নীলফামারী

Nilphamari district

  • নীলফামারীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

    নীলফামারীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারী জেলা সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ধারালো ছুরির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পথরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত বড় ভাই হলেন কেতাব উদ্দীন (৭০) এবং অভিযুক্ত ছোট ভাই আবুল হোসেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেতাব উদ্দীন ও তার ছোট ভাই আবুল হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই আবুল হোসেন ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে বড় ভাইয়ের ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে বড় ভাই কেতাব উদ্দীন গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিতে তার মৃত্যু হয়।

    সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক শাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে ছোট ভাই আবুল হোসেনের ছুরির আঘাতে বড় ভাই কেতাব উদ্দীন গুরুতর আহত হয়। পরে রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ,আর

  • যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারীতে যুব উদ্যোগ সৃষ্টিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে শহরের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএস মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশন নামের যুব সংগঠন সভার আয়োজন করে।

    সভার উদ্বোধন করেন ইউএসএস-’র নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়। সভায় নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছবি রানী দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, দোস্ত এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, যুবদের মাধ্যমে সমজের পরিবর্তন আনা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে যুবদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকলে সমাজে অসঙ্গতি দূর হবে। বাল্য বিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জেন্ডার বৈষম্য রোধের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেকে বিকশিত করতে পারলে যেমন প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৃষ্টি, জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া সচেতনতা বিষয়ক এ সভায় ৩০ জন যুব অংশ নেয়।

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    রংপুরে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে বাস থামিয়ে গাড়িতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় গাড়ির গেটের কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলান, নিজেই সেলফি তোলেন এবং ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী উপহার দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আনন্দ উপভোগ করেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের উন্নয়নে ডাবল শিফট চালু, ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ এবং একটি অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন অধ্যক্ষ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের দেখতে পেয়ে বাস থামান প্রধানমন্ত্রী।

    কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তাদের কী প্রয়োজন। এ সময় তিনি কলেজের ইতিহাস ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।

    অধ্যক্ষ বলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জানতে চান। একপর্যায়ে কলেজের কী কী প্রয়োজন, তা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঠদানের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন।অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ডাবল শিফট চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ভবন এবং একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবিও জানান। এসব প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে।

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।

  • গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোয়ালঘর পরিষ্কার করার সময় গরুর লাথির আঘাতে আরেফা বেগম (৩৮) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আরেফা বেগম ওই এলাকার এজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর পরিষ্কার করছিলেন আরেফা বেগম। এ সময় একটি গরু তার বুকে জোরে লাথি দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বজনেরা ছুটে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদ (২৫) ধলাগাছ সর্দারপাড়া এলাকার মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন (২৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। আর ফরহাদ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করে নিজের হেফাজতে রাখতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মতির মোড় এলাকায় শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার পাশাপাশি ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘সৈয়দপুরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটকদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে বড় হয়েছেন আবুসালে মোহাম্মদ নাসিম। দাদা মজিবর রহমানের অনুপ্রেরণা, বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমে সেই নাসিম এখন বিচারক হওয়ার পথে। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া।

    আবুসালে মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। তখন নাসিমকে ভবিষ্যতে জজ হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। দাদার সেই অনুপ্রেরণাই নাসিমের মনে বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে।

    পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি ছিল না। তাদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

    নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।

    নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সংসারে অভাব থাকলেও ওর পড়াশোনায় কোনো বাধা দিতে চাইনি। আজ ও জজ হওয়ার জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় আনন্দের বিষয়। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, নাসিম আমাদের গ্রামের ছেলে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, এতে আমরা গর্বিত। তার এই সাফল্য এলাকার অন্য ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

    নাসিমের কলেজের শিক্ষক লেনিন বলেন, নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। ভালো করার প্রবল আগ্রহ ছিল তার মধ্যে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই আনন্দের। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে।

    নাসিমের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসিমের এ সাফল্যে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তিনি যেন সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

  • ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর সীমান্ত এলাকা থেকে গরুটি জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল এই তৎপরতা চালায়। বিজিবির সুবেদার মো: রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দেখতে পায়, কয়েকজন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরু ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু আটক করে। জব্দকৃত গরুটির আনুমানিক প্রাতিষ্ঠানিক সিজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃত গবাদিপশুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমসের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপার, মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ৫১ বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।

    এদিন জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল তাতে অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই জানা গিয়েছিল।

    আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে এখনো পর্যন্ত গণভোটকে অবৈধ বলতে পারে নাই। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে গণভোটের একাংশকে তারা মানে, অন্য অংশকে তারা মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ধরে যে ফ্যাসিবাদী একটা কাঠামো ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে, সরকার সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো আছে, সেগুলোকে তারা অক্ষত রাখতে চায় এবং সে কারণেই তারা এই সংবিধানের একটা পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য, একটা ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো থেকে একটা গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে উত্তরণের জন্য যে পরিবর্তনটা দরকার, সেটার দিকে অগ্রসর না হয়ে তারা তাদের মতো করে একটা সংশোধনী নিয়ে আসতে চায়। তারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে।

    কমিটিতে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদেরকে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধীদল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যখন ইন্ডিভিজুয়ালি তারা দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা সেখানে বলেছি যে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কারণ সংবিধান সংশোধন কমিটি যে আইডিয়ার ভিত্তিতে এখানে গঠিত হয়েছে, সেটাতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের কোনো বাস্তবতা নেই এবং এখানে কোনো প্রয়োগ নেই।

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে এবং সেটা অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এটাকে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান রিলেটেড পরিবর্তনগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে না করে সংবিধান সংশোধনী করে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটে আছে, এই সংকট আরও গভীর হবে এবং সামনের দিনে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকে দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো এবং তার মধ্য দিয়েই গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সরকার বিভিন্নভাবে তারা এই সংশোধন কমিটি যেটা আছে, সেটাকেই তারা প্রবল করে তুলছে, সেটাকেই তারা মুখ্য করে তুলছে। যেহেতু তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি আছে এবং তারা মনে করে যে তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি দিয়ে তারা সংবিধানের পরিবর্তনগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবে, সে কারণেই তারা বিরোধীদলের কোনো কথাকে, যেটা জনগণের কথা, সেটাকে তারা গ্রাহ্য করছে না।

    বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আজকে তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং রেখেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না, বরং সংকটের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করছে এবং কোনোভাবেই আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো না। যদি সরকারের বোধোদয় হয়, তারা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সেই শপথ গ্রহণ করে, তাহলেই বাংলাদেশের মানুষেরা সেটাকে অ্যাকসেপ্ট করবে এবং মানুষের রায় অনুযায়ী তা গঠিত হবে এবং সেখানেই আমরা এই সংবিধান রিলেটেড যে সংকট উদ্ভূত হয়েছে, সেগুলোর আমরা একটা সমাধান পাব।

    এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ করিম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোখছেদ সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মৃত বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ঘটনার বিষয়টি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন।

    মামলায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রায়ের পর ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান রিনো রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, মামলাটির সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে মাত্র এক বছরের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগীর বাবা বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এ রায় দেন।

    সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ আলী প্রামাণিক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মরহুম বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    পরে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিশু পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।

    মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সাথে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডোমারে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় রাহাত (২) নামে এক শিশু ও কাশেম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডোমার সদর ও সোনারায় ইউনিয়নে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিয়াল ইসলামের দুই বছরের ছেলে রাহাত সকালে সবার অগোচরে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, সোনারায় ইউনিয়নের ভাঙ্গারির ঝাড় এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন নিজের ধানখেত দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান কাশেম আলী। তিনি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবীগঞ্জ বীজ আলু উৎপাদন খামারের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানখেত দেখতে যাওয়ার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭ আপ) ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    আরও পড়ুন: ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়াপৃথক দুটি দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।

    এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

    পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।

    বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।

    ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’

  • ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে ডোমার-জলঢাকা সড়কে নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় খেলতে গিয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলে পড়ে যায় শিশু সিনহা আক্তার (৪)। তাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তার খালা পাখি আক্তার (১২)ও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও তাদের মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে গরুবোঝাই একটি নসিমন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তিনজন চাপা পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শাহাজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনায়ই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ওই এলাকার একটি আদা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদা ক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি মাটিতে উপুড় হয়ে শোয়া ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

  • ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ‍অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

    নিহত প্রসূতির নাম মোসা: তুলী বেগম (২৯)। তিনি টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

    পরিবারের অভিযোগ, সিজারের এক দিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।’

    অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দু’জনই সুস্থ ছিল। কিন্তু এক দিন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।’

    এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।

  • সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ট্রলিচালকের নাম আমিনুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়-সংলগ্ন দীঘলডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত ট্রলির হেলপার সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত সাজু রহমান জানান, ট্রেন আসার কোনো শব্দ তারা পাননি এবং ইঞ্জিন থেকেও কোনো হুইসল বা হর্ন দেয়া হয়নি। এছাড়া রেললাইনের পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ায় তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে যান। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম দাবি করেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল ট্রেনের হুইসিল না দেয়া এবং রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ির কারণে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়া। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মোটরসাইকেলে রেললাইন পার হন। পরে ট্রলি চালককে হাতের ইশারায় সতর্ক করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

    সংঘর্ষের ফলে ট্রলির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ট্রলির দুটি চাকা ছিটকে পড়ে এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হেলপারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রলির কিছু অংশ ট্রেনের চাকার সাথে আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এদিকে ইটবোঝাই ট্রলির বডি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেট স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দৃশ্যমানতার অভাবের কারণে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রলির মালিকের সাথে যোগাযোগের পর নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের

    শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের

    অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

    জাতীয় ডেস্ক:

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ফলিমারী এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে নন্দিনী নামে ৭ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ডিসি–এসপির গাড়ি। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।
    আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার বিকেল থেকে হঠাৎ নন্দিনীকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার সকালেও অনুরূপভাবে খোঁজে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তার বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর নরম মাটির ওই গর্ত খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

    খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগে স্থানীয় রনজিৎ রায়ের ছেলে বিধান রায় নামে একজনকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা বিধায় রায়ের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার সামাল দিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। পরে বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  • নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে নীলফামারী সদর খাদ্য গুদামে এ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

    এসময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আতিক আহমেদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ সুজা, সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনের দিন সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান নামের এক কৃষকের কাছ থেকে তিন মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে তাৎক্ষণিক তাকে ধানের মূল্য পরিশোধের চেক প্রদান করা হয়।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সদর উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। এজন্য কৃষক অ্যাপে আবেদনকারী কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৮৪৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।

    এছাড়া চলতি মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৭৭১ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহ করা হবে।

    এ,আর

  • ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    নীলফামারীর ডিমলায় একটি ভুট্টাখেত থেকে পুলিশের ইউনিফর্মসদৃশ পোশাক, ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভুট্টাখেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুলিশের পোশাক, সিমকার্ড ও ধারালো ছুরি।

    নির্জন স্থানে পুলিশের পোশাক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কোনো অপরাধী চক্র বড় ধরনের অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ শেষে এসব সরঞ্জাম এখানে ফেলে গেছে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে এল বা কারা এখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।

  • নীলফামারীতে টেন্ডার না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া যুবদল নেতা বহিষ্কার

    নীলফামারীতে টেন্ডার না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া যুবদল নেতা বহিষ্কার

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে দরপত্র (টেন্ডার) না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে মারধরের হুমকির অভিযোগে যুবদল নেতা হাসানুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী নানা অনাচারের কারণে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলার আওতাধীন কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো যাচ্ছে।’

    এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের টেন্ডার না পেয়ে হাসানুরসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে তাঁকে মারধরের হুমকি দেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে সেই যুবদল নেতা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

  • তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যানসহ আহত ২০, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

    তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যানসহ আহত ২০, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা ব্যারাজের উজানে নদীর চর খড়িবাড়ি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

    হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন ও গ্রাম পুলিশ সদস্য জাহিদুল। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা ব্যারাজের প্রায় এক কিলোমিটার উজানে দীর্ঘদিন ধরে ২০-২৫টি অবৈধ বোমা মেশিন বসিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পাথর ও বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদী রক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি, বসতভিটা ও স্থানীয় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে।

    এই অবস্থায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে যান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন। এ সময় বাধা দেওয়ায় পাথর ব্যবসায়ী, মেশিনের মালিক ও শ্রমিকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

    হামলার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদী ধ্বংস করছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদী ও গ্রাম রক্ষায় এগিয়ে আসায় চেয়ারম্যানের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বোমা মেশিনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চেয়ারম্যান বাধা দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

    এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আরেফিন ও ক্যামেরাম্যান আবু রায়হান। হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিস্তা নদী রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নীলফামারীর জলঢাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বিক্রি করার দায়ে আতাউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলবাড়ী সালটিতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    নীলফামারীর জলঢাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেলমজুত করে বিক্রী করার দায়ে আতাউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। সেখানে থানা পুলিশের সদস্য ও র‍্যাবের সদস্যরা সহায়তা করেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী আডাউর রহমান অবৈধভাবে তেল মজুত করে বিক্রি করে আসছিলেন। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ৫৫ লিটার তেল জব্দ করে বিক্রি করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ৫০ লিটার ডিজেল ও ৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করে বিক্রি করা হয়েছে।

  • নীলফামারীতে বাস-ট্রাক-অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ

    নীলফামারীতে বাস-ট্রাক-অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ

    নীলফামারীর ডোমারে বাস, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নীলফামারী থেকে ডোমার মহাসড়কের হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা নিলাহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে এসে একটি যাত্রীবাহী বাস নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে শালমারা নিলাহাটি নামক স্থানে পোঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসের ধাক্কায় পাশে থাকা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। একইসঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটিও সড়কের নিচে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাস ও অটোরিকশার ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    ডোমার থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাস, ট্রাক ও অটোরিকশাটি থানা হেফাজতে রয়েছে।

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সৈয়দপুর থানায় প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগ হস্তান্তর করা হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জানা যায়, দুপুরের দিকে পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক সৈয়দপুর থেকে নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢেলাপীর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মানিব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে প্রকৃত মালিক আলমগীর হোসেনকে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেন তিনি। মানিব্যাগে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিল।

    পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক বলেন, আজকে দুপুরের দিকে নীলফামারিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। পরে মানিব্যাগে থাকা কাগজপত্র দিয়ে মালিকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে কল দিয়ে থানায় ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেই।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, থানার এক পুলিশ সদস্য এক ব্যক্তির টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মালিককে ডেকে সেটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

    এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

    আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

    নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

  • ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    নীলফামারীতে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ৩ সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ৩টি পরিবার।

    এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ১১ অক্টোবর জেলা সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের বাবরীঝাড় এলাকায়।

    দেন আদালত। এরই প্রেক্ষিতে ডিক্রিদার পক্ষে সিভিল কোর্ট কমিশনার অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম শাহের উপস্থিতিতে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির মেহেদী পারভেজকে দখল প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

    আদালতের নির্দেশে ওই উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নালিশী জমির পাশাপাশি নালিশীর বাইরের ভূমির গাছপালাসহ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

    বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবুল হোসেন জানান, বাদী পক্ষ লুৎফর রহমান গং নীলফামারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ১৬/১৫ নম্বর মামলা করেন। উক্ত মামলায় নালিশী জমি ছিল চার শতাংশ এবং বাদী পক্ষের মোকদ্দমায় বিবাদীর তিনটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নিমিত্তেই এই মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীপক্ষকে চার শতাংশের মধ্যে টিনের চালাঘর অপসারণের রায় ডিক্রি প্রদান করেন। এতে বিবাদীপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে জেলা জজ আদালতে অন্য আপীল ৯৫/২৪ দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-১ এ বিচারাধীন রয়েছে।

    বাদীপক্ষ অন্য ডিং ১৬/১৫ নম্বর মামলার রায় ডিক্রি প্রাপ্ত হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা করেন। যা বিবাদীপক্ষ অবগত ছিল না এবং অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা পরিচালনা সংক্রান্তে বিবাদী পক্ষ আদালত থেকে কোনো প্রকার নোটিশ প্রাপ্ত হননি। বিবাদী পক্ষ অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলার দখলি পরোয়ানার বিষয়বস্তু জানতে পেরে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের নিমিত্তে অন্য ৯৫/২৪ নম্বর মামলায় দরখাস্ত আনয়ন করলে, আদালত ২৩ সেপ্টেম্বর/২৫ শুনানির জন্য ধার্য করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ স্থগিতের দরখাস্তের বিষয় জানতে পেরে নালিশী ভূমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টম্বর/২৫ আদালত হতে দেনদার পক্ষের নালিশীয় চার শতাংশ জমির উপর চারটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও, নালিশীয় চার শতাংশের অভ্যন্তরে ওই ৩টি টিনের চালাঘরসহ আরও বেনালিশীয় আটটি টিনের চালাঘর ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং নালিশের বাইরের ভূমির গাছপালাও কেটে ফেলা হয়। এতে বিবাদীপক্ষের প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। আদালতের নির্দেশে ডিক্রিদার পক্ষে চার শতাংশ জমির উপর স্থাপনা উচ্ছেদের সময় জমি পরিমাপ করে বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু বলাই বাহুল্য, যারা অপসারণের দায়িত্বে ছিল আদালতের আদেশ আইনানুগভাবে পালন না করায় চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিবাদীপক্ষ। তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের আদেশ ভুলভাবে বাস্তবায়নে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করলেও, আদালতের প্রতি ন্যায় বিচারে যথেষ্ট আশাবাদী তারা।

  • আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    • ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থেকে চালাচ্ছেন পরিষদের কার্যক্রম। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সেবাসহ পরিষদের কাগজপত্র গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কোনো রকমে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অন্যদিকে কাগজে-কলমে গ্রাম আদালত পরিচালনা হলেও বাস্তবে পরিষদ থাকে বন্ধ। জনগণের সেবায় পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্যভাবে চালানো হচ্ছে পরিষদ। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চিত্রটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম আদালত পরিচালনার রুম তালাবদ্ধ। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকালে পরিষদের রুমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় শুধু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের রুম খোলা পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান যাদু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অদৃশ্য স্থান থেকে পরিচালনা করছেন। তিনি এক বছর ধরে পরিষদে আসেন না। তবে পরিষদের কাগজপত্র একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়।গ্রাম আদালত পরিচালনা নেই বললে চলে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবার কাগজপত্রে জনগণকে বুড়িরহাটে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে পরিষদের এলেও পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি থাকেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ অন্যান্য সভায় রয়েছেন প্রায় ৮ মাস ধরে অনুপস্থিত। তবু তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে।ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকাবাসী একরামুল জানান, চেয়ারম্যান অনেক দিন ধরে অফিসে আসে না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। জনগণ যেখান থেকে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে পাচ্ছে ভোগান্তি। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে যখন দেখছেন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, তখন তাদের বুড়িরহাটে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।গ্রাম পুলিশ আব্দুল ওহাবকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি কাগজপত্র চেয়ারম্যান সাহেবে যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি। আমাকে সচিব কাগজ দেন, আমি স্বাক্ষর নিয়ে আসি।হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোর্শেদুল হক বলেন, আমরা জনগণকে সেবা দিচ্ছি। প্রথমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করেন। অফিসের সব রুমে তালাবদ্ধ, কেউ কি অফিসে আসেন না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সচিব ম্যাডাম কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। গ্রাম আদালতের সব মামলা মীমাংসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আজ গ্রাম আদালত বসেনি। নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেয়া রয়েছে, জনগণ এলে দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান না আসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবায় একটু হলেও ভোগান্তি হচ্ছে।ইউপি সচিব আনোয়ারা বেগম জানান, চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন। জনগণের অতি প্রয়োজন হলে বুড়িরহাটে তার নিজস্ব অফিসে পাঠানো হয়। নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি অফিস থেকে কিছুক্ষণ আগে বাড়ি এসেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে এ রকম অভিযোগ আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি। উপজেলা পরিষদের সভায় তিনি প্রতিনিধি পাঠান। ওই চেয়ারম্যানের সাথে এখন পর্যন্ত আমার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কেন অফিস বন্ধ থাকে, কেন তিনি উপস্থিত থাকছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।