অভিনেত্রী

  • নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকের বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তবে সম্প্রতি ছোটপর্দায় তার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে একই ধরনের একঘেয়েমি চরিত্রকে দায়ী করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনের অগ্রাধিকার ও জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

    টিভি নাটক, ওটিটি এবং সিনেমা—এই তিন মাধ্যমে তাঁকে সমান্তরালে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে সাদিয়া বলেন, ‘নাটকে ইতোমধ্যে কাজ কমিয়ে দিয়েছি। নাটকের এখনকার গল্পগুলো খুব একটা ভালো লাগছে না, মনের মতোও হয় না। একটা সময় স্ক্রিপ্ট এত ভালো লাগত যে কোনটা রেখে কোনটা করব, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। কিন্তু এখন যেসব স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, তা আর টানে না। একই ধরনের চরিত্রের বারবার পুনরাবৃত্তি বা একঘেয়েমি এড়াতেই মূলত নাটকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি।’

    তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য একই ছাঁচে আটকে না থেকে ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরা ভীষণ জরুরি। দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার তাগিদ থেকেই এখন বড়পর্দা, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও নতুন ঘরানার প্রজেক্টগুলোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন তিনি।

    নিজের স্বভাব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় সোজা কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের জটিলতা এড়িয়ে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাই আমার পছন্দ।’

  • যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    কয়েক বছর ধরে বড়পর্দায় অনিয়মিত চিত্রনায়িকা মৌসুমী। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল করছেন তিনি। এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হলো এই নায়িকার।

    একসময় ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা।

    তিন বছর অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন তিনি। শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে নিজেই এই সুখবর জানিয়েছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়। এত দিন সেখানে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ছিল না মৌসুমীর। গ্রিন কার্ড পাওয়ায় এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে নেই মৌসুমী। কিছুদিন আগে নতুন একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’।

    ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে দেশের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ এবং চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
    সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গেও সফল জুটি গড়েছেন মৌসুমী।

    অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’। ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘মেহের নিগার’। এ ছাড়া তাঁর পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘শূন্য হৃদয়’ ও ‘ভালোবাসবোই তো’।

    মৌসুমীর জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় আরও রয়েছে ‘আত্মঅহংকার’, ‘স্নেহ’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘দেনমোহর’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিদ্রোহী’, ‘বধূ’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভাংচুর’, ‘সাজন’, ‘বিশ্ব প্রেমিক’, ‘গরিবের রানি’, ‘রাক্ষস’, ‘আদরের সন্তান’, ‘সুখের ঘরে দুঃখের আগুন’, ‘লুটতরাজ’, ‘আম্মাজান’ ও ‘গোলাপী এখন বিলাতে’।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া এই নায়িকা এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

  • অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    প্রেমের সম্পর্কে যতটা ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হয়, গায়ত্রী সুরেশের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সম্পর্ক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেমিকের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন শুনেছিলেন, যা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও স্বস্তি পাননি তিনি।

    ‘বিগ বস মালয়ালম ৮’-এর এই প্রতিযোগী সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    প্রতিযোগিতা থেকে গায়ত্রীর আকস্মিক বিদায়ে দর্শকেরা অবাক হয়েছেন। তবে শো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠানের একটি টাস্কে নিজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়টি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি।

    সেই টাস্কে বিগ বস প্রশ্ন করেন, ‘জীবনে যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি কী বলবেন?’ উত্তরে ২০২১ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন গায়ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক মানুষ আছেন, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। কিন্তু যে ঘটনাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত ও মনকে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি সিচুয়েশনশিপে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় সেটা আসলে শুধুই একটি সিচুয়েশনশিপ ছিল।’

    গায়ত্রী জানান, সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর আচরণে সতর্ক হওয়ার মতো কিছু বিষয় তার চোখে পড়েছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মনে হয়েছিল। তবে কাছের একজন মানুষকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত—এমনটা ভেবেই সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    এরপর নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে গায়ত্রী বলেন, ‘সম্পর্ক শুরুর প্রথম সপ্তাহে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার এইডস নেই তো? সেই মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এই কথার মধ্যে এত নেতিবাচকতা খুঁজে ভুল করছি। তাই সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।’

    তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার জন্য সুখকর হয়নি। গায়ত্রীর ভাষ্য, ‘বিশেষ লাভ হয়নি। আমার সঙ্গে থেকেও অন্য নারীর প্রতি সে আসক্ত ছিল।’

    নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে এখন টক্সিক সিচুয়েশনশিপ হিসেবে দেখছেন গায়ত্রী। তার এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।

    দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।

    বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।

    ১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।

    পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

    বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।

    দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।

    এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে অভিনয়জীবন নিয়ে তার একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চায় এসেছে। এই বিতর্কের মাঝে চলচ্চিত্রের সম্মান ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী।

    ওমর সানী তার পোস্টে ধর্ম ও কর্মকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘পপির কথাটা যেভাবে আসছে এভাবে ঠিক না যদি ও এভাবে বলে থাকে। আসলে ধর্ম কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস কর্মটা হালাল ধর্ম তো কোন কথাই নেই।’

    ওমর সানী তার বক্তব্যে পপির বক্তব্য বা মনোভাবের সমালোচনা করলেও চলচ্চিত্রের সম্মান রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমে কাজ করে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কিছু নয়। সমাজের অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চেয়ে বিনোদন জগতের মানুষের সততা ও হালাল পরিশ্রম অনেক বেশি সম্মানের।

    পপির ও তার নিজের মক্কা-মদিনা সফরের প্রসঙ্গও আসে ওমর সানীর বক্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মক্কা এবং মদিনাতে যেতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের ডেকেছেন।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।’

    পপিকে উদ্দেশ করে পোস্টের শেষাংশে ওমর সানী আরও লেখেন, ‘ও এখনও আমার কাছে ছোট মানুষ, ভালো থাকিস পপি।’

    পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অঝোর কান্নায় পপি বলেছিলেন, তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে বাঁচতে চান, ভালো থাকতে চান এবং সৃষ্টিকর্তার নাম জপেই সময় কাটাতে চান।

    সম্প্রতি অভিনয়জীবন ও অতীত পথচলা নিয়ে পপির এই মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। আর সেই বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’-তেই তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে ‘জগত সংসার’সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

  • নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ের কাজে বেশ কিছু দিন ধরে নেপালে ছিলেন। কাজের ফাঁকে ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানেও। সেসব স্থানের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নানা মুহূর্ত শেয়ার করে নেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে অভিনেত্রী লাল রঙের একটি পোশাকে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। রূপের পাশাপাশি তার পোশাকেও নান্দনিকতার ছাপ।

    এদিন নিজেকে ধরা দেন অভিনেত্রী। সেই রাতে হাস্যোজ্জ্বল ও ভিন্ন পোজে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায় অপু বিশ্বাসকে। রাতের আবহের সেই ছবিগুলো পোস্টের পর ক্যাপশনে অপু বিশ্বাস লিখেছেন— ‘শান্ত রাত, সুন্দর স্বপ্ন। শুভরাত্রি!’। অর্থাৎ তার এ নৈশবার্তায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নির্মল প্রশান্তি ও সুন্দর স্বপ্নের শুভকামনা জানান এই ঢালিউড কুইন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা নেটিজেনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের নজর কাড়ে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের বন্যায় ভেসে যান অপু। তবে অপুর এ রহস্যময় পোস্টে মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রশংসার পাশাপাশি দেখা যায় নানা রসাত্মক ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যও, যা অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করেন অভিনেত্রী।

  • নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

    নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।

    ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তার চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি ‘ফিঙ্গার হার্ট’ পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।

    তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

    শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘পোড়ামন ২’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে ‘দহন’ সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

  • নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পী ব্যবসায় যুক্ত। রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলার এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্তর অনেকে। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

    ‘স্পিডটাচ অটোস’ নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার ভিশন, এনার্জি ও আইডিয়া দিয়ে এই কোম্পানির জার্নিতে অবদান রাখতে চাই। স্পিডটাচ অটোসের মাধ্যমে ব্র্যান্ড নিউ, রিকন্ডিশন্ড ও প্রি-ওউনড গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো মান, সঠিক মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল মাহির। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও দুটি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী।

    মাহি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবসার কথা সবাইকে জানালাম। আশা করছি, শিগগির অন্যটির খবরও জানাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তখন মনে হয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। অভিনয় তো আমার আর্নিং সোর্সের জায়গা। সেখানে আমাকে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, আমি সব কাজ করব না, গল্প ভালো লাগলেই করব। তাই রোজগারের জন্য আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতেই হবে। ভিন্ন আয়ের পথ থাকতে হবে। সে কারণেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’