ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদ ভবনের সামনে কালিমা লেখা সংবলিত স্টিলের ফ্রেম স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব ফ্রেম স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কিছু বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য থাকায়, এসব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালেমা সম্বলিত স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারটি অবশ্যই ইতিবাচক- যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে সমান্তরাল। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে- পবিত্র এই বাক্যের পবিত্রতা রক্ষা করা। পবিত্র বাক্যের স্থাপনা নির্মাণ করে তার পবিত্রতা যেন রক্ষা পায়, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।’
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, ‘ইবির মেইন গেট ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালিমা খচিত মনোগ্রাম স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ। তবে মেইন গেটের মনোগ্রামটির নকশা গেটের সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি। গেট অথবা প্রবেশপথ, যেকোনো একটি স্থানে মনোগ্রামটি আরও নান্দনিক, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হলে তা সবার কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষার বিশেষায়িত কিছু বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই; তবে, এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকায় এটিকে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা যায়। ইসলামী ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।’
