ট্যাগ অভিনেত্রী

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে অভিনয়জীবন নিয়ে তার একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চায় এসেছে। এই বিতর্কের মাঝে চলচ্চিত্রের সম্মান ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী।

    ওমর সানী তার পোস্টে ধর্ম ও কর্মকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘পপির কথাটা যেভাবে আসছে এভাবে ঠিক না যদি ও এভাবে বলে থাকে। আসলে ধর্ম কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস কর্মটা হালাল ধর্ম তো কোন কথাই নেই।’

    ওমর সানী তার বক্তব্যে পপির বক্তব্য বা মনোভাবের সমালোচনা করলেও চলচ্চিত্রের সম্মান রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমে কাজ করে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কিছু নয়। সমাজের অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চেয়ে বিনোদন জগতের মানুষের সততা ও হালাল পরিশ্রম অনেক বেশি সম্মানের।

    পপির ও তার নিজের মক্কা-মদিনা সফরের প্রসঙ্গও আসে ওমর সানীর বক্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মক্কা এবং মদিনাতে যেতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের ডেকেছেন।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।’

    পপিকে উদ্দেশ করে পোস্টের শেষাংশে ওমর সানী আরও লেখেন, ‘ও এখনও আমার কাছে ছোট মানুষ, ভালো থাকিস পপি।’

    পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অঝোর কান্নায় পপি বলেছিলেন, তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে বাঁচতে চান, ভালো থাকতে চান এবং সৃষ্টিকর্তার নাম জপেই সময় কাটাতে চান।

    সম্প্রতি অভিনয়জীবন ও অতীত পথচলা নিয়ে পপির এই মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। আর সেই বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’-তেই তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে ‘জগত সংসার’সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

  • নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ের কাজে বেশ কিছু দিন ধরে নেপালে ছিলেন। কাজের ফাঁকে ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানেও। সেসব স্থানের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নানা মুহূর্ত শেয়ার করে নেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে অভিনেত্রী লাল রঙের একটি পোশাকে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। রূপের পাশাপাশি তার পোশাকেও নান্দনিকতার ছাপ।

    এদিন নিজেকে ধরা দেন অভিনেত্রী। সেই রাতে হাস্যোজ্জ্বল ও ভিন্ন পোজে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায় অপু বিশ্বাসকে। রাতের আবহের সেই ছবিগুলো পোস্টের পর ক্যাপশনে অপু বিশ্বাস লিখেছেন— ‘শান্ত রাত, সুন্দর স্বপ্ন। শুভরাত্রি!’। অর্থাৎ তার এ নৈশবার্তায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নির্মল প্রশান্তি ও সুন্দর স্বপ্নের শুভকামনা জানান এই ঢালিউড কুইন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা নেটিজেনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের নজর কাড়ে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের বন্যায় ভেসে যান অপু। তবে অপুর এ রহস্যময় পোস্টে মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রশংসার পাশাপাশি দেখা যায় নানা রসাত্মক ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যও, যা অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করেন অভিনেত্রী।

  • নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

    নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।

    ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তার চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি ‘ফিঙ্গার হার্ট’ পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।

    তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

    শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘পোড়ামন ২’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে ‘দহন’ সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

  • নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পী ব্যবসায় যুক্ত। রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলার এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্তর অনেকে। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

    ‘স্পিডটাচ অটোস’ নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার ভিশন, এনার্জি ও আইডিয়া দিয়ে এই কোম্পানির জার্নিতে অবদান রাখতে চাই। স্পিডটাচ অটোসের মাধ্যমে ব্র্যান্ড নিউ, রিকন্ডিশন্ড ও প্রি-ওউনড গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো মান, সঠিক মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল মাহির। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও দুটি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী।

    মাহি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবসার কথা সবাইকে জানালাম। আশা করছি, শিগগির অন্যটির খবরও জানাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তখন মনে হয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। অভিনয় তো আমার আর্নিং সোর্সের জায়গা। সেখানে আমাকে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, আমি সব কাজ করব না, গল্প ভালো লাগলেই করব। তাই রোজগারের জন্য আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতেই হবে। ভিন্ন আয়ের পথ থাকতে হবে। সে কারণেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘এরকম নোংরামি করতে চাই না’

    ‘এরকম নোংরামি করতে চাই না’

    সম্প্রতি একটি পডকাস্টে প্রেমের কথা স্বীকার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। জানিয়েছেন, অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে বছর কয়েক আগে। এরপর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই দুই তারকা।

    এবার সেসব গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সাদিয়া আয়মান। তার কথায়, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই, গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই। থাকে না, কিছু কথা না বললেও হয়। যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে। তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব…। এরকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।’

    সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক- সময়, সুযোগ…। আল্লাহ তো সব লিখে রেখেছেন কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।’

    এখন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছেন উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী জানান, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেই নজর দিচ্ছেন তিনি।

    তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হব- তখন যখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরো ভ্যালু অ্যাড করবে। আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, নিজের ও আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়া- এসব নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না।’

  • বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    চারদিকে শুধু পানি। যেখানে ছিল রাস্তা, সেখানেও এখন বন্যার স্রোত। রাত গভীর হলে সেই পানির ওপরে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎহীন সেই রাতগুলোতে দুর্গত মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক টুকরো আলো। সেই আলো পৌঁছে দিতে এবার বন্যাবিধ্বস্ত আসামের মানুষের কাছে ছুটে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর।

    ‘ভারত ডিজাস্টার রিলিফ ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোর হাতে খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সৌরবাতি তুলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণেই থেমে থাকেননি, কথা বলেছেন দুর্গত মানুষের সঙ্গে, কাছ থেকে দেখেছেন তাদের দুর্ভোগ ও কঠিন বাস্তবতা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ভূমি।

    রাতের অন্ধকারে গাড়িতে করে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। চারপাশে তখন শুধু পানি। গুগল ম্যাপে রাস্তা দেখালেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত ভূমিকে বলতে শোনা যায়, ‘গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে এখানে রাস্তা রয়েছে, কিন্তু চারদিকে শুধু পানি।’ এরপর বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের হাতে তুলে দেন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, পাশাপাশি বিতরণ করেন সৌরবাতি।

    রাত তখন প্রায় ১১টা, অথচ চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে ডুবে। ভূমি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, বিদ্যুতের সংকটও কাটেনি। ফলে অন্ধকারে বসবাস করা পরিবারগুলোর জন্য সৌরবাতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জরুরি। শুধু আলো নয়, এই সৌরবাতি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করেন ভূমি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের ভয় থাকে। তাই ঘরবাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা মানুষদের জন্য সামান্য আলোও হয়ে উঠছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভূমির কথায়, ‘পরিস্থিতি খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে আপনাদের এখানে সশরীরে আসতে হবে, নিজের চোখে দেখতে হবে।’ ভিডিওটি প্রকাশ করে ভূমি লিখেছেন, স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

    এটাই অবশ্য আসামে ভূমির প্রথম ত্রাণকাজ নয়। এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটুজলে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে তাঁকে।

    তারকার ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে ভূমি পেডনেকর যেন মনে করিয়ে দিলেন– দুর্যোগের সময় সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় মানবিকতা। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ, তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    দীর্ঘদিন ধরেই একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী এবার জানালেন, তার জীবনে নতুন একজন মানুষ এসেছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগেই বিয়ে করেছেন তিনি।

    সাবার বর্তমান স্বামীর নাম ফয়সাল। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী।

    সোহানা সাবা গণমাধ্যমকে জানান, ফয়সালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

    সোহানা সাবা ও তার স্বামী ফয়সাল। ছবি: ফেসবুক

    সোহানা সাবা ও তার স্বামী ফয়সাল। ছবি: ফেসবুক

    বিয়ের পর কেমন কাটছে জীবন, কথা প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’

    ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’

    একসময় নির্মাতা ও অভিনেতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন সোহানা সাবা। প্রায় এক দশকের সেই সংসারে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন।

    টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে। ভারতে কাজ করেছেন ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার–ওপার’ এবং আরেকটা নাম ঠিক না হওয়া সিনেমার। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন সাবা।