ইসরায়েল

  • ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলের প্রথম বুথফেরত জরিপে এগিয়ে লিকুদ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই দুই জোটের

    ইসরায়েলে মঙ্গলবারের প্রথম বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশারের চেয়ে এগিয়ে আছে বেনজামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ। তবে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩ নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০ এবং বিরোধী জোটকে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন দিয়েছে।

    এগুলো সম্ভাব্য ফলের প্রাক্কলন, গণনা করা ভোটের ফল নয়। তিন সম্প্রচারমাধ্যম নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে আরব দলগুলোকে ১৭ থেকে ১৮টি দিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা এমন দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে, যারা একসঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করে প্রচার চালিয়েছে। ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোট চলাকালেও গাজা ও হেবরনে সামরিক অভিযান চলেছে।

    জেরুজালেমে নেসেট ভবন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টের ফাইল ছবি। ছবি: ক্লেমা১২, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • ইসরায়েলের সময় রাত ৮টার মধ্যে ভোট পড়ে ৭৪.৩ শতাংশ। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় তা আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
    • কান, চ্যানেল ১২, চ্যানেল ১৩ ও আই২৪নিউজের প্রথম বুথফেরত জরিপে লিকুদ এগিয়ে ছিল। এই চার প্রাক্কলনে প্রধান দুই জোটের কোনোটিই ৬১ আসন পায়নি। প্রধান তিন চ্যানেলে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও আই২৪নিউজ তাঁর জোটকে এগিয়ে রেখেছে।
    • কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১০ থেকে ১১টি এবং রাআম সাতটি আসন। আই২৪নিউজ জয়েন্ট লিস্টকে নয়টি ও রাআমকে সাতটি দিয়েছে। গাদি আইজেনকোট বলেছেন, তিনি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করবেন না। মনসুর আব্বাস বলছেন, রাআম পরিবর্তনের সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে।
    • ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান চলেছে। কানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর নিহতের সংখ্যা সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৯ এবং জাতিসংঘের কমিশনের নিজস্ব হিসাবে ১ হাজার ৪৩১।
    • ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। তিনি প্রথমে ২৮ দিন পাবেন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।

    ভোটের হারে রেকর্ডের গতি

    কমিটির হিসাবে, ইসরায়েলের সময় সকাল ১০টার মধ্যে ভোট পড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ। দুপুরে তা হয় ৩১.৫ শতাংশ, প্রায় ২৪ লাখ মানুষ। বেলা ২টায় ভোট পড়ে ৪৪.৯ শতাংশ, ২০২২ সালের একই সময়ের চেয়ে ছয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বিকেল ৪টার মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট দেন। সন্ধ্যা ৬টায় হার হয় ৬৬.৭ শতাংশ, ২০২২ সালের চেয়ে নয় শতাংশ পয়েন্ট বেশি। রাত ৮টায় তা দাঁড়ায় ৭৪.৩ শতাংশে, আট শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তখন পর্যন্ত ভোট পড়ে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৭টি। দুই আরব দলের শক্তি নির্ধারণে আরব ভোটারদের উপস্থিতির ভূমিকা আছে। তিবি তাঁদের উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলেছেন। স্থানীয় হিসাবে বিকেল নাগাদ রাহাতে ৩৭ শতাংশ এবং নাজারেথ ও তাইবেতে ২৫ শতাংশ ভোট পড়ে। রাত ৮টায় আরব৪৮ প্রকাশিত কমিটির তথ্যের তালিকায় সাখনিনে ৮৩.৫ শতাংশ, কাফর কাসিমে ৮১.৩ শতাংশ ও রাহাতে ৭৯.৮ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলা হয়।

    ভোট চলাকালে নির্বাচন চুরির চেষ্টার অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় ভোটের পরিস্থিতিকে জরুরি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লিকুদের প্রচারের অর্থসংক্রান্ত তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের খামসহ ধরার কথা পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীরা নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ নেই। দিনের শেষ দিকে লিকুদ রাত ১০টার পরও ভোট গ্রহণ চালানোর আবেদন করে। আইজেনকোট এর বিরোধিতা করেন, কমিটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং সময়মতো ভোট শেষ হয়। ব্যতিক্রম ছিল হেবরন। সেখানে রাত ৯টায় বন্ধ হওয়ার কথা থাকা কেন্দ্রগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।

    সরকার গঠনের হিসাব

    প্রথম বুথফেরত জরিপের তুলনায় কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-তে লিকুদ প্রথম। আলাদা আই২৪নিউজের প্রাক্কলনেও লিকুদ প্রথম, তবে সেখানে নেতানিয়াহুর জোটের মোট আসন বেশি। নিচের প্রতিটি সারি একটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রথম প্রাক্কলন। বিভিন্ন জরিপের সীমা মিলিয়ে কল্পিত কোনো পার্লামেন্টের হিসাব করা হয়নি।

    সম্প্রচারমাধ্যম লিকুদ ইয়াশার নেতানিয়াহুর জোট বিরোধী জোট আরব দলগুলো
    কান ২৫ ২১ ৫০ ৫৩ ১৭
    চ্যানেল ১২ ২৪ ২২ ৫০ ৫২ ১৮
    চ্যানেল ১৩ ২৫ ২৩ ৫০ ৫৩ ১৭
    আই২৪নিউজ ২৭ ২০ ৫৫ ৪৯ ১৬

    লিকুদ ও ইয়াশারের আসন নিজ নিজ জোটের মোটের মধ্যেই আছে; সেগুলো আবার যোগ করা যাবে না। প্রতিটি সারিতে শেষ তিন কলামের যোগফল ১২০। এই চারটি প্রথম প্রাক্কলনের কোনোটিতে প্রধান দুই জোটের কেউ ৬১ আসন পায়নি। এখানে চ্যানেল ১৪-এর বুথফেরত জরিপ নেই; এই প্রতিবেদন প্রথম জমা দেওয়ার সময় সেটি পাওয়া যায়নি।

    ভোটের আগের শেষ জরিপে প্রধান তিন চ্যানেল নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০, আই২৪নিউজ ৫৯ এবং চ্যানেল ১৪ দিয়েছিল ৬২ আসন। প্রধান তিন চ্যানেলের শেষ জরিপে লিকুদের ওপর ইয়াশারের যে এগিয়ে থাকা ছিল, প্রথম বুথফেরত জরিপে তা উল্টে যায়। প্রথম চার বুথফেরত জরিপে রিজার্ভিস্টস ও ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল ন্যূনতম ভোটের সীমার নিচে ছিল।

    কোনো সরকার সংসদীয় সমর্থন পাবে কি না, তাতে আরব দলগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাআম প্রথম চার প্রাক্কলনের প্রতিটিতে সাত আসন পেয়েছে। জয়েন্ট লিস্টে আছে হাদাশ, তাল ও বালাদ। সরকারে যোগ দেওয়া, বাইরে থেকে সমর্থন এবং সরকার গঠনের ভোটে বিরত থাকা আলাদা সিদ্ধান্ত। আইজেনকোট তাঁর আপত্তি জানিয়েছেন: “আমি কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট করব না।” কারণগুলোর মধ্যে তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে আরব দলগুলোর অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন। রয়টার্স তাঁর অস্বীকৃতিকে অংশীদারত্বের বিষয়ে বলা বক্তব্য হিসেবে জানিয়েছে। বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাবনা আলাদা প্রশ্ন। আব্বাসের মতে, আসনের হিসাব আইজেনকোটের অবস্থান বদলাতে পারে। তাঁর দল পরিবর্তনের নতুন সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বাইরে থেকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর নিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের পক্ষে ভোটও রয়েছে। নেতানিয়াহু বরাবরই ওই তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    নেতানিয়াহুর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থনের সঙ্গে একটি শর্তও আছে। তিনি রোববার বলেন, ইরানের হুমকি “চূড়ান্তভাবে” দূর করতে ট্রাম্প আবার ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, তবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলেই তা হবে। জবাবে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহু “ভয় দেখানো, মিথ্যা ও হুমকির প্রচারের” ওপর নির্ভর করছেন। জনগণের নির্বাচিত যেকোনো নেতার সঙ্গে ট্রাম্প “পূর্ণ সহযোগিতায়” কাজ করবেন বলে তিনি আস্থা জানান।

    ভোটের দিনও হেবরনে অভিযান

    শুক্রবার একটি তল্লাশিচৌকিতে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান শুরু হয়। নির্বাচনের দিনও তা চলে। মঙ্গলবার শহরে অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি সেনারা স্টান গ্রেনেড ছোড়েন। সেনাবাহিনী বলেছে, অভিযান চালিয়ে যেতে গ্রেনেডটি ছোড়া হয়। নির্বাচনের দিনের জন্য পশ্চিম তীরের স্থল পারাপারপথগুলো বন্ধ করেছে সেনাবাহিনী। রোববার থেকে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

    বাস্তুচ্যুত মানুষের একাধিক হিসাব আছে, প্রতিটির কর্তৃপক্ষ আলাদা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানায়, শুক্রবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তিন হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। হেবরন পৌরসভার সোমবারের হিসাবে বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার ১৮৯ জন। রোববার পর্যন্ত ডেপুটি মেয়রের হিসাবে ৩৭৩ পরিবারের ২ হাজার ২৩১ জন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রায় দুই হাজারের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, হেবরনে হামাসসংক্রান্ত সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফিরতে পারবেন না। নেতানিয়াহু ও কাৎজ হেবরনে জেনিন শরণার্থীশিবিরের আদল প্রয়োগের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছেন: বাসিন্দাদের জোর করে সরানো, বাড়ি তল্লাশি, অস্ত্র জব্দ ও বুলডোজার দিয়ে সড়ক ভেঙে দেওয়া। জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, ব্যবস্থাগুলো শাস্তিমূলক ও ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া। সমষ্টিগত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং গোটা মহল্লা খালি ও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি জাতিগত নির্মূলের গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে বলে তিনি জানান। বাস্তুচ্যুত সবাইকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং বেআইনি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের জন্য ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের শুরু থেকে হতাহত বা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এমন দুই হাজারের বেশি বসতিস্থাপনকারীর হামলাও নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। আগের যেকোনো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।

    অভিযান এখনো চালানো উচিত কি না, তা নিয়ে সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। কান জানায়, চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির নেতৃত্বকে বলেছেন, অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়ার সামরিক যুক্তি আর নেই এবং সরিয়ে দেওয়া পরিবারগুলোকে ফিরতে না দেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জামির অভিযান শেষ করার সুপারিশ করলে নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেনাবাহিনীর রোববারের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়, এলাকায় স্থাপনা ভাঙা হবে এবং বাড়িগুলো তল্লাশি করে সেনারা কোনো অস্ত্র পাননি। কানের বিবরণে প্রায় ৫০০ স্থাপনা তল্লাশি করে একটি রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে অস্ত্রের সংখ্যা আলাদা; পাওয়া বিবরণে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা নেই।

    নির্বাচনের দিনে গাজার যুদ্ধ

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে বলেন, সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি গুলি ও বিমান হামলায় ১১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের এক শিবিরে বিমান হামলায় হুসাম আল-জামলি, ২১, তামের আবু স্নেইমা, ২৪, এবং সাত বছরের এক মেয়ে নিহত হয়। পরে শিবিরে চতুর্থ একজনের মৃত্যুও নিশ্চিত হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এএফপিকে বলেছে, তারা প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর নিহতের বিষয়ে দুটি কর্তৃপক্ষ আলাদা হিসাব দিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর ১ হাজার ৫৫৯ জন নিহত ও ৫ হাজার ৬০৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ৭৪ হাজার ৫৫৫ জন। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন সোমবার জানায়, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে গেছে। ওই সময়ে কমিশনের নিজস্ব হিসাবে নিহত ১ হাজার ৪৩১ জন, যাঁদের অন্তত ৩০০ শিশু। কমিশনের ভাষ্য, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির রেখা বরাবর অন্তত নয়টি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণের এলাকা ৫৩ শতাংশ থেকে অন্তত ৬০ শতাংশে বাড়িয়েছে। ইসরায়েল প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অপতথ্য প্রচারের অংশ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখানে উদ্ধৃত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব সোমবার প্রকাশিত; এটি নির্বাচনের দিনের চূড়ান্ত প্রাণহানির হিসাব নয়।

    গণনার মধ্যে ইরান প্রসঙ্গ

    চ্যানেল ১২ রোববার জানায়, ইরানসংক্রান্ত অনির্দিষ্ট একটি সামরিক নির্দেশ পালনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছেন জামির। তিনি বিস্তারিত আলোচনা, আইনি নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সই চেয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রতিবেদনটিকে আবর্জনা বলে প্রত্যাখ্যান করে কোনো সংঘাতের কথা অস্বীকার করেন। সিএনএন সোমবার জানায়, নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটনকে চাপ দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সবুজসংকেত দেননি। হামলা হলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে জামিরের সতর্কতা ওয়াশিংটনের বিবেচনার বিষয়গুলোর একটি ছিল। নেতানিয়াহুর দপ্তর সিএনএনের খবরকে ভুয়া বলেছে। নির্বাচনের আগে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে মানেননি কাৎজ। মিডল ইস্ট মনিটর মঙ্গলবার জানায়, চ্যানেল ১২ ও ১৩ সোমবার সন্ধ্যায় এই বিরোধ নিয়ে আরও খবর প্রকাশ করেছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নির্বাচনে জিতলে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করবেন বলে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বলেছেন নেতানিয়াহু। চ্যানেল ১২ জানায়, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সোমবার লিকুদের আইনপ্রণেতাদের একত্র করার বৈঠক বাতিল করেন নেতানিয়াহু। সোমবার দেওয়া হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বক্তব্য হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালাবে না এবং অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

    বিরোধী নেতারা নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ইরানবিরোধ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। ইয়াইর লাপিদ লেখেন, শুধু নির্বাচন পিছিয়ে দিতে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছেন এবং তিনি বেসামাল হয়ে গেছেন। আইজেনকোট লেখেন, “নেতানিয়াহু, আমি আপনাকে দেখছি।” তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রাজনৈতিক খেলার হাতিয়ার নয়, তা বুঝতে অস্বীকার করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে চিঠি দেন আভিগদর লিবারম্যান। অন্যদিকে নেতানিয়াহু চ্যানেল ১৪-তে বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু করেছে। এখানে সেই সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবিই তুলে ধরা হচ্ছে। সোমবারের চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনার পর মঙ্গলবার তেহরানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী আলোচনাকে “খুব ভালো” বলেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে। সোমবার সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার হুতিদের দাবি সৌদি আরব এখনো নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে আঘাত করে আগুন ধরিয়েছে তারা। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাটি নিশ্চিত করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, শোধনাগারের টার্মিনালের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে তারা।

    এরপর কী

    • গণনা করা ফলের সঙ্গে এবার বুথফেরত জরিপ মিলবে। নির্বাচন কমিটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করার আশা করছে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করবে বুধবার, ৪ নভেম্বর। এত কাছাকাছি প্রাক্কলনে ৩.২৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটসীমার আশপাশের দল এবং নেসেটে গণনা করা দ্বৈত খামের ভোট আসনের চিত্র বদলাতে পারে।
    • প্রেসিডেন্ট হারজগ এরপর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সদস্যকে। প্রথম মেয়াদ ২৮ দিন; আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন বাড়তে পারে। সরকার গঠিত না হলে দায়িত্ব অন্যের কাছে যায় অথবা আবার নির্বাচন হয়। অন্তর্বর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাজ করে।
    • প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেবরনে অভিযান চলবে। বিপরীতে সেনাপ্রধান অভিযান শেষ করার সুপারিশ করেছেন বলে খবর এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফিরতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান।
    • তেহরানের আলোচনা, অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ভোটগণনা থেকে আলাদা বিষয়।

    পটভূমি: ইসরায়েলের ভোটের আগে যুদ্ধ ও প্রচার