ক্যাটাগরি রংপুর

Rangpur district

  • রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন চিলিং সেন্টার, ফিড ও মাংসের দোকান পরিদর্শন করা হয়।

    অভিযানে রংপুর ডেইরি প্রোডাক্টকে ২৫ হাজার টাকা, প্রাণ ডেইরিকে ১০ হাজার টাকা, মা ট্রেডার্সকে ৭ হাজার টাকা, আবওয়া বাণিজ্য ভান্ডারকে ৬ হাজার টাকা এবং হবিবর গোস্ত ঘরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় আরোপিত মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, রংপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত ভাগনের অত্যাচার ও হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামা মাহাবুবুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভাগনে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী মাহাবুবুল ইসলাম ও অভিযুক্ত সাজু মিয়া উপজেলার বলদীপুকুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাজু মিয়ার বাড়ির কাছে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তাঁর মামা মাহাবুবুল ইসলাম। ইতিমধ্যে ওই জমির নামজারিও তাঁর নামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওই জমির ওপর নজর পড়ে ভাগনে সাজু মিয়ার। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য মাহাবুবুল ইসলামের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাহাবুবুল জমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে ক্ষুব্ধ হন সাজু মিয়া। তিনি ইতিমধ্যে জমির একাংশ দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশও দখলের চেষ্টা করেছেন তিনি।

    মাহাবুবুল ইসলামের অভিযোগ, সাজু মিয়া একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকি দেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহির উদ্দিন (৬০)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মহির উদ্দিন।

    পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলশান মোড় এলাকায় মহির উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তাঁর বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে আজ দুপুরে মাইদুল ও রশিদুলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

    থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মহির উদ্দিনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলেদের মারামারি দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মহির উদ্দিনের। এর আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্য পরামর্শ দিলেও অসচ্ছলতার কারণে সম্ভব হয়নি।

  • শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হলেও শুধু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জে দলটির উপজেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না। অমুসলিমদের জানমাল ও ইবাদতখানার নিরাপত্তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান।

    একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। দেশবাসীকে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘তারা ক্ষমতার লোভ থেকে আকস্মিক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা কী দেখলাম—তারা রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। আবার সংসদে বলেছে, তেল-গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়নি, আগের সরকারের সৃষ্টি।’

    লংমার্চের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে লাখ লাখ টাকার তেল-গ্যাস পুড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আপনারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’

    মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে কারণে দেশে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানে অনেকে মা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

    সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফাসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।