ক্যাটাগরি পাবনা

Pabna district

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ঈশ্বরদীতে এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক গ্রীণসিটি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল গ্রিন এক্সপ্রেসের একটি বাস। বাসটি নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্যাঙ্কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    দুর্ঘটনায় বাসে থাকা ৬ নারী ও ৯ পুরুষ যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    গ্রিন এক্সপ্রেস বাসের চালক রুবেল হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত লেন দিয়ে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।’

    পাকশী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. নান্নু খান বলেন, সকালে যাত্রীবাহী বাস ও এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্যাঙ্কারটি ভুল লেনে থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্যাঙ্কার দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। বুধবার (১২ আগস্ট ) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগর এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসার স্কাউট সদস্যরা অতিথিদের এবং দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলী আজগর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে তাদের আরও বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম হেলাল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ,বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে

    শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দাখিল পরীক্ষায় বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

    জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়া দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আনন্দঘন একটি মিলনমেলা। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করা হয়।

  • বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যুবদলকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে চোরাই গরু রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় যুবদলকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম।

    আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান একই এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার একজনের গরু চুরি হয়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এরমধ্যে ওই এলাকায় চুরি করা গরু প্রবেশের গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে যুবদলকর্মী শরিফুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, “আমরা চাই, তিনি যেই হোক না কেনো অপরাধীর বিচার হোক। দল অপরাধী তৈরি করে না। অপরাধীরা দলে মিশে থাকে। সেক্ষেত্রে তার দায় দল বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না।”

    যুবদলের নাম ব্যবহার করে তার ছবির ব্যানার সম্পর্কে এই যুবদল নেতা বলেন, “বিভিন্নভাবে তারা নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে সেগুলো নানাভাবে ব্যবহার করে অপরাধ করেন। সবাইকে তো আর আইডেন্টিফাই করা যায় না। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর কেউ তো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

    পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরুচোর শরিফুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার দলীয় কোনো পরিচয় রয়েছে কি না জানা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরিফুলের থেকে এই চক্রে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    তিনি বলেন, “দুটি গরুর একটির মালিকের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তার থেকে মামলা নেওয়া হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    পাবনার চাটমোহরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শতাধিক শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলার শিক্ষা অফিস।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শতাধিক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে বলেন, কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিররুদ্ধে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠদক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    যে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, পৌর সদরের শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া ও উথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল, হরিপুর, লাউতিয়া ও চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা, খতবাড়ি পুরানপাড়া, শুইগ্রাম, বামনগ্রাম-১, বামনগ্রাম-২, ভবানীপুর ও নেউতিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈলজানা ইউনিয়নের ফৈলজানা, কুয়াবাসি, পবাখালী, ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কচুগাড়ী, ঝবঝবিয়া, ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই, দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া, দিয়ারপাড়া, মেঘারপাড়া,কচিয়া, সোহাগবাড়ী ও লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের আলমনগর, বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আড়িংগাইল, বারকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, ও বনগ্রাম চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দিলালপুর, কাটাখালী ও ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    নোটিশপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যাসহ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক, কোনো বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক রয়েছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে এর চেয়েও বেশি শিক্ষক আছেন। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার ৩৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলা, ইংরেজী গণিতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

  • শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের  মৃতদেহ উদ্ধার 

    শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার 

    পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিন খান (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার মসজিদের পাশে থেকে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

    নিহত তুহিন খান সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খানের ছেলে। শ্বশুরের নাম আবতার হোসেন। তিনি নলদহ লালগোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী। স্ত্রীর নাম আফসানা খাতুন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। স্থানীয়রা সকালে পুকুরের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে পুলিশের দাবি, তিনি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের নেশায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শ্বশুর বাড়ি এসে নেশাদ্রব্য খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তুহিন মসজিদের বারান্দায় রাতে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ২টার দিকে আমরা খবর পাই। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সকালে মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করা হবে। এরপরই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।