সিরাজগঞ্জ

Sirajganj district

  • তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে, ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে আব্দুল জলিল নামে এক বিএডিসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহিষলুটি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জানা গেছে, মহিষলুটি বাজারের মমতাজ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কৃষকদের অভিযোগ তিনি দীর্ঘদিন সরকারি মূল্যের চেয়ে বিশি দামে সার বিক্রি করে আসছিলেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেশি দামে সার বিক্রি ও স্টক খাতায় কৃষকের মোবাইল নম্বর না থাকায় আব্দুল জলিলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান।

    এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমিলিয়া জান্নাত জানান, সারের পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ রয়েছে। সার বিক্রির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কেউ দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইউএনও নুসরাত জানান, কৃষকদের অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সরিষা মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষককে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যায়। তাই বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

  • ইসলাম প্রচারের অস্তিত্ব সংকটে তিন গম্বুজ মসজিদ ও ইমামবাড়ি

    ইসলাম প্রচারের অস্তিত্ব সংকটে তিন গম্বুজ মসজিদ ও ইমামবাড়ি

    সিরাজগঞ্জে চলনবিলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর নানা কিংবদন্তি। কোথাও দাঁড়িয়ে আছে দেড়শ বছরের পুরোনো তিন গম্বুজবিশিষ্ট চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ, আবার কোথাও ধ্বংসস্তূপ আর লতাপাতার আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি।একসময় ধর্মীয় সাধনা ও ইসলাম প্রচারের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদের প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এসব স্থাপনা শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবেই নয়, চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

    বারুহাস গ্রামের পশ্চিমপাড়ার চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত দেল মাহমুদ চৌধুরী জামে মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৮৭৫ সালে নির্মিত এই মসজিদটি প্রায় দেড়শ বছর ধরে এলাকার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বহন করে আসছে।মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মোগল আমলের স্থাপত্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। চুন-সুড়কির গাঁথুনি, পুরু দেয়াল, তিনটি বড় গম্বুজ এবং পোড়ামাটির নকশা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজের পাশাপাশি ৮টি পিলারের ওপর তিনটি বড় মিনার ও পাঁচটি ছোট মিনার রয়েছে। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা মসজিদটির প্রাচীন যুগের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। ইতিহাসের পাতায় বারুহাসের নাম হয়তো এখনো টিকে আছে, কিন্তু অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই ইতিহাসের দৃশ্যমান চিহ্ন। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে দেড়শ বছরের মসজিদ আর শত শত বছরের ইমামবাড়ির স্মৃতিও একদিন হারিয়ে যেতে পারে।

    তাই চলনবিলের এই প্রাচীন জনপদের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। প্রতি সারিতে প্রায় ২০ জন করে তিন সারিতে ৬০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের অলংকরণ ও কারুকাজ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে চৌধুরী পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। আশপাশের ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ মসজিদটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। বর্তমানে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে।

    বারুহাস গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ১৮৭৫ সালে তাদের পূর্বপুরুষ দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। পূর্বপুরুষদের মতো তারাও এখানে নামাজ আদায় করছেন। সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. নাছিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, মসজিদটি তাদের গ্রামের ঐতিহ্য ও গর্বের বিষয়। সরকারি অনুদান পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ করা সম্ভব হবে।

    মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন জানান, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার (শুক্রবার) নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

    জৌলুস হারিয়েছে ইমামবাড়ি

    বারুহাসের আরেক ঐতিহাসিক নিদর্শন শাহ ইমাম (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ইমামবাড়ি। লোককথা ও স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এই স্থাপনা ও এর আশপাশের এলাকা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

    স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে আগত সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমাম (রহ.) চলনবিলের বারুহাস এলাকায় বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করেন। পরবর্তী সময়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলা পরিদর্শনে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শাহ ইমামের ইবাদত ও বসবাসের সুবিধার্থে কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ এবং একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করেন সম্রাট। পাশাপাশি ইসলাম প্রচারের জন্য তাকে করমুক্ত জমি দেওয়ার কথাও স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

    এই স্থাপনাগুলোকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বারুহাস ইমামবাড়ি। তবে এর সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কয়েকশ বছরের পুরোনো নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

    একসময় ইমামবাড়ি এলাকায় মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে সেগুলোর অধিকাংশই বিলুপ্ত। টিকে থাকা পুরোনো স্থাপনাগুলোর দেয়ালের আস্তরও খসে পড়ছে। ইট-সুরকির গাঁথুনিতে জন্মেছে লতাপাতা ও গাছগাছালি। স্থাপনাটির কারুকার্যের অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। একসময়কার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থানটি এখন কার্যত অবহেলিত।

    ইমামবাড়ির আশপাশে পুরোনো সমাধি ও একটি বড় পুকুর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর ও সংশ্লিষ্ট জমির কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেছে। তারা এসব জমি উদ্ধারের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ইমামবাড়ির অধিকাংশ স্থাপনাই এখন আর নেই। সমাধির সামনের প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা আয়তনের পুকুরটিও দখলের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে জমি উদ্ধার ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা হলে এলাকার ইতিহাস রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়ভাবে ইমামবাড়ির দেখভালের কোনো লোক নেই, তবে আশেপাশের বাসিন্দা মো. কাবুল সরকার ও রেজা (ফারুক) মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়রা স্থাপনাটির স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

    বারুহাসের পরিচয় কেবল পুরোনো এই মসজিদ ও ইমামবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামটির নামকরণ নিয়েও প্রচলিত রয়েছে নানা জনশ্রুতি।
    স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, নায়েব শেখ বাহারউদ্দিন, যিনি ‘বারু শেখ’ নামে পরিচিত ছিলেন, তার নাম থেকেই বারুহাস নামের উৎপত্তি।

    স্থানীয় ইতিহাসে আরও বলা হয়, প্রায় পাঁচশ বছর আগে ইয়েমেন থেকে আগত শেখ বংশের লোকজন ভদ্রাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। চলনবিলের উর্বর ভূমি ও নদীপথের যোগাযোগ এই জনপদের বিকাশে ভূমিকা রাখে। মোগল আমলে শাহ ইমামকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

    এলাকাটিতে জমিদারবাড়ি, পুরোনো মসজিদ, ইমামবাড়ি ও বেহুলার কূপের মতো বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের কথাও প্রচলিত রয়েছে। এসব নিদর্শন ঘিরে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলার আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমে ইমামবাড়ির অবশিষ্ট স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় জরিপের মাধ্যমে জমির সীমানা চিহিৃত করে দখলসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই, স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদের মূল স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা আমাদের অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক ও বাহক। এগুলো শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, বারুহাসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী, তিন গম্বুজ মসজিদটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে কীভাবে এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে পবিত্র কোরআন শেখার এমন অনন্য নজির স্থাপন করেছেন অর্ধশতাধিক প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষ। ছোটবেলায় দারিদ্র্য, জীবনসংগ্রাম কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যাদের আর কোরআন স্পর্শ করা হয়ে ওঠেনি, জীবনের পাঁচ দশক পার করে এসে তারাই এখন পরম যত্নে প্রতিদিন বানান করে পড়ছেন আল্লাহর বাণী। একই সঙ্গে নিয়মিত শুদ্ধভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নিয়মকানুনও রপ্ত করছেন তারা।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় এই অনুপ্রেরণাদায়ী দৃশ্য। সেখানে ‘শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে মাদানি পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করা ৪২ জন প্রবীণ শিক্ষার্থীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় কোরআন শরিফ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতাকে পরম যত্নে পাঠদান করিয়েছেন উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মোমেন।

    কোরআন উপহারের পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীদের একজনের জন্য ছিল বিশেষ এক চমক। লটারির মাধ্যমে ৭০ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম তারা নামের এক বৃদ্ধকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেয় ‘স্যাম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামের একটি ভ্রমণ সংস্থা। এমন অপ্রত্যাশিত উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

    বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মুয়াজ নোমানী জানান, এটি তাদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচ। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই ব্যাচের পাঠদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে শুরু করে এশার আজান পর্যন্ত একটানা চলে এই পাঠদান। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ক্লান্তি ভুলে প্রতিদিন নিয়মিত মসজিদে এসে হাজির হতেন এই প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

    তিনি আরও জানান, চলমান দ্বিতীয় ব্যাচের মেয়াদ এখনও তিন মাস বাকি রয়েছে। এই পর্ব শেষ হলেই শুরু হবে নতুন তৃতীয় ব্যাচ। স্থানীয় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই বিনা মূল্যের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    কোরআন বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভিন্ন দিক ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশনের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মো. মুয়াজ মোহা, বেলকুচি ওলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি হাফেজ মো. রফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে চোরাই ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই আটজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলো- চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া গ্রামের আলামিন (৩০), পাঠানপাড়া গ্রামের ইসরাফিল রহমান (২৭), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকলিয়া গ্রামের আক্কাস আলী (৩৫), পটিয়া থানার ইসমাইল ফয়েজ রোডের মো. রিদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুর থানার চর মদিনানগর গ্রামের মো. ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চকবাস মোল্লাবাড়ী গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াতপুর গ্রামের মো. রবিউল (৩৩) এবং মুরাদনগর থানার কামাল্লা গ্রামের আলাউদ্দিন (২৫)।

    যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বগুড়ার ধুনটের মাসুদ টেলিকমের শাটার কেটে দোকানে ঢুকে ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে। পরে তারা শ্যামলী পরিবহনের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বিত দল যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসায়। পরে শ্যামলী পরিবহনের বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকমাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাখুয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, একটি বিস্ফোরক মামলায় আকমালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সভার আয়োজন করেছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মসজিদে কর্মসূচি পালন বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ভিপি আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি সাহেবের সহযোগিতা নিতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে তাকেসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখতে পাই তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

    জানা যায়, ভিপি আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জ এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ থেকে তিনি তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন।

  • ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। সরকার যদি আমাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে এই ৮ দফার আন্দোলন অনতিবিলম্বে ১ দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।

    শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে লংমার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গাড়িতে করে আসছিলাম, তখন রাজপথে জনগণের মধ্যে বিপ্লবের গর্জন শুনতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ হাতের এক আঙুল তুলে ‘এক দফা এক দফা’ স্লোগান দিচ্ছে। আপনারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ইনশাআল্লাহ্ আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব। আমরা এখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছি; কিন্তু প্রয়োজনে আপনাদের সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় লংমার্চ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • তাড়াশে যাতায়াতের রাস্তায় বন্ধ করল প্রভাবশালী প্রতিবেশী, ২ পরিবার অবরুদ্ধ

    তাড়াশে যাতায়াতের রাস্তায় বন্ধ করল প্রভাবশালী প্রতিবেশী, ২ পরিবার অবরুদ্ধ

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঈদগাহ মাঠের দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য বিরোধের জেরে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মো: শাহিন সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ বেড়া দেয়ার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে প্রাচীর নির্মাণ কাজ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তার প্রতিবেশী মো: জমশেদ আলী মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে শাহিন সরকার তার লোকজন নিয়ে জমশেদ আলীর পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিতে গাছের ঢাল ও নেটের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।

    রাস্তায় বেড়া দেয়ায় বুধবার সকাল থেকে ভুক্তভোগী পরিবার দু’টির সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি এবং জরুরি গৃহস্থালি কেনাকাটার জন্য কেউ বাইরে যেতে পারছেন না।

    ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান মো: জমশেদ আলী মোল্লা বলেন, ‘বেড়া দেয়া রাস্তার কিছু অংশের মালিক আমরাও এবং বহু বছর ধরে আমরা এ পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। কিন্তু জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারছি না। বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।’

    অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহিন সরকার জানান, জমিটি তার নিজস্ব সম্পত্তি। জমশেদ আলীর যাতায়াতের কারণে তার ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছিল বলে তিনি একপাশে বেড়া দিয়েছেন। যাতায়াতের জন্য অন্য পাশে বিকল্প রাস্তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

  • উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাসের চাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সলঙ্গা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নীলা বেগম তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটিকুমরুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা ও তার তিন বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা আরো অন্তত তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাসটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালক-সহকারীকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করায় এক মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই ব্যবসায়ীর একটি মাটি ভর্তি ট্রাকও জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীর নাম মামুন হোসেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। তিনি জানান, ইউএনও সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমির মাটি খনন করে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন মামুন। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ দোলা খাতুন (২৫)। তিনি ওই এলাকার মোঃ আসিক মোল্লার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রফিক মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী লাইলী বেগম, পলাশ, পলি, সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজন দাও, বটি ও বাটাম দিয়ে মোছাঃ দোলাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় একা পেয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আরও জানা যায়, ঘটনার আগে মোছাঃ দোলার ছোট ছেলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বড়ই কুড়াতে গেলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোছাঃ দোলা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে স্থানীয়রা জানান।

    আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী বেগম বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশিক মোল্লাসহ তাদের বাড়ির লোকজন আমাদের মারধর করে। পরে বেলা ১১টার দিকে আমার মেয়ে গিয়ে দোলাকে আঘাত করে।

    এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যমুনা নদীর পাড়ে  ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    যমুনা নদীর পাড়ে ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার থেকে হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩০) নামের গণঅধিকার পরিষদের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    নিহত হাফিজুল ইসলাম ওই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মৃত কমল মুন্সীর ছেলে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা চলছিল। হাফিজুল ইসলামও ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। রোববার রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডের ইঞ্জিন অংশে চার সহযোগীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতপুর থানা-পুলিশ ও চৌহালী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জামাল প্রামাণিক জানান, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর হাফিজুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতেন। কয়েক মাস আগে এলাকায় ফিরে এসে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন।

    এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ব্যবসায়ীর নাম ফিরোজ মাহমুদ(৩০)। তিনি ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকার বাদশা মিয়ার পুত্র ও কীটনাশক বিক্রেতা।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টা থেকে ঘন্টাকালব্যাপী উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় ওই দোকানে অবৈধভাবে টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকে কুড়ি হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসাথে ওই দোকান থেকে জব্দকৃত ৮৩ কেজি টিএসপি, ৯০ কেজি ইউরিয়া ও ৮৬ কেজি এমওপি সার ডিলারদের ডেকে নিলামে ছয় হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি করা হয়।

    এবিষয়ে গণমাধ্যমকে ইউএনও জানান,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরল স্বীকারোক্তি প্রদান ও অপরাধের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সার বিক্রির অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এর ৮ ধারায় ওই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    চুন–সুরকি খসে পড়েছে অনেকাংশে। বেরিয়ে এসেছে লাল ইট। বাড়িটির এখন জীর্ণ দশা। হবেই না কেন। বয়স তো কম হলো না—প্রায় দেড় শ বছর। বলছি মকিমপুর জমিদারবাড়ির কথা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কিলোমিটার দুয়েক উত্তরে গেলে মকিমপুর গ্রামে দেখা মিলবে বাড়িটির।

    সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন বাড়িটির ইতিহাস–ঐতিহ্যের নানা কথা। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী। তাঁর ছিল দুই ছেলে। জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় এক ছেলের মৃত্যু হয়। আরেক ছেলের বংশধরেরা বর্তমানে এখানে রয়েছেন।

    মকিমপুরের মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালে। এই ভবনে সাতটি কক্ষ। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনেই বসবাস করতেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তবে বাড়ির সামনে ১৮৮৭ সালে নির্মাণ করা মন্দিরে এখনো পূজা হয়।

    মন্দিরটিতে বিশেষ করে লক্ষ্মীপূজা হয় বেশ ঘটা করে। আগের দিনের নিয়ম মেনে এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে জমিদার পরিবার। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য অমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাদু মকিমপুর জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বাড়ির সামনে এই মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূজায় সবাইকে আমরা ডাকি।’

    জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী সম্বন্ধে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের জনশ্রুতিই রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন প্রজাদরদি জমিদার। আবার কেউ বলেন অন্য কথা। তাঁর দাপটের কারণে প্রজারা নাকি জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় ও জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। খাজনা আদায়ের বেলায়ও নাকি জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী ছিলেন ভীষণ কড়া।

    একসময় মকিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন জামাত আলী সেখ। এখন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে থাকেন। জামাত আলী বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে জমিদার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় এখানে আসা। তাঁরা ভালো জমিদার ছিলেন।

    তবে জমিদার নিয়ে ভালো–মন্দ যে জনশ্রুতিই থাকুক না কেন—বাড়িটি একনজর দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

    সে কথাই বলছিলেন জমিদার পরিবারের সদস্য অশোক কুমার রায়। তিনি জানালেন, জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষজন আসেন। বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তাঁরা। জমিদারবাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের পুত্রবধূ আঁখি রায়ও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানাশোনা যা আছে, তা তাঁদের জানাই।’

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক মো. মোকসেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় জমিদারবাড়িতে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের খোঁজে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই। মকিমপুর জমিদারবাড়িতে এসে পুরোনো দিনের নকশার বাড়ি ও মন্দিরটি দেখে খুব ভালো লাগল।’ জমিদার ভবনের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা দরকার।

    একই আহ্বান রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিমেরও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি নির্মাণে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। কালের বিবর্তনে এ বাড়িটি ধ্বংসের পথে কিন্তু এটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • কাজিপুরে উদ্বোধনের পৌণে তিন বছর পর জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু

    কাজিপুরে উদ্বোধনের পৌণে তিন বছর পর জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু

    অবশেষে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ছালাভরায় আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ইনস্টিটিউটের নিজস্ব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিপোর্টের যুগ্মসচিব ও পরিচালক (গবেষণা) মো. শফিকুল ইসলাম। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকাদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

    কাজিপুরের আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডা. মোদাব্বেরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক রায়হানুল ইসলাম, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ।

    ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের ১০ মার্চ ভবনটি হস্তান্তর করেন। এরপর অনলাইনে ইনস্টিটিউটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ।

  • ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে- মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

    ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে- মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলছে, তাদেরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে এই হত্যাযজ্ঞের সূচনা হয়, আর ওসমান হাদী সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ শিকার।

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া (শনিবার বিকালে) উপজেলার পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে মরহুম শরিফ ওসমান হাদীর (রহ.) মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা একজন দেশপ্রেমিক ও সময়ের বীর সন্তানকে হারালাম। যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই আজ বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে এবং আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।” তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদীর প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠবে।”

    হত্যাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

    রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আজ যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে কিংবা উপদেষ্টার আসনে বসে আছেন, তারা ওসমান হাদীদের মতো সাহসী মানুষের আন্দোলনের ফলেই সেখানে পৌঁছেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”

    তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আর কত ওসমান হাদীর মতো বিপ্লবী সন্তান হারাতে হবে—এই প্রশ্ন আজ গোটা জাতির সামনে।”

    আলোচনা সভা শেষে মরহুম ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম (মুত্তালিব), পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আকন্দ এবং জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমানসহ স্থানীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

  • ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর স্বরণে, বেলকুচিতে জামায়াতের দোয়া ও আলোচনা সভা

    ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর স্বরণে, বেলকুচিতে জামায়াতের দোয়া ও আলোচনা সভা

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদী আধিপত্যবাদী ফ্যাসিস্টদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর শাহাদৎ বরণ করেন। তাঁর এই শহীদি মৃত্যুতে সারা দেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায়, কেন্দ্রিয় জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ,শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে শেরনগরস্থ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ৬৬ সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ,আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মোঃ আলী আলম।

    আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি বলেন, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে শহীদ হাদীর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং একই সঙ্গে তাঁর জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ও তার হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে না পারার কারণে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি করছি।

    তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা ন্যায্য ও বোধগম্য। কিন্তু এই ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করছি- এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।

    উপজেলা জামায়াতের আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
    দেশের এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। আমরা সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও নাগরিককে ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

    এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনায়েতপুর থানা জামায়াতের আমির ডা: সেলিম রেজা, বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রশিদ শামীম, ছাত্রশিবিরে বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি ইউসুফ বাবু, সেক্রেটারি আরিয়ান ইসমাইল প্রমুখ। দোয়া ও আলোচনা সভায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভার শেষে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম আযম।

  • সিরাজগঞ্জে সাবেক এমপির সম্পদের খোঁজে দুদক

    সিরাজগঞ্জে সাবেক এমপির সম্পদের খোঁজে দুদক

    সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল (৪৫) ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাজ উদ্দিনের (৫৫) বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন পাবনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহিদুল আলম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।দুদক সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল ও তার পিএস চৌহালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের নিজ নাম ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। যা নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করছে তারা।

    আব্দুল মমিন মণ্ডল ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

  • অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এক যুবক অবৈধ পথে ইতালি যাত্রাকালে সাগরে ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছেলেকে ইতালি পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বাবা।

    নিখোঁজ যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন (২২)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার ভুতগাছা গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়েন। তবে তিনি মারা গেছেন নাকি বেচেঁ আছেন, জানে না পরিবার৷

    এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশ।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে আবুল কালাম নামের সেই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা গেছে, নিখোঁজ রাকিবুল ইসলামকে তিনিই বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, আবুল কালাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাকিবুল ইসলাম স্বাধীনকে তিনি পাঠিয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে নিখোঁজ। তার বাবা এসে বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।

    পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরে ভাগ্য বদলের আশায় শতাধিক মানুষের সঙ্গে ট্রলারে করে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন স্বাধীন। পথে দুর্ঘটনায় অনেকেই সাগরে পড়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই স্বাধীন নিখোঁজ, তার কোনো খোঁজ মিলছে না।

    নিখোঁজ রাকিবুলের বাবা ফিরোজ আহমেদ বলেন, আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম ইতালিতে থাকে। সেই সূত্র ধরে আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ছেলেকে পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মার্চের শেষ দিকে আবুল কালাম প্রথমে স্বাধীনকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুবাই, মিশর, শ্রীলঙ্কা হয়ে সর্বশেষ লিবিয়ায় নেয়।স্বাধীনের সঙ্গে যাওয়া আরেক ব্যক্তি ফজলুল হক সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন। সে পরিবারের কাছে জানিয়েছেন, যাত্রার অল্প কিছুদিন পরই তাদের ট্রলারটি ডুবে যায় এবং স্বাধীন আর ফিরে আসেননি।নিখোঁজ যুবকের মা নার্গিস খাতুন ছেলের খোঁজ পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত দালালের কঠোর শাস্তিও দাবি করেছেন।

  • সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ১০

    সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ১০

    সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ। আজ শনিবার তাঁদের চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে পাঠাবে চৌহালী থানা পুলিশ।

    তারা হলেন মিজানুরের ছেলে আল আমিন (২৪), আ: খলিফার ছেলে মো: নজরুল ইসলাম (৪৫) মৃত লতিফ সিকদারের ছেলে ইউপি সদস্য মো: মানিক সিকদার, আবুল হোসেন সিকদারের ছেলে মো: শহীদুল ইসলাম (৩৫), আবদুল হামিদের ছেলে আবদুল আলীম (৪০),মৃত আমোদ আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম (৩৫),সোলেমান সিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), ইউসুফ আলীর ছেলে ইউনুস আলী( ২৬),মৃত সন্তোষ আলীর ছেলে মো: শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও মকবুল হোসেনর ছেলে ফরিদ হোসেন(২৬) তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের রেহাই কাউলিয়া গ্রামের ।শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের রেহাই কাউলিয়া মুরাদপুর অংশে উজানে যমুনা নদী থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের নামে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন হেলাল উদ্দিন মন্ডল নামের এক ভুক্তভোগী।

    চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একজন তার বাল্কহেডে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ইজারা করা বালুমহাল থেকে সিরাজগঞ্জের-যমুনা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে প্রতিদিন শত শত বাল্কহেড নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। এসব বালু বহনকারী বাল্কহেড থেকে একটি চক্র প্রতিদিন চাঁদা আদায় করে।

    চৌহালী নৌ-পুলিশের আইসি ফিরোজ আহম্মেদ জানান, নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজি করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, নগদ দুই হাজার টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় শুটকি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫.৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমণ কাঁচা মাছ ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তাড়াশের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে প্রায় ১ কেজি শুটকি তৈরি হয়। উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। সকাল বা বিকেলে স্থানীয় আড়ত থেকে এসব মাছ কিনে এনে চাতালে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। চলতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে নারীরাই বেশি দক্ষ বলে জানা গেছে।

    চলনবিলে শুটকি তৈরির কাজ শুরু হলেও বাজারজাত হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। শুকনো মৌসুমে এসব শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, এখানকার উৎপাদিত শুটকির বেশিরভাগই সৈয়দপুর আড়তে যায়।

    তাড়াশ এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এবার শুটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলে যত্রতত্র পুকুর খনন এবং বন্যা কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, গত বছর ৩০ থেকে ৩২ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হলেও এবার ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়।

    চাতালের নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার। একজন নারী শ্রমিক দিনে ২৫০ টাকা পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু নারী শ্রমিকদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসীর হাছেন আলী বলেন, বর্ষাকালে মাছের আমদানি বেশি হয়। এলাকার হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে এনে তারা শুটকি তৈরি করেন। এখানকার শুটকি মাছ সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

    চাতালের নারী শ্রমিক হাফিজা ও শাহিনুর জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা মাছ বাছাইয়ের কাজ করেন। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে এখানে ৩০–৩৫টি চাতালে শুটকি উৎপাদন চলছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। এখানকার শুটকির চাহিদা দেশের বিভিন্ন মোকাম বাজারে রয়েছে। উৎপাদিত শুটকি ঢাকা ও নীলফামারীতেও পাঠানো হয়।

    সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। সিরাজগঞ্জের শুটকির চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। এখানকার শুটকি নীলফামারী আড়ত হয়ে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

  • চৌহালীতে ৮০পিস ইয়াবাসহ আটক ১ জন

    চৌহালীতে ৮০পিস ইয়াবাসহ আটক ১ জন

    রবিবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কোদালিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত বেল্লাল( ৩৫) সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার মধ্য খাষকাউলিয়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।

    এ বিষয়ে চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কোদালিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ বেল্লাল হোসেনকে আটক করা হয়।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলার পর আজ সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।