ক্যাটাগরি নীলফামারী

Nilphamari district

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডোমারে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় রাহাত (২) নামে এক শিশু ও কাশেম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডোমার সদর ও সোনারায় ইউনিয়নে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিয়াল ইসলামের দুই বছরের ছেলে রাহাত সকালে সবার অগোচরে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, সোনারায় ইউনিয়নের ভাঙ্গারির ঝাড় এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন নিজের ধানখেত দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান কাশেম আলী। তিনি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবীগঞ্জ বীজ আলু উৎপাদন খামারের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানখেত দেখতে যাওয়ার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭ আপ) ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    আরও পড়ুন: ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়াপৃথক দুটি দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।

    এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

    পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।

    বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।

    ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’

  • ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে ডোমার-জলঢাকা সড়কে নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় খেলতে গিয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলে পড়ে যায় শিশু সিনহা আক্তার (৪)। তাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তার খালা পাখি আক্তার (১২)ও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও তাদের মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে গরুবোঝাই একটি নসিমন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তিনজন চাপা পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শাহাজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনায়ই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ওই এলাকার একটি আদা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদা ক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি মাটিতে উপুড় হয়ে শোয়া ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

  • ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ‍অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

    নিহত প্রসূতির নাম মোসা: তুলী বেগম (২৯)। তিনি টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

    পরিবারের অভিযোগ, সিজারের এক দিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।’

    অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দু’জনই সুস্থ ছিল। কিন্তু এক দিন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।’

    এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।

  • সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ট্রলিচালকের নাম আমিনুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়-সংলগ্ন দীঘলডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত ট্রলির হেলপার সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত সাজু রহমান জানান, ট্রেন আসার কোনো শব্দ তারা পাননি এবং ইঞ্জিন থেকেও কোনো হুইসল বা হর্ন দেয়া হয়নি। এছাড়া রেললাইনের পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ায় তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে যান। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম দাবি করেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল ট্রেনের হুইসিল না দেয়া এবং রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ির কারণে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়া। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মোটরসাইকেলে রেললাইন পার হন। পরে ট্রলি চালককে হাতের ইশারায় সতর্ক করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

    সংঘর্ষের ফলে ট্রলির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ট্রলির দুটি চাকা ছিটকে পড়ে এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হেলপারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রলির কিছু অংশ ট্রেনের চাকার সাথে আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এদিকে ইটবোঝাই ট্রলির বডি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেট স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দৃশ্যমানতার অভাবের কারণে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রলির মালিকের সাথে যোগাযোগের পর নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।