অঙ্গীকার

  • অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব

    মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার বা চুক্তি হলো একটি পবিত্র প্রতিশ্রুতি, যা বিশ্বস্ততা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক। মুসলমানদের জীবনে অঙ্গীকার পূর্ণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে এটি নৈতিকতা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তাদের কথা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করে।

    অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য পাপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে সাক্ষী রেখেছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।” (সুরা আন-নাহল: ৯১) এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, অঙ্গীকার পূর্ণ করা শুধু মানুষের সঙ্গে করা একটি সামাজিক দায় নয়, বরং আল্লাহর সামনে একটি ধর্মীয় দায়িত্ব।

    অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। ইতিহাসে দেখা যায়, আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে, কিন্তু তারা তা ভঙ্গ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের উপর লা‘নত পাঠিয়েছেন এবং তাদের অন্তর কঠিন করে দিয়েছেন। কোরআনে এসেছে, “সুতরাং তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে লা‘নত দিয়েছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে করেছি কঠোর।” (সুরা আল-মায়িদা: ১৩) অতএব, মুসলমানদের উচিত অতীত জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

    অঙ্গীকার পূর্ণ না করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালার কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সুরা আল-ইসরা: ৩৪) এই সতর্কবাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা শুধু দুনিয়াবি কর্তব্য নয়, বরং আখেরাতের জবাবদিহির বিষয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা) অঙ্গীকার রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ আছে: যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন আমানত রাখা হয় তখন খেয়ানত করে।” (সহিহ বুখারি: ৩৩; মুসলিম: ৫৯) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা শুধু নৈতিক দুর্বলতা নয়, এটি ঈমানের পরিপন্থী কাজ।

    অঙ্গীকার পূরণে সমাজে আস্থা, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যেকের উচিত নিজের প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকা। মুসলমানের মুখ ও কাজ যেন এক হয়, কথায় যেন প্রতারণা না থাকে। কারণ ইসলাম সেই সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভর করতে পারে, বিশ্বাস রাখতে পারে।

    অঙ্গীকার পূর্ণ করা কেবল দুনিয়ার শান্তির পথ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের মাধ্যমও বটে। আল্লাহ আমাদের সকলকে অঙ্গীকার রক্ষাকারী, বিশ্বস্ত ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। আমিন।