ক্যাটাগরি অন্যান্য

  • এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আয়োজিত পথসভায় আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    সরকারকে সতর্ক করে আমিরে মজলিস বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে এক দফার দিকে ধাবিত হবে। অতীতে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি; ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

    তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়।ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারি হওয়া পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে দেখতে চায় না জনগণ।

  • মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আওয়ামীপন্থি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

    আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটিতে আদালত ‘নো অর্ডার’ বা কোনো হস্তক্ষেপ না করার আদেশ দেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

  • আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    জুলাই শেষ হয়ে গেছে—এ কথা শুধু ক্যালেন্ডারই বলতে পারে। ইতিহাস তা বলে না। ইতিহাস জানে, কিছু মাস কখনো শেষ হয় না। কিছু রক্ত শুকিয়ে গেলেও তার দাগ মুছে যায় না। কিছু নাম কবরের নিচে চাপা পড়ে না; তারা ফিরে আসে বাতাসে, দেয়ালের স্লোগানে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কোনো তরুণের কণ্ঠে। তাই জুলাই শুধু একটি মাস নয়; এটি একটি জাতির বিবেক, একটি চলমান প্রশ্ন, একটি অসমাপ্ত দায়িত্ব।

    জুলাই শুধু একটি আন্দোলন ছিল না । এটি ছিল রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে উচ্চারিত একটি সত্য—গণমানুষের সম্মিলিত জাগরণের কাছে ক্ষমতাধররাই অসহায়, পরাজিত। সেই সত্যের সাক্ষী ছিল রাজপথ, অসংখ্য আহত-নিহতের আত্মত্যাগ। শহীদ আবু সাঈদের মতো তরুণরা শুধু জীবন হারাননি; তারা একটি জাতিকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন—রাষ্ট্রের শক্তি কি মানুষের ওপর, নাকি মানুষের জন্য?

    সমস্যা হলো, ক্ষমতা প্রশ্নকে সহজে মেনে নিতে পারে না। ক্ষমতা আনুগত্য পছন্দ করে, করতালি ভালোবাসে আর ভিন্নমতকে সন্দেহের চোখে দেখে। ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সময়েই দেখা গেছে, যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তাদের কখনো উচ্ছৃঙ্খল, কখনো ষড়যন্ত্রী, কখনো রাষ্ট্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়। অভিধান বদলায়, ভাষা বদলায়, কিন্তু রক্তের রঙ বদলায় না।

    আজও যখন বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা, সহিংসতা কিংবা বিভাজনের খবর আসে, তখন অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি? যে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে যদি মতের বদলে পরিচয় বিচার হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণ।

    জুলাইয়ের চেতনা শুধু স্মরণসভা, শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শহীদদের ছবি টাঙিয়ে তাদের স্বপ্নকে বিস্মৃত করা, সনদ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা, কিংবা শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাকে দীর্ঘ অপেক্ষায় ফেলে রাখা—এসব কোনো জাতির জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে না। আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা হয় বাস্তব পদক্ষেপে, ন্যায়বিচারে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে।

    আরো একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি। ইতিহাসকে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ইতিহাসকে প্রতারিত করা যায় না। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মনে রাখে কে ক্ষমতায় ছিল, তা নয়; মনে রাখে কে ক্ষমতার কাছে সত্যকে বিসর্জন দিয়েছিল আর কে সত্যের জন্য মূল্য দিয়েছিল। তাই শহীদদের রক্ত কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি হতে পারে না। সেটি সমগ্র জাতির নৈতিক অঙ্গীকার।

    ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস দীর্ঘজীবী। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, কাল তারা থাকবেন না; কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত, তাদের ন্যায়বোধ কিংবা তাদের নীরবতা ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে। ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—রক্তের মর্যাদা কি রক্ষা করা হয়েছিল? শহীদদের স্বপ্ন কি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছিল? মেধা, মতপ্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি কি সম্মান দেখানো হয়েছিল?

    জুলাই তাই কোনো উৎসবের নাম নয়, কোনো রাজনৈতিক স্লোগানেরও নাম নয়। জুলাই একটি নৈতিক মানদণ্ড, যা প্রতিটি ক্ষমতাকে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এবং প্রতিটি নাগরিককে বারবার নিজের সামনে দাঁড় করায়। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র উপায় হলো—মানুষকে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, সত্যকে ভয় না করা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মৃতিতে নয়, রাষ্ট্রচর্চায় ধারণ করা।

    কারণ শহীদরা ফুল চাননি। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে সত্য বড় হবে, দলের চেয়ে দেশ বড় হবে ।

  • অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অবশেষে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ডাকসুর তীব্র দাবির মুখে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’বিস্তারিত আসছে…

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • অভিযোগ যাচাইয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন ও ‘হটলাইন’ চালু

    অভিযোগ যাচাইয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন ও ‘হটলাইন’ চালু

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিচালিত একমুখী প্রচারণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

    একইসঙ্গে অভিযোগ যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদারকি জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সমন্বিত সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি।

    বুধবার ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    এতে সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।

    আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সভায় বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    সভায় বলা হয়, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়কে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আরোপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।

    সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ কিংবা প্রচার করা উচিত নয়। একইঙ্গে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়।

    সভায় কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। এই নম্বরে ম্যাসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।

    সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদ্রাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাদ্রাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভায় গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’র সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ ও মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।

  • রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই।’

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি রংপুরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—দেশের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে। কারও তাঁবেদারি করে থাকবেন না।’

    কর্নেল অলি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। যদি আমাদের জন্য এতই আপনার মায়া হয়, চারিদিকে কাঁটাতার কেন দিলেন? আমাদের জন্য যদি এতই প্রীতি হয়, কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করছেন? আমরা কেন ফারাক্কায় পানি পাচ্ছি না? তিস্তায় পানি পাচ্ছি না? আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, এগুলো থেকে পানি কেন আসছে না?’

    ‘আমরা যখন উড়োজাহাজ কিনি, আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন প্লেন কেনেন, বড় বড় জাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। আমরা দেশের প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক কিনব, আর্টিলারি কিনব, এটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত।’

    অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের দাসী তো আপনাদের কাছে চলে গেছে। এখন তো দাসী এখানে নেই। যদি আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতে চান, কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন, পুশইন বন্ধ করুন। আর কখনো বলবেন না—রংপুর দখল করবেন।’

    ‘আপনারা যদি বলেন, রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব, কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ। এখন নতুন জমানা শুরু। বাংলাদেশের এখন আপনার দাসীর রাজত্ব নেই। এই দাস-দাসীরা আর কখনও বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না।’