ক্যাটাগরি তেল ও গ্যাস

  • জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
    মঙ্গলবার ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
    জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন এবং আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহের বড় একটি অংশই এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে। এর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
    পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গতকাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। আগের দিন রোববার সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট।মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট সরবরাহের ফলে আগের দিনের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট। আর রোববারের তুলনায় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধান করে আগামী সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে যদি তারা (এক্সিলারেট এনার্জি) যেটা এক্সপেক্টেড, যদি ৫০ শতাংশ সাপ্লাই রিস্টোর করতে পারে, তারপরের সপ্তাহে শতভাগ রিস্টোর করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং। তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি, তাদের তথ্যের ওপর কিন্তু দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে আমরা বলছি না। কারণ এর আগেও যে দিন-তারিখ দিয়েছে, বিভিন্ন কারণে সেটা তারা পালন করতে পারেনি।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে।

    গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি এক্সিলারেটের তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

    এই সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা-বোনেরা প্রতিদিন সংসারের রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় গণপরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে আগুন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এর চেয়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। পাশেই একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ ছিল, যা দ্রুত দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি মজুত করে রাখা হয় না; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসে। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।