ক্যাটাগরি বিদেশে শিক্ষা

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বিবিসি অনলাইন বলছে, নতুন আইনে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথা ঢাকার পোশাক, যেমন হিজাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা দেশটির একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার বলেন, হিজাব হলো ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’
    তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিকও হতে পারে।দেশটির রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন মধ্যপন্থী দলের জোট ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস- এই আইনটি প্রণয়ন করেছে। দলগুলোর দাবি, এটি ‘লিঙ্গসমতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার’ এবং তরুণীদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হয়েছে।
    অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও)কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, আমরা ‘এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করে।’
    তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে।’
    ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি আগের আইন বাতিল করে। সেই সময় আদালতের যুক্তি ছিল, ওই নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রিয়ার ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।তবে দেশটিতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা গেলে শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী এবং তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। বারবার আইন লঙ্ঘন করা হলে শিশু সেবা বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো (৬৮৫ পাউন্ড) জরিমানা হতে পারে।এদিকে দেশটির বিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক, উভয়ের ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
    এফপিও’র রিকার্ডা বার্গার বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

  • ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছয়তলা ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত চারজনকে । ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    ভবনটি পেইং গেস্ট থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার হওয়ায় তাদের বেশির ভাগই ‘বাড়িতে’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভবনটি ধসে পড়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি কংক্রিটের একটি স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন। তাকে উদ্ধারে আশপাশের কয়েকজন মিলে স্ল্যাবটি সরানোর চেষ্টা করছেন।

    উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে দমকল বাহিনীর অন্তত ১২টি গাড়ি । দমকল বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। ভবন ধসের খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় সমস্যা কমেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীন থেকে দক্ষ শিক্ষক আনতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে ড. মিলন বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও চীনের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে।

    সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পিএমডিসির জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাক্রমে আফগান শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে আফগান শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর বা মাইগ্রেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কাউন্সিল জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পিএমডিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেশের সব মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    চিঠি অনুযায়ী, যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্নাতক সম্পন্নের বিষয়টি এবং পাকিস্তান ত্যাগের তথ্য নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে হবে।

    পিএমডিসি জানিয়েছে, এ নির্দেশনা সারা দেশে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আওতাভুক্ত।

    নথি অনুযায়ী, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    কাউন্সিল আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, তথ্য দিতে বিলম্ব, নির্দেশনা না মানা কিংবা তথ্য গোপন করাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    পিএমডিসির এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে পেশাগত মেডিকেল ও ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোর্স শেষ করার আগেই পাকিস্তান ছাড়তে হতে পারে।

    পিএমডিসি পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলে নিবন্ধন এবং ভর্তি-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

  • ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সি তরুণ নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে নাথান ফ্লোরিডার ‘মিয়ামি ডেড কলেজ’-এ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন।

    নাথান একজন অসাধারণ মেধাবী প্রকৌশল শিক্ষার্থী। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে ‘ডুয়াল-এনরোলমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হন এবং ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন। এরপর মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    নাথানের আগে পুরুষদের মধ্যে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩০৬ বছর ধরে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে ছিল, যিনি ১৭১৭ সালে ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    এ ছাড়া নারী-পুরুষ মিলিয়ে আগের রেকর্ডধারী আলিয়া সাবুরের চেয়ে নাথান ১৬ দিন ছোট। আলিয়া ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। বর্ত

    মানে নাথান মিয়ামি বিশ্ববিদ্যায়ালের ‘স্কুল অব ল’-তে ‘জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করার পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স পড়াচ্ছেন। ২০২৮ সালে তার এই আইন বিষয়ক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

    নাথান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত খাতের ওপর জোর দিয়ে মেধা স্বত্ব আইন নিয়ে কাজ করতে চান।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে আলাপকালে নাথান বলেন, প্রকৌশল বিদ্যা তাকে জটিল সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট ও সুসংগঠিত অংশে ভাগ করে সমাধান করতে শিখিয়েছে। আইন সংক্রান্ত পড়াশোনাতেও তিনি একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন।