ট্যাগ আচরণবিধি

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • যশোরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীদের শোডাউন, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

    যশোরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীদের শোডাউন, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

    আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীরা শোডাউন করায় যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুবকে শোকজ করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকার তাঁকে শোকজ করেন। এতে দুই দিনের মধ্যে লিখিতভাবে শোকজদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক।

    উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর বাজারে মিছিল ও শোডাউন করেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সৌদি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন। মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ ও টি এস আইয়ুবের নামে স্লোগান দেন। মিছিল ও শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভিডিওটি বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব নিজেও তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

    বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকারের স্বাক্ষরিত শোকজে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইসির তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী— ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী তিন (৩) সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।

    ‘কিন্তু জানা যায় যে, আপনি বা আপনার দলের সমর্থকগণ দ্বারা ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকেলে অনুমোদন ব্যতীত বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল করেছেন। যা আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    ‘এমতাবস্থায়, আপনি যেহেতু ৮৮-যশোর-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী; সুতরাং কেন আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তার ব্যাখ্যা আগামী দুই (২) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

    এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযানে যাই। কিন্তু তার আগেই কর্মসূচি শেষ করে নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনী আচরণবিধিতে রয়েছে ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী তিন সপ্তাহের পূর্ব সময়ের কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী শোডাউনে না থাকলেও তার নেতা-কর্মীরা শোডাউন করেছে। প্রার্থীর পক্ষে শোডাউন করায় আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে; তাই প্রার্থীকে প্রাথমিক শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলেও নিয়ম অনুযায়ী শান্তির আওতায় আনা হবে।’