এমপি

  • ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। হুমকির একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গালাগাল করতে এবং তাঁকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা। আজকে কইতাছে তারে বুলে পিটাইছে মোতাহার তালুকদারের লোকে। এই…মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন…দেয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

    ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।

    মুহাম্মদুল্লাহ, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

    বিএনপির কর্মী সোহরাব হোসেনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব, অন্য দেশে যুদ্ধ চলতেছে—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তুই এমপির যোগ্য? তোরে এমপির মতো লাগে? রাজনীতি করতে সবকিছু মিলায়া যোগ্যতা লাগে। রমজান মাস আইলে টুপি পইরা দাওয়াত খাইছস, এখন এমপি হইয়া গেছস। ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না?…দেখছস কী, একবারে চোখ তুইল্লালবাম…। আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম।’

    স্থানীয়রা জানান, সোহরাব হোসেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী। তাঁর বাড়ি রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে। ভিডিও বার্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহরাব হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেনছবি: প্রথম আলো

    হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ। তাঁরা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। উসকানি দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।’

    সংসদ সদস্যকে হুমকি বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নন; সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ অ্যালাউ করি না। যে কেউ হতে পারে, আমার শত্রু হতে পারে—তার ব্যাপারে এমন কথা কেন বলবে? ভিডিও না মুছে ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে জানিয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এমপিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও, সরকারি দলের এমপিরা তা নেননি।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের শহীদ শাফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আইনজীবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল’ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন–ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এমপি, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ারসহ আরও অনেকে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।

    শিশির মনির অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের বিধান অনুসারে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যদিও সরকার এগুলো সংশোধন করে পুনরায় প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিরোধী দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্বৈত শপথ নিলেও সরকার দলীয় নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেন তারা।

    বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। জনতার স্রোতে ভেঙে যায় ১৬ বছর ধরে গড়ে ওঠা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।’

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

    ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

    তাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন না দেখার কথাও জানান নোয়াখালী–১ আসনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাংকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নেই। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলে একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

    নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন দলের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ

    তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে তিন মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

    তিনি জানান, শিল্পী মমতাজকে দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    এর মধ্যে আছে আশুলিয়ায় মনিরুজ্জামান হত্যা, মিরপুরের সাগর হত্যা ও আশুলিয়ায় আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলা।

    গত বছরের ১২ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনে একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন মমতাজ

    সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ- ২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর শেষ হাসি হাসতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান মমতাজ বেগম।