আজান

  • মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    নাটোরের নলডাঙ্গায় মসজিদে ফজরের আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিন সৈয়দকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে উপজেলার ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের চরবাঙ্গাল পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজান চলাকালীন সময়ে মসজিদে আজান দিচ্ছিলেন মুয়াজ্জিন সৈয়দ। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ এলাকায় একজন ভালো, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। মসজিদে আজান দেওয়ার সময় তার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে আহত মুয়াজ্জিন সৈয়দের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। আজানরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।