পটুয়াখালী

Patuakhali district

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুকুর পাড়ে লুকিয়ে রাখা ড্রাম ভর্তি ১৩৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ বাবা-ছেলেকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামর্দ্দন এলাকা থেকে এই মদ উদ্ধার করা হয়।

    আটকরা হলেন মো: আল আমিন মীর (৫০) ও তার ছেলে মো: রাব্বি মীর (৩০)। এ সময় রাব্বি মীরের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলে গোপনে দেশীয় মদ তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন। সোমবার স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে মাদক থাকার সন্দেহে তল্লাশি করলে একপর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশে মাটির নিচে ড্রাম দেখতে পান। পরে ড্রামের ভেতর বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গলাচিপা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবা-ছেলে নিজেরাই কাঁচামাল সংগ্রহ করে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় চোলাই মদ তৈরি করে আসার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, চোলাই মদসহ আটক করা বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এরকম মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় চোর সন্দেহে পাঁচটি মহিষসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝাটিবুনিয়া বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাহমুদুর রহমান, গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খায়রুল ইসলাম সাগর, মো: শাহজাদা শিকদার, শাহীন সিকদার ও জাকির।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত স্থান থেকে চুরি করা পাঁচটি মহিষ নিয়ে ঝাটিবুনিয়া বাজারের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রেফতাররা। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের পথরোধ করে মহিষের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এ সময় তারা কোনো কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করেন। উদ্ধার করা পাঁচটি মহিষ বর্তমানে স্থানীয় শাকিল চৌকিদার ওরফে মিন্টু মিয়ার কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিষ স্থানীয় চৌকিদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    গলাচিপা থানা ওসি মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ,আর

  • ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষ ও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ‘জ্ঞান, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী চেতনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তরুণদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থী, কলেজের শিক্ষক, সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    ক্যারিয়ারভিত্তিক আলোচনায় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক মো: সুমন সরকার ও সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান। এ,আর

  • কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    ভোরের আলো ফুটতেই জোয়ারের পানি সরে গেলে কুয়াকাটার বিভিন্ন অংশে চোখে পড়ে ঝিনুকের সমারোহ। বিশেষ করে তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতী, লেম্বুরচর, দোলনা পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য ঝিনুক ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও সারি সারি ঝিনুক, কোথাও আবার অগভীর পানির সঙ্গে মিশে থাকা সাদা খোলস– সব মিলিয়ে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

    সাগরের নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর দিগন্তজোড়া আকাশ– এমন অপার সৌন্দর্যের কারণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটক। এবার কুয়াকাটার চিরচেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাদা ঝিনুক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সৈকতের সাদা গালিচা বিছানো।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে সমুদ্র থেকে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস সৈকতের দিকে ভেসে আসে। জোয়ারের পানিতে এগুলোর তীরে পৌঁছানোর পর ভাটার সময় পানি সরে গেলে বালুচরে পড়ে থাকে। ফলে ভাটার সময় সৈকতে ঝিনুকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পর্যটকদের কেউ কেউ এগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যান।

    কুয়াকাটার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্থানীয় জেলেদের মতে, প্রতিবছর কোনো না কোনো সময়ে সৈকতে ঝিনুকের খোলস দেখা যায়। তবে সব বছর একই পরিমাণে দেখা যায় না। সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার-ভাটার প্রবাহ, স্রোত ও উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ওপর উপস্থিতি কম-বেশি হতে পারে।

    স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীত মৌসুমের শুরু পর্যন্ত কুয়াকাটার বিভিন্ন সৈকত এলাকায় ঝিনুক তুলনামূলক বেশি চোখে পড়তে পারে। তবে প্রতিবছর একই সময়ে বা একই পরিমাণে ঝিনুক পাওয়া যাবে– এমন নিশ্চয়তা নেই।

    বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত সৈকতে ঝিনুক তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ঝিনুক ও মোহনার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন হওয়া জরুরি। ঝিনুক সৈকতে এসে একটানা কয়েক মাস একই জায়গায় পড়ে থাকে না। জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলোর অবস্থান বদলে যায়। কোনো দিন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি ঝিনুক দেখা গেলেও পরদিন ঢেউ বা স্রোতের কারণে সেগুলো অন্যত্র সরে যেতে পারে। সৈকতে ঝিনুক দেখে অনেক পর্যটকের সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তাই স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের আহ্বান– ঝিনুক দেখুন, ছবি তুলুন, সৌন্দর্য উপভোগ করুন; কিন্তু কুড়িয়ে নিয়ে যাবেন না।

    উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটার (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটার সৈকতে ঝিনুকের এই প্রাকৃতিক সমারোহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব ঝিনুক সৈকতে এসে জমা হয়। পর্যটকদের কাছে এটি যেমন নান্দনিক সৌন্দর্যের নতুন আকর্ষণ, তেমনি উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশেরও একটি অংশ।

    ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা খোলস সমুদ্রে বসবাসকারী ঝিনুক ও অন্যান্য মোলাস্কের অবশিষ্টাংশ। ঝিনুক মারা যাওয়ার পর তার খোলস সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকে। পরে ঢেউ, জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতের টানে এসব ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে চলে আসে এবং ভাটার সময় পড়ে থাকে।

  • দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ও বর্তমানে অযোগ্য হয়ে পড়া বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন বোর্ডের মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে কন্ডেমেশন বোর্ড এসব সামগ্রী পর্যালোচনা শেষে অকেজো ঘোষণা করে এবং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    ধ্বংস করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিছানার চাদর, মশারি, কম্বল, বালিশ, মেট্রেস, পর্দা এবং ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার।

    সিভিল সার্জন, পটুয়াখালীর অনুমতি ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: জি এম এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া সামগ্রী অপসারণের অংশ হিসেবে এ কন্ডেমেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ,আর

  • পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ চাজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজী মোড় এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০), একই ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার শিল্পি রাণী (৪০), তার মেয়ে বিথি রাণী (২২) ও গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৌবাজার এলাকার চায়ের দোকানী শিল্পি রাণী তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে বিথি রাণীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শনিবার বিকেলে বৌবাজার থেকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে পটুয়াখালী যান।

    রাতে ডাক্তার দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার এলাকায় পৌঁছালে বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস-এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় গাড়ি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর ইমরান ট্রাভেলসের গাড়িটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করেছে।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার স্থান পটুয়াখালী সদর থানায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা নেবে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে আবারও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকা হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্তও নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে ওই স্থানেই দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার স্বার্থে পাউবোর ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে গড়ে ওঠা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন এবং বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টেকসই ও নিরাপত্তার জন্য সারাবিশ্বেই আইফোন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সেই বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কিনেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।

    অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।

    সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক

    মারুফ জানায়, ‘তিনি আইফোন-১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের ব্যবহৃত ফোনটি একই এলাকার ইমরান নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কেনেছেন। ফোন কেনার পর অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা তিনি নিজের দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করে ফেলেছেন।’

    আলোচিত দেড় বছরের শিশু মুসার সুরক্ষার এগিয়ে এলেন ইউএনও

    এদিকে সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো চরম অনৈতিক কাজ করলেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নতুন আইফোন হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

    এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।

    ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।

    এ ঘটনার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান। শিশু মুসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেন আতাউল্লাহ। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর তিনি আর ওঠেননি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

    হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল। নম্র স্বভাব ও সুন্দর ব্যবহারের কারণে মুসল্লিদের কাছেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়।

    এক প্রতিবেশী জানান, আতাউল্লাহ শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন এবং কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন তিনি।

    আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্বজনরা গভীরভাবে শোকাহত।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আসরের নামাজের পর নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত সবুজ বন এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির এ সাম্রাজ্যে চলে লাখ লাখ টাকার কারবার। আর ওই সাম্রাজ্যের অঘোষিত রাজা যেন বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান। বনের সিংহভাগ দুর্নীতির নিয়ন্ত্রকও তিনি।অভিযোগ আছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলে তার রাজত্ব। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর চাকরি করলেও রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না তাকে। অথচ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই।

    বনের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে রওসান হাছান ছাড়াও বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হওয়া উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির দাপটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। বন ও অর্থখেকো কর্তাদের জুলুম-নির্যাতনে অসহায় সাধারণ মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরহাদীতে এক বিট কর্মকর্তার চাহিদামতো ১২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ছয়টি মহিষ আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সুমন হাওলাদার নামে এক রাখাল। আলোচিত সে ঘটনার পরও কর্মকর্তাদের মনের বনে রয়ে গেছে দুর্নীতির শেকড়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চরহায়দার, লালচর, চরআলগা, চরহাদি ও চরশাহজালালে বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র বলছে, চরগুলোতে ২০ হাজার একর বন বিভাগের জমি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮২১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশাল বনাঞ্চল ও জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রভাবশালীদের বনের গাছ ও মাটি কেটে খালে বাঁধের পর বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরবর্তী বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকায় লিখিত-অলিখিত বিট দেওয়া হয় চরাঞ্চল। সেইসঙ্গে বনের খালে ঝাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুসের কারবার করা হচ্ছে।

    এছাড়া গোপনে বনের গাছ বিক্রি ও বন বিভাগের জমিতে মহিষ চড়ানোর অনুমোতি দিয়ে মাসিক ও বার্ষিক কিস্তিতে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে রাখালদের থেকে। নারকেল গাছের ডাব বিক্রি করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অত্যাচার, হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

    মো. অহিদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর চরের খালে বাঁধ দিতে নিষেধ করেছেন। তারপরও টাকা নিয়ে বন বিভাগ খালে বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রভাবশালীদের। গণঅধিকার পরিষদের নেতা হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ।’

    তিনি বন বিভাগের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। সহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তাদের শতাধিক মহিষ রয়েছে। বছরে প্রত্যেকটি মহিষের জন্য বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের লোকজনকে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে খালে বাঁধ দেওয়া হয়।’

    হাসান সরদার নামে অন্য একজন বলেন, বন বিভাগের লোকজন চরে লাখ লাখ টাকার কারবার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান যুগান্তরকে বলেন, তিনি চরফাতেমা, চরআলগা ও চরহায়দারের দায়িত্বে আছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য নেই এবং তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

    উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রওসান হাছান দুর্নীতির গডফাদার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালে বাঁধ দেওয়া হলেও এখন সে সুযোগ নেই। বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় করেছেন কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

    এ এম

  • গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    এ এম

  • ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (১২ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়েছে—ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বি. এ

  • সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার পাঠালেন জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে বাউফল নির্বাচন অফিসের মাঠে আয়োজিত বৌভাত অনুষ্ঠানে এমপির পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন স্থানীয় জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর। এ সময় তিনি নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করে ফাহাদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

    উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে ছাত্রদল নেতা ফাহাদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তার প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তোলেন ফাহাদ। মাসুদকে নিয়ে তার নানা মন্তব্যকে ঘিরে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষুব্দ ছিলেন। এমন সেময়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিজের বিয়েতে দেওয়া উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা ফাহাদ। অবশ্য ওই উপহারের প্যাকেটে কী ছিল তা জানা যায়নি।

  • ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছেন।

    নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি তাঁর স্ত্রী আফিয়া ঝুমুরকে (৩৪) নিয়ে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের প্রথম লেনে বসবাস করতেন। তিনি লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    শহিদুলের স্ত্রী আফিয়া ঝুমুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা একসঙ্গে খাবার খান। পরে শহিদুল ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে কল করে জানান, তাঁর মায়ের জন্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন। সেগুলো দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং কাজ শেষে রাত ৯টা বা ১০টার মধ্যে শহরের বাসায় ফিরবেন। রাত নয়টার দিকে শহিদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তাঁর বড় বোন শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মুঠোফোন চার্জে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। রাত গভীর হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্ত্রী আফিয়া সদর থানায় জিডি করেন।

    আফিয়া ঝুমুর আরও জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে এসে স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে নেন শহিদুল ইসলাম। বাবু ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। পরে নিজের ব্যবহৃত দুটি ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘর থেকে বের হন শহিদুল। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোন দুটি রেখে বের হয়ে যান।

    মোটরসাইকেলচালক বাবু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শহিদুল ইসলামকে মোটরসাইকেলে করে লোহালিয়া সেতুর ঢালে পৌঁছে দেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকালে আফিয়া ঝুমুর নামে এক নারী তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম লোহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি নিজেই ফেসবুকে “উড়াল দেব আকাশে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি।’

  • পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষাশেষে অস্ত্রসহ ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন, সিফাত (১৫), মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন, মো. মিয়াদ হোসেন, মো. হৃদয় হোসেন, ও নয়ন হোসেন।

    জানা যায়, অস্ত্রসহ আটক সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষার্থী মো. মাসুম মৃধা ও মো. সিহাব হোসেন উপজেলার রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

    কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মো. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মো. আ. রব জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরবী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

    তারা জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পূর্বে দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়। তবে পরীক্ষা শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিবাদে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়।

    একপর্যায়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পথে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই সিহাবের সহযোগিতায় অস্ত্রসহ পাশের ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিফাতকে ব্যাগে বহন করা একটি কুড়ালসহ আটক করা হয়। এসময় পালিয়ে যায় সুইচ গিয়ার ও দেশীয় অস্ত্রসহ তার আরো কয়েক সহযোগী। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    তারা আরও জানান, আটক সিফাতের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে সে বড়ডালিমা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে ব্যাগে কুড়াল নিয়ে এসেছে। মিয়াদ তার এলাকার বড় ভাই। পরীক্ষা শেষে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তারই প্রস্তুতিতে সে কুড়াল নিয়ে আসে ও তার কয়েক সহোযোগি নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আটক সবাই শিশু আইনে পড়ে। থানায় নিয়ে প্রভিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

  • ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে ভূমি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে ভূমি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ভুক্তভোগীরা।

    রোববার দুপুর ১টায় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ১৫ থেকে ২০ জনের তোপের মুখে অন্তত ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকেন ওই কর্মকর্তা। পরে উপজেলা সার্ভেয়ার আনসার উদ্দীন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসাইন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের বরাত দিয়ে অবরুদ্ধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন। বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে লিখিত অভিযোগ রাখা হয়।

    অবরুদ্ধকারীরা জানান, ভেকু গাড়ি আটক, খাসজমি বন্দোবস্ত, নিজস্ব দালাল চক্রের মাধ্যমে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং অনুমোদন, মিউটেশন, সরকারি খাল-পুকুর খাস আদায় নামে প্রতারণা ও মামলার প্রতিবেদনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন কাজী জাহিদুল ইসলাম। টাকা না দিলে করা হয় হয়রানি। দালালদের মাধ্যমে দেওয়া হয় হুমকি-ধমকি। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা লেনদেন করেছেন। তবে ঘুষ নিয়েও কাজ না করে নানা অজুহাতে আড়ালে থেকেছেন।

    তারা আরও জানান, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপরই গুঞ্জন ওঠে তার বদলি নিয়ে। ঘুষ দিয়েও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টাকা ফেরত নিতে ভূমি অফিসে আসেন তারা।

    এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কাজী জাহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, জেলায় মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি শুনেছি, সবার লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ উল আলম কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলব।

  • বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছে ২৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় পৌর এলাকার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গলাচিপা পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গলাচিপা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মসজিদভিত্তিক এ নামাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    আয়োজকরা জানায়, মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট ৪৬ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। ৪১ দিন ধরে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ২৮ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।বিজয়ীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

  • মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।

    স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

    মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’

    মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনি কাজ না করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে এ বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। তবে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ দলীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। বরং তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনি কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি।’পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটির বিলুপ্তির কাগজ পেয়েছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।

  • প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে পায়রা সেতু (লেবুখালী ব্রিজ) থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক কলেজছাত্রী।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।‌ তবে স্থানীয় জেলে ও সেনাসদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া তানজিলা বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষাবর্ষের বিবিএ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানজিলার সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সেনাসদস্য সজিবের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্ষোভ ও অভিমানে তানজিলা পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে লেবুখালী সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক নজরে আনেন। পরে জেলেদের নৌকার সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তানজিলাকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে লেবুখালী ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অনেক উচ্চতা থেকে নদীতে পড়ে তিনি কিছুটা আঘাত পেয়েছেন, তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার মৃধা। এসব সভায় তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

  • বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    পটুয়াখালীর বাউফলে পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা. মরিয়ম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    নিহত মরিয়ম বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা সুজন শিকদারের স্ত্রী। পরিবার ও শাশুড়ির সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খিচুনি রোগে ভুগছিলেন।
    শনিবার বিকেল ৫টার দিকে খেলাধুলা শেষে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পুকুরঘাটে যান মরিয়ম। পরে সন্তানদের ঘরে পাঠিয়ে থালা-বাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ খিচুনি উঠে তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    দীর্ঘ সময় তাকে না দেখে সন্তানরা বিষয়টি শাশুড়িকে জানালে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে নেমে ডুবন্ত অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
    এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • বিষ প্রয়োগে ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    বিষ প্রয়োগে ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী কৃষকের মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    শনিবার সকালে কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের কাংকুনি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই এলাকার ‘শিশু পল্লী একাডেমি’ নামের একটি বিদ্যালয় থেকে ঘের লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন মনোয়ারা বেগম। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা তার মাছের ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে।
    ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় ৪ লাখ টাকার রুই, কাতল, গ্রাসকার্প ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া আরও প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ঘেরে মরে ভেসে ওঠে। এতে তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
    মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া কিছু জমি ও এই মাছের ঘের পরিচালনা করেই সংসার চালাতাম। দুর্বৃত্তরা এমন বড় ক্ষতি করবে কখনো ভাবিনি। এখন আমি প্রায় নিঃস্ব। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
    কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, “মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে নিধনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • কলাপাড়ায় শীতকালীন সবজির বীজ পেলো ২৫০ পরিবার

    কলাপাড়ায় শীতকালীন সবজির বীজ পেলো ২৫০ পরিবার

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শীতকালীন শাকসবজি চাষে উৎসাহ দিতে ২৫০ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক দাতা সংস্থা কার্ক ইন এক্টি (কিয়া)–এর সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর রুরাল সার্ভিস সোসাইটি (সিআরএসএস)–এর নিরাপদ জীবন জীবিকা প্রকল্প থেকে এসব পরিবারের মাঝে লাল শাক, পালং শাক, ঢেঁড়স, টমেটো, ধনিয়া, করোলা ও মুলার বীজ বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং নিরাপদ জীবন জীবিকা প্রকল্পের অর্গানাইজার এ্যালবাট সবুলান বিশ্বাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিয়া বাংলাদেশ-এর পোর্ট ফলিও কো-অর্ডিনেটর মিসেস ম্যাটিল্ডা টিনা বৈদ্য।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলগঞ্জ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক মাইনুদ্দিন আল আতিক এবং ইউপি উদ্যোক্তা মো. সগীর মাতুব্বর।

    এছাড়াও প্রকল্পের ব্যবস্থাপক বাসুদেব গুহ, কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) খোকন চন্দ্র দে, কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম) রিগবী সেতু গোমেজ ও কৃষি অফিসার উত্তম কুমার কর উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনায় বক্তারা শাকসবজির বীজ বপন, পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সঠিক নিয়মসহ স্বাবলম্বী হতে সবজি চাষের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বীজ হাতে পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নিরাপদ জীবন জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।