পঞ্চগড়

Panchagarh district

  • টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে লাউয়ের দাম তলানিতে নেমেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক টাকায়। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক চাষি হতাশ হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন। কেউ কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে লাউয়ের দাম অত্যন্ত কম হলেও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে উৎপাদনের পরও লাভের মুখ দেখছেন না তারা। চাষাবাদে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এ আবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে আয় হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা। এতে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    দুলাল ইসলাম বলেন, এত কষ্ট করে লাউ চাষ করেও যখন দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তখন লোকসান মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হতাশ হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

    এই কৃষকের দাবি, উৎপাদক পর্যায়ে লাউয়ের দাম কম থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তার দামের এই ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    একই ইউনিয়নের ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার চাষি আনসারুল ইসলাম জানান, টানা ১০ দিন ধরে তিনি লাউয়ের বাগানে পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, একজন শ্রমিককে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। অথচ এবার লাউ বিক্রি করে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে তার দাবি। এভাবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম থাকলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে লাউ চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার এলাকায় লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    ভালো ফলন সত্ত্বেও উৎপাদিত লাউয়ের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ আটোয়ারীর চাষিরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় তাদের লোকসান কমাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।

  • ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক লাউবাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লাউচাষিদের এমন দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে।

    কৃষকদের অভিযোগ, এক কেজি মোটা চাল কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ২০০টি লাউ। আর কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ। পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    একই নামের আরেক কৃষক বলেন, লাউ চাষ করে কী পরিমাণ লোকসানে পড়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুকেও খাওয়াচ্ছেন। অথচ বাজারে সেই লাউই প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন তিনি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস।

    তিনি বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেলে একসময় মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    কৃষকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভালো ফলনও তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

  • দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীতে পড়ে তানহা (২) নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত তানহা দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট ডাক্তারপাড়া এলাকার মো: তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির পাশের করতোয়া নদীতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর চাচা নূরনবী জানান, ‘বুধবার সকাল থেকেই তানহা বাড়িতে খেলাধুলা করছিল। নদীতে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও তিনি তাকে বাড়িতে দেখেছেন। পরে নদীর পাশ থেকে লোকজনের চিৎকার শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এ সময় নদী থেকে উদ্ধার করা ভাতিজিকে দেখতে পান তিনি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

    এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। দুই বছরের শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ,আর

  • পঞ্চগড়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিরোধ, ভারতীয় যুবকসহ গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিরোধ, ভারতীয় যুবকসহ গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দিকে, ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, আটকে রাখা ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছেন ওই যুবক। দুই মামলায় তরুণীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    গ্রেপ্তার ভারতীয় যুবকের নাম মো. তানভীর আলম (২৪)। তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার বাসিন্দা। অভিযোগকারী তরুণীর (২০) বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়।

    তরুণীর পরিবারের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ও নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করেন তানভীর।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ওই তরুণীর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। এগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও তানভীর রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরে তরুণীর অনুরোধে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে ঢাকা হয়ে পঞ্চগড়ে আসেন তানভীর। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁকে পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসীপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা তানভীরের মোবাইল ফোনে থাকা ছবি ও ভিডিও মুছে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    অন্যদিকে, তানভীরের করা পাল্টা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ওই তরুণী তাঁকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। পঞ্চগড়ে পৌঁছানোর পর তাঁকে জালাসী এলাকার তরুণীর মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ডেবিট কার্ডসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তানভীরের অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মা ও বোনের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তানভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় তানভীর আলম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ওই তরুণীসহ মো. লাবু (৩০), মো. সোহাগ (২৫) ও আব্দুল বারী রাশেদ (৩৭) নামের চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ভারতীয় যুবকের করা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

  • বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক পাখি শিকার করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই যুবককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার চাঁপাইতোর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলাম।

    পীরগঞ্জ বন বিট কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, ঐ দুই যুবক বৃহস্পতিবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার কালো পীর বাজারের পাশে নিজামপুর বিলে ফাঁদ পেতে অবৈধ ভাবে ১৫টি বক পাখি শিকার করেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন তাদের আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ মতে তাদের ঐ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এ সময় শিকার করা বক পাখিগুলো খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ঐ দুই যুবককে ঠাকুরগাঁও জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলেফা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সোনাহার সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আলেফা ওই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েলের পাশে বৈদ্যুতিক মোটরের সুইচ দিয়ে পানি তুলতে যান আলেফা। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লাইনে হাত লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’এ,আর

  • দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে কৃষি জমির পাশ থেকে হাছিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার একটি কৃষি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত হাছিনা বেগম বালাপাড়া এলাকার নূর শেখের স্ত্রী। তিনি বালাপাড়া বাজারে একটি কনফেকশনারি দোকান পরিচালনা করতেন।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন হাছিনা বেগম। বাড়িতে ফিরে তিনি স্বামীকে রাতের খাবার দেন। পরে বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার জন্য বের হন। এরপর তার আর বাড়িতে ফেরা হয়নি।

    শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি কৃষি জমিতে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ধরার ফাঁদ আনতে গেলে হাছিনা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

    মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের পিতা মহিরউদ্দিন ওই জমি মাদরাসার নামে দান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে এসে গত শনিবার বালু ফেলতে শুরু করেন ময়জউদ্দিন। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ১০টি দোকান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ ও মাদরাসার সম্পত্তি রক্ষার দাবি জানায়।

    মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে গত শনিবার ময়জউদ্দিন মাদরাসার জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার জমি রক্ষা এবং দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

    মাদরাসাটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদরাসার জমি অবৈধ দখলের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করেছি। মাদরাসার জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তার ছেলেসহ কয়েকজন মিলে মাদরাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন। মাদরাসার সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

    অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন বলেন, দলের কোনো প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। সেই জমিটির দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিয়ে আসছি জমিটি আমাদের। গত শনিবার জমিটা আমরা দখল করছি৷

    বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।

  • মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় বর্তমান স্বামীর স্বজনেরা এমন নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন কুলসুম বেগম। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।

    মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করে দারগালী নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তারা একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছিলেন।

    এজাহারে বলা হয়, ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে ঢোকেন। তারা তাকে গালিগালাজ করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ সময় কুলসুমের চিৎকার শুনে তার স্বামী দারগালী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
    পরে কুলসুম ও তার স্বামীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    কুলসুম বেগম বলেন, তারা আমাকে ধরে মেরেছে। ২০ বছর ধরে আমি একা থাকতাম। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেই। ওই দিন আমার বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে আমার ওপর অত্যাচার চালায়। তার বড় বউ এসে আমাকে ধরে। তারা সবাই মিলে আমার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

    কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, যারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেছেন, তারা সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই, আমার প্রথম স্ত্রী ও ছেলে। কেন বিয়ে করেছি এই জেদ ধরে তারা এভাবে অত্যাচার করেছে। আমি এখনো আমার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেইনি। তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি।

    দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন, রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।

    জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

    পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বিরাজোত এলাকার তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে ধরে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সীমান্তের মানুষজন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি।

    শনিবার সকালে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২ এর ১২ নম্বর সাব পিলার এলাকায় বাংলাদেশের আখ খেতে প্রবেশের পর ওই ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসে সীমান্তের বাসিন্দা। তার বাড়ি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানায়।

    স্থানীয় জানান, গত বুধবার সকালে বিরাজোত সীমান্তে হারানো গরু খুঁজতে যান বৃদ্ধ কৃষক তমিজ উদ্দিন। পরে সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, আমার বাবা কানে কম শুনতে পান, ঠিকমতো চলতেও পারেন না। গরু খুঁজতে সীমান্তের কাছে গেলে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়।

    এরই জেরে শনিবার সকালে ভারতীয় ওই নাগরিক সীমান্তে চা বাগানে কাজ করার ফাঁকে বাংলাদেশের আঁখ খেতে প্রবেশ করে আঁখ ভাঙার চেষ্টা করলে তাকে ধরে নিয়ে আসে সীমান্ত এলাকার মানুষেরা। স্থানীয়দের দাবি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিলেই ভারতীয় ওই নাগরিককে ফেরত দেওয়া হবে।

  • ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ‘ঘুষ নেওয়ার’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

    এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর ‘ঘুষ নেওয়ার’ ঘটনা তদন্ত করতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে একজন ইউপি সদস্যের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পৃথক আরেকটি দল ঘটনা তদন্তে দেবীগঞ্জে আসছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন এবং কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বদলির আদেশে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

    দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই ওই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

  • পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পালালেন আসামি

    পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পালালেন আসামি

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। আসামির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বনমালী রায় নামে ওই পুলিশ সদস্যের মাথা ফেটে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের হাগুড়াগছ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

    পালিয়ে যাওয়া আসামি হলেন— উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের লোহাকাচি গ্রামের রাসেল ইসলাম (৩৩)। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান ও গরু চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে আহত পুলিশ সদস্য বনমালী রায় তেঁতুলিয়া মডেল থানায় কর্মরত।

    জানা গেছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার লোহাকাচি গ্রামের শরিফ উদ্দিনের গোয়াল থেকে দুটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় গরুর মালিক রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া থানার এসআই বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলকে গ্রেপ্তারে তার বাড়ি ঘেরাও করে।

    আসামি ঘরের ভেতরে অবস্থান করছে নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সদস্য বনমালী রায় দরজার সামনে যান। এসময় রাসেল অতর্কিত দরজা খুলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বনমালীর মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে অপর পুলিশ সদস্যরা আহত বনমালীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজা মুনির পূর্বা বলেন, আহত পুলিশ সদস্যের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে ভ্যান-গরু চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার সকালে আরও একটি গরু চুরির মামলা হয়। এদিন বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গেলে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হামলায় আহত ৬

    পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হামলায় আহত ৬

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক মাদরাসা অধ্যক্ষ যোগদান করতে গেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতির উপস্থিতিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও স্থানীয় কয়েকজনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    রোববার দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সামনে পঞ্চগড়-আটোয়ারী আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত বছরের ২৭ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদরাসার পরিচালনা কমিটি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের নিয়ম থাকলেও এক বছরেও তা প্রত্যাহার করা হয়নি।

    এর মধ্যে মাদরাসার এডহক কমিটি উপাধ্যক্ষ ও একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষককে বাদ দিয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হাকিম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়। যদিও এর আগে মাদরাসা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন সভায় আব্দুল হাকিম সরকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

    গত ৮ মার্চ মাদরাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারকে স্বপদে বহাল করা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিচালনা কমিটি বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেতন বিলে স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জেলা আদালতের জিপির মতামত নিয়ে রোববার সকালে অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার মাদরাসায় যোগদান করতে যান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছেলে নাফিউর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা যোগদানে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারের অভিযোগ, যোগদান করতে দিতে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুপুরে তিনি মাদরাসা সংলগ্ন একটি দোকানে অবস্থান নিলে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। পরে এলাকা ত্যাগ করার সময় আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় বাড়ির মালিক-স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

    আব্দুল মতিন সরকার বলেন, মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি যোগদান করতে গিয়েছিলাম। আমাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আমাকে ধাওয়া করে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

    বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, আমি বর্তমান কমিটির নির্দেশনায় আইন মেনে দায়িত্ব পালন করছি। আব্দুল মতিন সরকার অনিয়মের কারণে বরখাস্ত হন। আমার চেয়ে সিনিয়র শিক্ষকরা দায়িত্ব নিতে চাননি, তাই আমি দায়িত্ব পাই।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান বলেন, এই মাদরাসা আমার নানার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা কখনও কোনো প্রভাব খাটাইনি। আব্দুল মতিন সরকার বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে মানতে চায় না। তিনি বলেছেন, ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে, এতে উত্তেজিত জনতা ক্ষেপে যায়। পরে আমি পরিস্থিতি শান্ত করি। আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করব না।

    আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, আমি একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে অধ্যক্ষকে বহাল দেখিয়ে বেতন বিলে স্বাক্ষরের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা আদালতের জিপির মতামত নেওয়া হয়েছে। আজ যোগদানে গিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি স্থানীয়ভাবে হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

  • কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

    কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না, কোনো ধর্ম-বর্ণ দেখা হবে না। যারা পাওয়ার যোগ্য, তারাই এই কার্ড পাবেন। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তবে আমি নিজেও জানি না, কারা এই কার্ড পেয়েছেন। আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন তিন স্তরে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করেছেন কারা কোন ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ইতিপূর্বে উদ্বোধন হয়েছে। ইনশাল্লাহ সামনের দুই-তিন মাসের মধ্যে সারা বাংলাদেশে আরও ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে সক্ষম হব।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে শুধু প্রশাসন নয়, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য-সহায়তায় আমরা কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাউকে বিচার করব না। যারা প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পাওয়ার যোগ্য, তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। পরে প্রতিমন্ত্রী ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড এবং দুইটি করে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে প্রায় আট ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।

    ঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

    বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া পাটশিরি সীমান্ত এলাকা থেকে বিএসএফের ১৩২ ব্যাটালিয়নের মরিচা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে। পরে বিকেলে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    ফেরত আসা শিক্ষার্থীরা হলো, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার শিবু চন্দ্র রায়ের ছেলে ইন্দ্র (১৪) ও সমারু চন্দ্র রায়ের ছেলে উদয় (১৪)। তারা রশেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা আগের দিন বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে সকালে সীমান্তের মেইন পিলার ৪১৭-এর ৯ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ছবি তুলতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।

    গড়িনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, বিজিবির দ্রুত উদ্যোগ ও কার্যকর যোগাযোগের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

  • কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া

    কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক। উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে ফিলিং স্টেশনটিতে তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে লাইনে থাকা অনেক চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এতে বৈধ কাগজপত্র থাকা চালকেরা তেল পেতে সমস্যায় পড়েন এবং পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে খবর দেয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় দুই মোটরসাইকেল চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

    জরিমানা করার কিছুক্ষণ পরই শতাধিক লোকের একটি মিছিল ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইউএনওর বডিগার্ড তৈবুল (৪৩)-এর ওপর চড়াও হয়ে তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনও স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে দেবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

    ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, উপজেলার তিনটি পাম্পে আজ তেল দেওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কাগজপত্র ছাড়া চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় এবং দুজনকে জরিমানা করায় একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালায়। তারা আমার বডিগার্ডের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিএনপি নেতা আবু দাউদ : আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক

    বিএনপি নেতা আবু দাউদ : আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক

    পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ঘটনার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার রাতে জেলা শহরের মিডিয়া হাউসে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‌‘একটি গোডাউন ঘরকে ঘিরে আমাকে বিতর্কিত করার জন্য এ ধরনের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। আমার পাশে থেকে কে কি বক্তব্য দিয়েছেন, জানি না।’

    এর আগে শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান খুলে দিয়েছেন উল্লেখ করে তার পাশে দাঁড়িয়ে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, ‘সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত অবমুক্ত করেছেন’। আওয়ামী লীগ নেতার এই ভিডিও বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ভাবে মন্তব্যের ঝড় উঠে।

  • গ্রামপুলিশে নিয়োগ: পরীক্ষা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর সবাই বাদ

    গ্রামপুলিশে নিয়োগ: পরীক্ষা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর সবাই বাদ

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রামপুলিশের (মহল্লাদার) শূন্য পদে নিয়োগ দিতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এতে অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় প্রার্থীদের সবাই বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে নিয়োগে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া সদর, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদে পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রামপুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস যোগ্যতার ওই পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী ৩৮ জন আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় তাদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়।

    নিয়োগ বাছাই কমিটিতে তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রার্থীই আমাদের জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রার্থীদের এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে। দ্রুততম সময়ে পুনরায় ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

  • জিয়াউর রহমানের খনন করা পাথেরাজ নদী আজ যেন মরা খাল

    জিয়াউর রহমানের খনন করা পাথেরাজ নদী আজ যেন মরা খাল

    সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমান একসময় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছিলেন। শ্রমিকের মাথায় সেই মাটির ডালি তুলে দিয়ে খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক পাথেরাজ নদী। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে সেই প্রমত্তা পাথেরাজ নদী।

    সেই সময় জনপ্রিয় খালখনন কর্মসূচির আওতায় খননের পর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল পাথরাজ। মাছেও ভরপুর হয়ে উঠেছিল এই নদী। নদীর পানি হয়ে উঠেছিল শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের কৃষিপণ্য উৎপাদনে সেচের একমাত্র উৎস।

    স্থানীয়রা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক নদী ও খালখনন কর্মসূচির সময় হেলিকপ্টারে করে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এসেছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাথেরাজ নদীতে কোদাল হাতে খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। বেঁচে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগী হয়ে ওঠেন। খননের পর নদীর পানি দিয়ে তারা গোসল, কাপড় কাচাসহ বাড়ির দৈনন্দিন কাজ করতেন। কৃষকরা ফসল উৎপাদনে সেচ দিতেন। পাথেরাজ নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি বোদা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকারও অংশ ছিল। কয়েক দশক আগেও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বেশ পানিপ্রবাহ ছিল। নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এলাকাবাসীর জীবনে।

    সেই নদীই আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদী ভরাট ও পানিশূন্যতায় নদীটির এখন অস্তিত্বই সংকটাপন্ন। সময়ের ব্যবধানে মাটি ভরাট, পলি জমাসহ নানান কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানে হাঁটুপানিও নেই। কোথাও কোথাও শুকিয়ে গেছে সম্পূর্ণ। নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে বিশালাকার ধানক্ষেত। তবে নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। আগে নদীর পানি ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের মাধ্যমে উৎপাদন করা হতো নানান কৃষিপণ্য। নদীতে পানি প্রবাহ না থাকায় এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে তাদের। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। অন্যদিকে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ।

    এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। সেই সময়ে নদী ও খাল পুনঃখননের বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হলে এই নদীও নজরে আসে জিয়াউর রহমানের। এরই ধারাবাহিকতায় পাথেরাজ নদী সচল হয়ে উঠেছিল। তাই নদীটির পুনর্জাগরণকে শুধু পরিবেশগত কারণ নয়, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা। নবনির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকার নবীন-প্রবীণরা। তাদের আশা, প্রতিমন্ত্রী আজাদের হাত ধরে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাথেরাজ খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিবেন, আবার পুনরুজ্জীবিত হবে স্মৃতিবিজড়িত পাথেরাজ নদী।

    বোদা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহাজান আলী বলেন, এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটা জায়গা। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি এখানে খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। যেখানে পানি থাকার কথা, মাছ থাকার কথা, সেখানে ধান আবাদ হচ্ছে। আমি মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আপনার মাধ্যমে পাথেরাজ খালটি পুনঃখনন করা হোক। আমরা যাতে প্রাণ খুলে বলতে পারি যে, এখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন।

  • সারজিস আলম : জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি

    সারজিস আলম : জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি

    বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে মেধাবৃত্তি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএনপি ভালো বার্তা দিচ্ছে না। জুলাই সনদ অনুযায়ী স্পিকার সরকারি দলের হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বিএনপির কায়সার কামালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে বিএনপি স্বৈরাচার সরকারের লেজ ধরে কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আমাদের মর্মাহত করেছে।

    বর্তমান সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, জনগণ ও বিএনপি কর্মীরাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে রায় দিয়েছে যেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার ও সংস্কার সম্পন্ন হয়। এসব উপেক্ষা করে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করলে সংসদ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না।

    সারজিস আলম বলেন, আমরা প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার যত দ্রুত হবে, সরকারের জন্য ততই মঙ্গল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে টার্গেটেড কিছু আসনে কারচুপি করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করেছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা এ ধরনের কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হতে দেব না। ১১ দলীয় জোট এবার যে কোনো ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

    এর আগে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ, বাইসাইকেল ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন ও ছাত্রশিবির সভাপতি রাশেদ ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলো যাত্রীবাহী বাস

    গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলো যাত্রীবাহী বাস

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস সড়কের পাশে আমগাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেছে। এতে দুই যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহর থেকে দিনাজপুরগামী শাহী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে দুই যাত্রী আহত হন। বাসটিতে ৩০-৩৫ যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলটি দূরবর্তী স্থানে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ছুটে যাই। আমরা যাওয়ার আগেই যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে সেখান থেকে চলে যান।

    এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক বলেন, দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনাটি নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।।

  • জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

    জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে না পারায় সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই নিয়োগ ও বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সকল প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেয়া হয়। এ জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেনি। ফলে অংশ নেয়া প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি নিয়োগ বাছাই কমিটি। প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তীতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানা যায়।

    নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

    এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই আমাদের জাতীয় সংগীতটি সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক।

  • আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মির্জাপুর শাহী মসজিদের সর্বত্র ইসলামি টেরাকাটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদে ব্যবহৃত ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও অলংকৃত।

    তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। আয়তাকার এক সারিতে তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সাধারণত মোগল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য। গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্টযুক্ত। চার কোণে রয়েছে স্তরযুক্ত ও নকশাখচিত বেল্ট করা চারটি সুচিকন মিনার।

    এছাড়া সম্মুখবর্তী দেওয়ালের মধ্য দরজার দুই পাশে মধ্য গম্বুজের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্মিত হয়েছে আরও দুটি ক্ষুদ্র মিনার। এই মিনারের দেওয়াল সংযুক্ত অংশ বর্গাকার। অনুরূপ সমমানের ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি মিনার রয়েছে পশ্চিম দেওয়ালেও।

    এ মসজিদে সামনের দেওয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামি টেরাকাটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। দরজার কিছুটা দূরবর্তী উভয় পাশে রয়েছে অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব।

    সামনের তিনটি দরজার অনুরূপ আরও তিনটি দরজার নকশা ও অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল স্থাপিত হয়েছে পশ্চিম দিকের দেওয়ালেও। তবে এই দরজা সম্ভবত স্থাপত্যকৌশল হিসাবেই নির্মিত পশ্চিমের মাঝের দরজা। সুস্পষ্ট কোনো মেহরাব নেই। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালও নকশাখচিত। তবে এই দরজা দুটির উপরিভাগের স্ফীত অংশটি সমান্তরাল নয়। গ্রামবাংলার চিরায়ত রীতি অনুযায়ী দোচালা আকৃতির। কথিত আছে, সামনের ইটগুলো নাকি ঘিয়ে ভেজে তৈরি করা হয়েছে।

    দেওয়ালের অলংকরণে ফুল ও পাতার পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর চিত্র রয়েছে। সম্ভবত নির্মাণকারী কারিগরদের মধ্যে হিন্দু স্থপতিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অথবা এমনও হতে পারে যে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খচিত হয়েছে জীবজন্তুর চিত্র। অবশ্য বর্তমানে জীবজন্তুর চিত্রগুলো অপসৃত হয়েছে।

    মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে ফারসিলিপিখচিত একটি ক্ষুদ্র কালো ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী এই মসজিদটি মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত হয় বলে জানা যায়। উল্লিখিত লিপি ফলকটিতে মুদ্রিত সন পারস্য বছর।

    লক্ষণীয় বিষয়, সমসাময়িককালে বাংলাদেশের অন্যান্য মসজিদ বা ইমারতের সন তারিখ হিজরি অথবা খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী লেখা ছিল। কিন্তু এই মসজিদে পারস্য বছরের উল্লেখ থাকায় অনুমিত হয় যে, যেসব কারিগর ও স্থপতি এই মসজিদের নির্মাণ মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তারা ছিলেন পারস্য অথবা ইরানের অধিবাসী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের কারুকার্য সমসাময়িককালে ইরানের মসজিদ ও অন্যান্য অট্টালিকায় বিদ্যমান ছিল।

    মির্জাপুর মসজিদের মূল ভবনের সামনে রয়েছে একটি আয়তকার পাকা অঙ্গন। অঙ্গনের উপরিভাগ উন্মুক্ত। অঙ্গনের বাইরে রয়েছে একটি সুদৃশ্য তোরণ। তোরণটির নির্মাণশৈলী অপূর্ব। এতে রয়েছে খিলান করা অন্তঃপ্রবিষ্ট দরজা। উভয় পাশে খাঁজ করা স্তম্ভ এবং ঢাল ও অর্ধ বৃত্তাকার, চ্যাপ্টা নাতিদীর্ঘ একটি গম্বুজ। গম্বুজের উপরিভাগে রয়েছে কোরক আকৃতির একটি ক্ষুদ্র চূড়া

    মির্জাপুর মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও এই গ্রামের মির্জা বংশীয় উত্তরসূরিদের অভিমত অনুযায়ী মির্জাপুর গ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পূর্ব পুরুষরা মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। অতঃপর ফুল মোহাম্মদের ভাই দোস্ত মোহাম্মদ সম্ভবত এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায় দুই শ বছর আগে মুলুকউদ্দীন বা মালেকউদ্দীন মির্জাপুর মসজিদের মেরামত বা সৌন্দর্যের কাজ শেষ করেন। তিনি হুগলি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ইরান থেকে কারিগর এনেছিলেন।

    মির্জাপুর মসজিদের স্থাপত্য নিদর্শনের সঙ্গে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনুমিত হয় যে উভয় মসজিদ সমসাময়িককালে নির্মিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মসজিদের নির্মাণকাল ১৬৭৯ খ্রি.। সেদিক থেকে মির্জাপুর মসজিদের বয়স আড়াই শ বছরের কম নয়। বস্তুত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র মির্জাপুর শাহী মসজিদটিই প্রাপ্ত মোগল আমলে নির্মিত অন্যান্য মসজিদের তুলনায় সবচেয়ে সুষমমণ্ডিত, উৎকৃষ্ট শিল্পনিদর্শন ও সর্বাপেক্ষা মজবুত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করছে।

  • সংখ্যালঘুরা জুলুমের শিকার হলে পাশে থাকবে এনসিপি: সারজিস

    সংখ্যালঘুরা জুলুমের শিকার হলে পাশে থাকবে এনসিপি: সারজিস

    পঞ্চগড়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যারা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যায় কম তারা যদি অন্য যে কোনো ব্যক্তি, নেতা বা রাজনৈতিক দল, কারো দ্বারা বিন্দুমাত্র হুমকি, হয়রানি কিংবা জুলুমের শিকার হন, আপনারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমরা পাশে থাকবো।

    শনিবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কমিটি প্রকাশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় তিনি তার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কোনোদিন কারো পায়ে লাগতে যাবো না। কেউ যদি পায়ে পা দিয়ে লাগতে আসে আমরা তাদের ছাড়ও দেবো না। অন্য যে কোনো দলের যারা ভালো কাজ করবে, সে যেই দলই হোক না কেন, আপনারা তাদেরকে সমর্থন করবেন, সহযোগিতা করবেন। ভালোটাকে ভালো না বললে ভালো কাজে মানুষ উৎসাহ পাবে না।

  • দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    জলপাইয়ের নাম শুনলে জিহ্বায় জল আসে না-এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া জলপাইয়ের কথা উঠলেই কবি সুকুমার রায়ের সেই বিখ্যাত নাটক অবাক জলপান এর কথাও স্মৃতিতে ভেসে উঠে। ছোটবেলায় জলপাই নিয়ে এমন হাসির নাটক পড়ে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি হেসেছিও সমানতালে। আর এই জলপাই এখন পঞ্চগড় তথা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রতিদিন জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের দেবদারু তলায় বসছে জলপাইয়ের হাট। এটি দেশে জলপাইয়ের সর্ববৃহৎ হাট। এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

    ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেবীগঞ্জের দেবদারু তলায় শুরু হয় জলপাই কেনাবেচা। বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভর্তি করে বস্তা বোঝাই জলপাই আসে বাজারে। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মানভেদে প্রতি কেজি জলপাইয়ের দাম পড়ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় জলপাই আহরণ। মৌসুমের ৩ মাস ধরে বেচাকেনা চলে জলপাই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, জলপাইয়ের এই হাটটি প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়ে জলপাইয়ের আবাদও বাড়ছে। আমরা চাষিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। জলপাই চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত জলাপাই শুধু দেশের বাজারেই নয়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। অনলাইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় জলপাই পাঠাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে জেলার অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। জলপাই ব্যবসাকে ঘিরে পঞ্চগড় জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ধারায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পঞ্চগড়ে বড় পরিসরে বাগান না থাকলেও জেলায় ছোট ছোট খামার, বাড়ির উঠান, রাস্তার ধার ও জমির আইলে সব মিলিয়ে জলপাই চাষ হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে জলপাই উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার টন। এবার তা আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

  • জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে এবং সংসদ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করবে- তা সম্ভব নয়। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এ রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থিত এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

  • পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ১৫ মাসে যথেষ্ট সফলতা আছে, তবে ১৫ বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তারপরও আমি একটি ‌‌‘ট্রা‌ন্সপারেন্ট গভর্নমেন্ট প্রশাসন’ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।

    শুক্রবার ( ৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদরাসা মাঠে জেলার তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আজিমুশ্বান শানে রিসালাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি বলেন, আমাদের সরকারের বয়স ১৫ মাস। আমরা বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছি। হজ্জ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছি। মডেল মসজিদ রযেগুলো নির্মাণে দুর্নীতি অথবা অনিয়ম আছে, এগুলোর জন্য আমরা পাওয়ার ফুল কমিটি গঠন করেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু অনিয়ম ছিল। আমরা একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। কালকে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ওনার েতদন্ত অনুযায়ী আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

    তিনি আরও বলেন, হজে টাকা ফেরত দিয়েছি ৩৯ কোটি টাকা। যেগুলো এজেন্সির টাকা সৌদি আরবে ছিল। আমার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির কোনো স্কোপ নেই। আমি নিজেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমার অফিসারাও যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে থাকে, আমি যথেষ্ট সোচ্চার আছি।সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হাই, সহসভাপতি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সুলতান মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিন প্রমুখ।

    এর আগে, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে পঞ্চগড় তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে ১২ দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয় আলেমরা।

  • জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন ও ডাক বিভাগের সাবেক প্রধান কার্যালয়কে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত উল্লেখ করে তা সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    সম্প্রতি বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও ডাক বিভাগের (ডাক জীবন বীমা, পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ দাবি করে তা সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এ প্রস্তাবে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, জিপিও কম্পাউন্ড সরকারঘোষিত একটি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। এখানে ডাক বিভাগের ১৪টি অপারেশনাল অফিস সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ডাকসেবা গ্রহণ করছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার এই কেন্দ্র কখনোই পরিত্যক্ত ছিল না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ডাক ভবনে স্থানান্তরিত হলেও অন্যান্য অপারেশনাল অফিস আগের মতো জিপিও কম্পাউন্ডেই চলমান।

    ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই এ ধরনের চিঠি দেওয়া এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করায় নিন্দা জানিয়ে বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জিপিও ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, তাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে তারা সরাসরি দেশের ডাকসেবার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করে।

  • টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    উপকরণ

    টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।

    প্রণালি

    ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।

  • গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    প্রচণ্ড গরমে বড়দের চেয়ে অনেকটাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাপপ্রবাহে সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে তাদের ছোট্ট দেহ। তৃষ্ণা পেলে অনেক সময় তারা তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। শিশুরা যদি বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে গরমের সময় কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয়—এসব বিষয়ে শিশুকে জানিয়ে রাখা ভালো। পোশাক বা খেলাধুলার মতো রোজকার সাধারণ ব্যাপারেও যত্নবান হোন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

    মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান বলেন, ‘গরমে শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর অর্থ কিন্তু এই না, তাকে বারবার জবরদস্তি পানি পান করাতে হবে। বরং তার দেহের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু প্রস্রাব করার সময় রং ও পরিমাণ খেয়াল করুন। শিশু যদি পর্যাপ্ত প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রং যদি হয় হালকা হলুদ খড়ের মতো, তাহলে

    এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই সময়ে শিশুর যত্নে কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

    পানি নিয়ে জোরাজুরি

    বয়স ছয় মাস পার হলে শিশুকে পানি পান করানো শুরু করতে হয়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকেই পানির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। পানি, অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও সে পানি পায়। সারা দিনই মাঝেমধ্যে শিশুকে পানি বা তরল খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফলের রস বা স্মুদি করে দিতে পারেন। তবে খুব বেশি চিনি দেওয়া পানীয় দেবেন না। তার সঙ্গে নিজেও পানি পান করুন। স্কুলে গেলেও যাতে পর্যাপ্ত পানি পায়, সে ব্যবস্থা রাখুন। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকলে শিশুকে পানি পান করানোর ব্যাপারে জোর করবেন না। অকারণ বিরক্তি ভাব বা জেদ, খানিকটা নিস্তেজ ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব হওয়া, মুখ বা জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে পানিশূন্যতার লক্ষণ।

    যা খুশি তা–ই খাওয়া

    গরমে পানি ও খাবারের মাধ্যমে বহু মারাত্মক রোগ ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এগুলো এড়িয়ে চলার ব্যাপারে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, স্কুলের পথে একলা সুযোগ পেলেও যেন সে এসব খাবার না খায়। রসনার তৃপ্তি মেটাতে বাড়িতে তার পছন্দের খাবার ও পানীয় তৈরি করে দিন। আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন না, যদি না ঠান্ডায় তার খুব বেশি অ্যালার্জি থাকে। মাঝেমধ্যে আইসক্রিম বা হালকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সুযোগ দিন, তবে তা যেন নিরাপদভাবে তৈরি করা হয়। তাকে এটাও বুঝিয়ে বলুন, কড়া রোদ থেকে ঘরে বা ক্লাসে ঢোকামাত্রই ঠান্ডা কিছু খাওয়া উচিত নয়। একটু রয়েসয়ে তারপর সে খেতে পারে হালকা ঠান্ডা পানীয় বা খাবার।

    পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার ভুল

    • বাইরে গেলে হাতাকাটা পোশাক পরানো ভুল। কারণ, তাতে রোদ আর ধুলা–ময়লায় বেশি ক্ষতি হয়। পাতলা সুতি কাপড়ের ফুলহাতা জামা-পায়জামা পরালে শিশু সুরক্ষিত থাকবে।

    • আঁটসাঁট পোশাক পরানোও ভুল।

    • গাঢ় রঙের পোশাক পরানোও উচিত নয়। কারণ, এগুলো তাপ ধরে রাখে।

    • যিনি খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করবেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে তাঁর উদাসীন হওয়াটা মারাত্মক ভুল।

    • দুধ ও অন্যান্য খাবার খুব বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়। এগুলো গরমে নষ্ট হয়ে যায়। সব খাবারই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি।

    খেলার সময়কার ভুল

    • কড়া রোদের সময় বাইরে বা ছাদে খেলতে দেওয়ার ভুলটা করবেন না। খুব গরমে ঘরেই খেলুক। দুপুরে স্কুলে থাকলেও যাতে সে ভুলটা না করে।

    • শিশু যদি পার্কে খেলতে যায়, তাহলে তাকে আগেই ধাতব খেলার সামগ্রীগুলোতে উঠতে দেওয়া আরেক ভুল। প্রথমে এগুলোর তাপমাত্রা হাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, দুপুরের রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ধাতবসামগ্রী পরেও গরম থাকতে পারে। এগুলো তাপমাত্রাসহনীয় হলে তাকে উঠতে দিন।

    • পানির কাছে তাকে একা ছাড়ার ভুলটি করা যাবে না। ঝোপঝাড়ে শিশু যেন হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।