এমপিও প্রতিষ্ঠান

  • স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে, বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও শুধু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করে তার এমপিও বাতিল ও বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ‘মো. মোজাম্মেল হক বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

    প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চর নিয়ামত আইডিয়াল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ না থাকায় স্থানীয় ব্যক্তি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ওই বছরের ১১ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক ১৯ জুলাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিদ্যালয় ভবন স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ বিদ্যালয়টি নতুন স্থানে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়। তবে, পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অনুমতি একই বছরের ৬ অক্টোবর বাতিল করা হয়। এরই মধ্যে নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি আবার মূল স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর বিদ্যালয় ভবন অন্যত্র স্থানান্তরের তথ্য গোপন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হককে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

    নোটিশে তথ্য গোপনের অভিযোগে কেন তার এমপিও বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। প্রধান শিক্ষক ১৭ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।

    এরপর ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পরে এমপিও বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। তবে এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারাধীন ওই রিটে একটি সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী শিক্ষক। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

    এ রায়ে মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রিটকারী শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত তার প্রাপ্য সব বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

  • কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নতুন পরিপত্র জারি করেছে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়কসহ শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মাধ্যমেই হবে।

    এর আগে ২০২৫ সালের পরিপত্রে এসব পদে নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে সেই নির্দেশনা বাতিল করায় অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে আগের ব্যবস্থাই পুনর্বহাল হলো।