ট্যাগ ইসলামী ব্যাংক

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আহত হন।

    গ্রাহক ফোরামের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’

    তিনি জানান, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

    অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলার দাবি করেন তাদের একজন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’

  • পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়াই চলছে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডির পদ শূন্য তিন মাসের বেশি সময় ধরে। অথচ আইন অনুযায়ী এই পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে পূরণ করার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে এতদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে ব্যাংকটি। দুপক্ষের দ্বন্দ্বে এসব নিয়োগ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে করে ব্যাংকটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।

    এদিকে, এস আলমের সময় করা নিয়মের কারণে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আটকে আছে।

    বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানতে চাইলে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ নেই। আমি পর্ষদের একটা অংশ মাত্র। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদের প্রয়োজন হয়।

    ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন এভাবে চললে ব্যাংকের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা আরো বাড়তে পারে। তাই দেশের চলমান সংকটে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে পদত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এরপর জুনের শুরু থেকেই ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। গ্রাহকদের বিক্ষোভ, আন্দোলন ও আমানত তুলে নেওয়ার কারণে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়।

    সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুন ব্যাংকটির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দেয়।

    একই দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে। এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ব্যাংকটির যাবতীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    নিয়ম ভঙ্গ তবু এমডি নিয়োগ দিচ্ছে না

    এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত এমডি পদও প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শূন্য। এর আগে ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান দায়িত্বে ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল তৎকালীন বোর্ড তাকে ছুটিতে পাঠায়। ছুটি শেষ হলেও তিনি ব্যাংকে যোগদান করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন।

    এরপর আর নতুন করে নিয়মিত এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অথচ ব্যাংক কোম্পানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, এমডির পদ দীর্ঘসময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতেও বর্তমান পর্ষদে দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকে এমডি পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এমডির সার্বিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। তবে এমডি পদে তিন মাসের বেশি কোনোভাবেই শূন্য রাখা যাবে না। তিন মাসের বেশি শূন্য থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।

    শীর্ষ কর্মকর্তাদের মেয়াদ শেষ, হচ্ছে না নবায়ন

    সরকারি চাকরিবিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর পর্যন্ত। আর ৬৫ বছর পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকতে পারে।

    তবে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

    বর্তমানে ওই ব্যবস্থা বহাল থাকায় একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মকর্তারা পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও তাদের বিষয়ে বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের চাকরির মেয়াদ গত ১১ সেপ্টেম্বর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চাকরির মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের বিষয়ে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আটজনকে পুনর্নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও এসব পর্যায়ে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন নিলেই হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে তা পাঠানো হয়েছে।ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেসব পরিকল্পনা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন শুরু করে। এতে ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

    তবে নতুন পর্ষদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা শুরু হলে ব্যাপক আকারে আমানত উত্তোলন হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিয়ে ব্যাংক টিকে থাকার চেষ্টা করে। বর্তমানে উত্তোলন থামলেও নতুন করে ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। শুধু আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি তো একটি ব্যাংকের মূল কাজ হতে পারে না।

    অন্যদিকে, যারা ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের মেয়াদ শেষ হলেও বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে ব্যাংকটি নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

    করপোরেট গ্রাহকদের সিদ্ধান্তেও স্থবিরতা

    ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না।

    কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, আমার চারটি গার্মেন্টের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

    ব্যাংকটির করপোরেট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বড় করপোরেট গ্রাহকদের ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়মিত প্রক্রিয়ায় এগোলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। ঋণ নবায়ন, সীমা বাড়ানো, নতুন ঋণ সুবিধা, বড় অঙ্কের আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের অস্থিরতার খবর নানা মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে যাচ্ছে। এতে করে এলসি খোলায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও এমডি থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

    উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ইসলামী ব্যাংকের আগের পর্ষদ তিন মাস আগে ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন বোর্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাংকটির বোর্ড দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    পর্ষদ ও এমডির নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, তিন মাসের বেশি এমডি পদ শূন্য থাকার নিয়ম নেই। শূন্য হলে প্রশাসক বসানোর নিয়ম। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এখন যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের লোক রয়েছে, তাই প্রশাসক দেওয়া ঠিক হবে না।

    তিনি আরো বলেন, পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজ করা হচ্ছে। সেটি পেলেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়া হবে।

    আর্থিক সূচকও নিম্নমুখী

    অন্যদিকে, নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্যাংকের আমানতে। আমানত ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে আসে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।

    অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে আছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫২ শতাংশ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    নতুন করে আস্থার সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে এটিই এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

    এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া, প্রকৃত ঋণচিত্র গোপন রাখা এবং পরে এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বিপুল খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মূলধন ঘাটতিও প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩১৬ কোটি টাকা। তারল্য সংকট, ব্যবসা কমে যাওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে সামনে ব্যাংকটির আর্থিক চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ব্যাংকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৭,৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪.৪২ শতাংশ। কিন্তু ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির প্রকৃত ঋণচিত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭,৭৫২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ১০,৮৩ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা আরো বেড়ে ৩২,৮১৭ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ হয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪৭,৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে জুন শেষে তা এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ২,৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তখন ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৫৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে।

    পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬.২৭৫ কোটি টাকা বা ৫৮.২৪ শতাংশ। পরে বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে ৯২,১১৫ কোটি টাকায় নামে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ আদায়ে বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি সুবিধা ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে আসে।

    তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে আবারও বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৫.৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষে আরো ৩.২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯১৫ কোটি টাকায়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে দেওয়া বড় অঙ্কের বিতর্কিত ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে তারল্য ও আস্থার সংকট যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, মূলত ঋণগ্রহীতাদের পেমেন্ট বিহেভিয়ারের কারণেই এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে যেভাবে কিস্তি পরিশোধ করার কথা, সেভাবে করতে পারছেন না। একটি বা একাধিক কিস্তি বকেয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ঋণকে শ্রেণিকৃত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল বা অন্য ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, সেসব ঋণেও নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হলে আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তায় অনেক ঋণের খেলাপি অবস্থা কমেছে। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • ইসলামী ব্যাংকের  আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু নিয়মকানুন ও টুলস আছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

    শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ই মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা কোনো বদলি বা প্রমোশনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

    তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। এরপর থেকেই ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে ব্যাংকটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা মার্চে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

    ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান থার্ড ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই রকম একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করছি।’

    দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।