করলা

  • করলার দাম নেই

    করলার দাম নেই

    রাজশাহী দুর্গাপুরে করলার দাম না পেয়ে বাজারেই ফেলে দিচ্ছেন কৃষক আশরাফুল। মাঠভরা করলা, কিন্তু বাজারে নেই কাঙ্ক্ষিত দাম। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা বাজারেই ফেলে দিচ্ছে করলা। রাজশাহী দুর্গাপুরে করলা ও সবজিচাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় মাত্র আড়াই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায়, কেউ ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন আবার কেউ বিক্রি না হওয়া করলা হাটবাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে করলা চাষে তাদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে সেই বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশ টাকাও ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।পৌর এলাকার করলাচাষি শালঘড়িয়া গ্রামের রাকিবুল বলেন, বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে করলা চাষ করেছিলাম। এখন বাজারে ১০০, ১৫০ বা ২০০ টাকা মণ দাম দিচ্ছে। লোকসান গুনতে গুনতে আমাদের আর কোনো পুঁজি অবশিষ্ট নেই। গত শুক্রবার উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমাণ করলাসহ সবজির আমদানি। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বলছে না। ফলে একেবারে কেনাবেচা নেই। দাম না বলায় হাটের মধ্যে প্রায় তিন মণ করলা পা দিয়ে নষ্ট করছেন চাষি আশরাফুল। এ সময় তিনি বলেন, দেড় বিঘার মতো জমিতে চাষ, নিড়ানি, সেচ আর সার-মাটি দিতে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা চলে গেছে। কিন্তু ৩৫টা পয়সাও ঘরে উঠাতে পারিনি। বাজারে এসে ১২০ টাকা মণ দর বলছে পাইকাররা। তাই নিজের রাগ ও ক্ষোভে নিজের সবজি নিজেই নষ্ট করে ফেলছি।

    এদিকে, বাজারের এই চরম মন্দাভাব সইতে না পেরে অনেক কৃষক মাঠের ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন। কানপাড়া বাজারের কৃষক মোকলেছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক কেজি টিএসপি সার কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে। আর এক মণ করলা বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫০ টাকায় । ফলে সারের দাম উঠছে না। রাগে সবজি ধরা তাজা গাছ কেটে দিয়েছি। আর সার-ওষুধও দেব না, গাছও রাখব না। চাষির দিকে তাকানোর কেউ নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এ মৌসুমে উপজেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছিল। প্রথম দিকে কৃষকরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করে ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে এখন দাম কিছুটা কমে গেছে।

    দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, কৃষকদের উৎপাদিত সবজিসহ করলা ও গাছ কেটে ফেলে না দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সবজির বাজার ওঠানামা করে। কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্য পান, সেজন্য আমরা কৃষি বিপণন বিভাগসহ উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করা যায়, দ্রুতই কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।

  • করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি করে করলা খান। কখনো জুস করে আবার কখনো করলার ভাজি বা তরকারি খেয়ে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগী ছাড়াও গরমে আরাম পেতে অনেকেই উচ্ছে বা করলার তরকারি ও ঝোল রাঁধেন। এই সবজি অনেক উপকারী, তবে বেশি করলা হতে পারে বিপদের কারণ। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি করলা খাওয়ার অভ্যাস লিভার ও অন্ত্রের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    বেশি করলা খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

    রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া
    উচ্ছে বা করলার বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাত্রায় করলা, উচ্ছে বা উচ্ছের রস খান, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। এর ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।

    লিভার বা যকৃতের ক্ষতি
    উচ্ছে ও করলায় ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকরা একে লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলে থাকেন। ডায়রিয়া ও পেটের তীব্র সমস্যা
    উচ্ছেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সেটিভ উপাদান থাকে। তবে অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে পাকস্থলীর কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা এবং বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতিকর
    গর্ভবতী নারীদের জন্য উচ্ছে অতিরিক্ত খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান জরায়ুকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে গর্ভপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।