পিরোজপুর

Pirojpur district

  • বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    ঘটনার পেছনে মূল ইন্ধন কার ছিল, লাশ বাড়িতে না নিয়ে কেন ইউএনও অফিস বা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মানিক পশারীর লাশ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপরে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    তাদের দাবি, গত শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে আসার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং তারা দফায় দফায় লাশ দাফনে বাধা দেন। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম নাঈম বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং পাড়েরহাট বাজারে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

    অপরদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তারা জানাজা বা দাফনে কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর মরহুম নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর জুলুমের প্রতিবাদ হিসেবে মিথ্যা সাক্ষীর গেজেটভুক্তি নিয়ে ফুঁসে উঠে সাধারণ জনতা।

    সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, জনরোষ ও দাফনে বাধার নেপথ্য কারণ কী ছিল, পশারী আদৌ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কী না এসব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতেই বুধবার ভোরে পিরোজপুর প্রতিনিধিকে নিয়ে এ প্রতিবেদক পৌঁছান সদর উপজেলার শঙ্করপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। কথা হয় মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। পাশাপাশি কথা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি ও জামায়াত নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। তবে সংবেদনশীল এ ইস্যুর গভীরে যেতে প্রশাসনের অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

    জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান।

    ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মানিক পশারী আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

    মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া ও গেজেটভুক্তি নিয়ে এলাকায় রয়েছে তীব্র বিতর্ক। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক গতকাল বুধবার আমার দেশকে জানান, তিনি ৪০ বছর আগের নির্বাচিত কমান্ডার থাকাকালে মানিকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০১৭ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হওয়ার আট বছর পর মানিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।

    তবে ২০১৭ সালের তালিকার হালনাগাদের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বর্তমানে একটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রম সমাপ্তির পর যে নতুন গেজেট হবে, সেটা হবে চূড়ান্ত।

    এখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ বাদ পড়ে থাকলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আবার যদি কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকে, সে বাদ যাবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি যাচাই করে দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালের কাছে মানিক পশারী নিজেই স্বীকার করছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। ২০১১ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি; তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আউয়ালের (সাইদুর রহমান) দেওয়া একটি ডিও লেটারের (আধাসরকারিপত্র) মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; মূলত আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্রতিদান হিসেবেই তাকে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল।

    গার্ড অব অনারে জনরোষ

    ২৪ অক্টোবর দুপুরে মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এক অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে গার্ড অব অনারে বাধা দেন।

    মানিকের মেয়ে-জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় মৃত্যুর পর দুপুর ১২টায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ বা চা-পাতা ছাড়াই লাশ রাখা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দাফনের কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় লাশ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    নিজ গ্রামে দাফনে তীব্র বাধা

    পুলিশ লাইনস থেকে লাশ শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মানিকের মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে আল্লামা সাঈদীর ওপর জুলুম করা হয়েছিল এমন আবেগ ও ক্ষোভ থেকে স্থানীয় জনগণ তার জন্য খুঁড়ে রাখা কবর মাটি ও বাঁশ দিয়ে ভরাট করে দেয়।

    পাড়েরহাট বাজারে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মঈনের নেতৃত্বে পিরোজপুরে মানিককে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    রাতের আঁধারে দাফন সম্পন্ন ও গ্রামপুলিশের বয়ান

    গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়ে তিনি মানিক পশারীর বোনদের পান এবং তারা ও স্থানীয় দুই ব্যক্তি মিলে কবর খনন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই সময় নারীরা মাটি সরাচ্ছিলেন মাত্র। পরে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে জানাজায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নিজ এলাকায় তার জানাজাও হয়নি।

    পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান

    ঘটনার সময় খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন জানিয়ে মানিকের বোন হেনা পশারী জানান, তার ভাই ওই মামলার বিষয়ে কখনো কিছু জানাননি। তবে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। কিন্তু তিনি সে বক্তব্য অস্বীকার করেন। তবে তার আগের বক্তব্যের ভিডিওচিত্র সাংবিদিকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    ভাগনে আজিজুল জানান, দাফনের জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কবর তৈরি করে তারা খাবার খেতে গেলে তার বাবা ফোন করে জানান, লোকজন আসছে; ফলে ভয়ে তারা আর সেখানে যাননি।

    শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ইন্ধন প্রসঙ্গে বক্তব্য

    আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী গতকাল বুধবার বলেন, মানিক পশারী ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধ করেননি। তাহলে তিনি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন? তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবে তিনি ডিও লেটার নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং ১০ বছর ধরে জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদেই সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেখানে জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরাই দাফনের কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

    জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জহিরুল হক ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা লাশ দাফনে কোনো বাধা দেননি। তাদের আপত্তি ছিল মানিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে দাফনে বাধা দেওয়ার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

    পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপের এক গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র করে লাশটি ইউএনও অফিস ও পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছিল। আমি চাই, সরকারি পর্যায়ে প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক লাশ কীভাবে সদরে বা ইউএনওর কাছে এলো এবং এর পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল।

    থমথমে জনপদ

    সরেজমিনে চিথলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মানিকের বাড়ি এখন তালাবদ্ধ ও নির্জন। গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান, প্রতিবেশী সাফিয়া বেগম এবং আরিফ জানান, এলাকার সার্বিক পরিবেশ থমথমে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অজানা আতঙ্কে কথা বলতে চায় না কেউই।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগন বলছেন, পিরোজপুরের ঘটনাটি কেবল একটি দাফনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাময়িক উত্তেজনা নয়; বরং এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তার বিপরীতে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জনক্ষোভের এক জটিল প্রতিফলন।

    তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

    মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    গত ২৪ অক্টোবর মানিকের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। সাঈদী সাহেব কখনো রাজাকার ছিলেন না।

    “১৯৭১ সালে মানুষ তাকে চিনত না। তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। সাঈদী সাহেব একজন ভালো বয়ানকারী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ছিলেন।তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, সে কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে। সাঈদী সাহেবের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন সরকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সাঈদীর অনুসারীরা গার্ড অব অর্নার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরাও জানি, তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।”

    আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সেখানে চাপে হোক বা যেভাবেই হোক, মানিক পশারী সাঈদীর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। পরে আর যাচাই-বাছাই হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সরকারি নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেবে, কারণ তিনি এখনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সে কারনে সেখানে গার্ড অব অনার দিতে জামায়াত আপত্তি জানায়।

    গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সি মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বিকালে পুলিশ লাইনসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

    সুত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তার ছোটভাই চান মিয়া পশারী।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চান পশারী জানান, তিনি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। তবে সাঈদীর পক্ষে কথা বলায় তার ভাই মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, ‘তখন আমার ভাই (মানিক পশারী) মেট্রিক পাশ। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি। ’চান পশারী আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম ভাই (মানিক পশারী) দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই, সে ভালো বলতে পারে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে, তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় (তালিকা) নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই। কারণ সাঈদী রে ভালো বলছি এ কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোনো সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি, এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম, তাহলে তো আমার নামটা মুক্তিবাহিনীতে থাকত।’এদিকে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার ছোটভাই চান পশারীর একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায়— তিনি ও তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি আর্থিক লোভে না পড়লেও তার বড়ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এবং সাক্ষী দেয়।তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চান মিয়া পশারীর বাড়িতে যান এ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার নিজেরই।এক প্রশ্নের উত্তরে চান পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সেই সময় অনেক ছোট ছিল সাঈদী। রাজাকার ছিল রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, সেকেন্দার শিকদার।

    এদিন মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।’

    মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার ছলে বলেন, ‘হয় আমার ভাই রে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে।’অপরদিকে সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর আরেক বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

    মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। ’“কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি। আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।”সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’

    তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

    ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’ ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি

    একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’”

    মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল?

    মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

    মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মোটরসাইকেল দুর্ঘটানায় হাসপাতালের বেডে স্কুলছাত্র

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটানায় হাসপাতালের বেডে স্কুলছাত্র

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে নাঈম হাসান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কাউখালী থেকে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় আশ্রমসংলগ্ন উখালী-স্বরূপকাঠি সড়কের ধোপাবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত নাঈম উপজেলার আশপদ্দি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ও স্থানীয় সদর ইউনিয়নের জয়কুল আদর্শ কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে নাঈম মোটরসাইকেল নিয়ে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় ধোপাবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: নাহিদ হাসান জানান, আহত স্কুলছাত্রের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বর্তমানে কম বয়সি কিশোর ও যুবকরা কোনো নিয়মকানুন না মেনে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালনা বন্ধে ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ,আর

  • কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লো্বাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৬) নামের এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেন্ডি গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্বপন উপজেলা সদরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার ‘শ্রুতি টেইলার্স’-এর মালিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় স্বপনের লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা কাউখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ কাউখালী থানায় নেয়া হয়।

    স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বপনের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। তিনি দোকানের কাজে মনোযোগ না দিয়ে মোবাইল ফোনে গেম খেলায় বেশি সময় ব্যয় করতেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হত। ঘটনার আগে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’এ,আর

  • কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। এ সময় নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া মোহনা, লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জব্দ করা জালের মধ্যে সাত হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল ও এক হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন ব্যক্তি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে অবৈধ জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আজকের অভিযানে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো প্রজনন মৌসুমে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    কাউখালীর ইউএনও রেহানা আক্তার বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিন-রাত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরে কাউখালীতে গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী মহাসড়কের উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের উপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আল আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগ বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

    ওই স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সওজের পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনায় এবং জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, জনস্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া ও নাঙ্গলী এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

    অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জেলেসহ সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

    মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুর নেছারাবাদে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা প্রবাসীর ঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাঈম স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ঘরের পাশে সুপারি গাছ থেকে উঠে ঘরের প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা আক্তার দেখে ফেলায় মোবাইলে কল করতে উদ্যত হলে তাৎক্ষণিক হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে তার মেয়ে বাঁচাতে এলে তাকেও যখন করে। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর যখম করে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ।

    পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানায় খবর দিলে নাঈমকে পুলিশ নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি ঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের পাশে থাকা সুপরি গাছ বেয়ে ওঠে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি দেখে চিৎকার করে মোবাইলে ফোন দিতে গেলে তিনি ফোন দিতে বারণ করে হুমকি দেয়।

    এ সময় আমি চিৎকার করি সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের আপন বড় ভাই মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে নাঈম নামের একটি ছেলে দিনেদুপুরে চুরি করতে এসেছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে।

    নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় নাঈম ও তার পিতা রফিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী ২ জন রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

    এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল নিয়েও রয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

    গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

    এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদারও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

  • কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করেছে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাঙ্গাশীয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন।

    অভিযান চলাকালে কঁচা নদী থেকে দুটি অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৭ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেহুন্দি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঙ্গাশীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    স্থানীয়রা জানান, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার কমবে এবং নদীর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের।

    পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

    শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম।

    সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

    কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

    কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান।কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

    এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

    কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এ এম

  • নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল আদর্শগ্রামে এ সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা রেডক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

    এ সময় প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে মহিলা কিডস ও তাবু বিতরণ করা হয়।

    বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আবু হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান টিপু হাজরা, তাওহীদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম হাসান ও তারেক আব্দুল্লাহ বাপ্পি প্রমুখ।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এ সময় বলেন, যে সকল পরিবারের বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে আমরা একটি করে ট্রিপল দিয়েছি। এছাড়াও মা-বোনদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কিছু কিডস সামগ্রী প্রদান করেছি।

  • নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    সেচের অভাবে ইরি-বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। ভলো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধান চাষ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ধান ক্ষেতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কৃষকরা।

    মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এসব ফসলের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    একাধিক কৃষক জানান, ‘ধান ভালোই হয়েছে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে পানি দিতে না পারায় সব শেষ। বাজারে ডিজেল নেই। থাকলেও উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

    নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি”।

    বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন,” ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”

    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

  • কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন শেল্টার ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৮টি প্রকল্প শুরু হলেও অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়মে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে গা-ঢাকা দেয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বর্তমানে উপজেলার জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপূর্ণ রাস্তা ও ভাঙা ব্রিজ। অনেক জায়গায় শুধু পাইলিং করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে; কোথাও বা রাস্তা খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে রেখেছে। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জিওবিএম, বিজেপি, আইবিআরপি, আইআরআইডিপি-৩, সিসিটিএফ, আইপিসিপি, পিডিআরআইডিপি ও ডিআরআরআইডব্লিউপি প্রকল্প। এর মধ্যে বিজেপি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক এবং পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেক কাজ করে বন্ধ রেখেছে।

    একইভাবে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় শিয়ালকাঠি ইউপির সামনে ৬ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজের কাজও পাইলিং পর্যায়ে আটকে আছে। এ ছাড়া পারসাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসা, সয়না রঘুনাথপুর, জয়কুল খেয়াঘাট, চিরাপাড়া সুবিদপুর, জোলাগাতি ফলইবুনায়া ও কেউন্দিয়া সড়কের গার্ডার ব্রিজগুলোতেও একই চিত্র।

    এসব কাজের অধিকাংশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে চিরাপাড়া জিএম স্কুল-ডুমজুড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে রেখেছে। অন্যদিকে ইফতি ইটিসিএল হোগলাবেতকা বাজার থেকে পুলেরহাট সড়কের কাজও শেষ করেনি।

    এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অসমাপ্ত রয়েছে। একইভাবে হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোড ও রঘুনাথপুর মেঘপাল সড়কেও অল্প কাজ করে বন্ধ রেখেছে ইফতি ইটিসিএল। এভাবে ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ২৮টি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, আর ঠিকাদাররা পলাতক।

    স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকারের বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে।’

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

    পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়া

  • শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফরিদা আখতার বলেন, ৭২-এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই ‘হাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেওয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসার পরীক্ষিৎ চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

    এ আর