ট্যাগ অপরাধ

  • পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

    আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন–সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত এবং দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

  • ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিলের ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকারকে (৫০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের কাঠগড়া গ্রামের আব্দুল বারিক সাকিদারের ছেলে আব্দুল আলিম (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে স্থানীয় ফুলতলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন তার রাইস মিলে পাহারা দিতে যান। রাত দেড়টার দিকে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র বা ডাকাত দল মিলের ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে।

    এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনে ফেললে, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

    ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা।

    শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    খুনের পর লুট হয় একটি মুঠোফোন। এরপর সেটি একের পর এক হাতবদল হয়েছে—মোট আটবার। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি। হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রায় এক বছর পর সেই ফোনের খোঁজে নেমেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান খুনের পরিকল্পনাকারীদের কাছে। আর তাতেই উন্মোচিত হয় রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

    ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ধারালো অস্ত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আকলিমার আরেক ছেলে দুলাল উদ্দিন বাগমারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল বাগমারা থানা–পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তাঁরা কেউই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এক বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তখনই তদন্তকারীরা নজর দেন খুনের পর আকলিমার নিখোঁজ হওয়া মুঠোফোনের দিকে। মুঠোফোনটি আটবার হাতবদল হয়ে তত দিনে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। এই মুঠোফোনটিই হয়ে ওঠে পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রধান আলামত।

    সূত্র মিলল হারিয়ে যাওয়া ফোনে

    পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি একের পর এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে থাকে। তদন্তকারীরা ফোনটির আইএমইআই নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন।

    ফোনটি কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে মা–ছেলেকে হত্যার পর হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    পিবিআই জানায়, মুঠোফোনের হাতবদলের পর্যায়ক্রম পর্যালোচনা করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিহত আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ছিলেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার আকলিমা বেওয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার সঙ্গে আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও আকলিমার বিরোধ ছিল। আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে খুন করানো হয়। মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান জোড়া খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    —মোস্তফা কামাল, পিবিআইয়ের প্রধান

    পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জোড়া খুনের এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু ছিল একটি মুঠোফোন। খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি লুট হয়েছিল। তারপর আটজনের হাতে ঘুরেছে। কিন্তু সেই মুঠোফোনের হাতবদলের ক্রম অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি

    পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই মামলার তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় মাতবর। নানা কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবার মাদকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আকলিমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানেরও বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরেই আকলিমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল হাবিবুর রহমানের। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ভাড়াটে খুনি জোগাড় করা হয়।

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে ভাড়াটে খুনিদের আবুল হোসেন মাস্টার মোটরসাইকেলে পথ দেখিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। খুনিরা তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করে আকলিমার বাড়ির সামনে আসেন।

    পিবিআই জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে আকলিমা ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় বাইরে মোটরসাইকেল পাহারায় ছিলেন আরেক ব্যক্তি। হত্যার পর আকলিমার মুঠোফোন নিয়ে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

    দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আকলিমা–জাহিদ হত্যা মামলার রায় দেন আদালত।

    আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন দুর্গাপুরের দেবীপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্য ও ভাড়াটে খুনিদের দলের নেতা।

    এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্গাপুরের শ্যামপুরের আবদুল্লাহ আল কাফি, রুহুল আমিন, খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • জঙ্গল সলিমপুর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জঙ্গল সলিমপুর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না, হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার গত এক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সারা দেশের অপরাধচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।’

    পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হন।

    উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

    সর্বশেষ ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েক শ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্তকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অফিসে বদলি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাদাত ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে নিজের কাছে থাকা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে জমা হতো শাহাদাতের পকেটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের জালিয়াতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে নকল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল শাহাদাতের সিলের বানানে একটি অসংগতিতে সব রহস্য ফাঁস হয়ে যায়।

    জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা রয়েছে। কিন্তু শাহাদাতের তৈরিকৃত নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের এই অসংগতি একই দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অল্প সময়ে তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ায় টাকার অঙ্ক বড় হয়নি। এছাড়া কেবল শাহাদাতের একার পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। এর পেছনে দপ্তরের ভেতরে বা বাইরে কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশও থাকতে পারে।

    জানা গেছে, ঘটনা তদন্তে গত ৩০ এপ্রিল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সিল জালিয়াতির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করি।

    তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে করা হয়। কারো পক্ষে সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কি না, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।

    এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি কন্ট্রোলার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছিলাম।

    তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে। ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

    এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহাদাতকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    নীলফামারীর ডিমলায় একটি ভুট্টাখেত থেকে পুলিশের ইউনিফর্মসদৃশ পোশাক, ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভুট্টাখেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুলিশের পোশাক, সিমকার্ড ও ধারালো ছুরি।

    নির্জন স্থানে পুলিশের পোশাক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কোনো অপরাধী চক্র বড় ধরনের অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ শেষে এসব সরঞ্জাম এখানে ফেলে গেছে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে এল বা কারা এখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।

  • চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় মাদক সেবনের অপরাধে চারজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে প্রত্যেককে ১শ’ টাকা করে জরিমানা করে আদায় করা হয় এবং ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

    বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চৌগাছা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড চাঁদপুর গ্রামের মুনতাজ আলীর ছেলে মোমিনুর রহমান, দাউদ আলীর ছেলে ইজাজুল ইসলাম, ইউসুফ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এবং সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম।

    নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানান, গাঁজা সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮/ ৩৬(১) এর ৫ উপধারা মোতাবেক ৪ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই অপরাধে তাদের কাছ থেকে ১শ’ টাকা করে ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

  • ময়মনসিংহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ বস্তা চাল জব্দ

    ময়মনসিংহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ বস্তা চাল জব্দ

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের ১৪ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সিলমোহরযুক্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ইছাক মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২২) এর বসতঘর ও দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চালের মোট পরিমাণ ৪২০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, সরকারের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে মজুত বা বিক্রির চেষ্টা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান চলমান থাকবে।

    তিনি আরও জানান, জব্দ করা চাল বর্তমানে উপজেলা পরিষদে প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার এসব চাল গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।