বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো টিনের চালা, ভাঙাচোরা কাঠের বেড়া ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় ৪৫ জন এতিম ও দরিদ্র শিশুকে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণসহ সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজীর উদ্যোগে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবনে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট সুবিধার আওতায় আসে। তবে বর্তমানে ৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১৮ জন। বাকি ২৭ জনের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার টিনের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং বহু জায়গায় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। নড়বড়ে খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা ও ছিদ্রযুক্ত টিনের চালার কারণে ভবনটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই কক্ষে গাদাগাদি করে বসে শিশুদের কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল জানায়, রাতে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাপ, ব্যাঙসহ বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে, ফলে নিরাপদে ঘুমানোও সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।
স্থানীয় সমাজসেবক গুলজার হোসেন, পিন্টু মিয়া ও আবুল হোসেন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য আলী হোসেন ও শিক্ষকরা জানান, মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত শিক্ষক, একটি একাডেমিক ভবন এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও একটি পাকা ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং সুবিধাবঞ্চিত ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ ঘরের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।
