ট্যাগ এমবাপ্পে

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • এমবাপ্পের আক্ষেপ , ‘মেসি তো ফাইনালে গোল করবেই’

    এমবাপ্পের আক্ষেপ , ‘মেসি তো ফাইনালে গোল করবেই’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙেছেন লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত এই অর্জনও ফরাসি অধিনায়কের হতাশা দূর করতে পারেনি। কারণ, তার কাছে রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ।

    শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তৃতীয় স্থানও হাতছাড়া করে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে অকপটে বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের আনন্দ ছাপিয়ে তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ফাইনালে না খেলতে পারার আক্ষেপ।

    বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যাওয়া এমবাপ্পে বলেন, “আমি সবসময় দলের জন্য গোল করতে চাই। এত গোল করতে পারা অবশ্যই বিশেষ কিছু। কিন্তু সত্যি বলতে, এই রেকর্ড না পেলেও যদি ফাইনাল খেলতে পারতাম, সেটাই বেছে নিতাম।”

    রোববার স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিয়েও নিজের ধারণা জানিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসিকে নিয়ে হাসিমুখেই তিনি বলেন, “লিও তো সবসময়ই গোল করে। কালও (আজ) সে অবশ্যই গোল করবে।”

    বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেও আপাতত সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন এমবাপ্পে, “ফুটবল ক্যারিয়ারের উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসির দিক থেকে এটি অবশ্যই দারুণ অর্জন। হয়তো অবসরের পর একদিন ভাবব, আমিও কিংবদন্তিদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে এসব আমার মাথায় নেই।”

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এমন হতাশাজনক শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “প্রথমার্ধ দেখে সমর্থকরা যদি হতাশ হয়ে থাকেন, আমি সেটা বুঝতে পারি। আমরা মানুষ, খারাপ দিন আসতেই পারে। প্রথমার্ধে আমরা পুরোপুরি ছন্দহীন ছিলাম।”

    তবে বিরতির পর দলের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেন তিনি, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের আসল রূপে ফিরেছিলাম। অনেক বেশি তীব্রতা আর আবেগ নিয়ে খেলেছি। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।”

    এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ালেন দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তাই প্রিয় কোচকে জয় দিয়ে বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়ে এমবাপ্পের কণ্ঠে।“আমরা তার জন্য বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে মনে হয়েছে যেন আমরা তাকে হতাশ করেছি। আমরা তাকে এভাবে বিদায় জানাতে চাইনি। ফ্রান্সের ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একটি ম্যাচের হার কখনোই তার কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারবে না।”- বলেন ফরাসি অধিনায়ক।

  • ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা যা করেছি, তা কোনোভাবেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মানের ছিল না। আমরা প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছি।’

    এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘বল পুনরুদ্ধার করার পরও আমাদের আক্রমণ, পাস এবং প্রথম স্পর্শ; এসব কিছুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযুক্ত ছিল না। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো যা দরকার, তা আমাদের মধ্যে ছিল না।’

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে মার্ক কুকুরেয়া, আয়মেরিক লাপোর্তে ও উনাই সিমনের দৃঢ় প্রতিরোধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    ২০ বছর পর সেমিতে স্পেন ও ফ্রান্স, জমে উঠেছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করেন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করার একমাত্র কৃতিত্ব মেসির।আজ রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল‍্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

    ম‍্যাচে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের উল্লেখযোগ‍্য অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো- ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর এবারই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলছে। এছাড়া এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল অতীতে শিরোপা জেতা চার দল। ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপেরও সেমি-ফাইনালেও ছিল একই চিত্র।

    আসরে লিওনেল মেসি এমন ২০ টি পাস দিয়েছেন যেগুলো থেকে লক্ষ‍্যে শট নিয়েছেন সতীর্থরা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তিন আসরে গোল পোস্টে ২০ বা এর বেশি এমন পাস দিয়েছেন (২০২২ সালে ২১ টি ও ২০১৪ সালে ২৪ টি)।

    চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স চলতি আসরে টানা চার ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করেছিল। তাদের ওই যাত্রা থামে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।

    বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সমান গোল করেছে কর্ণার থেকে। অথচ গড় উচ্চতার দিক থেকে এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্চতা তৃতীয় সর্বনিম্ন। কর্ণারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সেট পিসে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছে আর্জেন্টিনা।

    চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি কোয়ার্টার-ফাইনালে শুরুর একাদশে খেললেন লিওনেল মেসি। এর আগে খেলেছেন- জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উয়ে সিলার। বিশ্বকাপে হুলিয়ান আলভারেসের পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। দিয়েগো মারাদোনাও নকআউট পর্বে চার গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাদের উপরে আছেন লিওনেল মেসি (৭)।

    ডাইভ দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাগাইল এমবোলো। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এই কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেস (বিপক্ষ পর্তুগাল, ২০০৬), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (বিপক্ষ ব্রাজিল, ২০০৬) এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২)। এ নিয়ে চলমান আসরে নকআউট পর্বের ৮টি ম্যাচ (২৮তম ম্যাচে) অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। এর আগে সমান সংখ্যক ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে। এই দুই আসরে নকআউট পর্বে ছিল ১৫ ম্যাচ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১-এ।

    বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ পর গোল করতে পারলেন না মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের পর, এবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন। কর্ণার থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তের গোলে অবদান রেখে বিশ্বকাপে মোট ১০ অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মারাদোনা করেছেন ৮ অ্যাসিস্ট। মেসির এই ১০ অ্যাসিস্টে ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলার গোল করেছেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কখনও বিশ্বকাপে এতো আগে (দশম মিনিট) অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। এটি কর্ণার থেকে করা মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট। কিলিয়ান এমবাপের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ গোলে অবদান রাখেন তিনি। এমবাপেও ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।

    মাক আলিস্তেরের গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও মূল আসর মিলিয়ে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। এই চক্রে ১১ ম্যাচে (বাছাইপর্বে ৬ ম্যাচ ও বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ) কখনই পিছিয়ে পড়েনি দলটি। বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ ৮ নকআউট ম্যাচে ১৩ গোলে (৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন মেসি।

    বিশ্বকাপে এ নিয়ে ১৩ বার আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। পেছনে পড়ে গেল জার্মানি। টাইব্রেকারসহ হিসেব করলে এই ১৩ ম্যাচের ১১ টিই জিতেছে আর্জেন্টিনা। পঞ্চম বারের মতো অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। ছয় জয় নিয়ে সবার উপরে আছে ইতালি।

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১৫ গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। শেষ ৬০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপে অবদান রেখেছে ১৪ ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেছিল আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন।

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে দেরিতে গোল করার রেকর্ড এখন লাউতারো মার্তিনেসের দখলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১তম মিনিটে গোল করেন তিনি।

  • মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ জুলাই পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮।

    তবে টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। কারণ, ৮ গোলের পাশাপাশি তার রয়েছে ৩টি অ্যাসিস্ট। মেসির অ্যাসিস্ট ২টি। এছাড়া এমবাপ্পে এই কীর্তি গড়েছেন ৫৬৩ মিনিট খেলে, আর মেসি খেলেছেন ৬০৮ মিনিট।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড। তার গোল ৭টি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।

    চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনেরই গোল ৬টি এবং অ্যাসিস্ট ১টি করে। তবে কম সময় মাঠে খেলায় (৫৭৪ মিনিট) বেলিংহাম এগিয়ে আছেন কেইনের (৬২৭ মিনিট) তুলনায়।

    এখন টুর্নামেন্টে টিকে আছে শুধু আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন। ফলে এমবাপ্পে, মেসি, বেলিংহাম ও কেইনের সামনে সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনালে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    এখানে উল্লেখ্য, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়। অ্যাসিস্টও সমান হলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হয়।

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ফ্র্যান্স। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন।

    বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডে গড়েন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

    সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপ্পে।

    শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।