ক্যাটাগরি দক্ষিণ এশিয়া

  • ব্রিকসের নৈশভোজে কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

    ব্রিকসের নৈশভোজে কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

    রাজনৈতিক সম্মেলনে সাধারণত থাকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আর গুরুগম্ভীর আলোচনা। তবে ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে সেই পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কিশোর কুমারের জনপ্রিয় হিন্দি গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। তার সেই পরিবেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে আনোয়ার ইব্রাহিম ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হাকিকত’ গানটি পরিবেশন করেন। ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমার এই গানটির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন এস ডি বর্মণ। গানের কথা লিখেছিলেন মজরুহ সুলতানপুরী। একজন পিয়ানোবাদকের সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিম গানটিতে কণ্ঠ দেন। কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় ব্যস্ত একটি সম্মেলনের নৈশভোজে তার এই পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে।

    পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘গুরু, একটু গান গাইতে পারি?’ তার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য আসতে থাকে।

    একজন মন্তব্য করেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের কণ্ঠ ‘সুরেলা’। আরেকজন তাকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘আপনি খুব ভালো গেয়েছেন। আশা করি ভারতে আপনার সময়টা দারুণ কাটছে।’

    আরেক ভারতীয় প্রবাসী মন্তব্য করেন, তিনি জানতেন না যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এত ভালো গান করেন। তার পরিবেশনাটি ভালো লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে ভারতীয় গান ও সিনেমার প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুরাগ এবারই প্রথম প্রকাশ পেল না। এর আগেও তিনি ভারতের সিনেমা ও সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলেছেন। এর আগে ভারত সফরের সময়ও তিনি কিশোর কুমারের এই গানটি গেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’ও পরিবেশন করেছিলেন।

    ভারতের দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রতিও আনোয়ার ইব্রাহিমের আগ্রহ রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) এবং পুরোনো তামিল গানের প্রতি আনোয়ারের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

    মালয়েশিয়া এবার ব্রিকসের অংশীদার দেশ হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

  • মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    ভারতে তালাক-ই-হাসান নিষিদ্ধ নয় এবং এটি বৈধ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। আসামের এক মুসলিম ব্যক্তি পুরোনো আইনের অধীনে তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের আবেদন করলে আদালত এ মন্তব্য করেন। তবে পুরোনো আইনে নয়, ২০২৪ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য তাকে বারপেটার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যেতে বলা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ আদেশ দেন।

    তালাক-ই-হাসান মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত একটি বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি। এতে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময় স্বামী-স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও পুনর্মিলনের সুযোগ দেয়। এটি তালাক-ই-বিদআত বা তাৎক্ষণিক তিন তালাক থেকে ভিন্ন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    আদালতে করা আবেদনে ওই ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে একাধিকবার তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর তিনি ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে ২০২৬—এই তিন তারিখে পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

    কী যুক্তি দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি?

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, ভারতে তালাক-ই-হাসানের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়াও তিনি সম্পন্ন করেছেন। তাই তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

    তবে আসাম সরকার আদালতকে জানায়, যে আইনের অধীনে আগে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করা হতো, সেটি বাতিল হয়ে গেছে।

    তবে, ওই বিচারপতি সব দিক বিবেচনা করে তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে ‘তালাক-এ-হাসান’ উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে দেশে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে, ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল হয়ে যাওয়া এবং ওই আইনের অধীনে তৈরি পদ বিলুপ্ত হওয়ায়, এর পরিবর্তে আবেদনকারীকে অসম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নথিভুক্তকরণ আইন, ২০২৪-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। নথি অনুযায়ী, তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অংশ নেননি। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আদালতে তার অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে তার আইনগত অধিকার শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত কিংবা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।