ইসলাম

  • বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    ধর্ম ও জীবন

    ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও ইসলাম এটিকে কোনো শর্তহীন অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং ন্যায়বিচার, আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতিকে একাধিক বিয়ের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিয়ে গোপন রাখার অনুমোদন নেই। বরং বিয়ের পর তা সমাজে ঘোষণা করা বা প্রচার করা আবশ্যক।

    বিয়ের ঘোষণা (ই’লান): রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করো। বিয়ে যে সম্পন্ন হয়েছে, তা যেন সমাজের মানুষ জানতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সাক্ষী ও অভিভাবক: বিয়ের আকদ বা চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুইজন মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষী এবং কনের অভিভাবকের (ওয়ালী) উপস্থিতি থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

    ওলিমা: বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাতসম্মত মাধ্যম হলো ‘ওলিমা’ বা বিয়ের খাবার আয়োজন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের দাওয়াত খাইয়ে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং জানান দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর

    তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)

    ঢোল বাজানো ও আনন্দ করা: ইসলামে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়েদের দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)

  • ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত সমাজে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হওয়া উচিত প্রধান নীতি।

    পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে, রাষ্ট্রে যখন ভিন্ন ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষ একসাথে বসবাস করে; তখন এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং পাবলিকলি অবমাননাকর/ডেরোগেটরি কোনো মন্তব্য করবেন না— এইটাই নর্ম হওয়া উচিত। অন্যথায় সহাবস্থান বিঘ্নিত হবে এবং সমাজে অ্যানার্কি তৈরি হবে।

    ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা, এবং নবী-রাসূলের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, মূর্খ এবং ইতরের মতো এইটাকে আঘাত করা কোনো বাকস্বাধীনতা না, বরং অত্যন্ত নিচু স্তরের অসভ্যতা। এই অসভ্য কাজ যে কোনো সভ্য সমাজে নৈতিক জায়গা থেকে নিন্দাযোগ্য এবং আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।