ক্যাটাগরি পিরোজপুর

Pirojpur district

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া ও নাঙ্গলী এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

    অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জেলেসহ সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

    মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুর নেছারাবাদে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা প্রবাসীর ঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাঈম স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ঘরের পাশে সুপারি গাছ থেকে উঠে ঘরের প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা আক্তার দেখে ফেলায় মোবাইলে কল করতে উদ্যত হলে তাৎক্ষণিক হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে তার মেয়ে বাঁচাতে এলে তাকেও যখন করে। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর যখম করে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ।

    পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানায় খবর দিলে নাঈমকে পুলিশ নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি ঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের পাশে থাকা সুপরি গাছ বেয়ে ওঠে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি দেখে চিৎকার করে মোবাইলে ফোন দিতে গেলে তিনি ফোন দিতে বারণ করে হুমকি দেয়।

    এ সময় আমি চিৎকার করি সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের আপন বড় ভাই মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে নাঈম নামের একটি ছেলে দিনেদুপুরে চুরি করতে এসেছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে।

    নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় নাঈম ও তার পিতা রফিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী ২ জন রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

    এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল নিয়েও রয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

    গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

    এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদারও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

  • কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করেছে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাঙ্গাশীয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন।

    অভিযান চলাকালে কঁচা নদী থেকে দুটি অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৭ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেহুন্দি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঙ্গাশীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    স্থানীয়রা জানান, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার কমবে এবং নদীর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের।

    পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

    শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম।

    সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

    কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

    কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান।কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

    এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

    কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এ এম

  • নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল আদর্শগ্রামে এ সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা রেডক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

    এ সময় প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে মহিলা কিডস ও তাবু বিতরণ করা হয়।

    বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আবু হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান টিপু হাজরা, তাওহীদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম হাসান ও তারেক আব্দুল্লাহ বাপ্পি প্রমুখ।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এ সময় বলেন, যে সকল পরিবারের বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে আমরা একটি করে ট্রিপল দিয়েছি। এছাড়াও মা-বোনদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কিছু কিডস সামগ্রী প্রদান করেছি।

  • নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    সেচের অভাবে ইরি-বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। ভলো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধান চাষ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ধান ক্ষেতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কৃষকরা।

    মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এসব ফসলের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    একাধিক কৃষক জানান, ‘ধান ভালোই হয়েছে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে পানি দিতে না পারায় সব শেষ। বাজারে ডিজেল নেই। থাকলেও উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

    নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি”।

    বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন,” ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”

    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।