তেল ও গ্যাস

  • বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের মতো কমেছে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের অব্যাহত হামলায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে।

    এতে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে তেলের দামে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছিল তেল। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সেদিন তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়।

    পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

    সপ্তাহান্তেও হামলা অব্যাহত ছিল। শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। রোববার সৌদি আরব জানায়, তারা আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

    এর আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে রোববার আংশিক কার্যক্রমও শুরু হয়। তবে ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

    এদিকে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুতের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব। সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস

    দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

    কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

    ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— শীর্ষক প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ।

    পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

    পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে।

    সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।

    আব্দুল মান্নান বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

    প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

    কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

    বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

    কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

    ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।

    ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

    পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

    ২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    দেশে বিমান চলাচলের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম শুল্ক ও মূসকসহ ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বুধবার জারি করা বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা থেকে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।

    এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানিটির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জন্যও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের মূল্য শুল্ক ও মূসক ছাড়া ১ দশমিক ০৭৭০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির প্ল্যাটস রেটের গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে উল্লেখিত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবরের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিইআরসির এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান পরিচালনার জ্বালানি ব্যয় বাড়ল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে এক লিটার জেট ফুয়েলের দাম এক মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

  • ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৮৩৭টাকা

    ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৮৩৭টাকা

    তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা এতদিন ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা।

    রোববার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি, যা সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

    আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া এবং এলপিজি পরিবহনের যানবাহনের ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় এই বাড়তি দাম বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

    যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সংকট দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৮৫ টাকা দাম নির্ধারিত থাকলেও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার উর্ধমূখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

  • অটোগ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছেঃবিইআরসি

    অটোগ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছেঃবিইআরসি

    এলপিজির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য নতুন দাম ঘোষণা করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    অটোগ্যাসের দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি করা হয়েছে ৮৪ টাকা। যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

    রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

    এদিকে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।

  • ১২ শতাংশের বেশি বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকে

    ১২ শতাংশের বেশি বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকে

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ফার্নেস অয়েলের লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। এতে ফার্নেস অয়েলের দাম ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

    বুধবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম বুধবার রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হবে।

    এর আগে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারিত ছিল।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করে। জানুয়ারিতে গণশুনানির পর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তারপর থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দাম নির্ধারণ অব্যাহত রেখেছে বিইআরসি।

  • আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সরকারকে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। অথচ পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহে বিঘ্নের কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হওয়ায় এ চাপ তৈরি হয়েছে।

    এলএনজির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ।

    গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেলে এখনো প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও এলএনজির দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    পেট্রোবাংলার হিসাবে, গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে এলএনজি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে আরো ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা কয়েক গুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটের ওপরও নির্ভরতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা হলেও সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানিসংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হলেও মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্প-কারখানার ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঝুঁকি নিচ্ছে। ’

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েও বিপিসির লোকসান পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত ২০ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের সময় বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পর দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হতে পারে।

    প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরে শুধু ডিজেলেই সরকারের লোকসান প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াত।

    বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। গ্যাসের সংকট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়। ফলে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারকে ভর্তুকি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসানের বাড়তি চাপ সামলাতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পরিবহন ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া

    বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বাড়ানো হয়েছে লঞ্চ ভাড়া। প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে।

    সচিবালয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সড়ক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধিসহ সবকিছু বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দিইনি।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে চার টাকা দুই পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরে কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৩ পয়সা ভাড়া কম নিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১৭ পয়সা হয়।

    গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা।অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বাড়ে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন–এসি বাসের আসন কমিয়ে ৪০ বা এর চেয়ে কমে নামিয়ে আরমাদায়ক করা হয়েছে। সেগুলোতে ভাড়া আরও বেশি। এ ছাড়া যুক্ত হতো সেতু ও সড়কের টোল। এবার নতুন করে ১৭ পয়সা বাড়ার কারণে নতুন করে নির্ধারিত হবে বাস ভাড়া।

  • জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন সচল রাখতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস নেন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতের অনেক শিল্পকারখানার মালিকেরা। এভাবে অনিরাপদ সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন গ্যাস আইন–২০১০ ও গ্যাস বিতরণ বিধিমালা–২০১৬ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তবে বিষয়টি অনেক দিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে। সাম্প্রতিক গ্যাস–সংকটে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

    টানা দুই মাসের সংকট শেষে গত সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও যে সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়নি, তা প্রমাণ করে ঢাকার আশুলিয়ার ঘটনাটি।

    প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলের কর্তৃপক্ষ বয়লার চালাতে কাভার্ড ভ্যানে করে রোববার সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) সিলিন্ডার নিয়ে আসে। সেই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ জন। এ ঘটনায় সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ পাঁচ-ছয়টি গাড়ি পুড়ে গেছে।

    জানা যায়, আইনে নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসন ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের ‘নীরব সম্মতি’তে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হয় শিল্পকারখানায়। এই বাণিজ্যকে ঘিরে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীও গড়ে উঠেছে। তারা প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৫–১০ টাকা বা তার বেশি দামে শিল্পকারখানায় সরবরাহ করছে। এতে সংশ্লিষ্ট সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকের পকেটও ভারী হচ্ছে।

    তৈরি পোশাকশিল্প মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, খাতের গ্যাস–সংকটে উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়েই অনেক কারখানা মালিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস আনছেন। তবে শ্রমিকনেতাদের ভাষ্য, এ ধরনের শিল্পদুর্ঘটনাকে কোনোভাবেই শুধু দুর্ঘটনা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে করে শিল্পকারখানায় গ্যাস দেওয়ার কোনো অনুমতি কখনো দেওয়া হয়নি। তবে সংকটের সময় অনেক শিল্পকারখানা এই কাজটি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন সময় অভিযানও পরিচালনা করেছি।’

    মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার

    আশুলিয়ার প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলে বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০–১২টি কাভার্ড ভ্যান ছিল। পরে কয়েকটি ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ৯টি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল।

    গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে খাবার দোকান রানা হোটেলের ভেতর একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে। সেই সিলিন্ডারের গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে, ‘অ্যাপ্রোভড পিআরডি সিএনজি অনলি, ডু নট ইউজ আফটার ২০২১।’ তার মানে হচ্ছে, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গড়ে উঠেছে। তাদের বড় অংশই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাঁরা স্টেশনে গ্যাস নিতে নিম্নমানের সিলিন্ডার নিয়ে আসেন।

    অনুমতি চেয়েও পায়নি দুই সমিতি

    গত জুলাইয়ে তীব্র গ্যাস–সংকট শুরু হলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাকে সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতিকে চিঠি দেয়। তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেট্রোবাংলার কাছে নির্দেশনা চায়। তবে পেট্রোবাংলা এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে শিল্পকারখানায় সিলিন্ডারে করে গ্যাস যেতে থাকে ঠিকই।

    বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জ্বালানি–সংকটের কারণে সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়ার প্রবণতা আগেও ছিল। ইদানীং সেটি বেড়েছে। আমরা সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলাম। অনুমতি দেওয়া হয় নাই। আবার শক্তভাবে বন্ধও করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে মালিকদের চিঠি দেব। সংকটে এলপিজি সরবরাহ করা গেলে ভালো হয়। তবে মূল বিষয় হচ্ছে, শিল্পে গ্যাসের চাপ বাড়াতে হবে।’

    শিল্পকারখানার যাতে ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নিতে পারে, সে জন্য নীতিমালা করে দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এভাবে শিল্পকারখানার জন্য গ্যাস দেওয়ার জন্য চাপ দেন।’

  • জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বলেন।

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইএমএফের কোনো শর্ত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এমন কোনো শর্ত নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক। এটা তাদের গ্রস নিয়ম।

    তিনি বলেন, খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা সবসময় সবকিছু মেনে যাচ্ছি, নট নেসেসারিলি।

    এমনকি আমাদের যেসব গার্ডের প্রজেক্ট আছে, যা যা আছে, এগুলোর ব্যাপারেও তাদের আসলে যে খুব কমফোর্টেবল, তা কিন্তু না। কিন্তু আমরা আমাদের জনগণের কল্যাণে এটা করছি। এর সাথে এটার কোনো সম্পর্ক নেই।

    উপদেষ্টা ডা: জাহেদ বলেন, আমরা যে পরিমাণ ভর্তুকি জ্বালানি হিসেবে দিচ্ছি, যদি এই তরল জ্বালানির সাথে গ্যাস এবং বিদ্যুৎকে যোগ করি, তাহলে দেখুন কত বড় অঙ্কের ভর্তুকি আছে। এই ভর্তুকি কমাতে হবে। এটা খুবই বেসিক অর্থনৈতিক জ্ঞান দিয়ে আমরা বুঝতে পারি।

    তিনি বলেন, এখন কতটুকু কমাব, কোনটায় কতটুকু কমানো যেতে পারে, আমরা হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আইএমএফের কোনো শর্তের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের মূল বিবেচনা হচ্ছে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে দেয়া ভর্তুকির পরিমাণ কমানো এবং এ ক্ষেত্রে কতটা সমন্বয় করা হবে, তা নির্ধারণ করা।

  • জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
    মঙ্গলবার ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
    জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন এবং আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহের বড় একটি অংশই এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে। এর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
    পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গতকাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। আগের দিন রোববার সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট।মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট সরবরাহের ফলে আগের দিনের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট। আর রোববারের তুলনায় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধান করে আগামী সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে যদি তারা (এক্সিলারেট এনার্জি) যেটা এক্সপেক্টেড, যদি ৫০ শতাংশ সাপ্লাই রিস্টোর করতে পারে, তারপরের সপ্তাহে শতভাগ রিস্টোর করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং। তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি, তাদের তথ্যের ওপর কিন্তু দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে আমরা বলছি না। কারণ এর আগেও যে দিন-তারিখ দিয়েছে, বিভিন্ন কারণে সেটা তারা পালন করতে পারেনি।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে।

    গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি এক্সিলারেটের তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

    এই সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা-বোনেরা প্রতিদিন সংসারের রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় গণপরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে আগুন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এর চেয়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। পাশেই একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ ছিল, যা দ্রুত দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি মজুত করে রাখা হয় না; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসে। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।