এআই

  • এআই বিনিয়োগে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

    এআই বিনিয়োগে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

    ব্যয় কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের যোগ্য কর্মীরা এ সুযোগ পেতে পারেন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোম্পানির মোট কর্মীবাহিনীর বড় একটি অংশ এর আওতায় আসবে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোসফট। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো কোম্পানিটিও এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, অর্থ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ প্লাস ডিভাইসেস বিভাগের কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যারা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন কিছু করার কথা ভাবছেন, তাদের কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে যেতে এ উদ্যোগ সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগ।

    এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ

    মাইক্রোসফট চলতি বছরের মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক সময়ে মাইক্রোসফটসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা সেন্টার ও উন্নত চিপ তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে এসব বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত আর্থিক মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

    আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে মাইক্রোসফটের। এর আগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটির নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। মাইক্রোসফটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সে হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগটি কর্মীবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।

    আগেও কর্মী কমানোর উদ্যোগ

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭ শতাংশ কর্মী ছিলেন। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। ওই সময় এক্সবক্স গেমিং ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে এ বিভাগে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পর মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম স্টুডিও থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

    মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিভাগের ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীরা নতুন স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির সুযোগ পাবেন। এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকবে। যোগ্য কর্মীদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা রয়েছে।

    আগের একটি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

  • এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি এখন অনলাইনের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে এ ধরনের ছবি। এআই-নির্ভর নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে, এর জন্য ‘এআই স্লপ’ নামে নতুন একটি শব্দও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব ছবি ও এআই-তৈরি ছবির পার্থক্য করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ইমেজ জেনারেটর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। তাই অনলাইনে কোনো ছবি দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করা জরুরি।

    ১. লেখায় অস্বাভাবিকতা খুঁজুন

    এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো ছবির ভেতরের লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট কিংবা বিজ্ঞাপনের লেখাগুলো যদি বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন মনে হয়, তাহলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    যদিও আধুনিক এআই আগের চেয়ে ভালোভাবে লেখা তৈরি করতে পারে, তবুও ছোটখাটো ভুল অনেক সময় থেকে যায়। তাই সন্দেহজনক কোনো ছবির লেখা জুম করে দেখা কার্যকর হতে পারে।

    ২. হাত ও শরীরের গঠনে নজর দিন

    মানুষের হাত ও আঙুল তৈরি করতে এআই দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় পড়ে। ফলে কোনো ছবিতে অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ বা অস্বাভাবিক গাঁট দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

    শুধু হাত নয়, কবজি, কনুই, ঘাড়, পা কিংবা শরীরের অনুপাতও খেয়াল করুন। চোখ, নাক ও দাঁতের গঠন অস্বাভাবিক হলে সেটিও এআই-তৈরি ছবির ইঙ্গিত হতে পারে।

    ৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা

    অনেক সময় ছবির মানুষটিকে এতটাই নিখুঁত দেখায় যে সেটি বাস্তব মনে হলেও ভেতরে অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত মসৃণ ত্বক, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল চোখ, অত্যন্ত নিখুঁত চুল কিংবা অস্বাভাবিকভাবে সাজানো দাঁত এ ধরনের ছবির সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

    ছবির মানুষটিকে যদি বাস্তবের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত মনে হয়, তাহলে সেটি এআই-তৈরি হতে পারে।

    ৪. সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখালে

    খাবার, পণ্য বা বিজ্ঞাপনের ছবিতে অনেক সময় এআই ব্যবহার করা হয়। কোনো খাবার যদি অবিশ্বাস্য রকম নিখুঁত দেখায়, কোথাও দাগ, ছোপ বা স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা না থাকে, তাহলে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাস্তব ছবিতে সাধারণত আলো, ছায়া, তেল বা অন্যান্য ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা থাকে। এআই-তৈরি ছবিতে এসব অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখা যায়।

    ৫. অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা বা অস্বাভাবিক বিস্তারিত

    এআই-তৈরি ছবিতে কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উপাদান যুক্ত করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিক নকশা, অসম্ভব কোণে ছায়া, বাস্তবতার সঙ্গে না মেলা প্রতিফলন কিংবা অস্বাভাবিক আলোর ব্যবহার এমন ছবির বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

    অনেক সময় পুরো ছবিটিই এমন মনে হয়, যেন একসঙ্গে অনেক কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত নাটকীয়তা এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ৬. সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যাওয়া

    এআই দিয়ে পুরোনো ছবি রঙিন করা বা উন্নত করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার আলাদা বৈশিষ্ট্য বা পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    ফলে ছবিটি বাস্তব আলোকচিত্রের পরিবর্তে আঁকা ছবির মতো দেখাতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।

    প্রযুক্তির সাহায্যেও যাচাই করা যায়

    শুধু চোখের পর্যবেক্ষণ নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবি যাচাই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ কিংবা গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচার ব্যবহার করে ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

    এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপেও ছবি আপলোড করে সেটি এআই-তৈরি কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্কযুক্ত ছবির ক্ষেত্রেও কিছু টুল সহায়তা করতে পারে।

    ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এআই ইমেজ ডিটেক্টরই শতভাগ নির্ভুল নয়। অনেক সময় এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে এআই-তৈরি বলে দেখানো হতে পারে।

    তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির উৎস, প্রেক্ষাপট এবং ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছবির ক্ষেত্রে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

  • এআই কি চিকিৎসকের বিকল্প

    এআই কি চিকিৎসকের বিকল্প

    একজন রোগী হাসপাতালে গেলেন। চিকিৎসক তার রিপোর্ট দেখছেন। আর একই সময়ে কম্পিউটার একটি এক্স-রে বা স্ক্যান বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগের কয়েকটি সংকেত দেখিয়ে দিল। কোথাও অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটি চিকিৎসকের নজরে এনে বলল—‘এই অংশটি আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার।’ শুনতে অনেকটা ভবিষ্যতের গল্পের মতো হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) এরই মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, চোখের ছবি, ত্বকের ক্ষত কিংবা বিভিন্ন মেডিকেল ডেটা বিশ্লেষণে এআই চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—একদিন কি এআইই চিকিৎসকের জায়গা নেবে?

    এআই রোগ শনাক্তকরণকে সহজভাবে বোঝা যায় ‘ডেটা থেকে অস্বাভাবিকতা খুঁজে বের করার’ প্রযুক্তি হিসেবে। একটি এআই মডেলকে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসা-সংক্রান্ত ছবি বা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখানে কোন ছবিতে রোগের লক্ষণ ছিল এবং কোনটিতে ছিল না। এমন উদাহরণ থেকে মডেল নির্দিষ্ট ধরনের প্যাটার্ন চিনতে শেখে। পরে নতুন কোনো মেডিকেল ছবি বা ডেটা দিলে এআই সেটির সঙ্গে আগে শেখা বৈশিষ্ট্যগুলোর মিল খুঁজে সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে।

    ধরা যাক, হাজার হাজার ফুসফুসের এক্স-রে বিশ্লেষণ করে একটি এআই মডেল প্রশিক্ষিত হয়েছে। নতুন একটি এক্স-রে দিলে সেটি ফুসফুসের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ছাপ, গঠন বা নির্দিষ্ট ধরনের পরিবর্তন খুঁজে দেখতে পারে। একইভাবে চোখের রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত চোখের ক্ষতির সংকেত শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ এআই অনেক ক্ষেত্রে ‘রোগের নাম বলে দেওয়া যন্ত্র’ নয়। বরং চিকিৎসকের জন্য সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করার একটি সহায়ক প্রযুক্তি।

    এর বড় সুবিধা হলো দ্রুত বিশ্লেষণ। একজন চিকিৎসককে একই ধরনের অসংখ্য ছবি বা রিপোর্ট দেখতে হলে সময় লাগতে পারে। এআই বড় পরিমাণ ডেটা দ্রুত বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক বিষয়গুলো আলাদা করে দেখাতে পারে। বিশেষ করে এমন হাসপাতালে যেখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেখানে এআই কোনো রিপোর্ট বা ছবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসকের নজরে আনতে সাহায্য করতে পারে। এতে চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ কেসগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করার সুযোগ পেতে পারেন।

    এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো প্রাথমিক শনাক্তকরণ। কোনো রোগের শুরুতেই যদি তার সূক্ষ্ম লক্ষণ পাওয়া যায়, তাহলে চিকিৎসককে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এআই এমন ছোট পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা নাও পড়তে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করলেই যে রোগটি নিশ্চিতভাবে আছে, তা নয়। সেটি হতে পারে আরো পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার একটি সংকেত।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো মেডিকেল ইমেজিং। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও আলট্রাসাউন্ডের মতো বিভিন্ন ছবিতে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার কাজে মেশিন লার্নিং ও গভীর শিক্ষণ (Deep Learning) প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, চোখের রোগ শনাক্তকরণ, ক্যানসারের কিছু বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং রোগীর বিভিন্ন তথ্য থেকে ঝুঁকি অনুমানের মতো ক্ষেত্রেও কাজ হচ্ছে।

    তবে এআই যতই উন্নত হোক, এর ভুল করার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি এআই মডেল যে ধরনের রোগী, যন্ত্র বা ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন হলে ফলাফলের নির্ভুলতা কমে যেতে পারে। কোনো দেশের হাসপাতালের ডেটা দিয়ে তৈরি মডেল অন্য দেশের ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ছবির মান খারাপ হলে, তথ্য অসম্পূর্ণ হলে কিংবা রোগটি খুব অস্বাভাবিক হলে এআই ভুল সংকেত দিতে পারে। আরেকটি বড় বিষয় হলো এআই কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাল। অনেক উন্নত এআই মডেলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মানুষের কাছে পুরোপুরি সহজবোধ্য নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শুধু ‘এআই বলেছে’ যথেষ্ট নয়। কেন এমন ফল এসেছে, রোগীর অন্যান্য লক্ষণ ও পরীক্ষার ফলের সঙ্গে তা মিলছে কি না। এসবও বিবেচনা করতে হয়। এ কারণেই এআইয়ের ফলকে চিকিৎসকের মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    চিকিৎসকের কাজ শুধু একটি রিপোর্ট বা ছবি দেখে রোগের সম্ভাবনা বলা নয়। রোগীর বয়স, আগের রোগ, ওষুধ, শারীরিক লক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস, জীবনযাপন এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল—সবকিছু মিলিয়ে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। একজন রোগী একই রিপোর্ট নিয়ে এলেও তার শারীরিক অবস্থা অন্য রোগীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। এই মানবিক ও সামগ্রিক বিচার করার জায়গাটি এআইয়ের জন্য অত্যন্ত জটিল।

    তাই এআইকে চিকিৎসকের বিকল্পের চেয়ে সহকারী হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। এআই দ্রুত ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে। সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করতে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সাজিয়ে দিতে পারে এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে এআইয়ের কোনো ফলের ওপর ভিত্তি করে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা নিরাপদ নয়।

    এআই ব্যবহারের সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মেডিকেল রেকর্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। রোগীর রিপোর্ট বা ছবি কোনো এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হলে সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে। কে দেখতে পারছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা ও নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে পক্ষপাত বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় কার—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন।

  • ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা, এআই বটের কর্মকাণ্ড স্বীকার করল ওপেনএআই

    ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা, এআই বটের কর্মকাণ্ড স্বীকার করল ওপেনএআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বটের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে তথ্য অনুসন্ধান বা প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা বিশ্বের ‘দশকসংখ্যক’ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে।

    ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এআই এজেন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), সেন্সাস ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানানোর কয়েক দিন পরই ওপেনএআইয়ের এই স্বীকারোক্তি এল। আলবানিজ বলেছিলেন, ওপেনএআইয়ের এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের ওয়েবসাইটে থাকা অপ্রকাশ্য কিছু ফাইলে প্রবেশ করেছিল।

    গত আগস্ট থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য গুরুতর, এমনকি প্রাণঘাতী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    ওপেনএআই বলেছে, তাদের কিছু এআই এজেন্ট—যেগুলো তুলনামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি ও প্রশিক্ষিত—‘জনসাধারণের তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস’ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তবে কিছু এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উদাহরণ হিসেবে ওপেনএআই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য সংগ্রহের সময় তাদের এআই এজেন্ট এমন কিছু টুল ব্যবহার করেছিল, যেগুলো সাধারণত সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

    ওপেনএআইয়ের দাবি, বটগুলো যেসব সরকারি তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেগুলো সবই প্রকাশ্য ছিল।

    তবে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসইসির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা কিছু তথ্য পরে এআই এজেন্ট অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ধরনের কাজ করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। শুক্রবার প্রকাশ করা অন্যান্য ঘটনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কিছু ক্ষেত্রে এআই এজেন্ট এমন তথ্যও স্থানান্তর করেছে, যা তাদের করা উচিত ছিল না।

    এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অন্তত ৫৩টি ঘটনায় ওপেনএআইয়ের কোনো এজেন্ট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর কার্যক্রম থেকে একটি ছবি নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।

    ওপেনএআই বলেছে, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য ব্যবহার করে মডেল প্রশিক্ষণের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, “এটি ওই তথ্য ব্যবহারের উপযুক্ত পদ্ধতি নয়। ”প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর আগে এসব ব্যবহারকারীর ছবি স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছিল। তৃতীয় পক্ষের কাছে স্থানান্তরিত সব ব্যবহারকারীর ছবি মুছে ফেলার জন্য তারা কাজ করছে।

    রয়টার্স প্রথমে এ বিষয়ে বিস্তৃত তদন্তের খবর প্রকাশ করে। পরে ওপেনএআইও তাদের প্রকাশ্য ব্লগে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

    কিছু ঘটনায় এআই এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ‘এড়িয়ে গেছে’ বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য কিছু ঘটনায় ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় এআই এজেন্টের আচরণে ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ দেখা যায়। এআই গবেষক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এই শব্দটি ব্যবহার করে এমন আচরণ বোঝাতে, যখন কোনো এআই সিস্টেমকে যেভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করে।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ সীমিত রেখেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

    ওপেনএআই বলেছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ঘটনার তথ্য দেওয়া এবং কখন ও কীভাবে ঘটনাটি প্রকাশ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ”তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ঘটনার সবগুলোকে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করে দেখতে পারে যে তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকাশ্য ছিল অথবা এআই মডেলের কার্যক্রম উদ্বেগজনক ছিল না। আবার কেউ কেউ তাদের সিস্টেমে নকশাগত সমস্যা বা নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে।

    ওপেনএআই এসব ঘটনার অনেকগুলোকে ‘এজেন্ট স্প্যাম’ হিসেবে উল্লেখ করছে। তাদের ভাষায়, ইন্টারনেটে তথ্য পোস্ট করার মতো এআই এজেন্টের ‘অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক’ কর্মকাণ্ডকে এভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

  • নিরাপত্তায় দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ এআই

    নিরাপত্তায় দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ এআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে তার নিরাপত্তা নিয়ে বৈরী সব প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে এবার খোদ শঙ্কা প্রকাশ করল গুগল।
    জানা গেছে, কিছুদিন আগে বিশেষ সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক পরীক্ষার সময়ে জেমিনি এআই মডেল স্বয়ংক্রিয় পন্থায় তিনটি রিয়েল সিস্টেমে প্রবেশ করে।

    সংস্থাটি বলছে, পরীক্ষার সময়ে জেমিনি অনলাইনে থাকা কয়েকটি চমকে দেওয়া ডেটা খুঁজে বের করে। শুধু তাই নয়, রিয়েল সিস্টেমের ক্রেডেন্সিয়াল ব্যবহার করে এমন সাইটে প্রবেশের পথ তৈরি করে। যেসব সে পরীক্ষার অংশ ছিল বলে জানা যায়। তিনটি ক্ষেত্রেই শেষ অবধি জেমিনি নিজে থেকে অ্যাক্টিভিটি বন্ধ করে দেয়।
    আলোচিত এ ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মধ্যভাগে। স্বাধীন সাইবার সিকিউরিটি চেকিং সংস্থা পরিচালিত পরীক্ষায় জেমিনিকে বিশেষ সিমুলেটেড এনভায়রনমেন্টের মধ্যে কয়েকটি নিরাপত্তার কাজ ও তথ্যের খোঁজ করতে বলা হয়েছে।

    কিন্তু আচমকা দৃশ্যমান হয়, পরীক্ষার মধ্যে অজ্ঞাতে ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার থাকায় মডেলটি প্রকৃত সিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করে।
    শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় জেমিনি পাসওয়ার্ড অনুমান করে ওই সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করে।
    অন্য দুটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পাওয়া ক্রেডেন্সিয়াল ব্যবহার করে সিস্টেমে ভেতরে প্রবেশ করে। সংস্থাটি বলছে, যখন জেমিনি বুঝতে পেরেছে সংশ্লিষ্ট সিস্টেম রিয়েল সংস্থার, তখন সেটি তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তিনটি সংস্থাকে এই সিকিউরিটি ভেদ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
    গুগল সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহসভাপতি হিথার অ্যাডকিন্স বলেছেন, ঘটনাটি সাধারণ নয়; বরং চিন্তার। শক্তিশালী এআই মডেলকে কাজে লাগিয়ে এমন সব কাজ
    করা যেতে পারে, যা ঠিকমতো না করলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
    ঘটনার পেছনে নেপথ্যেঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন এআই এজেন্ট নিয়ে সারাবিশ্বে দুচিন্তা বেড়েছে।

    এর আগে অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই মডেল নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রকাশ্যে হয়েছে।
    ফলে এআইর ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দ্রুত এগোচ্ছে, তা নিয়ে সারাবিশ্বের টেক মহলে বইছে সমালোচনা ঝড়।

    সক্ষমতা কমানোর ভাবনা
    এরই মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই জানান, এআই মডেলের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে কিছুটা কমানো উচিত। এর উন্নয়ন এমন গতিতে এগোচ্ছে যে পাল্লা দিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআইর ইলন মাস্ক এই উদ্বেগে সহমত হয়েছেন।হঠাৎ জেমিনির এমন আচরণ আগামীর সম্ভাব্য বিপদকে ইঙ্গিত করেছে।

  • মানুষ ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এআই

    মানুষ ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় এআই প্রতিষ্ঠান একদিকে গণিতে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে এআই মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    বর্তমানে ‘এআই এজেন্ট’ ফাইল সম্পাদনা, ই-মেইল পাঠানো, টিকিট বুক করা এবং কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজ করতে পারে। তবে এগুলো এখনো মানুষের নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে এআইকে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্রিড, শেয়ারবাজার বা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হলে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই অনুমাননির্ভর।

    ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ দিয়েছে। ক্ষতিকর নির্দেশনা পেলে চ্যাটবট সাধারণত তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিখুঁত নয়। গবেষকেরা কবিতার মতো কাব্যিক ভাষা ব্যবহার করেও ৩১টি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পাশ কাটাতে সক্ষম হয়েছেন।

    এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রস্তাবও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি বাজারে ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সরকারি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। জুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি পর্যালোচনার একটি স্বেচ্ছামূলক কাঠামো তৈরির নির্বাহী আদেশ দেন। এআই ব্যবস্থাকে জরুরি প্রয়োজনে বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে সব ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব নয়।

    এআইকে ‘সুপারইনটেলিজেন্স’-এ পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর কিছু সক্ষমতা ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি। গণিত ও কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজে এটি দ্রুত এগোচ্ছে। তবে সাধারণ বোধ ও বাস্তব জগত বোঝার ক্ষেত্রে এআই এখনো সীমাবদ্ধ।

    এআই দিয়ে ক্যানসার নিরাময়, বিশ্ব ক্ষুধা দূর করা বা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এসব এখনো মূলত সম্ভাবনার কথা। এআই ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় এটি কেবল একটি অংশ।

    চাকরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। একসময় মনে করা হয়েছিল, এআই প্রথমে শারীরিক শ্রমের কাজ কেড়ে নেবে। কিন্তু বর্তমান এআই বরং লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার, হিসাবরক্ষক, ব্যক্তিগত সহকারী ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের কাজকে বেশি প্রভাবিত করছে। সিলিকন ভ্যালির কিছু স্টার্টআপ ইতোমধ্যে কম কর্মী নিয়ে এআই দিয়ে এসব কাজ করছে।

    এআই চালাতে বিপুল অর্থ ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে এবং ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় অঙ্কের ঋণও নেওয়া হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর পানি লাগে। আইওয়ার কাউন্সিল ব্লাফসের একটি ডেটা সেন্টার ২০২৪ সালে নিজস্ব স্থাপনায় ১০০ কোটি গ্যালনের বেশি পানি ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

    চ্যাটজিপিটি সাধারণভাবে ফোন বা আইপ্যাডের ফোল্ডার থেকে নিজে থেকে ব্যাংক হিসাব বা পাসওয়ার্ড নিতে পারে না। তবে ‘এআই এজেন্ট’কে ব্যবহারকারীরা ফোল্ডার, ই-মেইল এমনকি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। এমনটি করা নিরাপদ নয়। এসব এজেন্টের হঠাৎ ফাইল মুছে ফেলা বা অপ্রত্যাশিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার ঘটনাও ঘটেছে।

    এআই দ্রুত উত্তর দিতে পারে কারণ নিউরাল নেটওয়ার্ক বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও শব্দের সম্পর্ক শেখে। তবে এআই ভুল তথ্যও তৈরি করতে পারে, যাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। ফলে এআই যতই দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে উত্তর দিক, এর তথ্য সব সময় নির্ভুল—এমন নিশ্চয়তা নেই।

  • এআই’র অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নেবে সরকার

    এআই’র অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নেবে সরকার

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এআই ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি করে মানুষকে হয়রানিসহ নানা ধরনের অপব্যবহার, এমনকি শিশুদের লক্ষ্য করেও অপতৎপরতা চালানোর ঘটনায় সামাজে উদ্বেগ বাড়ছে। একইসঙ্গে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।

    দেশে-বিদেশে স্বার্থান্বেষী মহল কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ, মতামত ও ছবি প্রচার করছে।

    এআইয়ের অপব্যবহার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌম নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’

    গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীকে শনাক্ত করেছেন, যারা সমালোচকদের কাছে ‘বট বাহিনী’ নামে পরিচিত। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

    নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও শিল্পীদের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চরিত্রহনন এবং সুনাম ক্ষুণ্ন করার হীন তৎপরতায় লিপৃত রয়েছে।’

    এআই হলো এমন এক ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন, যা বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লেখা তৈরি, ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং তথ্য বিশ্লেষণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা খাতে দৈনন্দিন উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তবে এআইয়ের অপব্যবহারের কারণে অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ভরযোগ্য, বোধগম্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই ব্যবস্থা তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    অ্যানথ্রপিক আশঙ্কা করছে, এআই এমনকি সমগ্র মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

    গুগল ডিপমাইন্ডও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবিসিও এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কি এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও প্রসার নিয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ যাতে মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আরো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

    সম্প্রতি এক খোলা চিঠিতে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরির রাশ টানতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্টের কারণে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে তারা তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছন।

    এআইয়ের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তারা প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কঠোর প্রয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    বুধবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশ বর্তমানে ডিজিটাল ও সাইবার ক্ষেত্রে ‘অপরাধের দ্রুত বিবর্তন’ প্রত্যক্ষ করছে।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি সরকারকে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরগুলোতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

    এর আগে ১৭ মার্চ ভিয়েনায় ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের ব্যাপক বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানবপাচার, দুর্নীতি ও আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় বাংলাদেশ এআই-ভিত্তিক অপরাধ শনাক্তকরণ ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা জোরদার করছে।

    সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক দেশে বর্তমানে ৪৪ শতাংশ অপরাধ সাইবার পরিসরে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ বিপদ থেকে নিরাপদ নয়। অনলাইন জালিয়াতি, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল, নারীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বিনষ্টের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সময়োপযোগী আইনের কোনো বিকল্প নেই।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী সম্প্রতি এক মুক্ত আলোচনায় বলেন, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানো এবং নারী, শিশু ও সমাজে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনলাইনে হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হলে সামাজিক অশ্লীলতা বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত ও কলুষিত হবে।’একই সঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনটি সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, কোনো সরকারি সংস্থা নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    মাত্র দুই সেকেন্ডেরও কম সময়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চিকিৎসকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা সাধারণ ইসিজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে মানুষের চোখে ধরা না পড়া তথ্য বের করতে পারে।

    এই প্রযুক্তি হার্ট ফেইলিউর ও হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে। ফলে ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    কয়েক মিলিয়ন ইসিজির তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এই এআই প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো চিকিৎসক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হৃদ্‌রোগবিষয়ক সম্মেলন।

    ইসিজিতে এবার ধরা পড়বে বাড়তি তথ্য

    ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম রেকর্ড করে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের গতি ও ছন্দ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। হার্ট অ্যাটাক ও অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন শনাক্ত করতে প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই পরীক্ষা ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তবে প্রচলিত ইসিজিতে হার্ট ফেইলিউর বা হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায় না। এসব রোগ নির্ণয়ে সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রাম বা হৃদ্‌যন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

    এই পরীক্ষার জন্য রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন এআই প্রযুক্তি সেই অপেক্ষা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ইসিজির ফল বিশ্লেষণ করে এটি খুব দ্রুত এসব রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে।

    ৬৭ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা

    যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ হাজার রোগীর ওপর প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ শনাক্ত করতে পেরেছে এআইটি। হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

    তবে এআইটি একাই কোনো রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করতে পারে না। কারো এসব রোগ নেই—এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।

    বরং কারো রোগ থাকার সম্ভাবনা বেশি কি না, সে বিষয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ঝুঁকি বেশি মনে হলে ওই রোগীকে দ্রুত ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা এড়িয়ে দ্রুত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

    ফলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও আগে শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

    ‘আগে শনাক্ত হলে জীবন বাঁচে’

    ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (বিএইচএফ) অর্থায়নে গবেষণাটি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শক হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল পরিচালক সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, ইসিজি থেকে এআইয়ের এত দ্রুত ফল দিতে পারা ‘উত্তেজনাপূর্ণ’।

    তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত সবাইকে শনাক্ত করতে পারবে না। তবে উচ্চঝুঁকির রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য অগ্রাধিকার দিতে এটি সহায়তা করতে পারে।

    তার মতে, হৃদ্‌রোগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জীবন বাঁচানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

    বছরে প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি

    প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহের বড় কারণ ইসিজির ব্যাপক ব্যবহার।

    বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত করা এই পরীক্ষার তথ্য কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হৃদ্‌রোগবিষয়ক অধ্যাপক ফু সিয়ং এনজি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানোর পর রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন প্রযুক্তিটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শনাক্ত করতে পারলে তাদের দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্ক্যানের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

    অন্য পরীক্ষার সময়ও ধরা পড়বে হৃদ্‌রোগ

    এই এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক এনজি।

    অনেক সময় হৃদ্‌রোগের কোনো সন্দেহ না থাকলেও অন্য কারণে রোগীর ইসিজি করা হয়। সেই ইসিজির তথ্যও এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    হাসপাতালে করা সব ইসিজি এআই মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা গেলে উচ্চঝুঁকির রোগীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

    এতে আগে সন্দেহ না থাকা হার্ট ফেইলিউর ও ভালভের রোগও দ্রুত শনাক্ত হতে পারে।

    হাতে বহনযোগ্য এআই ইসিজি

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক এবং বিএইচএফের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো আহমেদ এল-মেদানি এই বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    তিনি প্রযুক্তিটিকে ‘সুপারহিউম্যান এআই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    এখন গবেষকদের লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের উপযোগী হাতে বহন করা যায়—এমন এআই-নির্ভর ইসিজি যন্ত্র তৈরি করা।

    এ ধরনের যন্ত্র তৈরি হলে হাসপাতালের বাইরে বা প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রেও দ্রুত হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    পাঁচ সেকেন্ডের মুখের ভিডিওতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস

    মিউনিখের সম্মেলনে এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য চিকিৎসা-ব্যবহার নিয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মুখের মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক এই বিশ্লেষণ রোগ নির্ণয় সহজ করতে পারে।

    বিশ্বে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লাখো মানুষ জানেন না যে তারা এসব রোগে ভুগছেন।

    গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি অজানা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

  • এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

    আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

    ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

    ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

    এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।