শিক্ষা ডেস্ক:
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ ও সুপারিশের ক্ষমতা সীমিত করে তা আবারও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব ও ঘুষের সুযোগ ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রমসংক্রান্ত এক সভায় একজন আমলা এ বিষয়ে মতামত ও নির্দেশনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ওই সভায় এনটিআরসিএর নিয়োগক্ষমতা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয় এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনেককে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিলেও কার্যবিবরণীতে লেখা হয়েছে—‘সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর ভেতরেও।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এনটিআরসিএর কাঠামো পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে একজন সংসদ সদস্যের সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে এনটিআরসিএর নিয়োগ ও সুপারিশসংক্রান্ত বিধানের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানা যায়নি।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতারা বলছেন, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৫ সালে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির হাতে দেওয়ার ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকের মতে, ঘুষ ও প্রভাবমুক্ত নিয়োগের কারণে এনটিআরসিএ ‘দ্বিতীয় সরকারি কর্মকমিশন’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে সেই অর্জন নষ্ট হবে এবং নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়বে।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীসহ দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও হবু শিক্ষক এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপে নয়, বরং এনটিআরসিএকে আরও শক্তিশালী করেই শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।
প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও আগারগাঁও-তালতলা সরকারি কলোনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাত থেকে নিয়ে পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়া চরম ভুল ও আত্মঘাতী হবে।”
এ অবস্থায় ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন শিক্ষক সমাজের অনেকে। তাদের প্রশ্ন—মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থাকে দুর্বল করার সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে?