পাবনা

Pabna district

  • পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

    পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

    পাবনার মালঞ্চিতে একটি বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার ব্রিজের কাছে সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

    মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ওই ঘরে বজ্রপাত হলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কিশোর ও তরুণ। ’

    তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’ এ ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

  • সার সিন্ডিকেটের হাতে কৃষক জিম্মি

    সার সিন্ডিকেটের হাতে কৃষক জিম্মি

    পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছেন। অনেক ডিলার সারের মূল্যতালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নেন। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কতিপয় অসাধু ডিলার সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সামনের রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা এসব অভিযোগ করেন।

    অভিযোগে বলা হয়, সার মজুত করে কতিপয় ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ কৃষক সার পাচ্ছেন না। এ কারণে অনেকে জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বক্তারা এর প্রতিকার দাবি করেন।

    সারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা, ছাত্রদলের উপজেলা আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীম প্রমুখ।

    অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং গোডাউনে সার মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। তবে বেশি দাম দিলেই সার মিলছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চাটমোহর রেলবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী এবং মির্জাপুরের একজন ডিলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিক্রেতা একাধিক গুদামে শত শত বস্তা ডিএপি, পটাশ, এমওপি ও ইউরিয়া সার মজুত করে এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

    সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা। চাটমোহর উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১২ জন, বিএডিসির ডিলার ১৭ জন এবং খুচরা সার বিক্রেতা ৬৯ জন। অভিযোগ রয়েছে, এঁদের অধিকাংশই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে কৃষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। চলতি অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।

    তাঁরা কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সার পাচ্ছেন না।

    এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির বিষয়টি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

  • জেলি-সয়াবিন মিশিয়ে নকল দুধ তৈরী, অর্থ জরিমানা- ২ জনের কারাদণ্ড

    জেলি-সয়াবিন মিশিয়ে নকল দুধ তৈরী, অর্থ জরিমানা- ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের দায়ে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভেজাল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণসহ ৩২০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কৈডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ জব্দ করা হয় এবং দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    জেলা এনএসআই, পাবনার গোপন তথ্য ও সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৫২ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশার ও মো: সবুজ। তাদের মধ্যে আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে মো: সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযানকালে ভেজাল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত দুই হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন ও ৩২০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়।

    অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল, ভাঙ্গুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা। এ,আর

  • ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা  শিক্ষক আটক

    ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

    পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামানিককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের একটি নুরানী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। মাদরাসাটিতে প্রায় দেড়শ ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মাদরাসার আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ওই ছাত্রী।

    এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
    এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তাদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    পোকা দেখলে বিরক্ত হয়ে দূরে সরিয়ে দেন অনেকেই। অথচ সেই পোকাই এখন পাবনার শিমুল হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। চাকরি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে হাঁসের খামার করেছিলেন তিনি। কিন্তু রোগে একের পর এক হাঁস মারা যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেনার বোঝায় থমকে যায় পথচলা।ঠিক সেই সময় ইউটিউবের একটি ভিডিও বদলে দেয় তার চিন্তা। পরিচিত হন ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা কালো পোকা চাষের সঙ্গে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা আর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো। এখন তার রয়েছে পাঁচটি পোকা চাষের খামার। মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, তার উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মানুষেরও।

    পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পারসিধাই গ্রামের মোজাহার আলী প্রামানিকের ছেলে শিমুল হোসেন। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাশ করেন। ৬ বছর আগে তিনি খামার শুরু করেন। এর আগে তিনি ঢাকায় বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার খামারে ১৭ জন কর্মচারী কাজ করেন।শিমুলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হয়েছিল বড় ধরনের ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে। চাকরি ছেড়ে নিজের কিছু করার ইচ্ছা থেকেই হাঁসের খামার করেছিলেন। শুরুতে স্বপ্ন ছিল খামার বড় করবেন, আয় বাড়াবেন, পরিবারের অবস্থাও বদলাবেন। কিন্তু হঠাৎ খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক হাঁস মারা যেতে থাকে। চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় বিনিয়োগ করা টাকা। লোকসানের ধাক্কায় যখন নতুন করে কিছু শুরু করার সাহসও পাচ্ছিলেন না, তখন অনলাইনে বিভিন্ন কৃষি ও খামারবিষয়ক ভিডিও দেখা শুরু করেন শিমুল। সেখানেই প্রথম জানতে পারেন ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের কথা। এই পোকার লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় জানার পর আগ্রহ তৈরি হয় তার। খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য খেয়েও এই লার্ভা বেড়ে ওঠে। অর্থাৎ একদিকে প্রাণিখাদ্যের জন্য প্রোটিন, অন্যদিকে জৈব বর্জ্য ব্যবহারের সুযোগ বিষয়টি শিমুলকে আরও উৎসাহী করে।

    এরপর আর বেশি ভাবেননি শিমুল। ঝুঁকি নিয়েই শুরু করেন পোকা চাষ। শুরুটা ছিল খুব ছোট পরিসরে। নিজের জায়গায় পরীক্ষা করে দেখতে থাকেন উৎপাদন পদ্ধতি। প্রথমদিকে নানা সমস্যা হয়েছে। কীভাবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কীভাবে লার্ভা সংগ্রহ করতে হবে এসব শিখতে হয়েছে।বর্তমানে পাঁচটি খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন করছেন শিমুল। উৎপাদিত লার্ভা সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা থাকায় উৎপাদনের পরপরই তা বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

    শিমুল হোসেন বলেন, হাঁসের খামারে যখন লোকসান হলো, তখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে পোকা চাষের বিষয়ে জানতে পারি। প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু করি। পরে বুঝতে পারি এর চাহিদা আছে। এখন ধীরে ধীরে খামার বাড়িয়েছি।’

    শিমুলের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম জায়গায় এবং কম খরচে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষ করা সম্ভব। তবে সঠিক নিয়মে পরিচর্যা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শুরুতে মানুষ হাসাহাসি করত। পরিবারের লোকজনও পছন্দ করত না। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু আমি কাজটা চালিয়ে গেছি। এখন পাঁচটি খামার হয়েছে। মাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো লাগে, আমার কারণে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকায় আগে এ ধরনের উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রথমে কেমন কেমন যেন লাগছিল। এখন ভালোই লাগে। শিমুলের খামারে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বেকার যুবকদের কয়েকজনের আয় করার পথ হয়েছে। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    শিমুলের বাবা মোজাহার আলী প্রামানিক বলেন, শুরুতে যখন পোকা চাষ শুরু করল, তখন আমরা বিরক্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। ভাবতাম, এসব আবার কী কাজ! একসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করতাম। এখন তো বিশাল খামার হয়েছে। অনেক শ্রমিক দিনরাত কাজ করে। এখন আমার ছেলের অধীনেই অনেক মানুষ কাজ করে। এটা দেখে আমাদের ভালো লাগে।

    পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস। প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করা গেলে এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

    পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেকার যুককদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এ ধরনের উদ্যোক্তা অনেক প্রয়োজন। এমন কাজের মাধ্যমেই দেশেরপ্রাণি খাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস তৈরি হবে

  • গ্রামপুলিশ আদালতের হস্তক্ষেপে মাকে ঘরে তুললেন

    গ্রামপুলিশ আদালতের হস্তক্ষেপে মাকে ঘরে তুললেন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামপুলিশ সাগর হোসেন। একই সঙ্গে নিজের ভুলের জন্য মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

    রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পাবনার বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন এবং মাকে যথাযথ দেখভালের নির্দেশ দেন।

    আদালতের সিদ্ধান্তের পর অভিযুক্ত ছেলে সাগর হোসেন জানান, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে কখনো মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না উল্লেখ করে তিনি মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং নিয়মিত ভরণপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নিতে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে সাগর সাফ জানিয়ে দেন, ‘মাকে আমার সাথে দিলে আমি সুইসাইড করব, তাও সাথে নিতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন মাসে কত টাকা দিতে হবে।’

    ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান নামের এক চিকিৎসক অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এ সমাধান দেন।

  • রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

    রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

    অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ফিশন বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে সব কারিগরি পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হলো দেশের ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

    আজ রোববার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারমাণবিক বিজ্ঞানী ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।

    কবে নাগাদ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দিন এভাবে চলতে থাকবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাবে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে আরেকটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (আরএনপিপি)। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ১,২০০ মেগাওয়াট করে উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রুশ ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়।

    প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়ার ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের অর্থায়নে বহন করছে। প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। এর আগে ২০১৩ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ইতিমধ্যেই অন্তত চার ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ঈশ্বরদীতে এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক গ্রীণসিটি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল গ্রিন এক্সপ্রেসের একটি বাস। বাসটি নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্যাঙ্কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    দুর্ঘটনায় বাসে থাকা ৬ নারী ও ৯ পুরুষ যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    গ্রিন এক্সপ্রেস বাসের চালক রুবেল হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত লেন দিয়ে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।’

    পাকশী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. নান্নু খান বলেন, সকালে যাত্রীবাহী বাস ও এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্যাঙ্কারটি ভুল লেনে থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্যাঙ্কার দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। বুধবার (১২ আগস্ট ) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগর এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসার স্কাউট সদস্যরা অতিথিদের এবং দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলী আজগর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে তাদের আরও বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম হেলাল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ,বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে

    শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দাখিল পরীক্ষায় বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

    জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়া দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আনন্দঘন একটি মিলনমেলা। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করা হয়।

  • বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যুবদলকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে চোরাই গরু রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় যুবদলকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম।

    আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান একই এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার একজনের গরু চুরি হয়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এরমধ্যে ওই এলাকায় চুরি করা গরু প্রবেশের গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে যুবদলকর্মী শরিফুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, “আমরা চাই, তিনি যেই হোক না কেনো অপরাধীর বিচার হোক। দল অপরাধী তৈরি করে না। অপরাধীরা দলে মিশে থাকে। সেক্ষেত্রে তার দায় দল বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না।”

    যুবদলের নাম ব্যবহার করে তার ছবির ব্যানার সম্পর্কে এই যুবদল নেতা বলেন, “বিভিন্নভাবে তারা নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে সেগুলো নানাভাবে ব্যবহার করে অপরাধ করেন। সবাইকে তো আর আইডেন্টিফাই করা যায় না। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর কেউ তো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

    পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরুচোর শরিফুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার দলীয় কোনো পরিচয় রয়েছে কি না জানা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরিফুলের থেকে এই চক্রে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    তিনি বলেন, “দুটি গরুর একটির মালিকের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তার থেকে মামলা নেওয়া হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    পাবনার চাটমোহরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শতাধিক শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলার শিক্ষা অফিস।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শতাধিক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে বলেন, কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিররুদ্ধে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠদক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    যে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, পৌর সদরের শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া ও উথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল, হরিপুর, লাউতিয়া ও চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা, খতবাড়ি পুরানপাড়া, শুইগ্রাম, বামনগ্রাম-১, বামনগ্রাম-২, ভবানীপুর ও নেউতিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈলজানা ইউনিয়নের ফৈলজানা, কুয়াবাসি, পবাখালী, ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কচুগাড়ী, ঝবঝবিয়া, ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই, দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া, দিয়ারপাড়া, মেঘারপাড়া,কচিয়া, সোহাগবাড়ী ও লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের আলমনগর, বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আড়িংগাইল, বারকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, ও বনগ্রাম চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দিলালপুর, কাটাখালী ও ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    নোটিশপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যাসহ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক, কোনো বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক রয়েছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে এর চেয়েও বেশি শিক্ষক আছেন। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার ৩৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলা, ইংরেজী গণিতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

  • শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের  মৃতদেহ উদ্ধার 

    শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার 

    পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিন খান (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার মসজিদের পাশে থেকে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

    নিহত তুহিন খান সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খানের ছেলে। শ্বশুরের নাম আবতার হোসেন। তিনি নলদহ লালগোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী। স্ত্রীর নাম আফসানা খাতুন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। স্থানীয়রা সকালে পুকুরের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে পুলিশের দাবি, তিনি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের নেশায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শ্বশুর বাড়ি এসে নেশাদ্রব্য খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তুহিন মসজিদের বারান্দায় রাতে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ২টার দিকে আমরা খবর পাই। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সকালে মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করা হবে। এরপরই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

    তিনজন হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর ভবনের ৮ তলার ৮৪ নম্বর ইউনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত লাতিপভ ভিল (৪২) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

    সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

    পাবনায় সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে খয়বার আলী নামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

    খয়বার আলী (৬০) উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ইকরজানা গ্রামের মৃত হারান উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর ছিলেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খয়বার আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় তিন-চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। একদিকে সংসারের খরচের চাপ অন্যদিকে ঋণের কিস্তির জন্য এনজিওর চাপ। তিনি কোনোভাবেই ঋণ দিতে পারছিলেন না।

    বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা ইকরজানা গ্রামের পাশে কানাবিলের মধ্যে পুকুরপাড়ে জামগাছে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি নেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশ ও তার পরিবারকে খবর দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, খয়বার আলী কৃষি ও দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকেই হয়তো রাতের যেকোনো সময় আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাঁথিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অভাব ও ঋণগ্রস্তের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

    m

  • পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    দেশের ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম বিশু এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ১৯৯১ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপির আমলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য এবং পাবনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। জহুরুল ইসলাম বিশু পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবনা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদায় উন্নীত হয়।

    এদিকে জহুরুল ইসলাম বিশু জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ায় পাবনার বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জহুরুল ইসলাম বিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশু ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলা পরিষদ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

  • নারীসহ পুলিশ পাহারায় রাত কাটাতে চেয়ে ধরা ভুয়া জজ

    নারীসহ পুলিশ পাহারায় রাত কাটাতে চেয়ে ধরা ভুয়া জজ

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে রাতে থানায় হাজির হন এক ব্যক্তি। ওসির কাছে বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউজের একটি রুম ও ট্রেন টিকেটের সুবিধা চান তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। ভুয়া পরিচয় দেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী। তিনি যশোরের কোতোয়ালী থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।

    পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ে থানায় এসেছিলেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি যশোরে একটি নিম্নপদে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার কোনো চাকরি নেই।

    পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ওসির কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি পুলিশি সহযোগিতায় রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিশ্রামের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ট্রেনে যশোর যাওয়ার জন্য টিকিট সুবিধা প্রত্যাশা করেন। তবে কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হলে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত সটকে পড়েন। পরে তাকে আটক করে তদন্তের পর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ভুয়া জজ পরিচয় দেওয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

  • বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার (২৬) দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। সম্পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।

    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

  • পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় কীটনাশক ও তেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন এবং নসিমন চালক শামসুলকে আটক করা হয়েছে।

    আটকদের বরাত দিয়ে চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, তেলের মালিক উপজেলা সদরের জারদিস মোড় এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে লিটন ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মুকুল হোসেন। তারা বাঘাবাড়ী এলাকা থেকে তেল ক্রয় করে এনেছিল বলে দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

    পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত তেল মথুরাপুর এলাকায় নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন।

    মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না খাদেমের

    নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না খাদেমের

    পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মন্টু মিয়া (৮০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় বাইতুন নুর জামে মসজিদের খাদেম।সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে পৌর শহরের কলেজপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা বলেন, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলেজপাড়া মোড়ে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সোমবার রাত ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন মন্টু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভাঙ্গুড়া থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনালের উদ্বোধন

    নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনালের উদ্বোধন

    পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম; জেলা পরিষদ মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম।নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নৌপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নগরবাড়ী এলাকায় উন্নত ও আধুনিক বন্দর অবকাঠামো সুবিধাদি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২০ জুন অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছরের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুনে। এ প্রকল্পে মোট হয়েছে ৫৫৬.৯০৭ কোটি টাকা। যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত নগরবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী ঘাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে নৌপথে মূলত সার, সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লাসহ অন্যান্য মালামাল উঠানামা করে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পরিবাহিত হয়ে থাকে। ঘাটটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আরিচা নদীবন্দর দ্বারা পরিচালিত হতো। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, পদ্মা নদীর দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী নামে ফেরিঘাট ২টি যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নৌ চলাচলে আরিচা নদীবন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো।

  • পাবনায় ‘ময়েজ বাহিনীর’ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

    পাবনায় ‘ময়েজ বাহিনীর’ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

    পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত চতরা বিলে সন্ত্রাসী ময়েজ বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র তৈরি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার ভোরে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আতাইকুলা থানার অন্তর্গত আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত চতরা বিলে সন্ত্রাসী ময়েজ বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও আতাইকুলা থানা পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে ওই বিলে ময়েজ বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় বিলের মধ্যে লুকানো ঘাঁটি থেকে অস্ত্র তৈরির ছাঁচ, কাটিং মেশিন, ড্রিল মেশিন, লোহার পাত, গানপাউডারের মতো উপকরণসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা করা হয়।

  • পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

    ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

    ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসন-সংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে।

    তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

    অন্যদিকে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।

    গত ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
    সুত্র আমারদেশ

  • পাবনা-৫ (সদর) আসন শিমুল বিশ্বাস ও হাবিবের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন

    পাবনা-৫ (সদর) আসন শিমুল বিশ্বাস ও হাবিবের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন

    পাবনা-৫ (সদর) আসন
    শিমুল বিশ্বাস ও হাবিবের মনোনয়ন ফরম উত্তোল
    ডেস্ক নিউজ
    পাবনা-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহŸায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব নিজ নিজ মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন।
    বৃহ¯পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিগত নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়নি। এবার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে বিএনপি। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহŸান জানান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মির্জা আজিজুর রহমান, যুগ্ম আহŸায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খোন্দকার, জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান, কেএম মুসা, তৌফিক হাবিব, সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, নুর মাসুম বগা, রেহানুল ইসলাম বুলাল, জেলা যুবদলের আহŸায়ক হিমেল রানা, সাবেক দপ্তর স¤পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
    এদিকে বৃহ¯পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের প্রার্থী হিসেবে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন নেতাকর্মীরা।
    ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আসাদুজ্জামান সরকার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার শামসুন্নাহার ভ‚ঁইয়ার হাত থেকে হাবিবের পক্ষে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব প্রভাষক আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক স¤পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতিয়ার রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন প্রমুখ।

  • ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্য
    নিউজ ডেস্ক
    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনেরছেলে। স¤পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।
    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লুট

    ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লুট

    • ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লু
      ডেস্ক নিউজ
      পাবনায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ভয়ঙ্কর অভিযানে পাঁচটি সোনার দোকান এবং কয়েকটি ব্যবসায়ীর বাড়ি লুট হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    এই ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতির সময় স্থানীয়দের ফোন করে সাহায্য চাওয়া হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
    পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের দ্রæত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।
    সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, ১০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ¯িপডবোটে করে গুমানী নদী দিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাজারের দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে রাখে। এরপর দোকানের তালা ভেঙে সোনার দোকানগুলোতে লুটপাট শুরু করে। বাজার সংলগ্ন বাড়িঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে অর্থ-স¤পদ ছিনিয়ে নেয়। লুটপাটের পর ডাকাতরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে ¯িপডবোটে করে নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন-ডাকাতদের হাতে বন্দুক, ধারালো অস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল, যা তাদের প্রতিরোধ করা অসম্ভব করে তুলেছিল।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, লুট হয়েছে অন্তত ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২ কোটি টাকার নগদ অর্থ। আফতাব জুয়েলার্সের নগদ ৪০ লাখ টাকা এবং প্রচুর স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্সের নগদ ৪২ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার, রতন জুয়েলার্সের নগদ অর্থসহ ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করা হয়েছে।

    অন্যান্য দোকান-উত্তম জুয়েলার্স, মধু জুয়েলার্স, মা জুয়েলার্স এবং আখি জুয়েলার্স থেকেও স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট হয়েছে, যা মোট লুটের পরিমাণকে বাড়িয়ে তুলেছে।

    রতনের ছেলে রঞ্জন কর্মকার জানান, দুর্বৃত্তরা দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণ লুট করে, তারপর বাড়িতে ঢুকে আমার মা ও আমাকে মারপিট করে দশ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
    ভাঙ্গুড়া থানার ওসি বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের দ্রæত গ্রেফতার করা হবে।

  • বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুলি

    বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুলি

    • বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুল

      ডেস্ক নিউজ
      পাবনার বেড়া পৌর এলাকার নদীর ঘাটরে নয়িন্ত্রণ ও দখল নয়ি দুপক্ষরে মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ ও গোলাগুলরি ঘটনা ঘটছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘাট এলাকায় অবস্থতি একটি বিএনপি র্কাযালয় ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার বিকালে বড়ো পৌর এলাকার বৃশালিখায় এ ঘটনা ঘটে
      স্থানীয় বাসন্দিারা ও পুলিশ জানায়, বেড়ার হুরাসাগর নদীর বৃশালিখা ঘাট আগে নিয়ন্ত্রণ করত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপির একাধিক গ্রæপ ও বৃশালিখা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী সমার্থকরা মিল ঘাটের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এরই মধ্যে সোমবার হাসান আলী ও সালমান নামক দুজন বিএনপি সমার্থক ঘাটে যায় দখল নিতে।
      এ সময় ঘাটের কুলি-মজুর ও বৃশালিখা গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পালটাধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে হাসান ও সালমানের পক্ষে সান্দারপাড়া গ্রামবাসী যোগ দেয়। এ নিয়ে সংর্ঘষ ব্যাপক রূপ নেয়।
      এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং ঘাটে একটি বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

    বেড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান ফকির বলনে, চাঁদাবাজি গ্রæপের সঙ্গে নামধারী বিএনপির মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন চাঁদাবাজি কারা করে পুলিশ সবই জানেন। এর চেয়ে বেশি বলতে পারব না।

    বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, দুপক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটেছ। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবই আছে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিক এ সংর্ঘষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে

    নিউজ ডেস্ক
    অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি খিদিরপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
    মৃত জেসমিন উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে। সে খিদিরপুর শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    অভিযোগে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে ক্লাশে প্রবেশ করে জেমি। এ সময় ক্লাশ শিক্ষিকা মিনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থী জেমি খাতুনের কাছে মোবাইল ফোন দেখে ক্লাশরুমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করেন। পরে খন্ডকালীন শিক্ষিকা সালমা খাতুন শিক্ষার্থী জেমি খাতুনকে ক্লাশরুম থেকে ডেকে কমনরুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বেত দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে জেমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অপমান অপদস্থ করে স্কুল থেকে বের করে দেন।

    শিক্ষিকার এই বেধড়ক মারপিট ও অপমান সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থী জেমি ঘটনার দিন বিকালে দাদির বাড়িতে বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জেমির পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে জেমিকে আটঘরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার সময় জেসমিন মারা যায়।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মিনোয়ারা ও সালমা খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
    আটঘরিয়া থানার ওসি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    আমরা ধানের শীষের বাইরের কেউ না। ধানের শীষের বাইরে যদি কেউ নির্বাচন করার চিন্তা করে তাহলে ভাঙ্গুড়ার কোনো কেন্দ্রে তারা কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন।

    শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা- ৩ আসনের (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে বিশাল গণমিছিল শেষে চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে সমাবেশ থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।ভাঙ্গুড়ার বিএনপির আহ্বায়ক স্বপনের এমন বক্তব্যের পর চাটমোহর উপজেলাসহ পাবনা- ৩ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তে তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।গণমিছিলে হাসান জাফির তুহিন ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপি, কৃষক দল, জেলা বিএনপি, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, পাবনা-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে। তবে তাকে ‘বহিরাগত’ উল্লেখ করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনারুল ইসলাম এবং চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

    তুহিনের মনোনয়ন বাতিল করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা তাদের মধ্যে থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে শুক্রবার এক মশাল মিছিল থেকে ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে ও বাইরে চলছে চাপা উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি।