ট্যাগ আর্জেন্টিনা

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    হুলিয়ান আলভারেজের জন্য যে এখনো আকুল হয়ে আছে বার্সেলোনা সেটা সবারই জানা। তবে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত না পেলে বিকল্প একাধিক পরিকল্পনাও নাকি ছিল কাতালান ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজকেও বিবেচনায় রেখেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ‘গ্রান গালা দেল ক্যালসিও’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক কথা বলেন ‘স্কাই ইতালি’র সামনে। বার্সেলোনায় হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্তিনেজকে জড়িয়ে যেসব দলবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে একদমই পিছপা হননি তিনি।

    দলবদলের এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরিই মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আসলে সত্যি বলতে বেশ ভালো লাগে, কারণ নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার জন্যই তো আমরা দিনরাত কষ্ট করি। গুঞ্জনগুলো কিন্তু মিথ্যে ছিল না, তবে আমার চিন্তাভাবনা শুরু থেকেই একদম পরিষ্কার ছিল—আমি ইন্টারের সতীর্থ আর আমাদের এই অসাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে যত দিন চাইবে, আমি এখানেই থাকব; এমনকি সারা জীবন থেকে যেতে বললেও আমার আপত্তি নেই।’

    অবশ্য পেশাদার ফুটবলে যে ভিন্ন বাস্তবতাও আছে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মার্তিনেজ, ‘তবে এই পেশার নির্মম বাস্তবতা তো আমাদের সবারই জানা—যখন তুমি আর কারো কাজে আসবে না, তখন তোমাকে ছুড়ে ফেলা হবে। ইন্টার আমার কাছে সবকিছু—আমার গর্ব, আমার আনন্দ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। তাই আবারও এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইন্টারের হয়ে দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই।’

    ২৯ বছর বয়সি মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। আবার অধিনায়ক হিসেবে ইন্টারের ঝুলিতে তুলে দিয়েছেন আরও একটি ‘স্কুদেত্তো’। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার পা থেকে এসেছে ২২টি গোল।

    ক্লাবে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্টারের তারকা ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং ইন্টারের হয়ে দারুণ সব সাফল্য পেতে চাই।’

    ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন মার্তিনেজ। ৩৭৮ ম্যাচে ইতালি জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে করেছেন ১৭৫ গোল। তিনটি লিগ শিরোপা সহ জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি।

    ইন্টার মিলানের হয়ে এতটা সাফল্য পাওয়ার কথা কখনো কল্পনাতেও নাকি ছিল না মার্তিনেজের। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ইন্টারে নিজের ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিংবা সব স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এই সাফল্যই আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে; শুরু থেকেই আমার মানসিকতা এমন। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনেই আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব, তবে বর্তমান চুক্তিতে আমি অত্যন্ত সুখী। এখানে আমি বেশ ভালো আছি এবং ইন্টারের হয়ে আরও বড় বড় অর্জন ছুঁতে চাই বলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ইন্টার মিলানের সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মার্তিনেজের। অন্যদিকে ইন্টার কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যেই হোক নিজেদের অধিনায়ককে হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

  • মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মাঠ থেকে নয়, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দুই দশকের বর্ণিল পথচলাকে মাঠেই বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    চলতি সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামবে। দেওয়া হবে এক মিনিটের করতালি। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁকে সম্মান জানাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা দলে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন মেসি। সে জন্যই খেলা থামানো হবে দশম মিনিটে। পুরুষ ও নারীদের সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে। গত বুধবার এএফএ এক বিবৃতিতে খবরটি জানায়।

    শুধু করতালিতেই শেষ হচ্ছে না মেসির জন্য আয়োজন। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    গত সোমবার ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় হাতে লেখা তিনটি কাগজের ছবি পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দল অধ্যায়ের ইতি টানলেন কিংবদন্তি।

    মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’ সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সময়টা এসে গেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মূল দলে অভিষেক মেসির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। খেলেছেন রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন মেসি। সেটি ছিল ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ এবং দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

    বিশ্বকাপেও একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শুধু একটি অবসরের গল্প নয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এক বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। আর সেই ক্যারিয়ারকেই এবার দেশের প্রতিটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মাঠে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবে এএফএ।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!

  • ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    মধুর প্রতিশোধই নিল আর্জেন্টিনা। মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালের গত আসরে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল তারা। এবার সেই ডাচদের হারিয়েই জিতল শিরোপা। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জেতে তারা।

    আর্জেন্টিনা সর্বশেষ হকির বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে। ১৬ বছর পর শিরোপা ঘরে তুলল তারা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটা আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা। সেটাও এল টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের মুকুট কেড়ে নিয়ে।

    আমস্টারডামের ফাইনালে ইবি ইয়ানসের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৫১ সেকেন্ড আগে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে ইবি ইয়ানসেনের জোরালো শট গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জড়ায় জালে। গোলের পর গর্জে উঠে গ্যালারিভর্তি দর্শক। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করলেন তিনি।

    চতুর্থ কোয়ার্টারে খেলা শেষের ছয় মিনিট আগে আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আলোচিত ঘটনা ছিল আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনোর একটি অসাধারণ চমৎকার সেভ। পিয়েন ডিকের আক্রমণের মুখে গোলপোস্ট ছেড়ে প্রতিরোধ গড়ে স্কোরলাইন সমতায় রাখেন তিনি। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত আর্জেন্টিনার।

    ম্যাচসেরা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো ফাইনাল শেষে ভাসলেন উচ্ছ্বাসে, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ১৬ বছর ধরে। নেদারল্যান্ডস খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ আর আমরা জানতাম ম্যাচটা এমনই হবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা, গোল ঠিকই আসবে। আর তারপর শুটআউটে গিয়ে নিছক উপভোগ করা।’

    এর আগে, ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ৪৮ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পদক জিতল তারা।

  • আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো কম হয়নি। বিশেষ করে ফাইনাল শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার ফুটবলার-কোচদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাঁরা পেলেন সুখবর। ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিচ্ছে।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে ফুটবলার-কোচদের শাস্তি তুলে নিতে ফিফার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তা অনুমোদন করেছে। এক বিবৃতিতে এএফএ বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে যথাযথ আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ক্রীড়া আদালতে যাব।’

    ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর লেয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এমনিতেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার পর পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলার গাভি ও দানি অলমোর গলা চেপে ধরেছিলেন। জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিয়েছিল।

    পারেদেসের শাস্তি তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা আর্জেন্টিসা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এরপর পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাউয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাছাড়া গলা চেপে ধরার কাণ্ডে জড়িত থাকায় সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

    মলিনা-পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা থাকলেও এএফএর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়। ফুটবলাররা যেন অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারেন, সেই অনুরোধ করেছে এএফএ।বিশ্ব
    ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর্জেন্টিনার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। দরকার পড়লে ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত যাওয়ার চিন্তা করছে এএফএ।

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। স্পেনের মতো ফ্রান্সও দুইবার জিতেছে বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি-ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।