অপমৃত্যু

  • গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোয়ালঘর পরিষ্কার করার সময় গরুর লাথির আঘাতে আরেফা বেগম (৩৮) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আরেফা বেগম ওই এলাকার এজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর পরিষ্কার করছিলেন আরেফা বেগম। এ সময় একটি গরু তার বুকে জোরে লাথি দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বজনেরা ছুটে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আসাদুজ্জামান ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আসেন আসাদুজ্জামান। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি বাড়িতে আইপিএস (তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র) মেরামত করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইশত তালবীজ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা পেরেছি আমরাই পারব রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার সকালে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে ব্লাড ফাইটার্স টিম নবাবগঞ্জ। সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ রানা, অ্যাডমিন রনি ও রিমন, মডারেটর সমসের, ফয়সাল কবির ও আইয়ুব, সদস্য রকি ও নূরনবীসহ অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা জানান শুধুমাত্র রক্তদানের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও সামগ্রিক জনকল্যাণে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

    একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তালগাছের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতেও আর্তমানবতার সেবা, রক্তদান কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড সমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাসযোগ্য সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

  • বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর পারভেজ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তার বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পারভেজ উপজেলার চাড়োল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পারভেজের মা পারভীন বেগম জানান, গত মঙ্গলবার ছয় হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় পারভেজ। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পারভেজের বলে শনাক্ত করা হয়।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • নারায়ণগঞ্জে  লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো. রাশেদুজ্জামান (২২), মো. গালিব (১৮) ও মোসা. সুরাইয়া (১২)। পরে ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহই উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব এবং শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ সুরাইয়ার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার। পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন। অপরদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

  • গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বজ্রপাতে আলী হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছেন।

    নিহত আলী হোসেন পুরাতন মচমুড়া গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি ইউনুস আলীর ছেলে। সে বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় পুরাতন মটমুড়া গ্রামে একটি মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে গুরুতর আহত হয় আলী হোসেন। তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে গণপিটুনি চোর নিহত

    গাংনীতে গণপিটুনি চোর নিহত


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দীতে টায়ার চুরি করতে এসে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক চোর নিহত হয়েছেন।


    আজ মঙ্গলবার (২জুন) ভোররাতের দিকে বামন্দী বাসস্ট্যান্ডের খোকন এন্টার প্রাইজ নামের ওই টায়ার হাউজে চুরি করতে এসে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছেছেন।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে খোকন এন্টারপ্রাইজে ভোর পাঁচটার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি চোরচক্র টায়ার চুরি করতে আসে। ওই দোকানের তালা ভেঙ্গে সেখান থেকে তিন জোড়া ট্রাকের টায়ার তাদের পিক-আপে তুলে নেই। এসময় দোকান মালিক ও স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে চারজন পালিয়ে গেলেও নিহত চোর স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

    গাংনী থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে বলে জানান।

  • সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার মড়কা বাজার সংলগ্ন মাঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মড়কা বাজারে শহিদুল ইসলামের একটি মিল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিকটবর্তী মাঠে চাষাবাদ করতেন। সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু করতে গেলে তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বুধা দীপ্ত দাস বলেন, শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তারা সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।

    গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, স্ট্রোকজনিত কারণেও শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহত শহিদুল ইসলাম এর আগে দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে পাঁকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (আঁটি) তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

  • ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর ভবনের ৮ তলার ৮৪ নম্বর ইউনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত লাতিপভ ভিল (৪২) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    তারা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

    এম কে (বিস্তারিত…)

  • ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    গাইবান্ধার সাঘাটায় ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহাবুব আলম। একইদিন সকালে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মথরপাড়া পচাবস্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন (মনা)। মনা ওই গ্রামের সুরেন্দ্র বর্মনের ছেলে। তিনি মথরপাড়া বটতলা বাজারে চা-দোকানি ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার নিজ বাড়িতে ব্লেন্ডার মেশিন মেরামত করার চেষ্টা করছিলেন মনা। এসময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরে পরিবারের সদস্য টের পেলে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের ফুফাতো ভাই সুমন রায় জানান, মনা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। মনার বাবা-মা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগী। সকালে ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম স্থানীয়দের বরাতে বলেন, বাড়ির ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় মথর পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে। তিনি চা দোকানি ছিলেন।

  • একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একসঙ্গে বিষপানে প্রেমিকা মীম আক্তারের মৃত্যুর ৬ দিন পর মারা গেলেন প্রেমিক মোরছালিন হাসান পরশও। শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরশের মৃত্যু হয়।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম।

    নিহত পরশ (২৫) উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে ও মীম (১৯) একই গ্রামের শফিউল ইসলামের মেয়ে। তারা একে অপরের প্রতিবেশী ।

    এর আগে গত ১৯ এপ্রিল সকালে ওই গ্রামে মীম ও পরশ একসঙ্গে বিষপান করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেলেই মীমের মৃত্যু হয় এবং পরশের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মোরছালিন হাসান পরশ ও মীম আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে তারা দুজনই নিজেদের পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে উভয়ের পরিবার রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি মীমকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। এরমধ্যে মীম স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে উভয়ের মধ্যে অভিমানের সৃষ্টি হয়। পরে সেই অভিমান থেকেই পরশ ও মীম ১৯ এপ্রিল সকালে একসঙ্গে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ সকালে পরশের মৃত্যু হয়েছে। আমরা রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি। সেখানেই (রমেকে) মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এম কে

  • নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় রবিউল ইসলাম (৪০) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে রবিউল ইসলাম ভ্যান নিয়ে উপজেলা থেকে কিশোরগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পিছন দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাক্টর তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে আজিমুল ইসলাম (২৪) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    মৃত আজিমুল ইসলাম শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের অটোচালক ফজলুল হকের ছেলে। আজিমুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে এসে বাবা ফজলুল হকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার বাবা টাকা দিতে পারেননি। এতে অভিমান করে আজিমুল নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

    মায়ের তৎপরতায় রশি কেটে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    আজিমুল ইসলামের মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।

    শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া আমরা কেউই মেনে নিতে পারছি না। আর্থিক সংকটের কারণে তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।

    এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাঈম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • পাম্পে তেল নিতে এসে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    পাম্পে তেল নিতে এসে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    দিনাজপুরের কাহারোলে পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল নিতে এসে ‌‘হিট স্ট্রোক’ করে এনায়েতুল করিম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

    এনায়েতুল করিম বীরগঞ্জ উপজেলার সাঁতোর ইউনিয়নের সাঁতোর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

    তিনি কাহারোল উপজেলার ৪ নম্বর তারগাঁও ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে পাম্পে তেল নিতে ঢোকেন। পরে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, এনায়েতুল করিম সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছে দেখেন পাম্পে তেল দিচ্ছে। তিনি তেল নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘসময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে একপর্যায়ে ঘামতে শুরু করেন।

    এসময় মোটরসাইকেলসহ মাটিতে পড়ে যান এনায়েতুল। তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা উপস্থিত জনগণ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার বর্মন জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এনায়েতুল করিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪০) নামে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মারা গেছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শহিদুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন।

    থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার গভীর রাতে পীরগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে উপজেলার সেনুয়া গ্রামে অভিযানে যান। সেখানে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় এএসআই শহিদুল ইসলাম হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আসামি ধরার পর গাড়িতে ওঠার সময় এএসআই শহিদুল অসুস্থবোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনা এএসআই শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • শেরপুরে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    শেরপুরে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    শেরপুরে একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের মোবারকপুর কইন্যাপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত থাকলেও, কোমরের নিচের অংশ কাটা ছিল।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে লোকজন কলাবাগানে গেলে নারীর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটির কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। বাকি অংশ সেখানে ছিল না। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

    নিহত নারীর নাম আমেনা বেগম (৪৫)। তিনি স্থানীয় মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। অন্যদিকে পিটুনিতে নিহত যুবকের নাম মেহেদী ইসলাম (৩২)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং উপজেলার বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বাবুল দেওয়ানের নবনির্মিত বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন রাজমিস্ত্রি মেহেদী ইসলাম। চার দিন আগে সেই কাজ শেষ হয়। আজ বিকেল তিনটার দিকে বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে মেহেদী সেখানে ঢুকে একটি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় আমেনা বেগম তাকে দেখে ফেললে মেহেদী তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন।

    আমেনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আমেনার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটক থাকা মেহেদীর ওপর চড়াও হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু আমেনার মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে মেহেদীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও একদল লোক তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে লাথি, ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করছেন। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল ‘সি’) মেহেদী ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে পুরোপুরি হেফাজতে নেওয়ার আগেই জনতা তার ওপর হামলা চালায়।”

    পুলিশ জানায়, দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়েই পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    পটুয়াখালীর বাউফলে পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা. মরিয়ম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    নিহত মরিয়ম বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা সুজন শিকদারের স্ত্রী। পরিবার ও শাশুড়ির সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খিচুনি রোগে ভুগছিলেন।
    শনিবার বিকেল ৫টার দিকে খেলাধুলা শেষে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পুকুরঘাটে যান মরিয়ম। পরে সন্তানদের ঘরে পাঠিয়ে থালা-বাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ খিচুনি উঠে তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    দীর্ঘ সময় তাকে না দেখে সন্তানরা বিষয়টি শাশুড়িকে জানালে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে নেমে ডুবন্ত অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
    এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • যমুনা নদীর পাড়ে  ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    যমুনা নদীর পাড়ে ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার থেকে হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩০) নামের গণঅধিকার পরিষদের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    নিহত হাফিজুল ইসলাম ওই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মৃত কমল মুন্সীর ছেলে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা চলছিল। হাফিজুল ইসলামও ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। রোববার রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডের ইঞ্জিন অংশে চার সহযোগীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতপুর থানা-পুলিশ ও চৌহালী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জামাল প্রামাণিক জানান, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর হাফিজুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতেন। কয়েক মাস আগে এলাকায় ফিরে এসে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন।

    এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

    হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের চানপুর ও আনন্দপুরে ডেমিকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রাসেল মিয়া (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে রাব্বি মিয়া (১৮), ছাব্বির (২১), ইন্তাজ আলী (১৬), সেলিম (২৫), বাবলু (৩৫), জিয়াউর (৫০), তকদির(২৮), আলতু মিয়া (১৮), রায়হান (২৮), আশরাফ উদ্দিন( ২৪), মাসুম (২৬), জীবন (২৮), আমেনা খাতুন (২৫)। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আনন্দপুর গ্রামের আলকুরান সওদাগর গোষ্ঠী এবং কুমেদপুর গ্রামের হান্নান মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি কাকাইলছেও পঞ্চায়েত কমিটি গঠন ও স্থানীয় বাজারে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই পক্ষ থেকে নানা উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল।এর জের ধরেই সোমবার রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ সকালে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাসেল মিয়া নিহত হন এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার অভিজিৎ পাল বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রাসেল মিয়াকে মৃত্যু অবস্থায় পাই। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আকবর হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একজন হাসপাতালে নিহত হয়েছেন।

  • সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    হবিগঞ্জের বাহুবলে ট্রাকচাপায় রূপজিত কর রাজু নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নতুনবাজার এলাকার বেন্দারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রূপজিত কর রাজু (৩৬) উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের নিপেশ করের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চাকরিজীবী স্ত্রীকে কুলাউড়া যাওয়ার উদ্দেশে মিরপুর বাজারে বাসে তুলে দেওয়ার পর রাজু কর বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর এলাকার আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে নতুনবাজার এলাকায় হাঁটতে যান। সকাল ৭টার দিকে বেন্দারপুল এলাকায় পৌঁছলে শ্রীমঙ্গলগামী একটি সবজিবোঝাই ট্রাক তাদেরকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।দুর্ঘটনায় রূপজিত কর রাজু ও ফুরঞ্জন দেব গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক রূপজিত কর রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ফুরঞ্জন দেবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

  • মেহেরপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

    মেহেরপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাসিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মঠমুড়া ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।তাসিম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হিদিরামপুর গ্রামের আ. লতিফের ছেলে। আহতরা হলেন-কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হিদিরামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আকাশ (২০), একই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজা (২০) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিশকুন্ডি মিস্ত্রিপাড়ার মোটরসাইকেল চালক খোকনের ছেলে জিসান (২২) ও তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত যুবক।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আকাশ ও রাজাসহ চার যুবক খলিষাকুন্ডি থেকে বামন্দী পর্যন্ত মোটরসাইকেল রেস করছিলেন। একটি বাসকে পাশ কেটে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা জিসানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাসিমের মৃত্যু হয়।আহত আকাশ, রাজা, জিসান ও অজ্ঞাত যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাদের চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেসিং প্রায় নিয়মিতই হয়; কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।গাংনী থানা ওসি বানী ইসরাইল জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আনুমানিক ৩৪ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রামচন্দ্রপুর সেতু সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা রামচন্দ্রপুর সেতুর পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বোয়ালমারী থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

  • ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু খান (৬০) ও ফজলু খান (৫৫) নামে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে গরুর জন্য খড় আনতে যান নুরু খান। এ সময় আগে থেকে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের স্পৃষ্টে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ছোট ভাই ফজলু খানও একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।হোসেনপুর উপজেলার ৫নং শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরুজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।