ক্যাটাগরি সিরাজগঞ্জ

Sirajganj district

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • তাড়াশে যাতায়াতের রাস্তায় বন্ধ করল প্রভাবশালী প্রতিবেশী, ২ পরিবার অবরুদ্ধ

    তাড়াশে যাতায়াতের রাস্তায় বন্ধ করল প্রভাবশালী প্রতিবেশী, ২ পরিবার অবরুদ্ধ

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঈদগাহ মাঠের দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য বিরোধের জেরে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মো: শাহিন সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ বেড়া দেয়ার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে প্রাচীর নির্মাণ কাজ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তার প্রতিবেশী মো: জমশেদ আলী মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে শাহিন সরকার তার লোকজন নিয়ে জমশেদ আলীর পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিতে গাছের ঢাল ও নেটের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।

    রাস্তায় বেড়া দেয়ায় বুধবার সকাল থেকে ভুক্তভোগী পরিবার দু’টির সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি এবং জরুরি গৃহস্থালি কেনাকাটার জন্য কেউ বাইরে যেতে পারছেন না।

    ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান মো: জমশেদ আলী মোল্লা বলেন, ‘বেড়া দেয়া রাস্তার কিছু অংশের মালিক আমরাও এবং বহু বছর ধরে আমরা এ পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। কিন্তু জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারছি না। বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।’

    অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহিন সরকার জানান, জমিটি তার নিজস্ব সম্পত্তি। জমশেদ আলীর যাতায়াতের কারণে তার ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছিল বলে তিনি একপাশে বেড়া দিয়েছেন। যাতায়াতের জন্য অন্য পাশে বিকল্প রাস্তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

  • উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাসের চাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সলঙ্গা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নীলা বেগম তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটিকুমরুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা ও তার তিন বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা আরো অন্তত তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাসটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালক-সহকারীকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করায় এক মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই ব্যবসায়ীর একটি মাটি ভর্তি ট্রাকও জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীর নাম মামুন হোসেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। তিনি জানান, ইউএনও সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমির মাটি খনন করে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন মামুন। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ দোলা খাতুন (২৫)। তিনি ওই এলাকার মোঃ আসিক মোল্লার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রফিক মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী লাইলী বেগম, পলাশ, পলি, সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজন দাও, বটি ও বাটাম দিয়ে মোছাঃ দোলাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় একা পেয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আরও জানা যায়, ঘটনার আগে মোছাঃ দোলার ছোট ছেলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বড়ই কুড়াতে গেলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোছাঃ দোলা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে স্থানীয়রা জানান।

    আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী বেগম বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশিক মোল্লাসহ তাদের বাড়ির লোকজন আমাদের মারধর করে। পরে বেলা ১১টার দিকে আমার মেয়ে গিয়ে দোলাকে আঘাত করে।

    এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যমুনা নদীর পাড়ে  ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    যমুনা নদীর পাড়ে ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার থেকে হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩০) নামের গণঅধিকার পরিষদের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    নিহত হাফিজুল ইসলাম ওই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মৃত কমল মুন্সীর ছেলে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা চলছিল। হাফিজুল ইসলামও ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। রোববার রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডের ইঞ্জিন অংশে চার সহযোগীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতপুর থানা-পুলিশ ও চৌহালী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জামাল প্রামাণিক জানান, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর হাফিজুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতেন। কয়েক মাস আগে এলাকায় ফিরে এসে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন।

    এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ব্যবসায়ীর নাম ফিরোজ মাহমুদ(৩০)। তিনি ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকার বাদশা মিয়ার পুত্র ও কীটনাশক বিক্রেতা।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টা থেকে ঘন্টাকালব্যাপী উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় ওই দোকানে অবৈধভাবে টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকে কুড়ি হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসাথে ওই দোকান থেকে জব্দকৃত ৮৩ কেজি টিএসপি, ৯০ কেজি ইউরিয়া ও ৮৬ কেজি এমওপি সার ডিলারদের ডেকে নিলামে ছয় হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি করা হয়।

    এবিষয়ে গণমাধ্যমকে ইউএনও জানান,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরল স্বীকারোক্তি প্রদান ও অপরাধের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সার বিক্রির অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এর ৮ ধারায় ওই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    চুন–সুরকি খসে পড়েছে অনেকাংশে। বেরিয়ে এসেছে লাল ইট। বাড়িটির এখন জীর্ণ দশা। হবেই না কেন। বয়স তো কম হলো না—প্রায় দেড় শ বছর। বলছি মকিমপুর জমিদারবাড়ির কথা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কিলোমিটার দুয়েক উত্তরে গেলে মকিমপুর গ্রামে দেখা মিলবে বাড়িটির।

    সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন বাড়িটির ইতিহাস–ঐতিহ্যের নানা কথা। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী। তাঁর ছিল দুই ছেলে। জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় এক ছেলের মৃত্যু হয়। আরেক ছেলের বংশধরেরা বর্তমানে এখানে রয়েছেন।

    মকিমপুরের মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালে। এই ভবনে সাতটি কক্ষ। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনেই বসবাস করতেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তবে বাড়ির সামনে ১৮৮৭ সালে নির্মাণ করা মন্দিরে এখনো পূজা হয়।

    মন্দিরটিতে বিশেষ করে লক্ষ্মীপূজা হয় বেশ ঘটা করে। আগের দিনের নিয়ম মেনে এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে জমিদার পরিবার। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য অমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাদু মকিমপুর জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বাড়ির সামনে এই মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূজায় সবাইকে আমরা ডাকি।’

    জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী সম্বন্ধে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের জনশ্রুতিই রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন প্রজাদরদি জমিদার। আবার কেউ বলেন অন্য কথা। তাঁর দাপটের কারণে প্রজারা নাকি জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় ও জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। খাজনা আদায়ের বেলায়ও নাকি জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী ছিলেন ভীষণ কড়া।

    একসময় মকিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন জামাত আলী সেখ। এখন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে থাকেন। জামাত আলী বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে জমিদার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় এখানে আসা। তাঁরা ভালো জমিদার ছিলেন।

    তবে জমিদার নিয়ে ভালো–মন্দ যে জনশ্রুতিই থাকুক না কেন—বাড়িটি একনজর দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

    সে কথাই বলছিলেন জমিদার পরিবারের সদস্য অশোক কুমার রায়। তিনি জানালেন, জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষজন আসেন। বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তাঁরা। জমিদারবাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের পুত্রবধূ আঁখি রায়ও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানাশোনা যা আছে, তা তাঁদের জানাই।’

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক মো. মোকসেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় জমিদারবাড়িতে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের খোঁজে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই। মকিমপুর জমিদারবাড়িতে এসে পুরোনো দিনের নকশার বাড়ি ও মন্দিরটি দেখে খুব ভালো লাগল।’ জমিদার ভবনের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা দরকার।

    একই আহ্বান রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিমেরও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি নির্মাণে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। কালের বিবর্তনে এ বাড়িটি ধ্বংসের পথে কিন্তু এটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।