সাতক্ষীরা

Satkhira district

  • পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    পতিত জমিতে পানি সিংড়া চাষ

    সাতক্ষীরার জলাবদ্ধ পতিত জমিতে সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হচ্ছে পানি সিংড়া। বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায় না, সেসব জমিতে পানি সিংড়া চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। গত বছর জেলায় ১৬৪ হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া উৎপাদন ও বেচাকেনার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে অনেক জমি পানির নিচে থাকায় সেখানে আমন ধানের চাষ সম্ভব হয় না। এসব জমি পতিত ফেলে না রেখে কয়েক বছর ধরে পানি সিংড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। ধীরে ধীরে এ চাষ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাতেও।

    কৃষকেরা জানান, জলাবদ্ধ জমিতে ধান চাষ করা কঠিন হওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে পানি সিংড়া চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে এ ফল উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকা। বিপরীতে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। শীতকালীন ফল হলেও আগাম চাষের মাধ্যমে বাজারে আগে ফল সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।

    বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি মণ পানি সিংড়া ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

    পানি সিংড়া চাষের বিস্তারে গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের জমিতে পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহের জন্য শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

    ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকেরা জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করে তাঁরা ৪০০ টাকা মজুরি পান। এ আয় দিয়ে তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সহায়তা করছেন।

    এদিকে পানি সিংড়ার ব্যবসায়ীরাও এ ফলের বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন। তারা ক্ষেত থেকে প্রতি মণ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে বাজারে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকায় এ ব্যবসায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘পানি সিংড়া চাষের মাধ্যমে জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিশ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা পড়ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পানি সিংড়া অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এটি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি সিংড়া বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

    কৃষিতে বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত সাতক্ষীরায় ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে বিকল্প ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। জলাবদ্ধ জমিতে পানি সিংড়ার আবাদ সেই সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কলারোয়া উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

    এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাহফুজুর রহমান।

    কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান চান্দু, শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তামিম আজাদ মেরিন। অনুষ্ঠানে ছেলেদের লাল ও মেয়েদের মাঝে গোলাপী রঙের সাইকেল বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. রওশন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় দেন।
    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রওশন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে রওশন শেখ তার চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে খাবার দেয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি মুরগির খামারের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে ২৩ মে পাটকেলঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি রওশন শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
    বিচারক মামলার বাদী, চিকিৎসকসহ মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি রওশন শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আলমগীর আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ – এ স্লোগান ধারণ করে সাতক্ষীরায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সততা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

    প্রধান আলোচক সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক ফলাফলে সফল হলেই চলবে না, তাদের একজন আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা ও নৈতিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সেরা হওয়ার পাশাপাশি আদর্শিক চেতনায় বলীয়ান হতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট, ফুল, বই, কলম ও প্যাডসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ‘পরামর্শ বোর্ড’ও রাখা হয়। অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য ফটোফ্রেমের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও একজন বক্তব্য দেন।

    আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে ‘কপোতাক্ষ শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরার শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, মিডিয়া ও তথ্য সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক মো. আকবর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানুল বান্না, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সহকারী এইচআরডি সম্পাদক রাসেল হুসাইন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সভাপতি জিয়াউর রহমান ফাহিম, সিটি কলেজ সভাপতি মোল্ল্যা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ ও আগরদাঁড়ী মাদরাসা থানা সভাপতি মো. মুহিব্বুল্লাহ। এ,আর

  • এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    আইন-আদালত:

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মাসুম বিল্লাহর শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে মরিয়মের বাবা জানতে পারেন, বাসার ভেতরের কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশ পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বিছানা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

  • ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা শুভ দাসের (২৪) লাশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে শুভ দাসের লাশ এসে পৌঁছায়।

    লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপার্জনক্ষম তরুণকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। এ সময় তাকে শেষ নজর দেখতে হাজারো শোকাহত মানুষ শুভদের বাড়িতে ভিড় জমান। পরে দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি সম্পন্ন হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন শুভ। পরিবারের অভাব মেটাতে বসতভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুভ। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি তৎপরতা শেষে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর আজ তার লাশ দেশে ফিরল।

  • সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

    রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার বহুল প্রচলিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নুর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুের রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ জানান, বাবার লাশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

    জিএম নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    আশির দশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

    এরপর খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা। ২০০০ সালে বাজারে আসে তার মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত।

    জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবিরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: আব্দুল খালেক।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময়ে জেলার উন্নয়ন, জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা পরিষদের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নিতেই দুই সংসদ সদস্য জেলা পরিষদে যান বলে জানা গেছে।

    মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও মুহা: আব্দুল খালেক দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ কারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কাজগুলোতে আরও সমন্বয় ও গতিশীলতা আনতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আলোচনায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, চলমান ও সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প এবং জেলার পানি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন দুই সংসদ সদস্য।

    এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবির জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    মতবিনিময়কালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিত উদ্যোগে সাতক্ষীরার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

    তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

    হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।

    প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

  • সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন ধরনের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। জব্দ করা মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনসহ উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি বাজার এলাকায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা শহর থেকে ঝাউডাঙ্গা বাজার এলাকায় ‘কুশ’ নামের মাদক নিয়ে যাওয়া হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাধবকাঠি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী মো. তারিকুজ্জামানকে (২৪) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ১২ কেজি ‘কুশ’ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এছাড়া জব্দ মোটরসাইকেলের মূল্য ২ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ মালামালের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    আটক তারিকুজ্জামান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবির কাছে দাবি করেন, তিনি জানতেন না ব্যাগে কী ছিল। তাঁর ভাষ্য, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পাশ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় একটি ব্যাগ পৌঁছে দিতে বলেন। কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। ব্যাগটি পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথেই তিনি বিজিবির হাতে আটক হন। পরে জানতে পারেন, ব্যাগে ‘কুশ’ নামের মাদক ছিল। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    বিজিবি জানায়, ‘কুশ’ মূলত মারিজুয়ানা গাছের ফুল বা কুঁড়ি থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এতে অতিরিক্ত টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে তরল, গুঁড়া কিংবা ট্যাবলেট আকারেও বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

    সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি বলেন, ভারতের সঙ্গে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • কলারোয়ায় দিনমজুর সাগর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    কলারোয়ায় দিনমজুর সাগর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।

    এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে।

    মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন, একজন অসহায় মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষিত হতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

    সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো: মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি পরিবারকেই কষ্ট দেয় না, এটি সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করে।

    এদিকে সাগর হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধানে নতুন করে উঠে এসেছে যশোর-বেনাপোল সীমান্তভিত্তিক একটি কথিত স্বর্ণ চোরাচালান ও অপরাধচক্রের নাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, মাদক পাচার এবং প্রভাব বিস্তারের সাথে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

    Politics

    অভিযোগের তীর যশোরের শার্শা উপজেলার শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’, আনসারুল হক রানা, মেহেরুল্লাহ মেম্বার এবং গোল্ড নাসিরের দিকে। বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি প্রকাশ পেলেও সাগরের পরিবার এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার পায়নি। পাশাপাশি বিচার চাওয়ার কারণে পরিবার ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    বক্তারা সাগর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। একইসাথে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

  • কালীগঞ্জে ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    কালীগঞ্জে ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৫০০ মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ‘মরহুম মাহবুব-উল-আলম স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। সোমবার (২০ এপ্রিল) উপজেলার চাপারহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    মরহুম মাহবুব-উল-আলম স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিসেস আশরেফা জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুলের। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারায় তিনি একটি লিখিত বার্তা প্রেরণ করেন।

    বার্তায় সংসদ সদস্য বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মরহুম মাহাবুব-উল-আলম এই অঞ্চলে স্কুল-মাদরাসা প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার প্রসারে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার নামে গঠিত এই ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ফাউন্ডেশনের এই পদক্ষেপটি প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাজের বিত্তবানদেরও এমন সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান, সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবিদা খাতুন ও দইখাওয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোফাজ্জল হোসেন।

    অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চাপারহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রিন্সিপাল আনোয়ারা বেগম, শামসুদ্দিন-কমরউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ, চাপারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিতেন্দ্রনাথ সিংহ, চাপারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাখখারুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাগ, খাতা ও কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অতিথিরা।

    এম কে

  • কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    সাতক্ষীরা শহরের কাচ্চি ডাইনসহ কয়েকটি হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে পচা মাংস আনার অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    রোববার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের লাবণী মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড দেন।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে আব্দুল কাদের। তিনি “কবির মিট” নামে সাতক্ষীরার কামালনগর বউ বাজারে একটি মাংসের দোকান পরিচালনা করতেন।

  • নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে শাকসবজি চাষ করতেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেখালী গ্রামের কৃষক রথীন্দ্রনাথ রপ্তান (৫২)। সবজিখেতে ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে পাতেন বৈদ্যুতিক ফাঁদ। কিন্তু সেই ফাঁদেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার জেলেখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিবেশী হরষিত রপ্তান জানান, রথীন্দ্রনাথ বাড়ির সামনের একটি ঘেরের বেড়িবাঁধে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করতেন। খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় তিনি চারপাশে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় স্ত্রী তাঁকে খুঁজতে বের হন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রী রথীন্দ্রনাথের লাশ ঘেরের পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় শ্মশানে রথীন্দ্রনাথের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে

  • দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ছায়ায় ঝুলছে রঙিন ফলের মালা। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো অসময়ের তরমুজ। নিচে মিঠে ও লোনা পানির মিশ্র ঘেরে মাছের খেলা। ওপরে মাচায় ঝুলছে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন আর বাংলা লিংকের তরমুজ। এ মন ভোলানো দৃশ্য এখন সাতক্ষীরার দেবহাটার কৃষি মাঠে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    কয়েক বছর আগেও দেবহাটার মৎস্য ঘেরের ভেড়িগুলো ছিল অব্যবহৃত বা স্রেফ আগাছায় ভরা। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই ভেড়িগুলোতে শুরু হয় পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ। প্রথমে অনেকে সন্দিহান ছিলেন, লোনা পানির প্রভাবে কি তরমুজ হবে? তবে প্রথম ফসলেই মিললো সাফল্য। সেই সাফল্য ছড়িয়ে পড়লো আশপাশের গ্রামগুলোতে।

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ জন কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আলাদা জমির দরকার নেই। মাছের ঘেরের ভেড়ি আর সামান্য জমিই যথেষ্ট। ফলে বিনিয়োগ কম, ঝুঁকি কম আর লাভ অনেক।

    এখন বাজারে কেজিপ্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। মৌসুমের বাইরে এত দাম পাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। উপজেলার তিনটি প্রদর্শনী প্লটে এরই মধ্যে বাম্পার ফলন এসেছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংক আছে।

    টিকেট গ্রামের চাষি বিশ্বনাথ টাপালী বলেন, ‘লোনা এলাকায় টিউবওয়েলের পানি বালতিতে করে এনে প্রতিদিন গাছে পানি দিই, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করি। কষ্ট অনেক কিন্তু ফল মিষ্টি। প্রথম চালানেই ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরও দুই দফা তোলা বাকি।’

    কৃষক আবুল কাশেমের অভিজ্ঞতা আরও উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘তরমুজ দেখতে সুন্দর, খেতেও অসাধারণ মিষ্টি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। আশা করছি প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘লোনাতে সোনার খোঁজে কাজ করছি আমরা। প্রথমে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। এখন নিজেরাই এসে বীজ চাইছেন।’

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, ‘যেখানে আগে ভেড়ি পতিত থাকতো; সেখানে এখন ফসল হচ্ছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। কৃষকের আয় বাড়ছে আর স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।’

  • জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    জামায়াতে ইসলামী দেশের কোথাও ঘের দখল করে না, জমি দখল করে না, কিংবা বালু উত্তোলন করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত। নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তা আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‌‘জামায়াতে ইসলামী গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। কোনো উসকানিতে উত্তেজিত না হয়ে তালা-কলারোয়ার মানুষকে শান্ত থাকতে হবে। একটি পক্ষ আমাদের গণজোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা সেই ফাঁদে পা দেবো না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে কেউ বেকার থাকবে না। দুর্নীতি থাকবে না, লুটপাট থাকবে না। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবার সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজায়েত আলী, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।

  • সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা।

    মাছে মড়ক না লাগা, অতি দ্রুত বড় হওয়া এবং মাত্র তিন মাসে বিনিয়োগ করা অর্থের দ্বিগুণ ফিরে পাওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন তাঁরা। মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় বাগদা চিংড়ির এ চাষাবাদে উৎসাহ জোগাচ্ছে অন্যদের।

    জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে ৫৫ হাজার ঘেরে সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ হয়। এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে প্রতিবছর লোকসানে জর্জরিত হতো সাতক্ষীরার চাষিরা। ভাইরাস ও দাবদাহে ঘেরে বাগদা চিংড়ি উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো তাঁদের। পরবর্তী সময়ে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা হলেও তেমন সফলতা ছিল না। ফলে দিন দিন বাগদা চাষে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছিল চাষিদের।

    তবে এ বিপর্যয় থেকে চাষিদের রক্ষায় এগিয়ে আসে মৎস্য বিভাগ। ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ নামক একটি প্রকল্পের আওতায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পানির গভীরতা ঠিক রাখা ও বায়োসিকিউরিটি নির্বাহ করা এ চাষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নতুন এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে জেলার সব চাষিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে কালীগঞ্জের শিবপুরে ১৩ একর জমিতে ২৩ জন চাষি ২৩টি ঘেরে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করছেন।

    শিবপুরের বাগদাচাষি মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘আমরা ২৩ জন মিলে এই প্রজেক্টে চাষ করছি। কালিন্দি নদী থেকে এই খালে নোনাপানি আসে। প্রথমে ঘেরে পানি ভর্তি করি। তারপর পর্যায়ক্রমে চুন ও ব্লিসিং মারার পর ভাইরাসমুক্ত পোনা ছাড়ি। এরপর নির্দেশনামতো খাদ্য দিই। এতে ব্যাপক সফল আমরা। ৭২ শতাংশ জমিতে আমি ১৮৫ কেজি মাছ উত্তোলন করেছি। অথচ আগে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ কেজি মাছ তুলতে পেরেছি।’

    চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির পিপিটি অনুযায়ী উৎপাদিত পোনা ছাড়া হয় বলে মড়ক নেই বললেই চলে। আগে পানির লবণাক্ততা ও ভাইরাস পরীক্ষা হতো না বলে ৪০ দিন যেতে না যেতে মাছ মারা যেত। আর এখন মাছ মরে না বললেই চলে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে আমরা মাছ চাষ করে শতকে তিন-চার কেজি মাছ উৎপাদন করতে পেরেছি।’

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় শিবপুরের ২৩ জন চাষিকে নিয়ে কাজ শুরু করি। সেখানে সফলতা ব্যাপক। বায়োসিকিউরিটি ও ভাইরাসমুক্ত পোনা ব্যবহার করা হয় ঘেরে। আমরা খুব আনন্দিত, মাত্র ৩ মাসে ২০টি চিংড়িতে ১ কেজি ওজন হচ্ছে। চাষিদের এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা উচিত।’

  • সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন- ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর, সে এই আমার দেশের মাটি, আমার দেশের পথের ধূলা, খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মাটি যেন কবিদের সেই কথার দৃষ্টান্ত। কারণ এই গ্রামের মাটিতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

    জানা গেছে, মুরারীকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এসব টাইলস তৈরি করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পালপাড়ায়। আগের মতোই মাটি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর উঁচু স্তূপ করে রাখতে হয়। তারপর সেখান থেকে মাটি কেটে কুমাররা পায়ের মাধ্যমে কাদা তৈরি করেন মণ্ড বা খামির। মাটি তৈরির পর শিল্পী তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও খাঁচে ফেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সেগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর রঙ ধরানো হয়। রঙ লাগানোর কাজ শেষ হলে রোদে শুকিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পোড়ানোর জন্য সাজানো হয় এই টাইলস।

    ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১৩টি কারখানা। সেখান থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি মতো টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। দেশে আসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রফতানি হচ্ছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রফতানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।

    টালি কারখানার শ্রমিক রুস্তম শেখ বলেন, আমাদের এই মাটি মাঠের মিষ্টি মাটি। মহাজন এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মাটি কিনে আনে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হয়।

    শ্রমিক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মুরালিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোনার চাইতে খাঁটি। এ কারণে এই মাটিটা বিদেশে রফতানি হয়। মাটি দিয়ে তৈরির এসব কারখানায় আমরা পাঁচ থেকে ছয়টি কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

    প্র-এসও অর্গানিক টাইলস কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি বেলে হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। এই মাটিটা পোড়ানোর পরে যে সৌন্দর্য্যতা হয় সেটি পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর টালি হয়ে ওঠে। যার জন্য এই টালি দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। যারা একবার কলারোয়ার মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করেছে তারা পৃথিবীর অন্য কোনো মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না।

    তিনি বলেন, আমরা এই টালি বিশ্ববাজারে রফতানি করে থাকি। বিশেষ করে এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রফতানি করে থাকি।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, কলারোয়ার মুরালিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

  • শতবর্ষী পোস্ট অফিসে তালা, অবশেষে উন্মুক্ত

    শতবর্ষী পোস্ট অফিসে তালা, অবশেষে উন্মুক্ত

    সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত শতবর্ষী এক পোস্ট অফিসকে নিজের সম্পত্তি দাবি করে তালা ঝুলিয়ে দেন এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি দরজায় ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেন। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অবশেষে তালা খুলে পুনরায় উন্মুক্ত করা হয় পোস্ট অফিসটি।

    সোমবার আশাশুনি উপজেলার চাম্পাফুল স্কুলগেট সংলগ্ন শোভনালী পোস্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

    পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকালে চাম্পাফুল গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে আহসানুল্লাহ মীম কয়েকজনকে নিয়ে এসে দাবি করেন, পোস্ট অফিসের ভবনটি তাদের জায়গায় নির্মিত। এরপর দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার আশাশুনি উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার, পুলিশ, শোভনালী ভূমি অফিসের নায়েবসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জায়গা মাপা হয়।

    সার্ভেয়ার অমল কুমার জানান, পোস্ট অফিসটি ২০৬ ও ২১০ দাগের জমিতে অবস্থিত এর মধ্যে ২১০ দাগ সরকারি রাস্তার জমি হলেও ২০৬ দাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন। তবে খতিয়ান যাচাই না করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হলে আহসানুল্লাহ মীম নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং পোস্ট অফিসের দরজার তালা খুলে দেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা কামাল সরদার বলেন, আমার জন্মের আগ থেকেই এই পোস্ট অফিস এখানে রয়েছে। হঠাৎ করে কেউ এসে তালা ঝুলিয়ে দিল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

    আরেক স্থানীয় খায়রুল ইসলাম বলেন, পোস্ট অফিস বন্ধ থাকায় দুদিন ধরে লোকজন বিপাকে পড়েছেন। অনেকের গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও পরীক্ষার কাগজপত্র আটকে গেছে।

    আশাশুনি উপজেলা পোস্টমাস্টার মীর আহছানুজ্জামান বলেন, পোস্ট অফিস সরকারি সম্পত্তি। এভাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াটা দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    আশাশুনি থানার ওসি সামছুল আরেফিন বলেন, এটি জমিসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় আমরা এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। তবে ভবিষ্যতে এমন দুঃসাহস কেউ দেখালে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তৎকালীন মালিক হেমনাথ মজুমদার পোস্ট অফিসের জায়গাটি লিখে দিলেও সেটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত জমির মালিকানা পরিষ্কার না হবে, ততদিন কেউ পোস্ট অফিসের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারবে না। বিষয়টি পোস্টমাস্টার জেনারেলকেও জানানো হবে।

  • সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    সাতক্ষীরায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তাসলিমা আক্তার হিরা (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পলাশপোল এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তাসলিমা আক্তার হিরা যশোরের বাগআঁচড়া গ্রামের শাজাহান আলীর মেয়ে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের অ্যাডলিব শোরুমে কাজ করতেন এবং প্রায় এক মাস আগে শহরের পলাশপোল এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া উঠেছিলেন।

    তাসলিমার বাড়ির মালিক মাসুম বিল্লাহ শুভ বলেন, হিরা আমার বাসায় এক মাস ধরে থাকছিলেন। তিনি অ্যাডলিব শোরুমে চাকরি করতেন। বিস্তারিত তথ্য শোরুম থেকেই জানা যাবে।

    অ্যাডলিব শোরুমের ম্যানেজার আতিয়ার রহমান বলেন, হিরা আমাদের স্টাফ ছিলেন। আজ তার অফ ডে ছিল। সে সকালে বলেছিল যশোর যাবে, তাই আমরা খোঁজ নেইনি।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।