ক্যাটাগরি খাবারের গুনাগুন

  • কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। একসময় দেশের ইলিশ বিদেশেও রপ্তানি হতো। অথচ এখন দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এই ইলিশের বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে।

    আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরো ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে এসব মাছ ঢুকছে।

    পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

    তার দাবি, এর প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে এসেছে।

    প্রশ্ন উঠছে, দেশের ইলিশের মৌসুমে ভারত থেকে এত মাছ কেন আমদানি করতে হচ্ছে?

    বাজারে ইলিশের সংকট

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল কারণ দামের পার্থক্য। বাংলাদেশে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা মাছের দাম কয়েক গুণ কম পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

    যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে কেন এই আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইলিশ আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

    তার ভাষায়, লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না।

    তবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে এ ধরনের আমদানি শুরু হয়েছিল।

    উৎপাদন কমছে বাংলাদেশে

    দেশে প্রায় দুই দশক ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর গত তিন বছর ধরে তা কমছে। একই সঙ্গে মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গবেষকেরা।

    মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

    ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, নদীদূষণ, কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, নানা ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    আমদানি করা ইলিশে বড় লাভ

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা, কখনো এরও কম। এরপর কাস্টমসসহ বিভিন্ন শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও বাংলাদেশের বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকে।

    একজন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ হচ্ছে। গত দুই মাসে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় যশোর অঞ্চলে আমদানি করা মাছও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

    ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রেও ইলিশের উচ্চমূল্য দেখা গেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বাংলাদেশে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

    উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প, প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

    ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, গত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি কতটা কাজে লাগানো হয়েছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন কমার কারণও বের করতে হবে।

    ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তার মতে, ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা হয়তো সাগর থেকেই বেশি মাছ ধরে ফেলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    গুজরাটে ইলিশের জোগান বেশি

    বাংলাদেশে যে ইলিশ আসছে, তার বড় অংশ গুজরাটের। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এ বছর গুজরাটে ইলিশের জোগান অনেক বেশি হয়েছে। এতে সেখানে উদ্বৃত্ত মাছ তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশের নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। বাংলাদেশে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়।

    মাকসুদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। সাধারণত এসব মাছ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    তার ভাষ্য, ভাদভূত থেকে সরাসরি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকেও বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেইনার ব্যবহার করা হয়। তবে বড় চালান সাধারণত ট্রাকে যায়।

    চিমন ট্যান্ডেলের হিসাবে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।

    মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, গুজরাটে ইলিশের মৌসুম জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তিন মাসের মৌসুমে ছোট আকারের জেলেদের কেউ কেউ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন বলে দাবি তাঁর।

    গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও ইলিশ পাওয়া যায়।

    পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও বাংলাদেশি ক্রেতা

    হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এ বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গিয়ে খুচরা পরিমাণে ইলিশ কিনছেন। তাদের কেনা মাছের পরিমাণ প্রায় দেড় থেকে তিন মেট্রিক টন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশ বেশি পছন্দ করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ ও শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ গাছের ওষুধের ব্যবহার এবং শহরের বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর বড় মোটরচালিত নৌযান দিয়ে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার কারণে সাধারণ জেলেদের মাছের জোগানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সে বছর ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

    ফলে একদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ খাবার, অথচ সেই খাবারই হয়ে উঠেছে নীরব ঘাতক। দেশের স্ট্রিট ফুড কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে যখনই ভোক্তা অধিকারের অভিযানে কোনো রেস্তোরাঁর খাবারে সমস্যা ধরা পড়ে; তখনই হৈচৈ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দিন পরই তা আর থাকে না; ফলে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। এসব কারণে খাবারের মান উন্নতি হচ্ছে না; যা হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।

    সম্প্রতি স্ট্রিট ফুড বা রেডি টু মিল নিয়ে এক গবেষণায় বাইরের বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ‘স্ট্রিটফুড এবং রেস্তোরাঁর ‘রেডি-টু-ইট’ সালাদে অণুজীবজনিত ঝুঁকির উপস্থিতি ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শিরোনামে গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. লতিফুল বারী।

    গবেষণায় স্ট্রিট ফুড, রেস্তোরাঁর সালাদ, জুস ও শরবতে ই-কোলাই, স্যালমোনেলা ও ভিবরিওর মতো রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নিরাপদ মাত্রার বেশি উপস্থিতি পেয়েছেন তিনি। চানাচুর মাখা বা ছোলা-মুড়ি থেকে ই-কোলাই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ৪৫.৫ শতাংশ, অ্যালোভেরা শরবতে স্যালমোনেলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ ১০.৫ শতাংশ, আর চটপটিতে ভিবরিও সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০১৮ সালের জরিপে ১০০টি হোটেলের মধ্যে মাত্র চারটি সবুজ, ৪৫টি হলুদ ও ৫১টি লাল স্টিকার পেয়েছিল। আট বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি মাত্র ১২৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি গ্রেডিং করে ৫৫৭টির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যেখানে খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন মোল্লার ভাষ্যে অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের মান ভালো অবস্থানে আছে, আর সি ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশে সরকারি হিসাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থার সচিব শ্রাবস্তী রায় জানান, মাত্র ৩৭১ জন জনবল দিয়ে এই বিশাল খাতে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য জনবল বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ৯০ শতাংশ রাস্তার খাবারই অনিরাপদ। আইসিডিডিআরবির ২০১৫ সালের গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে জীবাণু ও ৮৮ শতাংশ বিক্রেতার হাতে অস্বাস্থ্যকর জীবাণু পাওয়া যায়। বিএআরসির ২০১৯ সালের গবেষণা আরো উদ্বেগজনক; ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, নুডলসসহ বিভিন্ন নমুনার প্রতি গ্রামে এক হাজার ১০০-এর বেশি টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই পাওয়া গেছে, যেখানে নিরাপদ সীমা মাত্র ৩০। বিএআরসির সাবেক পরিচালক মনিরুল ইসলামের মতে, রাস্তার খাবারে ব্যবহৃত পানিই সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ এটি নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই।

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    বিএআরসির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রায় ১৪০ ধরনের খাবার বিক্রি হতো, এসব থাবার প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ খেয়ে থাকেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই তথ্য জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা এসব খাবারের বড় ক্রেতা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুরি খেতে খেতে শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, ধুলাবালি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা তিনি শোনেননি।

    জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকাও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দক্ষিণ সিটির খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আনসারী আমার দেশকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করায় পরে তা থেমে যায়। বর্তমানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, রাস্তার খাবারের মান নিয়ে এখনো তেমন কোনো কাজ হয়নি, কার্যক্রম পরিদর্শন-পরিবীক্ষণেই সীমাবদ্ধ। এফএও ও আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে ঢাকা-খুলনা-বরিশালে বিতরণ করা ৪০০টি কাচ-ঘেরা ‘স্ট্রিট ফুড ভ্যান’ও প্রকল্প শেষে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্যই নেই।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে রাখা, অভিজাত হোটেলে দীর্ঘ সময় ফ্রিজিং করা খাবারে রঙ মেশানোর মতো ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, এক প্লেট ফুসকাতে সাত কোটিরও বেশি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মলমূত্রের যে জীবাণু, সেগুলোও এসব খাবারে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পাঁচতারা হোটেলগুলোর ওপরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং থমকে আছে আহ্বানেই; এ কাজের জন্য আছেন মাত্র চারজন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার মতে, অনেক দেশেই রাস্তার খাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, জীবাণুমুক্ত পানি ও নিয়মিত তদারকি আছে বাংলাদেশেও তা সম্ভব, প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা। বিক্রেতাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

    ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, জনবল সীমাবদ্ধতায় অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে আবার পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যা সমাধানে শুধু প্রশাসন নয়, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম ও সচেতন ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনবল বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং এবং উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ধারাবাহিক তদারকি নিশ্চিত না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের খাবারের এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন তারা।

  • তালের পিঠা

    তালের পিঠা

    ফিচার

    তালের মৌসুম চলছে। এ সময় তালের রস দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু নানারকম খাবার। এর মধ্যে তালের পিঠা অন্যতম। তাল দিয়ে তৈরি করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পিঠা। এবারের রান্নার আয়োজন সাজানো হয়েছে কয়েক রকম তালের পিঠা দিয়ে। ছবি ও রেসিপি

    কলাপাতায় তালের পিঠা

    উপকরণ : তালের রস ২ কাপ, চালের গুঁড়া ৫ কাপ, চিনি দেড় কাপ, লবণ স্বাদমতো, নারিকেল কোরা ১ কাপ, দুধ ১ কাপ, ইস্ট ১ চা চামচ, পাকা কলা ২টি এবং কলাপাতা ৩২ টুকরো (ধুয়ে মুছে নেওয়া)।

    প্রস্তুত প্রণালি : তালের রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া, চিনি, লবণ ও কোরানো নারিকেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার একটি কাপে দুধের সঙ্গে ইস্ট মিশিয়ে এর মধ্যে দিয়ে দিন। উপকরণগুলো খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার কলা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এতে পিঠা নরম হবে। মিশ্রণটি দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন।

    এবার এক টুকরো কলাপাতা নিয়ে তার উপর দুই টেবিল চামচ মিশ্রণ দিন। উপর থেকে আরেকটি কলাপাতা দিয়ে হালকা হাতে চেপে দিন। এবার একটি তাওয়া বা কড়াইতে কলাপাতার পিঠাটি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। চুলার আঁচ মিডিয়ামে থাকবে। এভাবে পাঁচ-ছয় মিনিট রাখুন। এরপর নিচের পাতাটিতে পোড়া পোড়া দাগ দেখা গেলে উল্টে দিন। আবার ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে তিন-চার মিনিটের মতো। এবার পিঠাটি তুলে নিন। এভাবে একে একে সব পিঠা তৈরি করে নিন।

    তালের বড়া পিঠা

    উপকরণ : চালের গুঁড়া ৩ কাপ, তালের রস ৫ কাপ, সামান্য লবণ, চিনি ৩ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, পানি পরিমাণমতো ও সয়াবিন তেল প্রয়োজনমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে তাল থেকে তালের আঁটিগুলো আলাদা করে নিতে হবে। একটি হাঁড়িতে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে তালের আঁটিগুলো চিপে তালের রস বের করে নিন। এবারে একটা সুতি পাতলা কাপড়ে তালের রস নিয়ে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে সব অতিরিক্ত পানি ঝরে যায়। এবার শুকনো চালের গুঁড়া, চিনি, বেকিং পাউডার—সব মিশিয়ে তালের রস দিয়ে একটি পিঠার ব্যাটার বানিয়ে নিন। ব্যাটারটা মোটামুটি ঘন‌ হয়ে এলে যদি পানির প্রয়োজন হয়, তবে সামান্য পানি ব্যবহার করুন।

    এবার একটি কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে তাতে বড়ার আকার করে বাদামি করে ভেজে নিন। সবশেষে গরম গরম পরিবেশন করুন তালের বড়া।

  • মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

    বুধবার বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

    সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

    বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি.), কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ: ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ: ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.) এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ

    নং-০২২০২৬)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসকল ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে ।পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।

  • মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী

    মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী

    ব্যস্ত জীবনযাপন, কর্মক্ষেত্রের চাপ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপ—এসব কারণে মাথা ব্যথা অনেকের নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মাথা ধরলেই কেউ কেউ এক কাপ গরম চা, আবার কেউ কফির ওপর নির্ভর করেন। এমনকি নিয়মিত কফি পান করেন এমন অনেকের ক্ষেত্রে সকালে কফি না খেলেও মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে।

    তবে মাথা ব্যথা কমাতে চা বা কফি কতটা কার্যকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মাথা ব্যথার ধরন, ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।

    ক্যাফেইন কেন মাথা ব্যথা কমাতে পারে

    চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উত্তেজক উপাদান। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। মাইগ্রেনের প্রাথমিক পর্যায় কিংবা টেনশন-টাইপ মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণ ক্যাফেইন কিছু মানুষের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    এ কারণেই কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক ওষুধে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। ক্যাফেইন এসব ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ব্যথা দ্রুত উপশমে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়।

    অতিরিক্ত ক্যাফেইনে বাড়তে পারে মাথা ব্যথা

    মাথা ব্যথা হলেই বারবার চা বা কফি পান করলে দ্রুত আরাম মিলবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রিবাউন্ড হেডেক বা ওষুধ-অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    নিয়মিত বেশি পরিমাণে চা

    বা কফি পান করলে শরীর ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে উইথড্রয়ালের কারণে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও বিরক্তিভাব দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ যে ক্যাফেইন একসময় মাথা ব্যথা কমাতে সহায়তা করছিল, অতিরিক্ত অভ্যাসের কারণে সেটিই পরবর্তী সময়ে ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    সব ধরনের মাথা ব্যথায় কফি সমাধান নয়

    সব ধরনের মাথা ব্যথায় চা বা কফি সমানভাবে কার্যকর নয়। পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ, সাইনাসের সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাথা ব্যথা হলে শুধু কফি পান করে সমস্যার সমাধান হবে না।

    আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন উদ্বেগ বাড়াতে, হৃদস্পন্দন দ্রুত করতে কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এসব কারণেও মাথা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

    মাথা ব্যথা হলে যা করতে পারেন

    মাথা ব্যথা শুরু হলে প্রথমে শরীরে পানিশূন্যতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সম্ভব হলে কিছুক্ষণ শান্ত ও কম আলোযুক্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন।

    দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলেও চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়তে পারে। তাই মাথা ব্যথার সময় কিছুক্ষণ স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উপকারী।

    এ ছাড়া দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে সময়মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেও অনেকের মাথা ব্যথা হতে পারে।

    যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

    হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মাথা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা কিংবা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

    এ ছাড়া নিয়মিত মাথা ব্যথা হলে, ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের পরও ব্যথা না কমলে কিংবা মাথা ব্যথার ধরন হঠাৎ পরিবর্তিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    পরিমিত ক্যাফেইনই ভালো

    মাথা ব্যথার শুরুতে এক কাপ চা বা কফি কিছু মানুষের সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এটিকে মাথা ব্যথার স্থায়ী চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে বরং মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তাই মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে পরিমিত চা-কফি পান করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

  • বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    আধুনিক বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার নামের একটি বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার দ্রুততর করতে পারে। বিষয়টি উঠে এসেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। এই ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়া, রক্তে সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

    গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩৫ বছরে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা মুরগির মধ্যে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

    গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা বা দূষিত মুরগির মাংসে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার সবচেয়ে বড় কারণও এটি। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি কিছু গবেষণায় এই সংক্রমণের সঙ্গে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধিরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    ফুড হাইজিন সার্টিফিকেট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার সংক্রমণের কারণে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ডায়রিয়া, বমি ও তীব্র পেটব্যথাসহ এ সংক্রমণের রিপোর্ট হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

    গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিল্পকারখানার আদলে পরিচালিত বৃহৎ পোলট্রি খামারের পরিবেশে মুরগির মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে বাজারে পৌঁছানোর আগেই বিপুল সংখ্যক মুরগি সংক্রমিত হতে পারে।

    গবেষকদের ভাষ্য, নিবিড় খামার ব্যবস্থাপনাসহ মানুষের সৃষ্টি করা বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন সংক্রামক রোগের উদ্ভব ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    তাদের মতে, এই ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনা এবং মুরগির মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে রান্না করার বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

  • নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে নিয়মিত শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজির মধ্যে শসাকে অন্যতম সেরা খাবার হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, গরমের নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    পুষ্টিবিদদের মতে, শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে প্রচণ্ড গরমে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ এই সবজিটি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।

    শসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন এবং পলিফেনলের মতো প্রচুর পরিমাণে জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান, যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহরোধী) গুণাগুণ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

    শুধু অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যই নয়, গরমের দিনে ত্বকের সুরক্ষায়ও শসা সমান উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে। পুষ্টিবিদরা জানান, শসার শীতলকারী উপাদান ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এর প্রদাহরোধী গুণ ত্বকের যেকোনো ধরনের জ্বালাপোড়া শান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শসাকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় মাত্র ১৬ ক্যালরি থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকা আঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।

    প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) গুণের কারণে শসা শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সরাসরি কিডনির কার্যকারিতাকে সচল রাখে। এছাড়া শসায় থাকা ভিটামিন বি (বি১, বি৫ এবং বি৭), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরকে ক্লান্তিমুক্ত রেখে সারাদিন হালকা শক্তির জোগান দেয়।

    মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা উপকারী। শসার টুকরো চিবিয়ে খেলে মুখে লালা উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

  • বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে বাজারে তাজা সবজি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের শাকও। এ সময়ে সব ধরনের শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতায় জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটে। সবজিতেও দূষণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। খাবারে ই কোলাই, সালমোনেল্লার মতো ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। এই মৌসুমে ঘরে তৈরি সবজির তরকারি খেয়েও সংক্রমণে ভুগতে পারেন, এমনটাই জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে। তাই বর্ষায় কোন কোন শাকসবজি না খাওয়াই ভালো, তা জেনে রাখা ভালো।

    বিভিন্ন ধরনের শাক
    বর্ষাকালে শাকপাতা না খাওয়াই ভালো। পাতার ভেতর পোকামাকড় এবং জীবাণু লেগে থাকতে পারে। বর্ষার পানি জমে শাকে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। আবার অনেক সময়ে কাদা লেগে থাকে শাকে। তাই এই সময় শাক না খাওয়াই ভালো। খেলেও তা ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ করে নেওয়া উচিত। কাঁচা অবস্থায় একেবারেই খাবেন না।

    কপি জাতীয় সবজি
    এখন সারাবছরই বাঁধাকপি ও ফুলকপি পাওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় এই ধরনের সবজি না খাওয়াই ভালো। বাঁধাকপির মধ্যে পোকা বা কৃমি থাকার আশঙ্কা থাকে। ফুলকপির মধ্যেও পোকামাকড় থাকতে পারে। আর্দ্রতার কারণে এই দুই সবজিতেও ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে।

    মাশরুম
    বর্ষাকালে মাশরুম এড়িয়ে চলুন। এই সবজি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় জন্মায় এবং খুব দ্রুত আর্দ্রতা শোষণ করে। বর্ষায় ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে এবং তার প্রভাব মাশরুমের উপরও পড়ে। তাই এই ঋতুতে মাশরুম খেলে ফুড পয়জনিং-এর ঝুঁকি বাড়ে।আর কোন কোন সবজি এড়িয়ে চলা উচিত?
    আলু, পেঁয়াজ, গাজরের মতো সবজি মাটির নিচে হয়। আবার বেগুন-টমেটোর মতো সবজিতে দ্রুত পচন ধরে। তাই এসব সবজি বর্ষায় এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সব সময় এই সবজিগুলো এড়ানো যায় না। তাই বর্ষায় যখনই বাজার থেকে সবজি কিনে আনবেন, সেগুলো ভালো করে ধুয়ে নেবেন। লবণ বা ভিনিগার মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন। তারপর পানি ঝরিয়ে শুকনো করে ফ্রিজে তুলে রাখুন। আর উচ্চ আঁচে সবজি রান্না করুন।

  • খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    প্রোটিনের উপকারিতা শুধু পেশি গঠন এবং শক্তি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শরীরকে মেরামত ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও অনেকেই মনে করেন, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার ব্যয়বহুল বা খাধ্যাভ্যাস অনুসরণ করা কঠিন, তবে প্রতিদিনের রান্না করা খাবারে কয়েকটি সাধারণ পরিবর্তন এনে সহজেই প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

    ভারতীয় নিউট্রিশনিস্ট প্রবালিকা লোনডে দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায় জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    ১. আপনার নিয়মিত খাবারে ডাল, অঙ্কুরিত ছোলা বা ভাজা ছোলা যোগ করুন। অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য সালাদ,স্যান্ডউইচে অঙ্কুরিত ছোলা মেশাতে পারেন। দুপুরের বা রাতের খাবারের সাথে এক বাটি অতিরিক্ত ডাল যোগ করাও প্রোটিন বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।

    ২. সঠিক পরিমাণে পনির, দই বা দুধ আপনার দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন। পনির পরোটা, সবজি, পোলাও বা স্যান্ডউইচে যোগ করা যেতে পারে। দই প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ এবং এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এক কাপ দই বা দুধও দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

    ৩. আরেকটি ভালো উপায় হলো প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা ব্যবহার করে খাবারটিকে মাল্টিগ্রেইন করে তোলা। রুটি বানানোর সময় গমের আটার সাথে বেসন, রাগি, সয়াবিনের আটা বা ছাতু যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় এবং স্বাদেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

    ৪. সকাল এবং বিকালের নাশতায় বাদাম ও বীজ যোগ করুন। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিল, তিসি এবং কুমড়োর বীজ দই, স্মুদি, ওটস বা সালাদের উপর ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। খাবারের সাথে চিনাবাদামের চাটনি বা চিনাবাদামের গুঁড়োও একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

    ৫. খাবারে ডিম, মুরগির মাংস, মাছ বা সয়া পণ্য আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন। সিদ্ধ ডিম বিকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে তরকারি, বা ফ্রাইড রাইসে সয়া যোগ করা যায়। এই খাবারগুলো সাশ্রয়ী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ।

    লোন্ডে বলেন , দৈনন্দিন কিছু সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাড়ির খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও আরও সুষম করে তোলা যায়। তিনি জানান, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার শক্তি বাড়াতে, শরীর সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই সব দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে যেগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    প্রতিদিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানাবিধ উপকারও করে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। আবার ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহার করার ক্ষমতা এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। প্রশ্ন হলো কার্যকর ফলাফল পেতে রসুন কি কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্নায় রসুন ব্যবহার করাই ভালো?

    ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুন খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন উপাদানটি হলো এমন একটি সালফার যৌগ যা ইনসুলিনের নিঃসরণ এবং কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রসুন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে কাঁচা রসুন থেঁতো করে খেলে উপকার মিলবে। অনেকেই রসুন কাঁচা খেতে পারেন না। এর তীব্র গন্ধ অসহ্যকর।

    তাহলে রসুন কীভাবে খাবেন?
    রসুন কাটার পরে বা থেঁতো করার পরে মিনিটে পাঁচেক রেখে দিন। এতে অ্যালিসিন যৌগটি তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া রসুন কুচি করেও নিতে পারেন। যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন, তাহলে থেঁতো করা বা কুচি কুচি করে কাটা রসুন রান্না মিশিয়ে খাওয়া যায়। রান্নার আগেও কাটা রসুন কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি সময় নিয়ে রসুন রান্না করা ঠিক নয়। এতে রসুনের উপকারী যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
    সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে বাড়তি উপকার তো মিলবেই না, বরং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।