ট্যাগ আইন আদালত

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

    আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

    ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

    ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

    এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

  • অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    • দেশের জনসংখ্যার তুলনায় লাখ মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।
    • বর্তমানে বিচারক ২ হাজার ২৩৭ জন, বিচারকাজে থাকেন ১ হাজার ৮৩৭ জন।
    • বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার করার পক্ষে মত আইনজীবী-বিচারকদের।
    • ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

    সারা দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে বিচারক আছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে প্রেষণ, মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানা কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয় সারা বছর। তাতে আদালতের বিচারকাজ করছেন ১ হাজার ৮৩৭ বিচারক। সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যার তুলনায় গড়ে এক লাখের বেশি মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।

    সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। এগুলোর মধ্যে সারা দেশের জেলা আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মামলা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ১২১টি মামলা। দেড় যুগে মামলা বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ। তবে জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি বিচারকের সংখ্যা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

    আইন কমিশন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৫ সালে করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অধস্তন আদালতের জন্য বিচারকের সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল; তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি ১১ বছরেও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যাও অপ্রতুল। তাই মামলাজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারকেরা।

    জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বর্তমানে মামলার যে জট, তা নিষ্পত্তি করতে অধস্তন আদালতে অন্তত ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়ক জনবল, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম এবং এজলাস। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেও জোর দিতে হবে। তাহলেই মামলাজট কমবে বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের নানা সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনকে দেওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক একজন। ডেনমার্কে ১৫ হাজারের বিপরীতে ১ জন, জাপানে ৫৭ হাজারের জন্য ১ জন, পাকিস্তানে ৫০ হাজারের জন্য ১ জন এবং ভারতে ৪৭ হাজারের বিপরীতে ১ জন বিচারক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

    জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় ৪০০ বিচারককে নানা কারণে বিচারকাজের বাইরে থাকতে হয়। আর একজন বিচারকের বিপরীতে ৫০০ মামলা থাকলে সহজে নিষ্পত্তি করা যায়। বর্তমানে গড়ে ৩ হাজারের বেশি মামলা। এ কারণে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

    মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার হওয়া উচিত। শুধু বিচারক বাড়ালেই মামলাজট শিগগির কমবে না; এর সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আগে প্রি-মেডিয়েশন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    বিচারক সংকটের কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একজনকে অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা সিভিল আপিল, সিভিল রিভিশন, ক্রিমিনাল আপিল, ক্রিমিনাল রিভিশন, ক্রিমিনাল মিস, দুদক, আরবিট্রেশন, মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা, সাধারণ দায়রা মামলা, মোবাইল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া কার্যধারার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদনের নিষ্পত্তি করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের পৃথক কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁরা জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমান ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তবে তাঁদের দায়িত্ব জেলা জজ নির্ধারণ করে দেন।

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা ২৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে সব ধরনের দেওয়ানি মামলা, সিভিল আপিল, মাদক, ১০ বছর পর্যন্ত সাজার সব মামলা, বিশেষ আদালতে ১০ বছরের বেশি সাজার মামলা, এনআই অ্যাক্ট, অর্থঋণ, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আরও কিছু মামলার শুনানি করেন। আর সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতের বিচারকেরা প্রায় ২৫ ধরনের মামলার শুনানি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক, বর্তমানে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যা ও মামলার অনুপাতে অপর্যাপ্ত। এ কারণে একজন বিচারককে প্রতিদিন অনেক বেশি মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করতে হয়। ফলে গুণগত মানসম্পন্ন বিচার নিশ্চিত করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে।

    মাজহারুল হক বলেন, সেই সঙ্গে বিচারসংশ্লিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারক, দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

  • একসঙ্গে ২৭৪ বিচারককে বদলি, প্রজ্ঞাপন জারি

    একসঙ্গে ২৭৪ বিচারককে বদলি, প্রজ্ঞাপন জারি

    একসঙ্গে ২৭৪ জন বিচারককে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত বদলি ও পদোন্নতি–সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পদে মোট ৮২৬ জনকে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে— অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৫০ জন, যুগ্ম জেলা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা জজ হয়েছেন ২৯৪ জন এবং সিনিয়র সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা জজ হয়েছেন ২৮২ জন।

    বদলিকৃতদের চলতি দায়িত্ব দপ্তরপ্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট ২৭ নভেম্বরের মধ্যে হস্তান্তর করে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া প্রশিক্ষণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা বিদেশ ভ্রমণে থাকা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ ছুটি বা প্রশিক্ষণ শেষে পূর্বের কর্মস্থলে যোগ দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করে অবিলম্বে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

    1. M