ইংল্যান্ড

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে শুরুর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় দলে এক-দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের লক্ষ্য সম্ভাব্য সেরা দলটিকে মাঠে নামানো। তবে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।’

    যদিও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানো দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, পরিবর্তন এলে সেটি মূলত মাঝমাঠেই দেখা যেতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। মিসরের বিপক্ষেও তার জায়গা নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া জাতীয় দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

    দি পল না খেললে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একাধিকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন সিমিওনে। তিনি একাদশে সুযোগ পেলে বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্কালোনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের বিন্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল/জুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গনসালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ঘুরেফিরে আসছে অতীতের অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ৪০ বছর আগের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল—এগুলো নিয়েই চলছে চর্চা। প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না।

    আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এই ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টিও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০৭ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এবার সেমিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার ছেলে বলেন, ‘আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা ভক্তদের জন্য এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আমাদের যেসব ভাইয়েরা মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়।’

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পরই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর আসতেকায় কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে। এবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে ম্যারাডোনার ছেলে মনে করিয়ে দিলেন ৪০ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘটনা। মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘১৯৮৬ সালে বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেটাও মনে পড়ে যায় এই ম্যাচ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) দেখে। সেবার বাবা ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন।’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন ‘ম্যারাডোনা-ইংল্যান্ড’ ম্যাচ বলা হয়, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ম্যারাডোনা যখন খেলতে নামতেন, তখন সেটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হলেও লিওনেল স্কালোনি এটাকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি গতকাল শোনা গেছে রদ্রিগো দি পলের কণ্ঠে।

    স্কালোনি-রদ্রিগো দি পল যা-ই বলুন না কেন, ম্যারাডোনার ছেলে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার টেনে এনেছেন ৪০ বছর আগের প্রসঙ্গ। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা এটাকে (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। অনেক কিছুই বলা যায়। তবে কোনো সাধারণ ম্যাচ হচ্ছে না।’

    কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—ম্যারাডোনা-পেলের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্য চলে আসবেই। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব ভেন্যুতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ হয়েছে, সব জায়গার গ্যালারিতেই দেখা গেছে তাঁর ছবি।

    ছন্দে থাকা মেসি চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৮ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২ গোলে। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলা মেসি ১০ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

    আটলান্টায় আজ হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমির টিকিটের দামও অনেক বেড়েছে। এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর এই সেমির জয়ী দল নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন।

  • ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে কেবল দুই জয় দূরে। যার প্রথম ধাপ আগামীকাল আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা দলের কথা বললে যাঁর নাম আগে খোঁজা হয়, সেই লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে টিকিটের দামও বহুগুণ বেড়েছে।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড স্রেফ তো একটি ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। যার প্রভাব পড়েছে টিকিটের দামের ওপরও। আটলান্টার সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত। মাঠের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    ডালাসে আজ ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেমিফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে এই ম্যাচ। এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট হলো ৫৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ১-এর টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১১ হাজার রিয়াল থেকে (২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। এমনকি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কিছু টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে কদিন আগে জানতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ফিফার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রি করা টিকিটগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আর্জেন্টিনার ফেডারেল সরকারের বরাতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টুডো নোটিসিয়াসের (ক্লারিন গ্রুপের অংশ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচকে কেন্দ্র করে ফ্যালকন অ্যালার্ট নামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সমর্থক আর্জেন্টিনা ছাড়লে শুধু গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হতো। এখন থেকে সেই তথ্য ফ্রাঙ্কো বেরলিনকেও জানানো হবে।

    ফ্রাঙ্কো বেরলিন আর্জেন্টিনার জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্ট নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। আজ ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় আগামীকাল হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।

  • ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।

    রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ

    ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

    তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত

    ১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

    পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।

    পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল

    ২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

    বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।

    বেকহ্যামের লাল কার্ড

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

    ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

    ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। গোলশূন্য অবস্থায় পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারি গোলের স্বীকৃতি দিলে জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত।

    এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়।

    শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মহারণ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সাবেক ইংলিশ ফুটবলাররাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল, যিনি লিওনেল মেসিকে ঘিরে বেশ সাহসী মন্তব্য করেছেন।

    নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মাইকাহ রিচার্ডসের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলছিলেন কোল। সেখানেই তিনি বলেন, ‘মেসিকে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হবে। আমরা ওকে নিষ্ক্রিয় করে রাখব। আমি শতভাগ নিশ্চিত।’

    কোলের এমন মন্তব্য শুনে উপস্থিত অন্যরা সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। এসব পরে বলা যাবে।’ কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি সাবেক চেলসি ও লিভারপুল তারকা. তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে।’

    তবে আলোচনায় কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন সাবেক ডিফেন্ডার মাইকাহ রিচার্ডস। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। রিচার্ডস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা খুবই চতুর এবং মানসিকভাবে ভীষণ লড়াকু। তাদের হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরও ভালো খেলতে হবে। তবে আমাদের গতি তাদের চেয়ে বেশি। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব।’

    মজার বিষয় হলো, জো কোল অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে লিওনেল মেসির প্রশংসা করেছেন। এমনকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক আলোচনায় কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় রোনালদো রাতে হয়তো ভাবেন, যদি তিনি মেসির মতো নিখুঁত হতে পারতেন! মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি ফুটবলে অর্জনের সবকিছু অর্জন করেছেন।’

    এদিকে আরেক সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন। নেভিলের ভাষায়, ‘ওদের আমি বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে অস্থির সেন্টার-ব্যাক জুটি বলি। কখনো তারা অসাধারণ খেলবে, সব বল জিতবে, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করবে, যা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই তারা যেন অন্য এক রূপ ধারণ করে।’

    আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াইয়ের আগে কথার উত্তাপও সমানতালে বাড়ছে।

  • ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের আগে নিজেদের নয়, বরং ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, এই লড়াইয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ আটের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে দুই দল।

    সেই ম্যাচের আগে বিবিসিকে সোলবাক্কেন বলেন, ‘ইংল্যান্ডই ফেবারিট, কিন্তু তারা খুব বড় ব্যবধানে ফেবারিট নয়।’

    পরে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই সুরে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ বেশি। তবে আমরাও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে চাপ অনুভব করি। খেলা শুরু হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা আর চাপ নিয়ে ভাবে না।’

    শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। দলটিতে মার্টিন ওডেগার্ড ও আরলিং হালান্ডেরমতো প্রিমিয়ার লিগে খেলা তারকারা রয়েছেন।

    নরওয়ে কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাস বিবেচনায় ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড সম্ভবত সবচেয়ে বড় দুই দল, যাদের মুখোমুখি আমরা হতে পারতাম।’

    এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    অ্যাশেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ শেষবার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছিল। তাই প্রায় ১৭ বছর পর আবার ইংলিশ কন্ডিশনে সাদা পোশাকে মাঠে নামবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।

    ম্যাচের ভেন্যু এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কোথায় হবে তার ওপর। যদি ফাইনাল লর্ডসে না হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টটি লর্ডসে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি লর্ডসেই ফাইনাল হয়, তাহলে ম্যাচটি ওভালে আয়োজন করা হতে পারে।

    সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট খুব কম ওভারে শেষ হয়েছিল এবং বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক কন্ডিশন ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরিয়ে ওভালে নেওয়ার কথাও ভাবছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

    ২০২৭ সালের সূচিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হবে।