ট্যাগ অর্থ ও বণিজ্য

  • জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    অনলাইনভিত্তিক তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১২ এলাকায় জে-ক্রিয়েশনের কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক বিক্রি করে।

    অভিযানের সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ার পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিপিইউসহ বিভিন্ন দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

    পরে জব্দ করা নথি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংগৃহীত দলিলপত্র আরো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ পরিবহণ ও মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

    মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন এবং প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একইসাথে এ সময় ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও বাজারজাত ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেয়া হবে।’

    অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেয়া যাবে না।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।’

    ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, ‘বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।’

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে গিয়ে একটি ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের জন্য আর আটকে থাকতে হবে না বিনিয়োগকারীকে। ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। এ জন্য জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালু হয়েছে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব এখন তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বলছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর এন্ট্রির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

    ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,০০০ নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাই কার্যক্রম।

    পূর্বে অনলাইন সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

    নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথমে দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।

    এভিএস দুই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় ব্যাংক হিসাব যাচাই হবে। আবার কেনার পর বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।

    অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরো নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেনে ভুল কমবে এবং গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে দ্রুত ও নিরাপদভাবে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।

  • ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা সামান্য বেড়েছে। ডলারের সরবরাহ ঠিক রাখতে ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সোমবার ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সায়।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

    জানা গেছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এবং চাপ কমে আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু করে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি বিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে জ্বালানি তেলজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ওই মাসে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে।

    আমদানি ব্যয় বাড়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বিক্রি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    দেশের ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭টি বেড়েছে। একই সময়ে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব বাড়লেও আমানতের পরিমাণ কমেছে। আমানত বৃদ্ধির পুরোটা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাব ছিল ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। গত মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

    তিন মাসে ব্যাংকে নতুন করে জমা হওয়া আমানতের বড় একটি অংশ গেছে কোটিপতি হিসাবগুলোতে। গত মার্চ শেষে এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোয় ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। এসব হিসাবে আমানত ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাব ৭১টি বাড়লেও আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা এ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাতে থাকা অর্থের বড় অংশ ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে।

    তারা আরও বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির আমানত কমলেও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় কোটি টাকার হিসাব ও আমানতের সামগ্রিক পরিমাণ বেড়েছে।

  • আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার উপ-সচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অফিস আদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাব কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী মো. আলী আফজাল একটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এ কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ২৩(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তার সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে কিংবা হালনাগাদ কর, ভ্যাট বা শুল্ক পরিশোধ না করলে কোনো বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না এবং কোনো পদেও বহাল থাকতে পারবেন না। নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ বা করখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে পদটি শূন্য বলে গণ্য হবে।

    রিহ্যাবের নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আলী আফজাল। প্রগতিশীল প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান ২৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সংগঠনটির তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি পেয়েছিলেন ১৯৩ ভোট।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, সোমবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সভাপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

  • শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

    বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

    সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

    সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

    ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

    হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

    দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

    এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে— হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়।

    ড. ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। চেম্বার আদালতে সোমবারই এর শুনানি হতে পারে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। ওইদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়।

    পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দু’টি রিট করে। এরপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন। তবে গত বৃহস্পতিবার রুল খারিজ করেন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ। পাশাপাশি রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।

  • কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এক দফা বাড়ানোর পর গত কয়েক দিনে টানা কমার ধারাবাহিকতায় এবার ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ৯০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রৌপ্যের দামও।

    বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বুধবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২০ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬০ টাকা।

    এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৪৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হবে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। ওই দফায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ টাকা। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ২০ হাজার ১৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ২৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১৩ হাজার ৫০৫ টাকা।

    এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। ওই সময় প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানোর পর আবারও কমলো স্বর্ণের দাম।

    এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে ৩১ আগস্ট একই মানের স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়।

    এছাড়া ২৯ আগস্ট ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছিল ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

    ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কয়েক দফা স্বর্ণের দাম কমার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানো এবং আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বাজুস।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই দাম কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই মেটাতে হচ্ছে আমদানি করা সয়াবিন ও পাম তেল দিয়ে, যা প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা শুষে নিচ্ছে। দেশে আজ অবধি যতরকমের ভোজ্যতেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কাঁচামালের কোনোটিতেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে দেশে উৎপাদিত ধানের কুঁড়া থেকে বছরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন স্বাস্থ্যকর ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’ উৎপাদনের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেড় দশকেও তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেনি। এর বিপরীতে সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার—সবকিছুতেই এর অবাধ ব্যবহার।

    বাজারে বহুল ব্যবহৃত ডাবল রিফাইনড বা ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আছে অনেক ধরনের প্রশ্ন। ফলে দেশি কাঁচামালের বিপুল সম্ভাবনা কাজে না লাগিয়ে প্রতি বছর বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানিনির্ভর হয়েই মেটাতে হচ্ছে ভোজ্যতেলের চাহিদা। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে খুবই কম। ফলে একদিকে কারখানাগুলোর বড় অংশের সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, অন্যদিকে ভোক্তার রান্নাঘরেও পণ্যটি সহজলভ্য হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেল প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমদানি করা অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। রাইস ব্র্যানসহ দেশি উৎসের তেলের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যমতে, ২০২২ সালে মাথাপিছু ভোজ্যতেল গ্রহণের হার ছিল দিনে প্রায় ৩১ গ্রাম, যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ২৭ গ্রাম। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর মানুষের মধ্যে ভোজ্যতেল গ্রহণ বাড়ছে।

    সাম্প্রতিক আমদানি তথ্যও এই চিত্র স্পষ্ট করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ২২ লাখ ২৩ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে মোট আমদানি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। শুল্ক ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

    গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি রাইস ব্র্যান অয়েল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এতে স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউট্রাসিউটিক্যাল বা ‘ওষুধের বিকল্প খাদ্য’ হিসেবে বিবেচিত এই তেলে ট্রান্সফ্যাট না থাকায় এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই কমপ্লেক্স, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গামা-ওরিজানল যুক্ত থাকায় এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) তথ্যমতে, অলিভ অয়েলের পরই এই তেলের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নিউ ইয়র্কের রোচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও ক্যানসার প্রতিরোধ ও মেদ নিয়ন্ত্রণে রাইস ব্র্যান অয়েলের বিশেষ ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অ্যালার্জিমুক্ত ও হালকা স্বাদের এ তেলে রান্নার সময় অন্যান্য তেলের তুলনায় ২০ শতাংশ কম শোষণ ঘটে, যার ফলে খাবার কম ক্যালরিযুক্ত হয়।

    সরকারি ক্রয় বাড়ছে

    সরকারি পর্যায়ে রাইস ব্র্যান অয়েলের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর সরকার ও টিসিবির জন্য একাধিক দফায় এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাসে সরকারি ক্রয় কমিটি এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল কেনার অনুমোদন দেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর আগে মার্চে আরো বড় পরিমাণ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল সংগ্রহের সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে পণ্যটির একটি নিশ্চিত বাজার রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন বাজারে স্থায়ী চাহিদা তৈরি না হওয়ায় উৎপাদকরা বড় পরিসরে উৎপাদনে ঝুঁকি নিতে পারছেন না।

    মানুষ কী খাচ্ছে

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে সয়াবিন তেল রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরুতে নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের প্রায় প্রতিটি রান্নাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই তেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত অধিকাংশ সয়াবিন তেলই ‘ডাবল রিফাইনড’ বা ‘ফর্টিফাইড’। এগুলো দেখতে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পাতলা। তেল যত বেশি স্বচ্ছ হবে, তাতে রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ তত বেশি হচ্ছে। প্রাকৃতিক তেল সাধারণত একটু গাঢ় ও গন্ধযুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ এতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহিন (এলপিআর) আমার দেশকে বলেন, গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেলের মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনার আলোকে সরকার ভোজ্যতেলে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনের সময় নজরদারি ও তদারকি জোরদার করলে ভোজ্যতেলে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে খাদ্যদ্রব্যে ‘ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সয়াবিন তেলের নমুনায় এ মাত্রার চেয়ে দুই থেকে চারগুণ বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এছাড়া সয়াবিন তেল শোধনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় বারবার একই তেল গরম করে ভাজাপোড়ার কাজে (পোড়া তেল) ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা আরো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট হলো চর্বির এমন এক ক্ষতিকর রূপÑযা রক্তের উপকারী বা ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয় এবং একইসঙ্গে ক্ষতিকর বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে এই খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালীকে ব্লক করে দেয়, যা সরাসরি কার্ডিওভাসকুলার জটিলতা সৃষ্টি করে।

    হৃদরোগের পরিসংখ্যান ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার মানুষ হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে দেশে অকাল মৃত্যুর সবচেয়ে বড় একক কারণ হলো হৃদরোগ, আর সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর দুই লাখ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ, দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। সয়াবিন তেল পরিশোধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একাধিকবার একই তেল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে হৃদরোগের এ মারাত্মক ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

    আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ

    দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আমদানির পরিমাণ কমাতে রাইস ব্র্যান অয়েল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। কারণ, এর প্রধান কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত ধানের উপজাত। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি চালকল, কৃষক ও স্থানীয় শিল্পের জন্যও অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস ব্র্যান অয়েলের সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। এরপর কারখানার সক্ষমতা ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো, ছোট প্যাকের সরবরাহ বাড়ানো এবং খুচরো বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোক্তার আস্থা অর্জন।

    রাইস ব্র্যান অয়েল স্বাস্থ্যকর—এমন প্রচারের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য দিতে হবে। কোনো তেলকে অযথা ‘সবচেয়ে ভালো’ কিংবা অন্যটিকে ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন না করে পুষ্টি ও ব্যবহারের সঠিক তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ, দেশের কয়েক কোটি মানুষের রান্নাঘরের তেলের প্রশ্নটি শুধু একটি শিল্পের বাজার তৈরির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উপজাতের ব্যবহার; সর্বোপরি ভোক্তার আস্থা।