ইসরাইল

  • পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি জেনারেল ইৎজাক ব্রিক সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলি সমাজ বর্তমানে এমন এক গভীর সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, যেখান থেকে পতন ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

    তার দাবি, দেশটির সমাজ বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের কারণে মানুষ একে অপরের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

    ইরানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিক বলেন, ইসরাইল এখন এমন এক সংঘাতপূর্ণ সমাজে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডও নিজেদের পক্ষের স্বার্থের নামে বৈধতা পাচ্ছে।

    ব্রিকের ভাষ্য, কেউ এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সেনাপ্রধানদের সমালোচনা করে তাদের নেতৃত্বের কারণে সেনাবাহিনী ‘খাদের দিকে’ এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করায় বামপন্থীদের একটি অংশ তাকে নেতানিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ রাজনৈতিক নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে সমালোচনা করায় ডানপন্থীদের কাছ থেকে তাকে বামপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আবার হেরেদি সম্প্রদায়ের সমালোচনা করলে ওই গোষ্ঠীর কাছ থেকে তাকে ‘অইহুদি’ বলেও অপমান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সাবেক এই জেনারেলের মতে, ইসরাইলে এখন গোষ্ঠীগত স্বার্থ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিভাজন এতটাই তীব্র হয়েছে যে মানুষ পরস্পরের গুরুতর ক্ষতি করতেও পিছপা হচ্ছে না।

    ব্রিকের আশঙ্কা, এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও পারস্পরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইসরাইলি সমাজের স্থিতিশীলতা আরো দুর্বল হবে এবং দেশটির পতনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়বে।

  • ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

    হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত।’

    ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে হামলা চালাতাম না।’

    ইসরায়েলের সামরিক নীতির সমালোচনা করে ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ‘৯ বা ১০ মিলিয়নের (জনসংখ্যা) একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

    তবে এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

    এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এই প্রসঙ্গে জে ডি ভ্যান্স কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি, বরং তারা বুঝে গেল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে কাজ হয়।’

    এই সমালোচনার জবাবে জে ডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে ইরান কোনো ছাড় পাবে না যদি না তারা শর্ত পূরণ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

  • হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় শনিবার গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে দায়ী করেছে। কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী তাদের পাঁচজন ‘শীর্ষ সদস্যকে’ হত্যা করেছে।

    এক্সে প্রকাশিত পোস্টে জানানো হয়েছে, গাজায় যেসব এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনারা পিছু হটে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, হামাসের হামলাটি ঘটেছে সেই অঞ্চলের মধ্যেই। ইসরাইল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে এসব এলাকা শান্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু হামাসের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। ইসরাইলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ হামাস আবারও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে, ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একজন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আইডিএফ সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরাইল পাঁচজন শীর্ষ হামাস সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।”

    নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরো দাবি করে, ইসরাইল এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলেছে, তবে হামাস তা করেনি। তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন হামাসকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়।