। আটটি জোন করে তাদেরকে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে চলতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটি তিনটি ভাগে ভাগ থাকবে। আমরা ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেবো তার যাত্রী সংখ্যা হবে দুই এবং চার। ছয়জনের কোনো ভেহিক্যালকে, মানে ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলেছি। দুই, চার, ছয়ের রেজিস্ট্রেশন পাবে গ্রামীণ এলাকায়, জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য তারা পাবে। সেটা অবশ্যই বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী যারা তৈরি করবে, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে।’

    নীতিমালা কবে নাগাদ প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। ভেটিংয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই বা পরের সপ্তাহেই, যত দ্রুত সম্ভব এটা দিয়ে দেবো। আইনের আলোকে এই নীতিমালাটা দিলেই ই-রিকশাগুলো, ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়কে যে রাবার কার্পেটিং হয় সেই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে পলিমার মডিফাই বিটুমিন মানে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়শিয়া রাজি হয়েছে। এটা সাধারণত রোড কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। আপনারা জানেন যে মালয়েশিয়ার রাস্তাগুলো- ওখানে কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু তাদের কার্পেটিংয়ের রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। তারা কার্পেটিংয়ের সাথে রাবারটা ইউজ করে।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।