ট্যাগ অপমৃত্যু

  • বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর পারভেজ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তার বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পারভেজ উপজেলার চাড়োল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পারভেজের মা পারভীন বেগম জানান, গত মঙ্গলবার ছয় হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় পারভেজ। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পারভেজের বলে শনাক্ত করা হয়।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • নারায়ণগঞ্জে  লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো. রাশেদুজ্জামান (২২), মো. গালিব (১৮) ও মোসা. সুরাইয়া (১২)। পরে ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহই উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব এবং শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ সুরাইয়ার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার। পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন। অপরদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

  • গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বজ্রপাতে আলী হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছেন।

    নিহত আলী হোসেন পুরাতন মচমুড়া গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি ইউনুস আলীর ছেলে। সে বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় পুরাতন মটমুড়া গ্রামে একটি মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে গুরুতর আহত হয় আলী হোসেন। তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে গণপিটুনি চোর নিহত

    গাংনীতে গণপিটুনি চোর নিহত


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দীতে টায়ার চুরি করতে এসে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক চোর নিহত হয়েছেন।


    আজ মঙ্গলবার (২জুন) ভোররাতের দিকে বামন্দী বাসস্ট্যান্ডের খোকন এন্টার প্রাইজ নামের ওই টায়ার হাউজে চুরি করতে এসে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছেছেন।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে খোকন এন্টারপ্রাইজে ভোর পাঁচটার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি চোরচক্র টায়ার চুরি করতে আসে। ওই দোকানের তালা ভেঙ্গে সেখান থেকে তিন জোড়া ট্রাকের টায়ার তাদের পিক-আপে তুলে নেই। এসময় দোকান মালিক ও স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে চারজন পালিয়ে গেলেও নিহত চোর স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

    গাংনী থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে বলে জানান।

  • সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার মড়কা বাজার সংলগ্ন মাঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মড়কা বাজারে শহিদুল ইসলামের একটি মিল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিকটবর্তী মাঠে চাষাবাদ করতেন। সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু করতে গেলে তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বুধা দীপ্ত দাস বলেন, শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তারা সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।

    গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, স্ট্রোকজনিত কারণেও শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহত শহিদুল ইসলাম এর আগে দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে পাঁকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (আঁটি) তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

  • ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর ভবনের ৮ তলার ৮৪ নম্বর ইউনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত লাতিপভ ভিল (৪২) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।