ট্যাগ আইজিপি

  • ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

    আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।

    এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

    মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

    মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

    পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

  • বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি না থাকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর থেকে তাকে কী প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হবে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাকে ওই দেশের আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজের সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্টের এক্সিকিউটিভ এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসিকে জানান, দেশটিতে সরকারি ছুটি শেষে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সেক্ষেত্রে এখন যদি বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয় তাহলে তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন।

    তিনি বলেন, সম্ভবত তার আইনজীবীরা আদালতে মুভ করবেন, তার জামিনের জন্য। হয়তো ট্রাভেল ব্যান বা এই জাতীয় যদি কিছু থেকে থাকে, হয়তো দেশেই রাখবে। বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী মুভমেন্টের ওপরে ওনার ভাগ্যটা নির্ধারিত হবে।

    আদালতের প্রক্রিয়া শুরু হলে পাবলিক প্রসিকিউশন থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা যাবে বলেও জানান তিনি। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিবিসি হাতে পায়নি।

    সাইফুর রহমান বিবিসিকে বলেন, দুবাই বিমানবন্দর থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেটি সঠিক নয়, তাকে দুবাই মল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদ দুবাইতেই ছিলেন ও সেখানকার রেসিডেন্ট বলেও জানান তিনি।

    সাইফুর রহমান জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সাইফুর রহমান বলেন, দুবাইয়ের গোল্ড কার্ড যেটা দশ বছর মেয়াদী, বিনিয়োগকারীদের এই গোল্ড কার্ড দেওয়া হয়। শর্ত পূরণ করলে যে কোনো বিদেশি নাগরিককে ১০ বছর মেয়াদে গোল্ড কার্ড দেওয়া হতে পারে।

    তবে বাংলাদেশের সাবেক এই পুলিশপ্রধানকে কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, বা তাকে নিয়ে অন্যান্য বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ কোনো বক্তব্য দেয়নি বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ বা ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইনি পেশায় রয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন।

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউএই এর প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি তাদের আইন, আদালত, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যথাযথ নথিপত্রের ওপরই মূলত নির্ভর করছে।

    ওলোরা আফরিন বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইজ নট অ্যান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট। ইটস জাস্ট এ নোটিশ। বাংলাদেশের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ইউএই কোর্টে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে কনসিডার করা হয়। সেটা হচ্ছে যেই অভিযোগে ইন্টারপোলে নোটিশটা এসেছে, বাংলাদেশে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে এখানেও ক্রিমিনাল অ্যাক্ট হিসেবে গণ্য করা হবে কি না।

    যে প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে ফেরাতে হবে

    আইনজীবী ওলোরা আফরিন জানান, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক, নাকি আসলেই অপরাধমূলক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন সেটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বিবেচনা করবে।

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপিকে ফেরাতে বাংলাদেশকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে বেশ কিছু নথি জমা দিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, মামলা সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, অপরাধ সংশ্লিষ্ট সব নথি এবং বাংলাদেশের আদালতের সব আদেশের নথি জমা দিতে হবে আরব আমিরাতের আদালতে।

    বেনজীরের নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুদক

    ওলোরা আফরিন বলেন, এগুলো দেখে, সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক আছে কি না এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী আদালতের কাছে সব নিয়মমতো এসেছে কি না সেগুলো দেখা হবে।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের ওপরই নির্ভর করবে বলেও তিনি জানান।

    বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, আরেকটির বিচার চলছে।

    এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরো পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও তদন্ত চলছে।

    তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলছেন, কূটনৈতিক এবং আইনি দুইক্ষেত্রেই একইসাথে চেষ্টা চালাতে হবে।

    এই আইনজীবী বলেন, আমি বলবো এটা আসলে, ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলেই মূলত বেশি কাজ করবে। সেক্ষেত্রে একটা সিদ্ধান্তে আসতে ইউএই সরকারও বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করবে। আর এই প্রসেসটা ফলো করলে এটায় আনুমানিক কম-বেশি ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দুদকের দায়ের করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ এই দুইটি মামলায় রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

    আকতারুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার করছে মূলত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত মামলায়। এখন আমাদের পরবর্তী যে কার্যক্রম তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে রিকোয়েস্ট লেটার পাঠাতে হবে, তার সাথে সমস্ত ডকুমেন্টসগুলো যুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রপার চ্যানেলে যাবে।

    আকতারুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি’র সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

    ফেরানো কঠিন হতে পারে কখন?

    বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শিথিল আইনি ব্যবস্থার উদাহরণ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এমন উদাহরণ রয়েছে।

    সাংবাদিক সাইফুর রহমান বলছেন, বেনজীর আহমেদ যদি লিগ্যাল রেসিডেন্ট হন এবং এখানে তার কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকে, সেক্ষেত্রে উনার আইনজীবীরা হয়তো এই যুক্তিটা তুলে ধরতে পারেন।

    তবে আফরিন মনে করেন, দুবাইয়ে বিনিয়োগকারী হলেও আইনি শিথিলতা পাওয়া যাবে বিষয়টি এমন নয়। বরং বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে বলে তিনি মনে করছেন।

    তিনি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের মামলাটির কথা তুলে ধরেন।

    ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাংলাদেশি নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল। কিন্তু তার অন্য দেশের নাগরিকত্ব, অর্থাৎ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণে পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশে ফেরানো যায়নি।

    আফরিন বলছেন, বেনজীর আহমেদ, উনার যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকে সেই ক্ষেত্রে হয়তো ওই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা কী আছে, সেটাও দেখবে ইউএই।

  • কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

    কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ছয়টি মামলার অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে আসে।

    দুদক জানায়, বেনজীর বিদেশেও পাচার করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। গতকাল রোববার তিনি দুদকের মামলাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।
    দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর, তাঁর স্ত্রী জীসান মির্জা, মেয়ে ফারহিন রিশতা বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও রয়েছে।

    ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর আরও একটি মামলা করা হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সম্পদের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এই মামলায় তাঁকে বিদেশে গ্রেপ্তার করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দুদক।

    পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা

    অপরাধমূলক অসদাচরণ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর মামলা করে দুদক। বেনজীর আহমেদ ঢাকায় পুলিশ কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুলিশের ডিআইজির মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদনপত্রের ‘প্রফেশন’ অংশে সরকারি চাকরিজীবী ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেছিলেন। সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেছিলেন।

    সম্পদের বাজারমূল্য

    বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে সব ধরনের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন মৌজামূল্যে, অর্থাৎ সরকারি মূল্যে। স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে জবরদস্তিমূলক অনেক জমির মালিক হয়েছেন। বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদকের ছয় মামলায় ৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা।

    এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরের টুঠামান্দ্রা মৌজায় ৬০০ একর জমিতে বিশাল রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক হাজার কোটি টাকা। এই রিসোর্টে ২০ একর জমিতে একটি পুকুরসহ মোট ২৮টি পুকুর রয়েছে। চারটি ডুপ্লেক্সসহ মোট ১২টি কটেজ, একটি সুইমিংপুল, শিশু পার্ক, দেশি-বিদেশি ফলের বাগান আছে। রিসোর্টটি করা হয় ২০১৬ সাল থেকে। আদালতের আদেশে এটি ক্রোক করা হয়। বর্তমানে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এই রিসোর্টটির রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে তাঁর দুটি আলিশান বাংলো।

    ঢাকার গুলশানে ৪ ফ্ল্যাট

    রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের র‍্যাংকন টাওয়ারে বেনজীরের চারটি ফ্ল্যাট দুদকের জিম্মায় রয়েছে। চার হাজার ৫৯৫ বর্গফুট করে মোট ৯ হাজার ১৯০ বর্গফুটের ডুপ্লেক্স দুটি ফ্লোরে পাঁচটি বেডরুম আছে। একটি রুম থেকে আরেকটি রুমের দূরত্ব ২৫-৩০ বর্গফুট। ১৯ কাঠা ১২ ছটাক জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে র‍্যাংকন আইকন টাওয়ার নামের ভবনটি।

    প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য চার-পাঁচ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে ফ্ল্যাটগুলো ক্রয় করেছেন অর্ধকোটির কিছু বেশি টাকায়। ভবনটির ১৩ তলায় দুটি বেডরুম, একটি কিচেন রুম, একটি ডাইনিং রুম ও নিজস্ব অফিস কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ১৪ তলায় তিনটি বেডরুম, বাকি স্থান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দামি খাট, কাঠের ওয়াল কেবিনেটে সাজানো হয়েছে কক্ষগুলো।

  • অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আজ সোমবার নিজ কার্যালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু মতিঝিলের শাপলা চত্বরকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তিনি একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ছিলেন। এর কারণে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যেটা তিনি নিজের কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ পায়। গণমাধ্যমে বেনজীরের সবকিছু দেখেছিল এ জাতি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তখনই মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আমাদের ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যখন র‌্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের ঘটনায় হওয়া একটি মামলার বিচার চলছে। তিনি শাপলা চত্বরের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে হাজারও মানুষকে বিনাবিচারে হত্যাসহ অসংখ্য দায় রয়েছে তার। অতএব তার বিচারের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নজর দেব।

  • দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীরের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট

    দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীরের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট

    দুবাইয়ে গ্রেফতার পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

    রোববার (১৪ জুন) দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায় বাংলাদেশ ছাড়াও তার কাছে পর্তুগালের পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়া তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের অনুমতিপত্র আছে।

    এর আগে, দুদকের একটি মামলায় দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার হওয়ার কথা জানান বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।

    দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে সরকার। দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুবাইতে এলে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    এর আগে, রোববার সকালে বিশ্বস্ত সূত্রে সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এ খবর জানার পর পুলিশ সদর দপ্তরের দুইজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি ও একজন এআইজির কাছে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা প্রত্যেকে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে বা নাম প্রকাশে রাজি হননি কেউ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে একটা চিঠি এসেছে। ওই চিঠিতে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার কথা জানানো হয়।

    অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তার ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।