বিদেশে শিক্ষা

  • চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীনের তিয়ানজিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‌তিনি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন।

    চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন এন্ড এক্সিভিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “TVET Co‑Embracing Change, Co‑Forging Standards, Co‑Creating Future”।

    উচ্চপর্যায়ের এ বৈশ্বিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন।

    সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। তিনি টিভেটকে এমন এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

    তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। ”

    মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধুমাত্র নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তব শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে; এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে। ”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। ”

    ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “উভয় দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ”

    তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের টিভেট খাতকে আধুনিকায়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে।

    সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। সেগুলো হলো-
    উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের আলোকে অভিযোজিত করতে পারা; এবং সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তরুণ সমাজকে অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

    সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

  • ২০২৬ সালের নোবেলজয়ী দুই নারী: অ্যান কারসন ও নাভি পিল্লাই

    ২০২৬ সালের নোবেলজয়ী দুই নারী: অ্যান কারসন ও নাভি পিল্লাই

    অ্যান কারসন

    ‘৮ অক্টোবর সকালে রান্নাঘরে বসে হাতে এক কাপ চা আর ক্র্যাকার নিয়ে লন্ডন রিভিউ অব বুকস পড়ছিলাম। খেয়াল করলাম, মেঝেটা একটু ঝাড়ু দেওয়া দরকার। তাই চা রেখে চট করে উঠে দাঁড়ালাম। ঠিক সেই মুহূর্তে ফোন আসে। মেঝে আর ঝাড়ু দেওয়া হলো না। একের পর এক ফোন আসছিল, আর আমি কেটে দিচ্ছিলাম। ফোন বাজলে সাধারণত আমি ফোন বন্ধ করে দিই। পরে ফোনটি রিসিভ করেন আমার স্বামী রবার্ট কারি। তিনি আমাকে দিয়ে ফিরতি ফোন করান। পুরো ব্যাপারটা একটু পাগলামি মনে হচ্ছে।’ এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবারের নোবেলজয়ী অ্যান কারসন।

    ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কানাডার কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন। সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি এ পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরপরই এক সাক্ষাৎকারে কারসন জানান, নোবেল কমিটি থেকে যখন ফোন আসে, তখন তিনি লেখালেখি করছিলেন না; বরং মেঝে ঝাড়ু দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কী অদ্ভুত বিষয়, তাই না! কানাডার রেইকিয়াভিকে সমুদ্রের ধারের বাড়িতে ঘটে এসব কাণ্ড।

    ৭৬ বছর বয়সি অ্যান তৃতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক, যিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর আগে ১৯৭৬ সালে সল বেলো এবং ২০১৩ সালে অ্যালিস মুনরো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

    অ্যান কারসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই নোবেল পুরস্কার তার কাছে কী অর্থ বহন করে। উত্তরে তিনি বলেন, পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। তার এক বন্ধুর একটি বাড়ি প্রয়োজন। আর তিনি সবসময় ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’কে বড় অঙ্কের অনুদান দিয়ে থাকেন। এবারও সে ধরনের কিছু করবেন বলে ভেবেছেন।

    পাশাপাশি উদীয়মান লেখকদের জন্য কিছু পরামর্শও দেন এই নোবেলজয়ী। এ ছাড়া তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আগ্রহী পাঠকদের উদ্দেশে একটি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘মাঝখানটা খুঁজে বের করো আর সেখান থেকেই শুরু করো।’

    কানাডার টরন্টোতে ১৯৫০ সালের ২১ জুন জন্মগ্রহণ করেন অ্যান। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করেই তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন। ১৯৮৬ সালে তার প্রথম বই এরোস দ্য বিটারসুইট প্রকাশিত হয়। তবে তার সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্ম অটোবায়োগ্রাফি অব রেড। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাস প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের সাহিত্যকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত। ২০০১ সালে অ্যান তার দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম নারী হিসেবে টি এস এলিয়ট পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপেও ভূষিত হন।

    নাভি পিল্লাই

    এ বছর আরো একজন নারী পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই।

    পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নাভি পিল্লাই। তিনি জানান, প্রথমে তার মনে হয়েছিল, এটি হয়তো রসিকতা। একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে তিনি বিষয়টি যাচাই করতে চেয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, গাজা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার সাহসের প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু সত্য বলার জন্য সাহসের প্রয়োজন কেন হবে, সেটিই তার বিস্ময়ের বিষয়।

    শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়ে কিছুটা রসিকতাও করেন পিল্লাই। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তাহলে আমি এ পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’ তার এ মন্তব্যকে ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, গত বছর শান্তিতে নোবেল পাওয়ার পর মাচাদো জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিতে চান। পরে এ বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।

    বর্ণবৈষম্যের কঠিন সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেন পিল্লাই। তিনি বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি হন। পিল্লাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান ছিলেন নাভি পিল্লাই। ওই কমিশন গত বছর গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে।

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নাভি পিল্লাই।

    ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিল্লাই বলেন, ১৯৭১ সালের নৃশংসতার দায়মুক্তি মোকাবিলা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • শিক্ষার্থী দমনের অভিযোগের মধ্যেই মোদির দাবি, ‘ভারত গণতন্ত্রের জননী’

    শিক্ষার্থী দমনের অভিযোগের মধ্যেই মোদির দাবি, ‘ভারত গণতন্ত্রের জননী’

    ভারত ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার বক্তব্য, ভারতে মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে বিতর্কে অংশ নেন। তিনি এমন সময় এমন মন্তব্য করছেন, যখন তার সরকার প্রতিবাদকারীদের দূরে রাখতে রাজধানী দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দমনে দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

    অন্যদিকে, বিক্ষোভের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। আন্দোলনকে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে অভিহিত করে ক্ষমতাসীনরা। সেইসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে তাকে ‘অশুভ সংকেত’ বলে অভিহিত করে গেরুয়া শিবির।

    বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বয়ান আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ ইকনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখেন তিনি। রাজনীতি, ব্যবসা ও নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রের একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন মোদি। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিতে সক্রিয় ছিল বিজেপি।

    মোদি বলেন, ‘ভারত গণতন্ত্রের জননী। এ দেশে ১০০টিরও বেশি ভাষা রয়েছে, নিবন্ধিত সংবাদপত্র ও সাময়িকীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে এক হাজারের বেশি। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে ভারতে ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৫০ কোটির বেশি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক করেন এবং নাগরিকেরা নানা মতামত প্রকাশ করেন। বর্তমান সময়ে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

    মঙ্গলবার দিনের পরবর্তী সময় বিক্ষোভের বিরোধিতায় আসরে নামে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও রাজিব রঞ্জন সিং।

    কংগ্রেসকে ‘ভ্রান্ত ধারণায় আচ্ছন্ন’ বলে কটাক্ষ করে গোয়েল দাবি করেন, মানুষের কাছে রাহুল গান্ধীই সবচেয়ে বড় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেত। তার দাবি, এই কারণেই বারবার নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়ছে কংগ্রেস।

    কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন গোয়েল। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে রাজ্যসভার আসন দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, মোদি সরকারের আমলে ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    অন্যদিকে, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজিব রঞ্জন সিং বলেন, ‘দেশে নৈরাজ্য ছড়ানো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে গত কয়েক দিন ধরে যে ধরনের নাটক ও লোকদেখানো কর্মকাণ্ড চলছে, তা দেশের মানুষ কখনো ক্ষমা করবেন না।’

  • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন

    সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন

    কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি তার নাম ঘোষণা করে।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিক কবিতায় ভাষা, স্মৃতি, পুরাণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে অনন্যভাবে উপস্থাপনের জন্য তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

    নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, অ্যান কারসন তার কাব্য ও গদ্যে প্রাচীন সাহিত্য ও আধুনিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। তার লেখায় কবিতা, অনুবাদ, প্রবন্ধ ও নাট্যধর্মী রচনার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। ভাষার প্রতি তার পরীক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর মানবিক অনুসন্ধান তাকে সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখকে পরিণত করেছে।

    ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কারসন। তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের প্রভাব তার লেখায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গদ্য রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

    কারসনের উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘Autobiography of Red’, ‘The Beauty of the Husband’, ‘Nox’ এবং ‘Red Doc>’। তার লেখায় প্রেম, বিচ্ছেদ, আকাঙ্ক্ষা, মৃত্যু ও স্মৃতির মতো বিষয় বারবার উঠে এসেছে।

    সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে কারসন কানাডার সাহিত্যাঙ্গনেও নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছেন। পুরস্কারের সঙ্গে তিনি নোবেল পুরস্কারের পদক ও সনদ এবং আর্থিক সম্মানী পাবেন।

    প্রতি বছর অক্টোবর মাসে নোবেল পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

  • বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ জন গবেষক। গত বছর এই তালিকায় বাকৃবির ১২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছিলেন

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    গতবছরের ন্যায় এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে রয়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

    তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাকৃবি। বাকৃবির ১৬ জন গবেষক এ বছরের তালিকায় রয়েছেন।

  • বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ কোন পথে

    বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ কোন পথে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বজুড়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ এ ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে।

    ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৪টি দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুনে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা দেশের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের শুরুতে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মার্চে এ হার আরও বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

    তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর এ ধরনের নীতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিক্ষা ব্যবস্থা, পারিবারিক কাঠামো এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধায় রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।

    শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্য দেশের সিদ্ধান্ত সরাসরি অনুসরণ না করে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নিষেধাজ্ঞা

    ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়া, মালদ্বীপ ও মাল্টাসহ কয়েকটি দেশ স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে দেশভেদে এ নিষেধাজ্ঞার ধরন ও পরিধিতে পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো দেশে পুরো স্কুলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার কিছু দেশে শুধু শ্রেণিকক্ষে ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোথাও শিক্ষার প্রয়োজনে এবং প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ফ্রান্সে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও দেশটির ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।

    এর মধ্যে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সরাসরি মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর ২৪টি অঙ্গরাজ্যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডেও স্কুলের পুরো দিনে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ স্কুলগুলোর ওপর রাখা হয়েছে।

    বাংলাদেশের বাস্তবতা আলাদা

    স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। তবে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি অস্বীকার না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    মলয় ভৌমিক বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে নিউ মিডিয়াকে অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ”স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, “অন্তত মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ‘বন্ধ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্কুলে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ব্যবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। ”

    শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পারিবারিক পর্যায়েও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা নিজেরাই মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনে আসক্ত থাকেন। সন্তানকে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন কিংবা মোবাইল গেম খেলতে দেন।

    অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়া এবং তাদের মোবাইল গেম ও অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন মলয় ভৌমিক। তিনি বলেন, “শিশুদের শুধু পরীক্ষা ও ফলাফলকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যে রাখলে হবে না। তাদের গল্প, কবিতা ও অন্যান্য বই পড়া, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এসব সুযোগ কমে যাওয়ার কারণেই শিশুরা ধীরে ধীরে মোবাইলনির্ভর হয়ে পড়ছে। ”

    শিক্ষার্থীরা এখন মূল পাঠ্যবই বা গল্প-কবিতা না পড়ে মোবাইলে সেসবের সারাংশ খুঁজে নিচ্ছে উল্লেখ করে মলয় ভৌমিক বলেন, “গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কোনো গল্প, কবিতা কিংবা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও মূল বক্তব্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মূল লেখা না পড়েই শিক্ষার্থীরা খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে বড় হচ্ছে। ”

    শুধু খাতায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে উত্তর নিয়ে আসছে কি না, শিক্ষকদের সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যেসব দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং শিক্ষা পদ্ধতি বাংলাদেশের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও জানান মলয় ভৌমিক।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম এবং বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অন্য দেশের অভিজ্ঞতা সরাসরি প্রয়োগ না করে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ”

    শিশুদের বিকল্প সুযোগ দিতে হবেশিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, “শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহার ও ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য স্কুলের পাশাপাশি পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “অনেক দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মোবাইল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকেরাও চাইলে বিভিন্ন ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্লক করে রাখতে পারেন। ”

    রাশেদা কে চৌধূরীর মতে, শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাসাতেও শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বাসায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট ব্লক করে রাখার ব্যবস্থা তিনি দেখেছেন বলে জানান। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হলে অভিভাবকসহ শিক্ষা ও সমাজের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেক সময় কোনো সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। শুধু শিশুদের দায়ী করলেই হবে না, তাদের মানসিক বিকাশের জন্য বিকল্প সুযোগও তৈরি করতে হবে। ”

    করোনার সময় থেকে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বেড়েছে উল্লেখ করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “একই সময়ে খেলাধুলার মাঠ, সাঁতার কিংবা বাইরে দৌড়ানোর মতো সুযোগ কমে যাওয়ায় শিশুরা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। ”

    শিশুদের জন্য গল্প বলা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব বিকল্প ব্যবস্থা না করে শুধু মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

    শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, সমন্বিত উদ্যোগ

    বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যৌক্তিক বলে মনে করেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন। তার মতে, করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গেমিংয়ের আসক্তিও বেড়েছে।

    আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে বের করে আনতে পরিবার, বিদ্যালয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য শিশুদের স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের মোবাইল ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি। ”

    তিনি বলেন, “শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের বিকল্প সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য স্কুলে নিয়মিত বিতর্ক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান ক্লাব ও আইটি মেলার মতো কার্যক্রম আয়োজন করা যেতে পারে। ”

    এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের বাইরে বিভিন্ন ইতিবাচক কাজে প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে মনে করেন তিনি।

    নিষেধাজ্ঞার বদলে ব্যবহারবিধি

    স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা-নীতি বিষয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক। তবে বিষয়টিকে শুধু ‘মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা বোঝা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    কে এম এনামুল হক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসও শিক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। ”

    বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ না করে স্থানীয় বাস্তবতা, প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যবহারবিধি তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

    তার মতে, কোথায়, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    কে এম এনামুল হক বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশ শুধু নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ডিজিটাল ডিভাইসের বিভিন্ন ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে না দিয়ে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও শিক্ষাবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ”

    মোবাইল বন্ধের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশ্নও

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু একটি ডিভাইস নিষিদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পরিবারে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের ধরন, শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং দেশের বহুধারার শিক্ষা ব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত।

    উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে এসব নীতি সরাসরি অনুসরণ করার আগে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, পরিবারের সক্ষমতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য কতটা, তা বিবেচনা করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করা হবে কি না—শুধু এই প্রশ্নের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা কীভাবে শেখানো যায়, সেই বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

    নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

    এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

    বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

    সূত্র: মুসলিম মিরর

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বিবিসি অনলাইন বলছে, নতুন আইনে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথা ঢাকার পোশাক, যেমন হিজাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা দেশটির একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার বলেন, হিজাব হলো ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’
    তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিকও হতে পারে।দেশটির রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন মধ্যপন্থী দলের জোট ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস- এই আইনটি প্রণয়ন করেছে। দলগুলোর দাবি, এটি ‘লিঙ্গসমতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার’ এবং তরুণীদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হয়েছে।
    অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও)কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, আমরা ‘এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করে।’
    তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে।’
    ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি আগের আইন বাতিল করে। সেই সময় আদালতের যুক্তি ছিল, ওই নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রিয়ার ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।তবে দেশটিতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা গেলে শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী এবং তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। বারবার আইন লঙ্ঘন করা হলে শিশু সেবা বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো (৬৮৫ পাউন্ড) জরিমানা হতে পারে।এদিকে দেশটির বিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক, উভয়ের ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
    এফপিও’র রিকার্ডা বার্গার বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় সমস্যা কমেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীন থেকে দক্ষ শিক্ষক আনতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে ড. মিলন বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও চীনের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে।

    সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পিএমডিসির জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাক্রমে আফগান শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে আফগান শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর বা মাইগ্রেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কাউন্সিল জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পিএমডিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেশের সব মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    চিঠি অনুযায়ী, যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্নাতক সম্পন্নের বিষয়টি এবং পাকিস্তান ত্যাগের তথ্য নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে হবে।

    পিএমডিসি জানিয়েছে, এ নির্দেশনা সারা দেশে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আওতাভুক্ত।

    নথি অনুযায়ী, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    কাউন্সিল আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, তথ্য দিতে বিলম্ব, নির্দেশনা না মানা কিংবা তথ্য গোপন করাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    পিএমডিসির এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে পেশাগত মেডিকেল ও ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোর্স শেষ করার আগেই পাকিস্তান ছাড়তে হতে পারে।

    পিএমডিসি পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলে নিবন্ধন এবং ভর্তি-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

  • ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সি তরুণ নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে নাথান ফ্লোরিডার ‘মিয়ামি ডেড কলেজ’-এ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন।

    নাথান একজন অসাধারণ মেধাবী প্রকৌশল শিক্ষার্থী। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে ‘ডুয়াল-এনরোলমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হন এবং ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন। এরপর মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    নাথানের আগে পুরুষদের মধ্যে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩০৬ বছর ধরে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে ছিল, যিনি ১৭১৭ সালে ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    এ ছাড়া নারী-পুরুষ মিলিয়ে আগের রেকর্ডধারী আলিয়া সাবুরের চেয়ে নাথান ১৬ দিন ছোট। আলিয়া ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। বর্ত

    মানে নাথান মিয়ামি বিশ্ববিদ্যায়ালের ‘স্কুল অব ল’-তে ‘জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করার পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স পড়াচ্ছেন। ২০২৮ সালে তার এই আইন বিষয়ক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

    নাথান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত খাতের ওপর জোর দিয়ে মেধা স্বত্ব আইন নিয়ে কাজ করতে চান।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে আলাপকালে নাথান বলেন, প্রকৌশল বিদ্যা তাকে জটিল সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট ও সুসংগঠিত অংশে ভাগ করে সমাধান করতে শিখিয়েছে। আইন সংক্রান্ত পড়াশোনাতেও তিনি একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন।

  • নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, সাইবার বুলিং কমানো এবং বিদ্যালয়ের সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগাল সরকার।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা চালুর পর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ বেড়েছে। এছাড়া বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইলের বদলে খেলাধুলা ও সহপাঠীদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে।

    তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের অনুমোদিত শিক্ষামূলক কাজে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

  • স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এই হামলার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিক্ষিকাকে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিতকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চিৎকার শুনে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, মুখোশধারী এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষিকাকে বাইরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বাইরে আসার পর হামলাকারী তার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে একের পর এক ছুরিকাঘাত করেন। এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঠেকাতে এগিয়ে এলে তাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামলাকারী।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোট গ্রামের বাসিন্দা অমিত দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। কয়েকদিন আগে শিক্ষিকার দায়ের করা ইভটিজিংয়ের অভিযোগের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও তিনি প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে অমিত ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রশাসন অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির সঙ্গে এ ফি যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ছাত্র ভিসায় এক থেকে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।

    প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নির্ভরশীল মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্নাতকদের প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ দেওয়া সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি নাগরিক ওপিটি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য বছরে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে একটি মার্কিন আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া স্থগিত রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ওপিটি ফি আরোপের প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    হোয়াইট হাউস শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন দেবে কি না এবং ফি শিক্ষার্থীরা নাকি তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা পরিশোধ করবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    মতামত:

    শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম হলো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে সাজানো পাঠ্যবিষয়, শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার অভিজ্ঞতার সমষ্টি। সহজভাবে বলতে গেলে, শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কীভাবে শিখবে এবং কীভাবে তাদের শেখা মূল্যায়ন করা হবে—এসবের পূর্ণ পরিকল্পনাই শিক্ষাক্রম।

    পৃথিবীর সব দেশেই সমাজ-সভ্যতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাক্রমকেও যুগোপযোগী করতে হয়। কারণ সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রকে সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষ, সুনাগরিক এবং সমাজ-স্বীকৃত প্রচলিত মূল্যবোধের সঙ্গে আত্মস্থ করে নিতে সমাজ, রাষ্ট্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হয়। তা না হলে দেশ-বিদেশে আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

    আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষাক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। দেশের গতানুগতিক শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ, বইয়ের চাপের ফলে বিদ্যালয় উপস্থিত হওয়ার ভীতি, অনীহা তাদের মধ্যে কাজ করে। তাছাড়া, প্রচলিত শিখন-শেখানোর কৌশলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমির ছাপ স্পষ্টত লক্ষ করা যায়। বর্তমান সরকার এ সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময়ের আলোচিত কনসেপ্ট হলো, আনন্দময় শিক্ষণ বা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী এবং কীভাবে কাজ করে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বলতে, এমন একটি শিক্ষণ-পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে আনন্দ, আগ্রহ, ইতিবাচক অনুভূতি এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখানো ও শেখা হয়। এর মূল ধারণা হলো—শিক্ষার্থীরা যদি আনন্দের সঙ্গে শেখে, তাহলে তারা বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে, মনে রাখতে এবং প্রয়োগ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, গল্প, গান ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো, ভয় বা চাপমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ, সক্রিয় অংশগ্রহণ, কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ঘটে।

    আনন্দময় শিক্ষণ মানবজীবন ও সমাজে গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে এটি কতটা পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে; শিক্ষার মান বজায় থাকছে কি না এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও অর্জন করছে কি না।

    ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। কারণ তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কম হোমওয়ার্ক ও কম পরীক্ষা। তাদের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। শিক্ষকরা উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে স্বাধীনতা পান। শ্রেণিকক্ষে মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষার্থীর কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বেশি থাকে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফল করেছে। বিদ্যালয় ত্যাগের হার তুলনামূলকভাবে কম। সিঙ্গাপুরে ‘Teach Less, Learn More’ নীতির মাধ্যমে আনন্দময় ও গভীর শিক্ষার ওপর জোর দেয়। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী । প্রকল্পভিত্তিক ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার। শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক বিনিয়োগ। ফলে গণিত, বিজ্ঞান ও পাঠ দক্ষতায় ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের মধ্যে অবস্থান। উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি। কানাডার বহু প্রদেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন : দলগত শিক্ষা। প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন। সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতার বিকাশ। ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সহযোগিতামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। জাপানে আনন্দময় শিক্ষার সঙ্গে শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় করা হয়েছে। তাদের শিশু শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্জিত সুন্দর আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া। তাদের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করে। দলগত কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা করে। নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এর ফলে দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়, এ দেশের শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে। শেখাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

    জন ডুয়ি বলেছেন, ‘Education is not preparation for life; education is life itself.’

    মারিয়া মন্টেসোরি বলেছেন, ‘শিশু স্বাভাবিকভাবেই শেখার প্রতি আগ্রহী। আনন্দময়, স্বাধীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক পরিবেশে শিশু সবচেয়ে ভালো শেখে।’

    মনোবিজ্ঞানী লেভ ভাইগোটস্কির মতে, সামাজিক যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং দলগত কার্যক্রম শিক্ষাকে আনন্দদায়ক ও অর্থবহ করে তোলে। শিক্ষক ও সহপাঠীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ শেখার সুযোগ পায়।

    জেরোমি ব্রানার আবিষ্কারভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবিষ্কার করে শিখলে শেখা আনন্দদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    হাওয়ার্ড গার্ডনারের মতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ভিন্ন। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্যময় প্রতিভা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    খেলাধুলা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আনন্দময় কর্মকাণ্ড শিশুর বুদ্ধি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনন্দের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শেখার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহী হয়। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে অর্থবহ ও স্থায়ী শেখা সম্ভব হয়। ভয়, অতিরিক্ত চাপ ও পরীক্ষাভীতি কমে। আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। প্রশ্ন করা, নতুন ধারণা তৈরি করা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে। ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয়। আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। অন্যের মতামতকে সম্মান করার অভ্যাস তৈরি হয়। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বাস্তব জীবনে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হয়। সৃজনশীল ও দক্ষ জনশক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। যুক্তিবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বৃদ্ধি পায়। তবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    অনেক শিক্ষক এখনো প্রচলিত বক্তৃতানির্ভর পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে এক শ্রেণিতে ৫০-৮০ বা তারও বেশি শিক্ষার্থী থাকে। এত বড় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা কঠিন। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।

    শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য পরীক্ষায় ভালো ফল। ফলে আনন্দময় ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় গুরুত্ব হারায়

    অভিভাবক প্রায়ই মনে করেন, কঠোর পড়াশোনা ও বেশি পরীক্ষা মানেই ভালো শিক্ষা। যদি মূল্যায়ন প্রধানত লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হয় না। শহরের তুলনায় অনেক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, প্রযুক্তি ও শিক্ষা-উপকরণের ঘাটতি বেশি।

    শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রমে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

    শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে উপযুক্ত কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি এসব সংকট দূর করতে হবে। আমাদের উচিত ফিনল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো করে পর্যালোচনা করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা।