ঋণ

  • শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা হলেও, এই দেশগুলোতে এখন শিক্ষার পেছনে ব্যয়ের চেয়ে ঋণের সুদ পরিশোধেই বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউনেস্কোর ‘পলিসি পেপার অন রিস্টোরিং ফিসক্যাল স্পেস টু সেভ এডুকেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন মানসম্মত শিক্ষা লাভের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল কারণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পেছনে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের সরকার সামাজিক উন্নয়নের চেয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করাকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিক্ষাব্যয়ের ৩ দশমিক ৩ গুণ ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে। বর্তমানে গ্লোবাল সাউথের ১১৩টি দেশে ঋণ পরিশোধের ব্যয় শিক্ষার পেছনে মোট সরকারি বরাদ্দকে ছাড়িয়ে গেছে। এসব দেশে বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষ বসবাস করে।

    ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনকারী বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে গ্র্যাজুয়েশন বা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াটি আরও তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রাপথের মধ্যেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি করেছে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিক্ষা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দের চেয়ে ঋণ পরিশোধেই সরকারের তিন গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অপরদিকে সরকারি তথ্য ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে নতুন করে কোনো ঋণ না নিলেও কেবল আগের নেয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালামের মতে, সরকার যখন বিশাল অংকের বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য খাতগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তবে তিনি মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার বাজেট কমানো কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। সরকার চাইলে অন্য কোনো খাতের খরচ কমিয়েও শিক্ষার বরাদ্দ পুরোপুরি বজায় রাখতে পারে। কারণ শিক্ষা খাতের ব্যয়টি হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক অবস্থানের সহজে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

    বর্তমানে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবেই বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতেও এ অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে যদি কোনো খাতে ব্যয় কমাতেই হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে শিক্ষা খাতকে এ ধরনের বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে।

    ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর থেকে গড়ে ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ১ ডলার বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যয় দশমিক ২৮ ডলার করে

    হ্রাস পেয়েছে। এ নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তাদের শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত শিক্ষা অর্থায়নের ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারছে না। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অর্জনের জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো বর্তমানে বার্ষিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের স্থায়ী অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

    ইউনেস্কোর মতে, এ সংকটের পেছনে আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ ঋণ। ঐতিহাসিকভাবে কেবল বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ঋণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের মেয়াদ সাধারণত কম হয় এবং সুদের হার থাকে অত্যন্ত চড়া। বর্তমানে মোট ঋণ পরিশোধের প্রায় ৬২ শতাংশই হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০১টি দেশ তাদের মোট ঋণ পরিশোধের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশের ভেতরের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ঋণদাতাদের পেছনে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সবচেয়ে বড় অংশটি যাবে অভ্যন্তরীণ খাতের ট্রেজারি বন্ড ও বিলের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পরিশোধে। এর পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। এ সময় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ম্যাচিউর বা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এর বাইরে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের কিস্তি (আসল) বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সামনের অর্থবছরে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

  • ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    ব্যক্তিগত ঋণ ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য কেনার ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ ধরনের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৮ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর আগে এ ঋণের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

    বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কনজিউমার ডিউরেবলস’ বা দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ঋণসহ পার্সোনাল লোনের বর্ধিত সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৮ বছরের বেশি হবে না।

    একই সঙ্গে দেশীয় মোটরযান শিল্পের বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে অটো লোনের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নিতে পারবেন। তবে ইলেকট্রিক, হাইব্রিড ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

    এ ছাড়া এসব পরিবেশবান্ধব ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাতও শিথিল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারবে। অন্যদিকে সাধারণ অটো লোনের ক্ষেত্রে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।

    সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় ঋণ প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হতে পারবে না—এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনাও বাতিল করা হয়েছে।