ছাত্র রাজনীতি

Student politics

  • ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) মতিহার থানায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    তবে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা। এছাড়া বিকেল ৪টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। আমরা মামলাটি নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘মতিহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে উল্লেখ করে তিনি মামলাটি করেছেন। এর সঙ্গে যারা জড়িত, যদি প্রাথমিকভাবে এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেই চিন্তিত। হামলার সব ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে, সারা দেশের মানুষও তা দেখেছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা আয়নার মতো পরিষ্কার। ইতোমধ্যে তাদের নাম, পদবি ও পরিচয়সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই অজ্ঞাতনামা মামলা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, সেটা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে জড়িতদের নাম-পদবি-পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরও অজ্ঞাতনামা মামলা করা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    শিক্ষ ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি জানান তিনি।

    পোস্টে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না।

    তিনি লেখেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সুমাইয়া লেখেন, “আমার এই পদত্যাগকে কোনোভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে আমার সরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, আদর্শ থেকে নয়। ”

    তিনি জানান, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তার সাময়িক বিরতি। ভবিষ্যতে সংগঠনটি শহীদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে মনে হলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি।

    পরে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেয়া এক রিপ্লেতেও পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সুমাইয়া। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিবাদ করলে বহিষ্কারই খেতে হয়। বহিষ্কার থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো না?

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

    উল্লেখ্য, সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। র আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী দুই বছরের জন্য জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

    কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আহসান লাবিব ও রাফিয়া রেহনুমা হৃদিকে।

    সহসভাপতি পদে রয়েছেন লিমন মাহমুদ হাসান, নিরব হাসান সুজন, এস এম আমিনুল ইসলাম, জাহেদ হাসান ফরহাদ, আহনাফ জামান, সাব্বির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ফারহান হাসান বর্ন, আল শাহরিয়ার মেহেরাজ মিথুন, মঞ্জুরুল ইসলাম পাভেল, তানভীর আহমদ চৌধুরী, রাইয়ান রহমান ইরাত ও মো. সামির সাদিক।

    এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মো. সাইফুল্লাহ।

    নতুন কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়েছে।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে জবি শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন-গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ মিথিল, কেমিস্ট্রি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন ও মনির। আহত তিনজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ’

    এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে। এটা আমরা মিটমাট করে ফেলেছি। ’

    তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব। ’

  • আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ আমলের ১৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ছবি ও উদ্ধৃতি প্রদর্শন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এ ধরনের ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি দেখেননি। প্রশাসন যেন কোনো একটি দলের দলীয় পোস্ট কপি করে তাদের পেজে দিয়ে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় একটি ছবি এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করতে গিয়ে জিন্নাহর সে সময়ের যে বক্তব্য—উর্দুর পক্ষে এবং বাংলা ভাষার বিপক্ষে, সে বক্তব্যকে আমরা কোট করেছিলাম। কোট করে ছবি দিয়েছিলাম। আজকে ভিসি স্যার বলছেন, আজকে প্রো-ভিসি স্যার বলছেন, সে অপরাধের কারণে নাকি তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

    জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে রয়েছে উল্লেখ করে জিএস ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর এ বক্তব্য চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে আপনি একটা বিবৃতি দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতিহত করা হবে। অথবা আপনি একটা ব্যবস্থা নেন, যে শিক্ষকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটা লেখার পেছনে শ্রম দিয়েছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করেন।’

    উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুইবার সেখানে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তা না করে একটি দলের কথার প্রেক্ষিতে দলীয় বিবৃতি হুবহু কপি করে পেজে দিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানকে অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বা আর্মি ও বিএনপির আমল কিংবা আওয়ামী আমলের ১৫ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয়নি। বর্তমান প্রশাসন সেই নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    এ সময় তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

  • ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমানে ছাত্রলীগ বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক পলাতক নেত্রীর ফেসবুক পোস্টের বরাতে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এসব সংবাদকে ‘আবেগী সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়ে এসব ‘আবেগী’ সংবাদ প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে তাকে ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের দাবি যাচাই না করেই তাকে ‘মবের শিকার’ বা ‘মৌলবাদী মবের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রলীগ নেত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশ পালিয়ে যান এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনার্সের ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নেন। তার ওপর কোনো ধরনের মব হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

    কী দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাহসিন

    ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন এ আর তাহসিন জাহান। সেই পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন।

    পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই পুরস্কার গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।’

    মবের শিকার হওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি।’

    প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মব’কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মতো ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেও রয়েছে।’

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না? এখন অজুহাতটা কী? ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়। আর দয়া করে আমাদের বলবেন না, ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন।’ কারণ অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।’

    ‘মবের কোনো প্রমাণ নেই, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন’

    তাহসিন জাহান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন , তিনি ক্যাম্পাসে ‘মব’ এর শিকার হয়েছেন এবং তাকে থিসিস জমা ও ভাইভা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের বক্তব্য তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    শিক্ষকরা বলছেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন তাহসিন দেশেই ছিলেন না।

    দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন।

    তিনি বলেন, ‘উনি তো ঐ সময়ে ছিলই না। আমরা যখন ভাইভা নিচ্ছি তখন তো দেশেই ছিল না। কানাডাতে ছিল। আমরা ডিপার্টমেন্টে কখনোই দেখি নাই তাকে। ও তো এখানে এভেইল্যাবলও ছিল না। মানে ঐ সময় যখন হয়েছিল ঐ সময় তো সে নেই। দেশেই তো নেই। আমরা এওয়্যার না আরকি। মানে আমরা ডিপার্টমেন্টের কোন কিছু দেখি নাই। বরং ডিপার্টমেন্ট যতটুকু করেছে হি শুড বি গ্রেটফুল অ্যাবাউট দ্যাট। ইউনিভার্সিটি থেকে তো এটা ভাইস চ্যান্সেলরের ওখান থেকে অ্যাপ্রুভ করা হয়েছে যে তাকে অনলাইন মানে পরীক্ষা নেয়া হবে। ডিপার্টমেন্টের রেসপন্স ঐরকম কোনো কিছু হয় নাই। আমরা জানি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ও আমাদের খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল। আমরা চাই যে ও ওখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আসুক। কিন্তু ও এই জিনিসটা এখানে আনলো আমরা ভাবতেও পারি নাই। তো আমার মনে হয় দিস ইজ ইরেলেভেন্ট। বরং ডিপার্টমেন্ট তাকে সাপোর্ট দিয়েছে এবং ইউনিভার্সিটি তাকে সাপোর্ট দিয়েছে।’

    ডেভলাপমেন্ট স্টাডিজের বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাঈম সুলতানা বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো ধরনের প্রবলেম আমি দেখি নাই। ওনার সাথে মব হওয়ার কথা আমরা জানি না উনি কানাডা থেকে আমাদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, তিনি পরীক্ষা দিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশাল পারমিশনে ওনাকে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়েছি। ভিসি এবং কন্ট্রোলার স্যারের স্পেশাল পারমিশন নিয়ে ওনার অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উনি তো ডিপার্টমেন্টে ছিলেন না, ক্যাম্পাসেও ছিলেন না। উনি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, আসতে ভয় পাচ্ছে আমরা ডিপার্টমেন্ট থেকে ওনাকে সাপোর্ট দিয়েছি।’

    তাহসিনের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মবের শিকার হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাঈম সুলতানা বলেন, ‘না, আমি এগুলো দেখি নাই। এমন কিছু ঘটেছে শুনিও নাই।’

    শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি কানাডা থেকে অনলাইনে ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করলে সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়।

    ছাত্রলীগের পদধারী হওয়ায় সহপাঠীরা বয়কট করেছিল

    ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যায়নরত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতানেত্রীদেরকে একাডেমিকভাবে বৈঠকের ডাক ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। মূলত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা ও হল থেকে বের করে দেয়ার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতাদের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। তাহসীন জাহান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যেক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক।

    তাহসীনের অন্তত দুইজন সহপাঠী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের নেত্রী হওয়ার কারণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় তার সাথে বসে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেবে না। এটা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর তাহসীন তার পরিবারসহ কানাডায় চলে যান বলে এসব শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

    দ্য ডিসেন্টকে তাহসিনের একজন সহপাঠী বলেন, ‘ওরে যেহেতু সামাজিকভাবে বয়কট করা হইছে, তো আমাদের ব্যাচ থেকে একটা ডিসিশন আসলো যে ওর ভাইভা হচ্ছে আলাদাভাবে নিবে। এমন না যে আমরা বা ডিপার্টমেন্ট তার কোনো কিছু আটকায় দিছে। জাস্ট এইটুকুই ঘটনা।’

    অপর এক জুনিয়র শিক্ষার্থীও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টে কোনো মব হয়নি। উনার পদের জন্য উনাকে বয়কট করা হইছে।’

    তাহসিনের সহপাঠী পদ্ম আলম (Poddo Alam) একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তাদের ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের পদপ্রাপ্ত নেত্রী হওয়ায় তাহসিনের সঙ্গে তারা পরীক্ষায় বসবেন না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে ঠিক কী মব তৈরি করেছি? কোথায়? কখন? কীভাবে? আমি এ আর তাহসিন জাহানের কাছে এর একটি নির্দিষ্ট প্রমাণ চাই।’

    ক্যাথলিন ধর আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তাহসিন যে মব হামলার কথা বলছেন, তা কখনোই ঘটেনি, কারণ তিনি তখন কানাডায় অবস্থান করছিলেন।’

    আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সিআরআই (CRI) এর সাথে সম্পৃক্ততা

    তাহসিন জাহানের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ, দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

    তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের বায়োতে তিনি লিখেছেন, ‘I also serve as a student politician of the former ruling party of Bangladesh (comprised of 5 million youth activists) where I’ve advised policymakers and contributed to both domestic and international government initiatives.’

    অর্থাৎ, তিনি সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র-রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    কালবেলার প্রতিবেদনে তাকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিডিনিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআরআই আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন।

    ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাহসিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে তাঁকে সিআরআই-এর লোগো সম্বলিত ব্যাকড্রপে এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যায়।

    ক্যাপশনে তিনি লেখেন, Had a wonderful evening at Let’s Talk with Sheikh Hasina organized by CRI!

    নিজের ওয়েবসাইটে তাহসীন তাকে ‘দ্য কনফ্লুয়েন্স’ নামক পলিসি ব্লগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।

    ২০২৩ সালের ২৯ মার্চে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রকাশক ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

    শাহ আলী ফরহাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং সিআরআইএর দীর্ঘদিনের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ও কনসালটেন্ট ছিলেন।

    ৭ নভেম্বর তাহসিন ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন: “The Confluence team had an amazing evening with the policymakers from Bangladesh Government, National Parliament, and CRI.”

    ছবিতে সিআরআই এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

    মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাহসিনের ছাত্রলীগ পরিচয় গায়েব

    তাহসিন জাহানের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি নিয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি জাতীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

    কিন্তু এসব প্রতিবেদনের শিরোনামে বা ভেতরের লেখায় তার ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

    এই প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা ও ইংরেজি), বিডিনিউজ (বাংলা ও ইংরেজি), কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এশিয়া পোস্ট, আগামীর সময়, সিটিজেনস ভয়েস বিডি, রোকেয়া কালেকটিভ এবং কালবেলা।

    দ্য ডেইলি স্টার শিরোনামে লিখেছে, ‘Thousands of students’ lives were ruined’: DU topper refuses Dean’s Award’ এবং ‘হাজারো শিক্ষার্থী কেন ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না,’ প্রশ্ন তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    বিডিনিউজ শিরোনামে লিখেছে, ‘DU student rejects Dean’s Award protesting administration’s ‘support for fundamentalist mob’ এবং ‘মৌলবাদী মবে ঢাবি প্রশাসনের সমর্থন’, প্রতিবাদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নিলেন না শিক্ষার্থী’।

    কালের কণ্ঠ: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন’।

    জাগো নিউজ ২৪: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান’।

    এশিয়া পোস্ট: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন তাহসিন’।

    আগামীর সময়: ‘ঢাবি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান মবের শিকার তাহসিনের’।

    রোকেয়া কালেকটিভ: ‘যে কারণে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবির প্রথম শ্রেণিতে প্রথম তাহসিন জাহান’।

    দৈনিক ইত্তেফাক: ‘প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    ১৩টি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালবেলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেদনের ভেতরেও তাহসিনের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা সিআরআই এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    তাহসিন তার পোস্টে নিজের যে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ এর কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, সেই পরিচয়টি আসলে কী তা নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমই সামান্যতম অনুসন্ধান চালায়নি। তারা কেবল তাহসিনের বক্তব্যটি হুবহু কপি-পেস্ট করে তাকে একজন সাধারণ ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

    শুধুমাত্র কালবেলা তাদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী, বললেন আমার ওপর মব করা হয়েছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে তাহসিনকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    তাহসিনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি

    তাহসিন জাহানের ‘মব হামলা’, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ থেকে বাধা এবং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ জানতে দ্য ডিসেন্ট-এর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে তিনি কোন সময়, কোথায় এবং কীভাবে মব হামলার শিকার হয়েছিলেন এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাহসিন জাহানের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগ

    ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগ

    এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, জাতীয় ছাত্রশক্তির পঞ্চম সাধারণ সভায় কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যদের মতামত ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জাহিদ আহসানের পদত্যাগের পর আহসান লাবিব ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।