আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    আন্তর্জাতিক সংবাদঃ

    ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। শুক্রবার দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি দুই রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সা। তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

    ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আমদানি ব্যয়ের তালিকায় এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এবং স্বর্ণ আমদানি সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।

    বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র সম্প্রতি এক প্রবন্ধে বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

    তার মতে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অর্থ প্রত্যাহার ঠেকাতে আরো ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ দরকার হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় প্রতি ডলার কিনতে যেখানে ৯১ রুপি লাগত, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ রুপি। ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।

    বিবিসি বাংলা

  • ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    আন্তর্জাতিকঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” বলে দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় আবারও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।

    গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক স্থানে ইরান এখনো মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর করতে পারছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণও সম্ভব হচ্ছে। কেবল তিনটি ঘাঁটি এখনো সম্পূর্ণ অচল রয়েছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—দুই ধরনের অস্ত্রই রয়েছে।

    এছাড়া দেশজুড়ে থাকা ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে বিরোধ

    ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা “চূর্ণবিচূর্ণ” হয়ে গেছে।

    মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি “ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে” এবং দেশটির “সামরিকভাবে আর কিছু অবশিষ্ট নেই”। এপ্রিল মাসে হেগসেথও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে।তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য এসব বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    অস্ত্র মজুত সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধে প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারের বেশি টমাহক এবং ১,৩০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

  • আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে প্রায় আট ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।

    ঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

    বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া পাটশিরি সীমান্ত এলাকা থেকে বিএসএফের ১৩২ ব্যাটালিয়নের মরিচা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে। পরে বিকেলে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    ফেরত আসা শিক্ষার্থীরা হলো, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার শিবু চন্দ্র রায়ের ছেলে ইন্দ্র (১৪) ও সমারু চন্দ্র রায়ের ছেলে উদয় (১৪)। তারা রশেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা আগের দিন বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে সকালে সীমান্তের মেইন পিলার ৪১৭-এর ৯ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ছবি তুলতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।

    গড়িনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, বিজিবির দ্রুত উদ্যোগ ও কার্যকর যোগাযোগের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

  • বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাশেদুল ইসলাম (২৫) পাটগ্রাম উপজেলা বাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ডাংগাটারী বিওপি ক্যাম্পের অধীন ৮০১/১১ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাশেদুল ইসলাম। এ সময় ভারতীয় ৩০ বিএসএফের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) বর্ডার গার্ড অধিনায়ক সেলিম আল দীন বলেন, আটক বাংলাদেশিকে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • কে এই জোহরান মামদানি

    কে এই জোহরান মামদানি

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। অনেক দিক থেকেই নিউইয়র্কের নির্বাচনে ‘প্রথমবারের’ ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি। গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেয়া মেয়রও।

    গত বছরের শেষ দিনে যখন তিনি এই দৌড়ে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন, তখন খুব কম মানুষই তাকে চিনত। তার তেমন অর্থ ছিল না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমর্থনও ছিল না।

    তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের বড় সমর্থন এবং সাহসী বামপন্থী ধারার মধ্য দিয়ে জোহরান মামদানির এই সাফল্য এসেছে।

    সাবেক গভর্নর কুমোর মতো একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপরীতে তার জয় প্রগতিশীলদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এটি শহরের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে একরকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে মামদানি বলেছেন, নিউ ইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

    উগান্ডা থেকে কুইন্সে

    মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউইয়র্কে আসেন। সেখানে তিনি ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং পরে বোওডেন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে তিনি ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’-এর ক্যাম্পাস শাখার একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

    মিলেনিয়াল প্রজন্মের এই প্রগতিশীল নেতা তার শেকড়ের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে তার ভিত্তিতে এগিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণার একটি ভিডিও পুরোপুরি উর্দু ভাষায় করেছেন এবং তাতে বলিউডের সিনেমার দৃশ্য

    যুক্ত করেছেন। আরেকটি ভিডিওতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেছেন।

    মামদানির স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী ব্রুকলিনের সিরিয়ান শিল্পী রামা দুয়াজি। তার মা মীরা নায়ার একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এবং বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক। তার বাবা-মা দুজনেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

    মামদানি নিজেকে গণমানুষের প্রতিনিধি ও সংগঠক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রোফাইলে লেখা হয়েছে, ‘জীবন যখন অনিবার্য দিকে মোড় নিচ্ছিল- সিনেমা, র‍্যাপ আর লেখালেখির বাঁকবদলে, যাই হোক না কেন, সবসময়ই সংগঠন করা তার মাঝে এক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যে কারণে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তাকে হতাশা নয়, বরং কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

    রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আবাসন খাতের একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কুইন্সে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতেন।

    মামদানি তার মুসলিম পরিচয়কে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং শহরের উচ্চ জীবনযাত্রার খরচের সঙ্কট নিয়ে উর্দু ভাষায় একটি প্রচারণা ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

    এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি যে একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিতে হয়।’

    সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ড্রামের রাজনৈতিক পরিচালক জাগপ্রীত সিং বলেন, ‘মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কারো মধ্যে জোহরানের মতো কাউকে দেখিনি, যিনি সামগ্রিকভাবে আমাদের চিন্তার বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটান।’

    মামদানির সাশ্রয়ী যুদ্ধ

    মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের ভোটাররা চায় ডেমোক্রেটরা সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিক। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যেখানে চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যের সাথে বসবাস করছে। এটি এমন একটি শহর যেখানে প্রতিরাতে পাঁচ লাখ শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায়।’

    বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ-ও বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যা নিজের সেসব বৈশিষ্ট্য হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেগুলো একসময় এটিকে বিশেষ করে তুলেছিল।’

    তার প্রস্তাবনাগুলো হলো- শহরজুড়ে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বাড়িভাড়া স্থির রাখা এবং বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করা, সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর জোর দিয়ে শহরের নিজস্ব মুদি দোকানের চেইন সৃষ্টি করা, ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সারা শহরে বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা তিন গুণ বাড়ানো, যা ইউনিয়নের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে।

    তার পরিকল্পনায় মেয়রের অফিসের ‘পুনর্বিন্যাস’ বা সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাতে করে সম্পত্তির মালিকরা দায়বদ্ধ থাকে এবং চিরস্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

    মামদানি তার প্রচারণায় এই নীতিগুলোকে চোখে পড়ার মতো এবং ভাইরাল, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে এনেছিলেন। তিনি বাসা ভাড়ার বিষয়টি তুলে ধরতে আটলান্টিক সাগরে ডুব দিয়েছেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরার জন্য একটি বুরিতো (মেক্সিক্যান খাবার) দিয়ে একটি পাতাল রেল সাবওয়েতে রমজানের ইফতার করে রোজা ভাঙেন। এছাড়া, তিনি ভোটের আগের দিন পুরো ম্যানহাটন হেঁটে গেছেন এবং ভোটারদের সাথে সেলফি তুলেছেন।

    যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শহরকে আরো সাশ্রয়ী করা সম্ভব, তবুও সমালোচকরা মনে করছেন, এই অতি উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস মেয়র নির্বাচনে কাউকে সমর্থন না দিয়ে সাধারণভাবে প্রার্থীদের সমালোচনা করে থাকে।

    তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, মামদানির পরিকল্পনা ‘শহরের চ্যালেঞ্জের সাথে খাপ খায় না’ এবং এটি ‘শাসনের অতি জরুরি সমঝোতাগুলোকে অগ্রাহ্য করে’। তার প্রতিশ্রুত বাসা ভাড়ায় কড়াকড়ি করা হলে আবাসন সঙ্কট বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।

    সমালোচকরা তুলছেন অভিজ্ঞতার প্রশ্ন

    কুমো ও তার সমর্থকরা মনে করছেন, মামদানি এমন পদের জন্য খুবই অদক্ষ এবং কট্টরপন্থী। যেখানে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট এবং তিন লাখের বেশি পৌর কর্মী রয়েছে।

    বিল ক্লিনটনসহ বড় দাতা ও মধ্যপন্থীদের সমর্থন পাওয়া কুমো অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কাজ কিভাবে করতে হয় তা জানা প্রয়োজন। ট্রাম্পের সাথে কিভাবে কাজ করতে হয় এবং ওয়াশিংটনে কিভাবে কাজ করতে হয়, সেগুলোও জানতে হবে। এছাড়া রাজ্যের আইনসভার সাথে কিভাবে কাজ করতে হয়, এসব মৌলিক বিষয়েও জানা প্রয়োজন।

    এদিকে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ ট্রিপ ইয়াং মনে করেন, এই সময়ে কেবল ‘অভিজ্ঞতা’ দিয়ে আর কাজ হয় না এবং মামদানি না জিতলেও তার প্রচার এমন কাজ করেছে, যা অনেকের কল্পনার বাইরেও ছিল।

    ‘জোহরানকে সমর্থন দিয়েছেন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও লাখ লাখ ডোনার। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে স্থানীয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এমন তৃণমূল পর্যায়ের আগ্রহ খুব কমই দেখা যায়,’ তিনি বলেন।

    মামদানির সমর্থক লোকমণি রায় বলেন, ‘তিনি আমাদের বুঝতে পারেন, তিনি আমাদের অংশ, তিনি আমাদের এই অভিবাসী সম্প্রদায়েরই অংশ।’

    ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু

    জ্যাকসন হাইটসের এক পার্কে সম্প্রতি মামদানির প্রচারের সময় শিশুদের খেলা, লাতিন খাবারের দোকান ও আইসক্রিম বিক্রেতারা যে দৃশ্য তৈরি করেছিলেন, তা অনেক ডেমোক্রেটের চোখে নিউইয়র্কের বৈচিত্র্য আর শক্তির প্রতীক। তবে এই শহরটি জাতিগত ও রাজনৈতিকভাবে তিক্ততার উর্ধ্বে নয়।

    মামদানি বলেন, তিনি প্রতিদিন ইসলামবিদ্বেষের মুখে পড়েছেন, এমনকি তার পরিবারকেও এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। পুলিশের মতে, এই হুমকিগুলো ‘হেট-ক্রাইম’ বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভোটারদের মনে সম্ভবত ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থানের দিকটিও কাজ করেছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং ইসরাইলের সমালোচনা করার কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশিভাগ নেতার সাথে তার মতবিরোধ হয়েছে।

    এই অ্যাসেম্বলি সদস্য এমন বিলেরও প্রস্তাব করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অমান্য করে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের সাথে সম্পৃক্ত চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্কে করমুক্ত সুবিধা বাতিল করবে।

    তিনি আরো বলেছিলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা উচিত। অনেকবারই তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি ইসরাইলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে অস্তিত্বের অধিকারকে সমর্থন করেন কি না।

    তিনি বলেছিলেন, ‘ধর্ম বা অন্য কিছুর ভিত্তিতে নাগরিকত্বের শ্রেণিবিন্যাস আছে, এমন কোনো রাষ্ট্রকে সমর্থন করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। আমি মনে করি, এই দেশে আমাদের আধিকার যেভাবে আছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এটাই আমার বিশ্বাস।’

    মামদানি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদি-বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই, এবং তিনি নির্বাচিত হলে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে তহবিল বাড়াবেন।

    সূত্র : বিবিসি