ইকুয়েডর

  • জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল জার্মানি। নিউজার্সিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে উঠেছে জার্মানি।

    অন্যদিকে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট।

    বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ইকুয়েডরের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথম গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর, ম্যাচের নবম মিনিটে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

    ম্যাচজুড়ে দুই দলই প্রায় সমানতালে আক্রমণ করলেও প্রত্যাশিত আগ্রাসী ফুটবল খেলতে পারেনি জার্মানি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার নৈপুণ্যে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় ইকুয়েডর। যে গোলে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়ের নয়্যারের কিপিং প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    জার্মানির বিপক্ষে এই জয়ে গোল ব্যবধানে উন্নতি করে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে ইকুয়েডর। তৃতীয় সেরা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম শেষ ৩২-এ উঠল ইকুয়েডর।

    অন্যদিকে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আফ্রিকার দলটিকে।

  • নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে জার্মানি। এখন প্রশ্ন হলো ‘ই’ গ্রুপ থেকে নকআউটে তাদের সঙ্গী হচ্ছে কে? আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, কুরাসাও–এ তিন দলই নকআউটের দৌড়ে আছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কে জার্মানির মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়ায় আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ কুরাসাও। কোনো দল যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, সে জন্য একই সময়ে শুরু হচ্ছে ম্যাচ দুটি।

    দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে আছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডর ও কুরাসাও ১ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে। তবে গোল পার্থক্যে তৃতীয় স্থানে ইকুয়েডর। নকআউটের দৌড়ে থাকলেও ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের কাজটা খুবই কঠিন। ইকুয়েডরকে নকআউটে যেতে হলে আজ জার্মানির বিপক্ষে জিততেই হবে। আর ড্র করলে লাতিন আমেরিকার দেশটির পয়েন্ট হবে ২। গ্রুপে তৃতীয় হলেও ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে যাওয়াটা বেশ কঠিন হবে।

    অবশ্য কুরাসাও যদি আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জিতে যায়, তাহলে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে। কুরাসাও জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারাই নকআউটে চলে যাবে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে আইভরি কোস্টেরও সম্ভাবনা থাকবে। পঞ্চম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইকুয়েডর আগের চারবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। এবারও তারা প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে হেরে ও একটি ড্র করে বিদায়ের পথেই আছে। এরমধ্যে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার পোস্টে লাগানোর পর একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা। এরপর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে।

    নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখতে পারেন জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগলেশমান। গত দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। এরমধ্যে গত ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিয়ে নায়ক বনে যান। গত দুই ম্যাচে ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সে পুরস্কার হিসেবে আজশুরুর একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন স্টুটগার্টের এ স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে বিশ্রাম দিয়ে অলিভার বাউম্যানকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে এ ম্যাচে। গোড়ালির চোটে সেন্টার-ব্যাক নিকো স্লটারবেক ছিটকে যাওয়ায় রক্ষণে জোনাথন টাহয়ের সঙ্গী হতে পারেন এন্টিনিও রুডিগার। লেফট-ব্যাক ডেভিড রাউমও সুযোগ পেতে পারেন আজ।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে জার্মানির মিডফিল্ডে। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা লিয়ন গোরেৎসকা, নাদিম আমিরি আজ শুরু থেকে নামতে পারেন। তাদের সঙ্গে মাঝমাঠে বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাচ্ছে এঞ্জেলো স্টিলারের। আক্রমণভাগে কাই হাভার্টজের জায়গা উনদাভ ও উইংয়ে লেরয় সানে ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের জায়গায় জেমি লেভেলিং ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ইকুয়েডর দলে চোট সমস্যা নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারছে তারা। অবশ্য কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ড্র করা একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে জানা গেছে। জার্মানি ও ইকুয়েডর এখন পর্যন্ত দু’বার মুখোমুখি হবে; যেখানে দু’বারই বিজয়ীর হাসি হেসেছে জার্মানরা।