রংপুর

Rangpur district

  • আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।

    তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

    এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় ৫ জন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে রংপুরের ১০৩ জনসহ বিভাগের আট জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৪৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪১৭ জন। একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৪২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দিনাজপুরে ২৫, লালমনিরহাটে ৯ এবং গাইবান্ধায় ১৪ জন রয়েছেন।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৪৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২০ জন।

    রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে সামান্য জ্বর দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    রংপুরে পূজামণ্ডপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের কাউনিয়ায় পূজামণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাকিল আহমেদ (১৯) নামে এক ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কাউনিয়ার টেপামধুপুরের রাজীব চৈতারমোড় দীগলটারি দুর্গা মন্দিরে এ দুর্ঘটনা হয়।

    নিহত শাকিল টেপামধুপুর ইউনিয়নের মন্ডলটারী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে মধুপুর বাজারের মাহিন সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করত।

    কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল জানান, দশমী উপলক্ষে ডেকোরেটরের মালামাল খুলে নেয়া হয়। পরে বিদ্যুতের লাইনের জয়েন্ট থেকে জেনারেটরের তারের লাইন খোলার সময় শাকিল বিদ্যুতায়িত হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ,আর

  • রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরে পরিমাপে কারচুপি করায় মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা এবং পণ্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মামা-ভাগ্নে আরতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশন ও সিটি বাজারের মামা-ভাগ্নে আরতকে এই জরিমানা করা হয়।

    এর আগে, দুই জায়গাতেই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই-এর পরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি-১৩) টিম অভিযানে সহায়তা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিমাপে কারচুপি করায় স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং ক্রেতাকে ভাউচার না দেয়ায় সিটি বাজার এলাকার মামা-ভাগ্নে আড়তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ,আর

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত ভাগনের অত্যাচার ও হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামা মাহাবুবুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভাগনে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী মাহাবুবুল ইসলাম ও অভিযুক্ত সাজু মিয়া উপজেলার বলদীপুকুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাজু মিয়ার বাড়ির কাছে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তাঁর মামা মাহাবুবুল ইসলাম। ইতিমধ্যে ওই জমির নামজারিও তাঁর নামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওই জমির ওপর নজর পড়ে ভাগনে সাজু মিয়ার। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য মাহাবুবুল ইসলামের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাহাবুবুল জমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে ক্ষুব্ধ হন সাজু মিয়া। তিনি ইতিমধ্যে জমির একাংশ দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশও দখলের চেষ্টা করেছেন তিনি।

    মাহাবুবুল ইসলামের অভিযোগ, সাজু মিয়া একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকি দেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহির উদ্দিন (৬০)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মহির উদ্দিন।

    পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলশান মোড় এলাকায় মহির উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তাঁর বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে আজ দুপুরে মাইদুল ও রশিদুলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

    থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মহির উদ্দিনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলেদের মারামারি দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মহির উদ্দিনের। এর আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্য পরামর্শ দিলেও অসচ্ছলতার কারণে সম্ভব হয়নি।

  • শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হলেও শুধু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জে দলটির উপজেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না। অমুসলিমদের জানমাল ও ইবাদতখানার নিরাপত্তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান।

    একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। দেশবাসীকে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘তারা ক্ষমতার লোভ থেকে আকস্মিক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা কী দেখলাম—তারা রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। আবার সংসদে বলেছে, তেল-গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়নি, আগের সরকারের সৃষ্টি।’

    লংমার্চের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে লাখ লাখ টাকার তেল-গ্যাস পুড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আপনারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’

    মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে কারণে দেশে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানে অনেকে মা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

    সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফাসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে জাকিয়া সুলতানা জিসা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার কৈটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাকিয়া সুলতানা জিসা জাহাঙ্গীর আলম ও জোহরা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে পাঁচ বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসল করতে যায় জিসা। গোসলের সময় হঠাৎ পানির স্রোতে গভীর অংশে চলে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে জিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: ওসমান গনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

    অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

    তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

    তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

    পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

    গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

  • মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক হোটেল নর্থভিউয়ের ছাদ থেকে পরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর সাথে প্রেম ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    বিকেল সাড়ে ৫টায় মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপ পুলিশ কমিশনার ডিবি সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম শাহরিয়ার সাকিন।

    তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর ধাপ চিকলি ভাটা এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণের আলোকে শাহারিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির সাথে শাহরিয়ারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করত। মোবাইলে কথাবার্তা হতো। আত্মহত্যার আগে রিসেট দেয়ায় ওই তরুণীর মোবাইলে কোনো অ্যাপস পাওয়া যায়নি। যথেষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তার বাবা নজরুল ইসলাম।

    তবে গ্রেফতার শাহরিয়ার কোতোয়ালি থানায় জানিয়েছেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমার স্টুডেন্ট ছিল। ওরা চারজন একসাথে আমার ব্যাচ এ পড়তো। পড়ানোর সময় আমি যখন টের পাই মেয়েটি আমাকে পছন্দ করে, তখন আমি ওই ব্যাচটি পড়া বন্ধ করে দেই। পরে ওর মায়ের অনেক রিকোয়েস্টে আর একটা ব্যাচের সাথে পড়িয়েছিলাম। কিন্তু তখন সে আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে নক করে এবং আমাকে পছন্দের কথা জানালে। আমি তিন মাস আগে পড়ানোটা বন্ধ করে দেই এবং তার সাথে সব যোগাযোগও বন্ধ করি। আর ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ায় আমি বিষয়গুলো জানানোর জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে ডিবি অফিসে যাই। তখন ডিবির উপ পুলিশ কমিশনার আমাকে আটক করে ওর অভিভাবকদের দিয়ে মামলা করায়। ওই মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনোভাবেই আমি যুক্ত নই। যদি যুক্ত থাকতাম তাহলে কি নিজেই ডিবি অফিসে যাই।’

    মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমি কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়েছি। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম শাকিন। এক সময় আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো একটা ব্যাচে। আমার একটাই জানার ইচ্ছা আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল ধাপে, কিন্তু কেন গেল নর্থ ভিউ রেস্টুরেন্টে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর নর্থ ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্টের রুফটফের রেলিং থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন সাবেক সেনা সদস্য।

    এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তিনি। এ ঘটনার পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায় এক তরুণী বিকেল ৪টা ৫৪মিনিটে হোটেলটির ছাদে রুফটফ রেস্টুরেন্টে যায়। সেখানে ঘণ্টাব্যাপি মোবাইল অপারেট করতে দেখা যায় তাকে। ৫টা ৪২মিনিটে ছাদের রেলিংয়ে উঠে এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, গোয়েন্দা পুলিশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে আটক করার পর কোতোয়ালি থানায় দিয়েছে। মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

  • বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থান করা পুশইন চেষ্টার শিকার নয়জনের মধ্যে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে আর দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, মানবিক কারণে তাদের কোনো এক সময় সরিয়ে নিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

    জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন এবং ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিন যুবককে গত চার দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, সেখানে থাকা দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা আর নেই।

    স্থানীয়দের দাবি, বুধবার গভীর রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু দুটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বাবা-মাসহ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের কোন দেশে নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফিজার বলেন, গতকালও গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জনকে দেখেছি। আজ গিয়ে দেখি দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা সেখানে নেই।

    দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেয়ার পর বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার দুই যুবক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে আরো তিন যুবক এখনো শূন্যরেখায় রয়েছেন। ফলে দুই সীমান্তে বর্তমানে মোট পাঁচজন অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ওই পাঁচজনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।

    উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

    বিষয়টি জানতে রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী মোবাইলফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    আলুচাষি-ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

    জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় তারা মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতীকী বিক্ষোভও প্রদর্শন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন, জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহসভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিব দিল মেরাজুল দুলু প্রমুখ।

  • ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে ভেঙে যায় ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।

    গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

    সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার পদে চাকরি করতেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড–সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে নানাবাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সোহেলির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী।

    সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েসহ এসেছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার (৬ জুন) রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রোববার ভোর পাঁচটায় গাবতলী এলাকায় নেমে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পার হয়ে ছিনতাইকারীর আক্রমণের শিকার হন।

    সারওয়ার পারভেজ আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর দুই মাস পর মায়েরও মৃত্যু হয়। একমাত্র মেয়েটিকে একা করে এবার চলে গেলেন তিনি।

    সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে সোহেলির মাথার পেছনের অংশ ফেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। প্রথমে কেউ এগিয়ে আসছিলেন না। পরে রিকশাচালকসহ একজনের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙাচ্ছিলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় ফেরদাউস মিয়া (৬০) নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার কমপক্ষে আট যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঠের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরদাউস মিয়া উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে গাইবান্ধা শহর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পলাশবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মাঠের বাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন ট্রাভেল নামের একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীরা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটোরিকশাচালক ফেরদাউসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’

  • ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশইন প্রচেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলা ভাষাভাষী কিছু ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

    এ পরিস্থিতিতে ফুলবাড়ী সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না যায়।

    এছাড়া সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করতে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ বিজিবি সদস্যরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

    ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই।’

  • সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালক জয়নাল মিয়ার (৬০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ৬টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত জয়নাল মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হামিদ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মরহুম ওসামন মিয়ার ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জয়নাল মিয়া অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৯ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নলডাঙ্গা-রংপুর সড়কে যাত্রীবহন করছিলেন তিনি। এ সময় বাড়ির পাশে কিশামত হামিদ নামক স্থানে চলন্ত ভ্যানটির পেছনে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে জয়নাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় জয়নাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর লোকমুখে শুনেছি।

  • চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনকে চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বদরগঞ্জ)-এর বিচারক সোহেল রানা তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শামীম আল মামুন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন।

    রংপুর জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ অক্টোবর শামীম আল মামুন, জিকরুল হক ও হাদিজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন একই উপজেলার দক্ষিণ বাওচন্ডির মো: ফয়সাল হক। শিক্ষা অধিদফতরের এসএস ডিপি প্রকল্পে চাকরি দেয়ার নামে চেকের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

    মামলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের প্রার্থনা করেন শামীম আল মামুন। বিচারক শুনানি শেষে শামীম আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শামীম আল মামুন বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং বিএনপির পেশাজীবী ফোরাম জিয়া পরিষদের বদরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা যায়, তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভুয়া নাম, রোল ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি নেন শামীম আল মামুন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

    কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভুপেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আর আদালতের ওপরে কারো কিছু করার নেই। সে যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এটা তার নিজের বিষয়। এতে আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    নিউজ,

    রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), ওই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মরহুম মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মরহুম কফুর উদ্দিনের ছেলে মো: সাজু মিয়া (৫৫)।

    এছাড়া বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মরহুম সুলতান আলীর ছেলে মো: এরশাদ মিয়া (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসাথে অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং ধীরে ধীরে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়।

    ছাত্তার মিয়া নামের অপর একজনের কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: সাজু মিয়া নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ যাতে ময়নাতদন্ত করাতে না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ ও মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    আন্তর্জাতীকঃ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আরো নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, এই সমস্যা যেন বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করতে পারি। শুক্রবার বিকালে রংপুরে সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। এ দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এ দেশ একদিন বদলাবেই। আর আমরা এই দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি।

    তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহপাক হয়তো আমাদের বিরোধী দলে রেখেই পরীক্ষা করছেন। এই পরীক্ষায় আমাদের বিজয় হতে হবে।

    এর আগে সকাল ৯টায় একদিনের সফরে রংপুর আসেন জামায়াত আমির। সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেয় মহানগর পুলিশ।

  • কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    কাউনিয়ার তিস্তা নদীর বালুচরে এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা,যশোর,কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
    সরজমিনে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর তালুক শাহাবাজ, চরগনাই, নিজপাড়া, চর ঢুষমারা,পাঞ্জরভাঙ্গা চরে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি কুমড়া খেতে লাল হলুদ রঙ ধারন করে অপরুপ শোভা ছড়াচ্ছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু মিষ্টি কুমড়ার খেত।

    নিজপাড়া গ্রামের কুমড়া চাষী হাফিজুর রহমান জানান তিনি ১হেক্টর জমিতে ৬ শ’ কুমড়ার চারা রোপণ করে ছিলেন। ভালো ফলন ভাল দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশি। খেতেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা কেজি দরে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরানবাজার নিয়ে যাচ্ছে।
    তালুক শাহবাজ গ্রামের কুমড়া চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন তিনি দেড় একর জমিতে ব্যাংকক-০১ ব্লাকস্টোন জাতের কুমড়া চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছে। দাম ও ফলন ভাল পেয়ে তিনিও বেশ খুশি।

    একই চরের কৃষক তুহিন মিয়া বলেন বর্ষায় নদীর দু’কূল উপচিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমি বসতভিটাসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয় তিস্তা নদী। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও পেটে দু’মুঠো ডাল ভাত জোগাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালুচরে কুমড়া চাষ করে থাকি । চরাঞ্চলের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় এই ফসলে বেশি আগ্রহী ওঠেছেন চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ১৭টি চরে ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে। উপজেলার নদীভাঙা ৪টি ইউনিয়নের ১৭ চরে ২৭৬ জন প্রান্তিক চাষি ১১৫ হেক্টর বালুচরের জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। ব্যাংকক-০১ ব্যাংকক-০২,ব্লাকস্টোন,

    বারি মিষ্টি কুমড়া,বেতব্রি,সবুজ বাংলা, পাথর কুচি,দেবগ্রী ,বদ্দবাটি,পাতায়া-০১,
    ওয়ান্তর গোল্ড, থাই কুমড়া, স্মল সুইট জাতের কুমড়া চাষ করা হয়েছে তিস্তার বালুচরে। ১ হেক্টর জমিতে কুমড়ার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ মেট্রিকটন,প্রতি ১ হেক্টর জমিতে খরচ ধরা হয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা,বিক্রি হবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতি ১ হেক্টর জমিতে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কাউনিয়ার তিস্তার চরের কুমড়া বিক্রি হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

    অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মিষ্টি কুমড়া রোপণ করে তা এপ্রিলের শেষে খেত থেকে তোলা শুরু হয়েছে। চাষিরা তাদের লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করা পাকা মিষ্টি কুমড়া খেত থেকে তুলে বিক্রির জন্য খেতের কোণায়, নদী পাড়ে স্তূপ করে রেখেছে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে।

    নিজপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন প্রনোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সার,বীজ,সেক্সফেরোমেন ট্রাপ প্রদান করা হয় এবং নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করায় কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে কুমড়ার বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হয়েছে।
    কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, তিস্তার বালু চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষকপ্রকল্পের আওতায় ২৭৬ জন চাষি ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের প্রশিক্ষণ, বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে। এ উপজেলায় দিন দিন কুমড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমড়া চাষ করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে।

  • উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    হঠাৎ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে মদনখালী ও কুমেদপুর ইউনিয়নের বারুদহ এলাকায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পাকা ও আধা পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন, যাতে সম্পূর্ণ ক্ষতির হাত থেকে অন্তত কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।

    উপজেলার বগের বাড়ি গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, ‘দিন দিন পানি বাড়তেই আছে। আমরা বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছি, না হলে সব পানির নিচে চলে যাবে।’

    একই এলাকার খয়ের বাড়ি গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

    খয়ের বাড়ি গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পীরগঞ্জের স্লুইসগেটের জলকপাট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমাদের ধান পুরো পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, উজানের পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই এলাকার মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়। এ সময় ওই এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন মৎসজীবীরা। তা দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন। একজন আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

    তাদেরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মৎসজীবী মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিন। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।

    মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয় তখনই আমরা দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাই। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু আছেন। যাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

    মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও যায়। এ ঘটনায় দুইজন মারা গেছে। আহতদের মিঠাপুকুর ও রংপুরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ওই এলাকার সব মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

  • তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি? বুকভরা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত তিনদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বেরোবির জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বেরোবি পরিবহন পুলের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজে বা নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলা নামায় শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করার ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেরোবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা আর অমানবিকতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একজন মুমূর্ষু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবার এই যদি হয় অবস্থা, তবে প্রশাসনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অন্যায্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি।

    অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্যান্য গাড়িও চলছে, তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এই অজুহাত কেন? এটা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে।

    বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমিও এর আগে একদিন জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য কল দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক একই (তেল না থাকা) অজুহাত পেয়েছিলাম।

    এ বিষয়ে বেরোবি মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ.এম.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে তো আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন থেকে চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়। সেখানেও তিনদিন যাবৎ তেল নেই।

    পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কে ব্যবহার করবে, না করবে তা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে আজই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।

  • রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    • ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি কূপ খনন।
    • এর মধ্যে তিনটিতে বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান মেলে।
    • খনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন।
    • উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ডেস্ক নিউজঃ

      রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় কয়লাখনির কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে আছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম।

      ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খনিটিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ২০০৬ সালের আগস্টে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

      প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আমরা প্রস্তুত রেখেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’

      জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আমদানি করা কয়লা ও ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (মাগুরা) গ্রামে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

      সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খনিটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এতে দেশের কয়লার চাহিদা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

      বর্তমানে প্রকল্পটিতে কাজ করছেন ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের কাজ মূলত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও খনির রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। খনিটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

      স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, পীরগঞ্জের কয়লাখনি চালু হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোব্যবস্থা। আরেক বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এই কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে দেশের কয়লার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

      পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘সংসদে সুযোগ পেলে পীরগঞ্জের কয়লাখনির বিষয়টি উত্থাপন করব, যাতে দ্রুত এটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

  • ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    এর আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি করে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩.৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫,৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪,০৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪,৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭,০৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫,২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।

    এদিকে ভাগাভাগির রেজুলেশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংরক্ষণের বিধান সরকারি নীতিমালায় নেই। ফলে এমন রেজুলেশন তৈরি করা হলে তা নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। কার্ড ভাগ বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি হারুন অর রশিদ বাবু নামে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি দেন।

    রেজুলেশনে উল্লেখিত কার্ড বরাদ্দের বিষয়ে জানতে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষে কাজ করছি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

    পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এম কে

  • ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাবিকে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর অভিযুক্ত দেবর কমল চন্দ্র অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের পশ্চিম দলিরাম শ্রী ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনকষা গ্রামের বাসিন্দা রতনের সঙ্গে বিয়ে হয় কৃষ্ণা রানীর। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী রতনের সঙ্গে দেবর কমলের দ্বন্দ্ব দেখা যায়। চলতি বছরের মার্চের দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষ্ণার স্বামী রতন মারা যায়। এরপর তমার সঙ্গে দেবর কমলের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

    স্বামীর মৃত্যুর পর তার অংশের ৪০ শতক জমি কৃষ্ণা রানীর নামে রেজিস্ট্রি দলিল করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তার আগেরদিন গত জুলাই সন্ধ্যায় কৃষ্ণার শরীরে বিষ জাতীয় দ্রব্য স্যালাইন/ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে হত্যা করে। পরেরদিন নিহত কৃষ্ণার বাবা দীজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে সাতজনকে আসামি করা হয়।

    র‍্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার আসামি কমলকে গঙ্গাচড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গণভোট উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকবে না : আখতার

    গণভোট উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকবে না : আখতার

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ কোনো সরকারের সঙ্গেই থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    তিনি বলেন, গণভোটকে যদি উপেক্ষা করা হয়, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি সরকারের সঙ্গেও থাকবে না।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের কাউনিয়ায় মোফাজ্জল হোসেন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলের আয়োজনে গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আখতার হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থান, গণভোট এবং জুলাই আদেশের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। জুলাই সনদের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

    তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যা ও বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি এখনো স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে পারেনি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে পরিমাণ ভোটে সরকার গঠিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের সমর্থন গণভোটের পক্ষে ছিল। সেই রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না।

    তার ভাষ্য, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ ও সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ রাজপথে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২৪-এর আগে পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্রের আন্দোলন করা হলেও পরবর্তী সময়ে তারা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাউনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম সরকার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম, নায়েবে আমির শেখ নজরুল ইসলাম, এনসিপি, জেলা ও উপজেলা নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা।

  • বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রতিবছর ডিসেম্বরের ৯ তারিখ থেকে তিনদিনব্যাপী বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয় পায়রাবন্দে।

    ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে যে নারী অবদান রেখেছেন, সেই নারীর জন্মভিটে এখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত। এবার পায়রাবন্দবাসীর প্রধান দাবি—ভারতের কলকাতার সোদপুর থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্মৃতিকেন্দ্র চালু, দখলদারদের হাত থেকে ৫১ একর জমি উদ্ধার।

    একসময় কঠোর পর্দা প্রথা, নানা কুসংস্কার এবং কূপমণ্ডূকতায় ভরা ছিল পায়রাবন্দ। মেয়েরা বন্দিজীবন কাটাতো। ধীরে ধীরে সেই অবস্থা কেটে যাচ্ছে। এখন মেয়েদের বন্দি জীবনযাপন করতে হয় না। এখানকার মেয়েরা দলবেঁধে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বাল্যবিয়েও কমে গেছে। নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

    ক্ষণজন্মা নারী বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সোদপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ তার দেহাবশেষ সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছিলেন। কিন্তু উপেক্ষিতই থেকেছে সেই দাবি। তবে এবার এই দাবি জোরালো হয়েছে। পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

  • পীরগাছায় রাস্তা নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষ

    পীরগাছায় রাস্তা নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষ

    রংপুরের পীরগাছায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (২ মার্চ) সকালে উপজেলার কল্যানী ইউনিয়নের নয়ানদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়ানদীর পাড় এলাকায় একটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল দখল করে রেখেছিল। ভুক্তভোগী শাহজাদা মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। সোমবার সকালে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হলে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

  • ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ চালক নিহত

    ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ চালক নিহত

    রংপুরের তারাগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার হাজীপুর নামক স্থানের খারুভাজ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জলুলী এলাকার মৃত রহিদুল ইসলামের ছেলে ট্রাকচালক ইদ্রিস আলী (৩৫) এবং পটুয়াখালী জেলার ট্রাকচালক আরিফ (৪৯)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে খারুভাজ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সৈয়দপুরগামী সারবোঝাই ও রংপুরগামী পাথরবোঝাই ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালক দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

  • দুই মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ৫০ বারের বেশি ‘স্যার’ সম্বোধন ডিসির

    দুই মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ৫০ বারের বেশি ‘স্যার’ সম্বোধন ডিসির

    রংপুরে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাত্র দুই মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে উদ্দেশ্য করে ৫০ বারেরও বেশি ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান।

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    তার দেওয়া বক্তব্যের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি মন্ত্রীর কাছে রংপুরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও উন্নয়ন স্বার্থে নানা প্রকল্প প্রস্তাবনার কথা বলছেন। এসময় প্রতিটি বাক্যে কয়েকবার করে তিনি ‘স্যার’ সম্বোধন করছেন।

    সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের এত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধন করা নিয়ে অনেকে বিরক্ত হচ্ছিলেন।

  • থানায় কোনো দালালি চলবে না: এটিএম আজহার এমপি

    থানায় কোনো দালালি চলবে না: এটিএম আজহার এমপি

    সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে থানাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দালালি চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকালে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের হলরুমে পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি থানার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে এবং নানা ধরনের দালালির মাধ্যমে হয়রানি করে থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিতে বলেছেন থানা কর্মকর্তাকে।

    এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সরকার বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে কেউ দালালি বা অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষকে কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারীর কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, থানায় যেকোনো সেবা সরাসরি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি থানার নাম ব্যবহার করে দালালি বা হয়রানি করার চেষ্টা করে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • কাউনিয়ার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই রাখার দাবীতে মানববন্ধন

    কাউনিয়ার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই রাখার দাবীতে মানববন্ধন

    কাউনিয়া উপজেলার সবার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে রাখার দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

    মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকা বাসী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে তারা।

    এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে বলেন চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম প্রায় এক বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। স্কুলে তালা ঝুলছে, ছাত্র-ছাত্রীরা অনুপস্থিত, ৩ বছর থেকে স্কুলের পরিচালনা কমিটি নেই। বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে লিখিত এবং মৌখিক ভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে শোনা যাচ্ছে স্কুলটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ১৯৬০ সালে সরকারি হওয়া স্কুলটি কাউনিয়া থানার ৪০ নম্বর স্কুল নামে পরিচিত । বর্তমানে স্কুলের আশে-পাশের প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করে এবং স্কুলে ১০৫ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকার পরেও স্কুলে ১ (এক) বছর ধরে তালা ঝুলে আছে। অন্যত্র সরিয়ে নিলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের নদী পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে লেখাপড়া করা প্রায় অসম্ভব। স্কুলটি নিয়ে বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়ম সহ ছিনিমিনি খেলা চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ গত ১৯ ফেব্রুয়ার অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান তোতা ও মোঃ মুকুল ইসলাম সহ বহিরাগত কিছু কু-চক্রী মহল যোগসাজস করে উক্ত বিদ্যালয়টি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের বাধা দিলে তারা উক্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পত্র দেখিয়ে বলে আপনারা আমাদের বাঁধা দিয়ে কোন লাভ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উক্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিচ্ছি।
    এলাকার মহৎ ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকবৃন্দ বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল টি সরিয়ে নিতে নিষেধ করে। বর্তমানে উক্ত বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই বিদ্যমান আছে। অভিযোগ কারী নজরুল ইসলাম মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে বলেন বিদ্যালয়টি যদি কখনো স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয় আমরা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উক্ত বিদ্যালয়ের জমি জায়গা দিতে প্রস্তুত আছি। স্কুলটি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে পূর্বের স্থানেই কার্যক্রম চলমান রাখা ও পরিচালনার সু-ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবী জানাচ্ছি।
    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমানআরা বেগম বলেন স্কুলটি পূর্বের স্থানে রাখার দাবীতে একটি অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার কাছে একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এ সময় পাপিয়া সুলতানা বলেন।স্কুলটি বন্ধ আছে কিনা এ বিষয়ে আমি ভালো জানিনা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করবো।

  • ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার বিকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জোন প্রধান নাছরীন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর এরিয়া প্রধান বদিউজ্জামান।

    এজিএম জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী জোনাল ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম, রহিমা খাতুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার মাস। তারা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান উন্নয়ন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

    পরে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে পীরগাছা জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ কে

  • তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    রবিবার বিকালে উপজেলার খিয়ারজুম্মা বাজারের বাঙ্গালীপুর নামক স্থানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘন করায় উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ হামিদুল ইসলাম (৩৫) কে এ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে রংপুরে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর মহানগর ও জেলা নেতাদের ওপর মহানগর ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবশক্তির নেতাদের দাবি, তাদের পাঁচ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

    ইফতার মাহফিলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয়আসাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রংপুরের এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম প্রবেশ ফটকে অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

    এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছার যুবশক্তির পাঁচকর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড ছিল না। ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি তাদের ঢোকাতে যান। তখন ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। এটা নিয়ে আমাদের হাউসে মিটিং হচ্ছে। এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট (বক্তব্য) দেওয়ার কিছু নেই। তেমন কিছু হয়নি ওখানে। মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমরা বসেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।