ইউরোপ

  • ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার কথাও উঠে এসেছে বলে ইরানি সরকারের দুই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে আলোচনা শুরুরও কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ‘বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন’ স্থগিত থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। কিন্তু বাস্তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো খুবই কম।

    চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর হালে ‘কয়েকটি সুন্দর গর্ত’ দেখা যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষা ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। ওমানকে তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির পথে বাধা সৃষ্টি না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।