ক্যাটাগরি রাঙ্গামাটি

Rangamati district

  • রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়েছে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হ্রদের পানির সমতল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে গেটগুলো ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

    কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ে খোলার সময় এবং পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

  • ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

    এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

    কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • রাবিপ্রবির ভিসির কার্যালয়ে তালা

    রাবিপ্রবির ভিসির কার্যালয়ে তালা

    শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) অপসারণের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ভিসি কার্যালয়ে তালা দিয়েছে ছাত্রদল।

    মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ক্যাম্পাসে ভিসি কার্যালয়ের সমানে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন অর্ণব। এসময় সদস্যসচিব জিশান আহম্মেদ, শরিফ উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন না মেনে নিজের খেয়াল খুশি মত নিজের পছন্দের লোককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নয় বরং দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জামায়াতিকরণ করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী শিক্ষকদের বিভিন্ন পদে পদায়নও করেছেন।

    এসব অভিযোগে ভিসির পদত্যাগে আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল।

  • জেলা ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাঙামাটি

    জেলা ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাঙামাটি

    রাঙ্গামাটিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবঘোষিত জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ। তারা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।

    শনিবার রাতে ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র এবং রাঙ্গামাটি শহরের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাঠালতলী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ‘টাকা লাগলে টাকা নে, নতুন করে কমিটি

    দে’-এমন স্লোগান দেন। তাদের অবরোধের কারণে জেলা বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    বিক্ষোভে ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর জাভেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোখতার আহমেদ ও পারভেজ হোসেন সুমন, এবং প্রচার সম্পাদক আব্দুল আহাদকে উপস্থিত দেখা গেছে।

    সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেন, যাকে রাজস্থলী থেকে এনে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি রাঙ্গামাটি শহরের নেতাকর্মীদেরই চেনেন না। তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

    যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

    এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ বলেন, “ছাত্রদল একটি বড় সংগঠন। এখানে সবারই ত্যাগ আছে, কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন -এটি স্বাভাবিক। তবে সবাইকে সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।

    জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদ সাব্বিরকে সভাপতি ও আলী আকবর সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

  • নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

    নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

    সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন (১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট)।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নানিয়ারচর জোন কার্যালয়ে এই ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মশিউর রহমান।

    নানিয়ারচর জোন কমান্ডার এ সময় উপজেলার বুড়িঘাট ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি মো: রফিকুল ইসলামের হাতে ক্রিকেট ব্যাট, থাই প্যাড, হেলমেট, ক্রিকেট বল, ব্যাটিং গ্লাভস ও কিট ব্যাগসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।

    এ বিষয়ে নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মশিউর রহমান জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

    এ সময় নানিয়ারচর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

    আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

    সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে রাঙামাটি শহরে কোরানী পাহাড়, আসামবস্তি, গর্জনতলীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজন। শহরের কোরানী পাহাড় এলাকায় ভোর থেকে শত শত নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাকে কলাপাতায় করে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।

    তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।

    বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।

  • লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের লোকালয় থেকে উদ্ধার একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলমসহ বনকর্মীরা বানরটি অবমুক্ত করেন।

    এ সময় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এএসএম ম‌হিউ‌দ্দিন চৌধুরী, অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ বিভাগের নানিয়ারচর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বুড়িঘাট স্টেশন অফিসার মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত হওয়া লজ্জাবতী বানরটি গত সোমবার নানিয়ারচর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় রয়েছে ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির এই লজ্জাবতী বানর।

    বিগত কয়েকমাসে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বেশ কিছু বানর অবমুক্ত করা হয়; যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকালয় থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

  • রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বাচ্চা প্রসবের সময় একটি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মারা গেছে শাবকটিও।

    মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের কাইতংপাড়া এলাকা থেকে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিমং মারমা বলেন, সকালে বনের মধ্যে মৃত অবস্থায় মা হাতি ও শাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে।

    রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, প্রসবকালে শাবকটির দেহের অর্ধেক আটকে যায়। এ সময় মা হাতি ও শাবকের মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    রাঙামাটির পার্বত্য জুরাছড়ির দুর্গম লেবারপাড়া গ্রামের এক কোণে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন বিধবা লুংঘাছড়ি চাকমা (৬৫)। স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবন থেকে যেন সব আলোই কেড়ে নিয়েছিল। টিন আর বাঁশে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি নড়বড়ে কুঁড়েঘরে ঝড়-বৃষ্টির রাতগুলো তাঁর জন্য হয়ে উঠত নিদারুণ কষ্টের। নিজের অসহায় জীবনের বোঝা বহন করতে করতে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন একটি বসতঘর পেয়ে লুংঘাছড়ির জীবনে ফিরেছে আশার আলো।

    মুহূর্তটি লুংঘাছড়ির জীবনে যেন নতুন জন্মের মতো। ঘরের চাবি হাতে নিয়ে তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি, আনন্দে চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা।

    লুংঘাছড়ি চাকমা বলেন, ‘আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ চেয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

    ঘর হস্তান্তরের সময় পাশে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সবার চোখেমুখে তখন ছিল সন্তুষ্টির হাসি।

  • লংগদুতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন

    লংগদুতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন

    আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে, লংগদুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের একতা” গড়বে আগামী শুদ্ধতা”‘ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়। মানববন্ধনে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ,অংশ নেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এসময় জনসাধারণের মাঝে দুর্নীতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করা হয।