ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ

Sunamganj district

  • দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

    এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

    শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

    সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প নেই, তবু কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

    সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প নেই, তবু কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা এই সড়কে গাছ কাটছে বন বিভাগ। তবে সওজ বলছে, সড়কটি প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার কারণও তাদের জানা নেই। বন বিভাগ থেকে শুধু গাছ কাটার দরপত্রের একটি কপি তাদের দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে সড়কের ইচ্ছারচর এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। সেখানে বক্তারা অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করার দাবি জানান। অন্যথায় বন অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদেশি প্রজাতির গাছ কাটার কথা বলা হলেও সড়কের পাশে থাকা দেশীয় ফলদ ও ছায়াবৃক্ষও কেটে ফেলা হচ্ছে।

    ইচ্ছারচর গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া তার বাড়ির সামনে কেটে ফেলা একটি জামগাছ দেখিয়ে বলেন, ‘জায়গাটুকু সরকারি, কিন্তু জামগাছটি আমি লাগিয়েছি। এলাকার শিক্ষার্থী ও পথচারীরা এই গাছের ছায়া পেতেন। জাম পাকার মৌসুমে সবাই গাছ থেকে জাম নিয়ে খেতেন। গাছটি কাটার সময় আশপাশের সবাই মিলে বাধা দিয়েছি। তবু তারা দুটি গাছ কেটে ফেলেছে।’

    একই গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই সড়কের পাশের শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আকাশমণি, রেইনট্রিসহ বিদেশি গাছ কাটার দরপত্র হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। কিন্তু দেশীয় গাছও কাটা হচ্ছে। বাধা দিলেও গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তা মানছেন না।

    হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলেন, সড়কের পাশে থাকা ছায়াবৃক্ষের মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না। পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৪ হাজার ৪৬৮টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। অথচ এসব গাছের কাঠের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। এভাবে সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন অফিস ঘেরাও করা হবে।

    ২০০৪ সালে লাগানো হয়েছিল ২০ হাজার গাছ
    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় উপকারভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছের পরিচর্যা করে আসছেন।

    এর আগে ২০২৪ সালে বন বিভাগ ওই সড়কের প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে তখন গাছগুলো কাটা হয়নি।

    হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, ২০২৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) করা একটি রিটের পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০০৪-এর আওতায় রোপণ করা গাছ না কেটে গাছের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নির্বাচিত উপকারভোগীদের অর্থ দেওয়ার বিধান যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই রায়ে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদনের বিষয়টিও এসেছিল বলে তিনি জানান।

    সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন শনিবার বলেন, গাছ কাটার অনুমোদন জেলা কমিটিতে হয়েছিল।

    তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালে, অর্থাৎ গত তিন-চার মাসে এ ধরনের কোনো অনুমোদন হয়নি। এর আগে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ফাইল দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জানা নেই। বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি শুধু তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    বন বিভাগের বক্তব্য
    সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ রয়েছে। সামাজিক বনায়নের নিয়ম অনুযায়ী, বাগানের বয়স ১০ বছর পূর্ণ হলে গাছ কাটার পর সদস্যদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ এবং পরে সেখানে নতুন করে বনায়ন করার বিধান রয়েছে।

    তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

    সড়কের পাশে আকাশমণিসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এসব গাছের পরিবর্তে নতুন করে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তবে সড়কের পাশে থাকা দেশীয় প্রজাতির গাছও কাটা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, দেশীয় প্রজাতির গাছ কাটা হবে না।

    সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে উপকারভোগীদের সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে- আদালতের এমন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের কোনো গেজেট বা চূড়ান্ত নির্দেশনা বন বিভাগ পায়নি। সরকার এ ধরনের নির্দেশনা দিলে বন বিভাগ তা অনুসরণ করবে।

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • ছাতকে ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

    ছাতকে ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

    সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিএনজিচালকসহ আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জাতুয়া গ্রামের মুসাব্বির মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী (৫০) ও ছাতক উপজেলার জিটি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন (৩৫)। দুর্ঘটনায় সিএনজিচালকসহ আরো চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী লেনে একটি ট্রাক সড়কের পাশে পার্কিং করা ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়ে।

    জয়কলস হাইওয়ে থানার এসআই (নি.) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    সুনামগঞ্জে মধ্যনগর উপজেলার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অকৃষক ও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা বিতরণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

    অভিযোগের মুখে মঙ্গলবার সকালে কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে তা পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মধ্যনগর সদর ও চামরদানী ইউনিয়নের তিনটি করে ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু হয়। বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পরপরই তালিকায় নাম না থাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে চামরদানী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। পরে অভিযোগের পর সাময়িকভাবে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও পরে আবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ‘অনিয়মের তালিকা মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন তারা। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভরত কৃষকরা অনিয়মের অভিযোগে তালিকাভুক্ত কয়েকজনের নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

    এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এর জন্য দায়ী থাকবেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। এতে করে তাহিরপুর থেকে যাওয়া ও সুনামগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

    রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। তবে এর মধ্যেই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়াও উপজেলার যাদুকাটা নদীসহ সীমান্ত নদীর পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে নামছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

    বিএনপি নেতা জুবায়ের জয়নাল জানান, পাহাড়ি ঢল এলেই সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষজনের চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে যে পরিমাণে পানি বাড়ছে আর বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আনোয়ারপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি রতি মিয়া জানান, যাদুকাটা নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল রক্তি ও বৌলাই নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে যায়। আর পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এবং অন্য কোনো দিকে পানি নামতে না পারায় সড়কটি ডুবে যান চলাচলে সমস্যা হয়।

    সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, পানি বাড়ছে, তবে সুনামগঞ্জের সবগুলো পয়েন্ট দিয়েই বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    চলতি বছরে বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসে। তবে বস্তা সংকটের কারণে উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম।এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষক।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই হাজার ৩৭৩ টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পাটের বস্তার সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট দূর করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন।

    কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘দিনদশেক আগে আমি ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার কারণে ধান দিতে পারছি না।সজল সরকার নামের কৃষক বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে ধান দিতে না পারায় খুব সমস্যায় আছি। ধান বিক্রি করছি টাকার জন্য। কিন্তু সময়মতো টাকা না পেলে পরে টাকা দিয়ে কী হবে।’

    উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করেছি। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা না, সুনামগঞ্জ জেলার গুদামেও বস্তা সংকট চলছে।আমাদের উপজেলায় আপাতত ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ আমরা বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি শিগগিরই বস্তা চলে আসবে। তখন পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’

    এ এম

  • হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া ও টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে যেন নেমে এসেছে নীরব এক বিপর্যয়। কয়েক দিন আগেও যেখানে দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের ঢেউ কৃষকের মনে জাগিয়েছিল আশার আলো, সেখানে আজ শুধুই অথৈ পানি। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধানক্ষেতগুলোকে পরিণত করেছে পানির নিচে ডুবে থাকা এক বিষন্ন প্রান্তরে। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার যে দৃশ্য এখন হাওরে দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ফসল সংগ্রহের লড়াই নয়; বরং চরম অভাব আর অনাহারের বিরুদ্ধে এক নীরব হাহাকার।মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের রক্তা গ্রামের কৃষক নোমান মিয়ার করুণ আকুতি এখন পুরো হাওরাঞ্চলের প্রতিচ্ছবি। পাঁচজনের সংসার চালানো নোমান মিয়া বলেন, ‘বুক পানিতে নেমে ধান তুলতেছি, কিন্তু শ্রমিক পাই না। জোঁকের কামড় খেয়েও ধান কাটতে হচ্ছে, কারণ সারা বছরের খোরাকি জোগাড় করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে। ১৬ বিঘার মধ্যে পাঁচ বিঘা কোনোমতে তুলছি, আর সব শেষ।’

    একই চিত্র সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক রহিছ উদ্দিন চৌধুরীর। তার ৫০ কিয়ার জমি এখন পানির নিচে। শ্রমিক সঙ্কটে তিনি দিশেহারা। বর্গাচাষি ফারুক মিয়া ঋণ করে অন্যের জমি চাষ করেছিলেন। একটি ধানও না কাটতে পেরে তিনি এখন নির্বাক। এসব কৃষকের চোখে এখন কেবল অন্ধকার- এক দিকে ঋণের বোঝা, অন্য দিকে পরিবারের ভরণপোষণের চিন্তা।

    মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ- এই দুই জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ করা গেছে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর আবাদের মধ্যে দুই হাজার ৪৪২ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার কৃষক।

    অন্য দিকে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। জেলা কৃষি বিভাগের দাবি, প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, হাওরের অর্ধেক ধান এখনো পানির নিচে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কেবল স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সঙ্কেত।

    হাওরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ বা ‘রিপার’ চালানো যাচ্ছে না। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শ্রমিক অনেক কম। বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এই প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। একটি নৌকা ভাড়া নিতে হলেও গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। মৌলভীবাজারের কৃষকদের অভিযোগ, কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কাশিমপুর পাম্প হাউজ ঠিকমতো না চলা এবং জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    কৃষক যেটুকু ধান কোনোমতে পানি থেকে তুলে ডাঙ্গায় নিয়ে আসছেন, সেটুকু নিয়েও বিপত্তির শেষ নেই। টানা বৃষ্টি আর রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। খলায় স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে। পচা ধানের উৎকট গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস। শুধু ধান নয়, পচে যাচ্ছে গোখাদ্য খড়ও। ফলে হালের বলদ আর দুধের গাভী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বাজারে ধানের দামও এখন তলানিতে, তাই বিক্রিরও কোনো পথ নেই।

    কেন প্রতি বছর আগাম বন্যা ঠেকানো যাচ্ছে না- এই প্রশ্ন এখন হাওরবাসীর মুখে মুখে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি হাওরের ৬০৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে পিআইসির মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে।

    আবহাওয়া তথ্যানুসারে, এবার মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিলে সুনামগঞ্জে যেখানে ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টির কথা ছিল, সেখানে ৩৯৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল মোকাবেলায় বিদ্যমান বেড়িবাঁধগুলো সক্ষমতা হারিয়েছে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইউএনও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পিআইও সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই তালিকা করছে। গত ৫ মে সরকারের মন্ত্রীরা সুনামগঞ্জ সফর করে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল তালিকা নয়, অবিলম্বে দাদন ও মহাজনি ঋণের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনা এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    হাওরের এই নীরব বিপর্যয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন কৃষক। বানের জলে ভেসে গেছে ঘামের ফসল, ডুবে গেছে এক মৌসুমের আশা। দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের ঋণের বোঝা শোধ হবে কিভাবে- সেই চিন্তায় ঘুম নেই হাজারো কৃষকের। প্রকৃতির বৈরিতা আর প্রশাসনিক গাফিলতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হাওরের কৃষকরা আজ দিশেহারা। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের এই অন্নদাতারা চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

  • যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটায় গোসল করতে নেমে আবু সাঈদ (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের উত্তরে যাদুকাটা নদীর শাহিদাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রশিদ।

    নিখোঁজ আবু সাঈদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে।

    নিখোঁজ আবু সাঈদের চাচা শহিদ মিয়া জানান, দুপুরের দিকে শাহ আরেফিন শাহিদাবাদ এতিমখানা ও মাদরাসা থেকে সমবয়সী চার-পাঁচজন ছাত্র গোসল করতে মাদরাসার পেছনে যাদুকাটা নদীতে যায়। এ সময় যাদুকাটা নদীর উৎস মুখে পূর্ব পাড়ে থাকা ছোট একটি নালা পাড় হয়ে নদীর পশ্চিম পাড় বারিক্কার টিলা সংলগ্ন বাঘের মুখ নামক নালায় গিয়ে গোসল করতে নামে সবাই।

    তবে, আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় তার সাথে থাকা ছাত্ররা মাদরাসা ও আবু সাঈদের বাড়িতে তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বিকেল থেকে যাদুকাটা নদীতে নিখোঁজ আবু সাঈদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে তাকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।