চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সিটবাণিজ্য ও কোনো নেতার আনুগত্য পাওয়ার আশায় রাজনীতি করবেন না। নিজে ব্যক্তিগত ভাবে এগিয়ে যান। এতে নিজের অবস্থান ভালো হবে। নেতার জন্য গলা ফাটিয়ে মিছিল করার দরকার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে শুধু বিসিএস ক্যাডার বা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার আশা করা ঠিক নয়। আগে দরকার একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়ার। কারণ, অনেকে হয়ত বলতে পারেন, ম্যাজিস্ট্রেট হলে সরকারি বেতনের পাশাপাশি সম্মান পাওয়া যায়। আমি এটা সমর্থন করি না। কারণ, একজন ম্যাজিস্ট্রেটকেও অনেক ক্ষেত্রে এইট (অষ্টম) পাস পাতি নেতাকে এক মিনিটে ৪১ বার স্যার, স্যার… সম্বোধন করে উঠে দাঁড়াতে হয়।
তাই শুধু বিসিএস ক্যাডার বা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট হলেই সবকিছু পেয়ে যাবেন, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অনেক বেসরকারি চাকরি বা উদ্যোক্তা ম্যাজিস্ট্রেটের চেয়েও বেশি বেতন পান। তাই সবার আগে সবাইকে ভালো ও মানবিক মানুষ হতে হবে। যে যেটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ভালো ভাবে সেইদিকে এগিয়ে যেতে হবে।
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার নবীন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বিজ্ঞান ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চাসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব ভালো দিক গ্রহণের পাশাপাশি খারাপ দিকও রয়েছে। এখানে (বিশ্ববিদ্যালয়) এসে অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়েন। বিপথে চলে যান। তাই সর্তক থেকে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া নবীন বয়সে প্রেমে পড়ে নিজের জীবন নষ্ট করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা ঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিজেকে যোগ্য ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ঊষার আলো সূর্য সংঘের সভাপতি তরুণ কবি ও কলাম লেখক মিনহাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাফায়াত উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন-ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ধর্মতত্ত অনুষদের সাবেক ডিন ড. আকবর মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছায়েম আলী খান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আলমগীর হুসাইন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, প্রকৌশলী গোলাম রাব্বি, সাবিব অটো গ্যালারির স্বত্তাধিকারী আনিসুল আজম, নড়াইলের প্যারাডাইস একাডেমির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু মুসা, বুয়েট শিক্ষার্থী শেখ ইমতিয়াজ, শিক্ষার্থী রাফাত জামিল, ঊষার আলো সূর্য সংঘের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খান মাসুম বিল্লাহ, আমিরুল ইসলাম রানা, আল আমিন মন্ডল, এস এম তন্ময় রেজা, আবির, তাফহিম, মুজাহিদ, বায়েজিদ খন্দকারসহ অনেকে।
বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদের বাড়ি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়।
প্রসঙ্গত সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঊষার আলো সূর্য সংঘ প্রতিবছর নড়াইলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে আসছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩৭ কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৪ মে) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আরো জানানো হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৬৩৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, ১৪৩ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, ৩ জন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের শিক্ষার্থী ও ১৫ জন অন্যান্য আবেদনকৃত শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।