ট্যাগ আইনশৃঙ্খলা

  • ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হতে আরও সময় লাগবে, তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

    অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

    সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

    ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।’

    বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করবো।’

  • ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ উক্ত সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানিসংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

    সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

  • পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার এমআরটি, মেট্রোরেলের ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এনপিবিএনের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    র‍্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্দাছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা বিপিএতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    জেলা পর্যায়েও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কুষ্টিয়ার এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের এসপি করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এসপি মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার এসপি এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এসপি সরকার ওমর ফারুককে খুলনার এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। খুলনার বর্তমান এসপি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

    গাজীপুরের এসপি মো. শরিফ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, পিবিআইয়ের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং এপিবিএনের এসপি দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশেও (ডিএমপি) চার কর্মকর্তাকে ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. শরফুদ্দীন, এপিবিএনের মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. আকতার হোসেন এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ।

    এ ছাড়া বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে এসবির পুলিশ সুপার পদে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে নোয়াখালী পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

    মেট্রোরেলের (এমআরটি) পুলিশ সুপার ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এপিবিএনে এবং হাইওয়ে পুলিশের এসপি মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জেরিন আখতারকে টাঙ্গাইল পিটিসিতে এবং মোহাম্মদ এহসান সাত্তারকে খুলনা পিটিসির সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জনস্বার্থে এসব বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

  • র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

    এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

    খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

    এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

    খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।