নেত্রকোণা

Netrokona district

  • সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন

    সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার জেলার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাব্বির আলম, দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন অর রশিদ, এনটিভি তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামাউন আহমেদ, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন, দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক মো: আ: মান্নান, গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস, কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক, দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি মো: বাবুল মিয়া ও দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

    এসময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধ, আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারে মাদক-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ,আর

  • মদনে সাংবাদিক হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবিতে  মানববন্ধন

    মদনে সাংবাদিক হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার মদন উপজেলায় কর্মরত রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে ক্লাব প্রাঙ্গনে মদন-কেন্দুয়া সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মো: সাকের খানের সঞ্চালনায় মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সভাপতি নূরুল হক রনুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফয়েজ আহমেদ হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন আহমেদ, খোলা কাগজ প্রতিনিধি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর পনির, প্রতিদিনের সংবাদ প্রতিনিধি ও অর্থ সম্পাদক নূর মুহাম্মদ জরিপ, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি ও সম্মানিত সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

    সভাপতি নূরুল হক রনু বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে নিহত সাংবাদিক এর আগেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করা হতে পারে বলে অবগত করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জানা যায়, গতকাল অপূর্ব নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমরা সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল আসামিদের গ্রেফতার ও ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এ,আর

  • মদনে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    মদনে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পুকুর থেকে মিজানুর রহমান (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌর এলাকার বৈশ্যপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মিজানুর রহমান পৌর এলকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোকন মিয়ার ছেলে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তবে মিজান মাদকাসক্ত ছিল। সম্ভবত নেশার ঘোরে পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পার বলে অনেকে ধারণা করছেন।

    মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, সংবাদ পেয়ে পুকুর থেকে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর হয়তো মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ,আর

  • মোহনগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি

    মোহনগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং হত্যার হুমকি দিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মো: রাকিব মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত রাকিব উপজেলার সহিলদেও ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

    গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে রাকিবের সাথে ওই তরুণীর সম্পর্ক ছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর রাকিব পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করে সম্পর্ক রাখার কথা বলেন।

    একপর্যায়ে গত ৮ জুন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জেরে ওই তরুণীর স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

    অভিযোগে আরো বলা হয়, স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব একাধিকবার ওই তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে রাকিব তাকে হুমকি দিলে ওষুধ সেবনের পর তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর তরুণী রাকিবের চেম্বারে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাকিব তাকে গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। বর্তমানে রাকিব মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে আছেন। তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

    মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নারীর লাশ উদ্ধার

    নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনায় নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের নদীর তীরের শ্মশান ঘাটের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌর এলাকার কাটলী গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তার সাবেক স্বামী নগুয়া গ্রামের নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তিনি।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার দিন গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাবেক স্বামী নুরুল খোরপোশের টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাজুকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর তার ভাই শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এরপর মডেল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

    জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নুরুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তার সাবেক স্ত্রীকে টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে নগুয়া গ্রামের নদীর তীরে শ্মশান ঘাটের পাশে লাশ পুঁতে রাখেন তিনি।

    এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ নুরুলের উপস্থিতিতে তার দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করে।

    শনিবার নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কী কী কারণ থাকতে পারে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মদনে রোগাক্রান্ত গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মদন পৌর শহরের দেওয়ান বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম ভোক্তা অধিকার আইনে এ জরিমানা আদায় করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, পুলিশের এএসআই জাকির হোসেন, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    জানা যায়, মদন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার হাট বসে। প্রতি সপ্তাহেই এই হাটে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে কসাই পারভেজ মিয়াসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি রোগাক্রান্ত গাভী জবাই করার পায়তারা করে পারভেজ মিয়া। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলের নজরে এলে তারা বাধা দেয়।

    পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাভীর ভিডিও পোস্ট করে এবং সচেতন নাগরিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনকে খবর দেয়। এমন খবরে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নাদির হোসেন শামীম উপস্থিত হয়ে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    এ ব্যাপারে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এ সময় একটি রোগাক্রান্ত গরু দেখতে পাই। তাছাড়া তার দোকানে রাখা গোশতও প্রাণিসম্পদ কর্তৃক পরিক্ষিত নয়। তাই ভোক্তা অধিকার আইনে পারভেজ মিয়া নামে এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ,আর

  • খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ২৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আবারো দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে রাণীচাপুর গ্রামের মো: নূরুল হকের ছেলে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের এক গ্রুপের চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান এবং অপর পক্ষের সাথে শ্রমিক দলের চাকুয়া ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা রয়েছেন। লিগেল মিয়ার বাবা জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য বলেও জানা গেছে।

    খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার জানা মতে, লিগেল মিয়ার বাবা মো: জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।

    ঘটনার খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দিয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

    শাহ আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক বিষয়টি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।’

    দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়ার পর রাতেই দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডোবায় পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    মৃতরা হলো জাহেরপুর গ্রামের মো: সেলিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৫) ও একই গ্রামের মো: সেকুল মিয়ার ছেলে শাহাদত (৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওবায়দুল্লাহ ও শাহাদত উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। খবর পেয়ে এসআই মন্জুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    খালিয়াজুড়ী থানার ওসি নাসিরউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি কার্যক্রম শেষে দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে পুরনো গোরস্থানের আধিপত্য বিস্তার ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) আয়তনের পুরোনো গোরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেয়।

    পানেশ্বর পাড়ার দাবি, এটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের তাণ্ডব থেকে বিয়ের বাড়ির গেট এবং গরুর খামারও রক্ষা পায়নি। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে।

    এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামেরই ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, গোরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লাখ টাকার মাটি কাটিয়েছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দেয়াল ও পিলারের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমগড়ার লোকজন জোরপূর্বক সেখানে দোকান করতে চায়। আজ সকালে যুবলীগ নেতা জুঁই, জনি ও কামাল পাশার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করেন, গোরস্থানের সঠিক দলিল তাদের নামেই রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে তারা এর সুষ্ঠু সমাধান চান।

    অন্যদিকে, আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আমাদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে দরবার হয়েছিল। আমগড়া ও নল্লাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানেশ্বর পাড়ার মানুষদের গোরস্থানটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন সেখানে পৌঁছালে মারামারি শুরু হয়।

    রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল পাঠান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা বর্তমানে থমথমে থাকলেও পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে ও কাইলাটী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— সাপমারা গ্রামের নান্টু মিয়ার ছেলে মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি (৫৫) ও কুতুবপুর গ্রামের মরহুম জয়নাল আবেদিনের ছেলে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া (৫৩)।

    জানা যায়, মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তার লাশ উদ্ধার করে।

    অপরদিকে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া একই সময় বৃষ্টির মধ্যে বিলে পেতে রাখা জাল তুলতে যান। এ সময় বজ্রপাতে বিলের মধ্যেই তিনি আহত হন। পরে বৃষ্টি শেষে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে ওই দুই পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

    নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন সরকার সাংবাদিকদের জানান, বজ্রপাতে সদর উপজেলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

  • মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদকাসক্ত এক যুবকের হামলায় তাঁর বাবা ও স্ত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাবাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইমামুল (৩০)। তিনি কালিহালা গ্রামের আবুল হাসেমের (৬০) ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও আবুল হাসেমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রী, মা–বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালান। গতকাল গভীর রাতে স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা চান ইমামুল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় ইমামুল।

    ওই সময় ইমামুলকে থামাতে যান তাঁর বাবা আবুল হাসেম। এ সময় হাসেমকেও মারধর করেন ইমামুল। পরে স্থানীয় লোকজন হাসেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

    আবুল হাসেম বলেন, ‘একটি ঘর থেকে দা এনে ইমামুল আমাকে কোপাতে চায়। প্রাণভয়ে আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে সে দরজা ভেঙে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার হাতের আঙুল কেটে যায়। ইমামুলের কারণে আমরা পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ইমামুলের দুই শিশুসন্তান আছে। তার ভয়ে শিশুরা বেশির ভাগ সময় তাদের মামার বাড়িতে থাকে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ইমামুল অটোরিকশাসহ জমিজমা অনেক কিছুই নষ্ট করেছে, এখন আমি নিঃস্ব।’
    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমামুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন।

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

  • পূর্বধলায় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ

    পূর্বধলায় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ

    নেত্রকোনার পূর্বধলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগ রাত ১২টা ১ মিনিটে জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় পূর্বধলা উপজেলার তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা অমানুর রশিদ খান জুয়েল সমর্থিত আওয়ামী লীগ (একাংশ) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্বধলা জগত পানি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারকে বেছে নেয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দলীয় ব্যানার নিয়ে আসতে দেখা না গেলেও, রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের বেদীতে দলটির নামে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। এটি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

    এ ঘটনার পর পূর্বধলা সদরের প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

  • ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন মীর মো. আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায়। ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন কৈশোর থেকে পারিবারিক নীতি বিচ্যুত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ছোটনকে ত্যাজ্য করে আব্দুল মালেক একটি অ্যাফিডেভিট করেন; যার নাম্বার ৩১০।

    পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে তার দাবি- দাওয়া আদায়ে অসদাচারণের কারণে তার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে তিক্ততার সম্পর্ক চলমান রয়েছে। এসব কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বলে অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মালেক।

    নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ অ্যাফিডেভিট করেন মীর মো. আব্দুল মালেক।

    অ্যাফিডেভিটে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ছেলে ছোটন তার নিষেধ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ছেলে কোনো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না।

  • বউভাতে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, কনের বোনসহ আহত ১৫

    বউভাতে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, কনের বোনসহ আহত ১৫

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বউভাতের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ায় কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কনের ছোটবোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।উপজেলার সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের উতিয়ারকোণা গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত সোমবার উতিয়ারকোণা গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়ার (২২) সঙ্গে পাশের মেদী পাথরকাটা গ্রামের মো. আব্দুল হেকিমের মেয়ের বিয়ে হয়। পরদিন গত মঙ্গলবার বিকালে বরের বাড়ি উতিয়ারকোণা গ্রামে বউভাতের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে যান কনেপক্ষের লোকজন।

    এ সময় কনেপক্ষের লোকজন প্লেটে মাংস কম দেওয়া ও ভাতে দুর্গন্ধের অভিযোগ তোলেন। এসব নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কনের ছোট বোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

    বুধবার এ বিষয়ে বরের বাবা সবুজ মিয়া বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আমার ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠান চলাকালে খাবার খেতে বসে কনেবাড়ির লোকজন আমাদের লোকজনের সঙ্গে অহেতুক তর্কবিতর্ক করে একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকে। এত টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠান করলাম, কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানই মাটি হয়ে গেল।

    এদিকে কনের চাচা গোলাম মোস্তফা বলেন, বরের বাড়িতে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এটি খুবই লজ্জাজনক।

    মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, তারা বউভাত অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

  • বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

    নেত্রকোনার মদনে বাড়ির সীমানাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মঞ্জু মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার উপজেলার মাঘান ইউনিয়নে পদারকোণার নয়াপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন নামে ১ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন নামে ১ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

  • কুকুরের কামড়ে এক দিনেই আহত ২০

    কুকুরের কামড়ে এক দিনেই আহত ২০

    নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় হঠাৎ করে কুকুরের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও ১৫ বছরের নিচের কিশোর–কিশোরীর সংখ্যাই বেশি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় ঘুরে বেড়ানো বেশির ভাগ কুকুরই পূর্ণবয়স্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো উসকানি ছাড়াই পথচারীদের ওপর হামলে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের একা বাইরে যেতে দিতে অভিভাবকেরা ভয় পাচ্ছেন।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কুকুরের উপদ্রব নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তবু এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

    কুকুরের কামড়ে আহত স্থানীয় সাংবাদিক কাওসার তালুকদার বলেন, আমি পৌর শহরের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এসে কুকুর আমাকে আক্রমণ করে মারাত্মক আহত করেছে। পরে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। অতিরিক্ত মূল্যে কিনে এনে ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। তাছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

    এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, কুকুরের উপদ্রব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করারও পরামর্শ দেন।

    এদিকে কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা নিয়েও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

    এ অবস্থায় দ্রুত কেন্দুয়ায় বিনামূল্যে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

    m

  • নিজ এলাকায় ঈদ করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

    নিজ এলাকায় ঈদ করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। তিনি কলমাকান্দা উপজেলা সদরের চত্রংপুরে নিজ গ্রামে অবস্থান করছেন।আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এ দিন সকালে চত্রংপুর ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।

    ঈদের দিনই তার ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে। দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি এলাকায় জিবিসি উইমেন্স সোসাইটির বার্ষিক মহিলা ক্যাম্পের ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এ সময় হিন্দু-মুসলিম, গারো ও হাজংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

    পরে বিকালে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়নে গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

    এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বুধবার থেকে তিনি কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিল, দোয়া অনুষ্ঠান এবং সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্তে তারা আনন্দিত। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার এমন সরাসরি সম্পৃক্ততা জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

    উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিয়মিতভাবে তার নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে

  • নেত্রকোনায় বজ্রপাতে কৃষকসহ ২ জনের মৃত্যু

    নেত্রকোনায় বজ্রপাতে কৃষকসহ ২ জনের মৃত্যু

    নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে কৃষকসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুর্গাপুরে এক যুবক ও খালিয়াজুরিতে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা যান।

    জেলার দুর্গাপুরে বজ্রপাতে আকাশ মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত আকাশ মিয়া ওই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন মিয়া।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আকাশ মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে কাজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধানখেতের পাশে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, তাকে হাসপাতালে আনলে পরীক্ষা নিরীক্ষার করে মৃত পাই। বজ্রপাতে মৃত্যুর লক্ষণ ওই ব্যক্তির শরীরে পাওয়া গেছে।

    দুর্গাপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার পাঙ্গাসিয়া হাওড়ে শুক্রবার বিকালে আকস্মিক বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, খালিয়াজুরী উপজেলা চাকুয়া ইউনিয়নের নলসিটি হাওর থেকে গরুকে ঘাস খাওয়ানো শেষে গরু নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে চাকুয়া গ্রামের রাজেন্দ্র সরকারের ছেলে কৃষক সুদিন সরকার (৪৩) বজ্রপাতে ঘটনাস্থল গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয় কৃষকরা আহত অবস্থায় সুদিন সরকারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বজ্রপাতে দুজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

  • মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

    মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

    ‘মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য’ এই কথাটি যেন আজ সত্যিতে রূপ নিল। মায়ের দেওয়া কিডনিতেই জীবন ফিরে পেয়েছে ছেলে কৃষ্ণ হাজং। কিডনি প্রতিস্থাপনসহ সামগ্রিক চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এক মায়ের নিজের কিডনি দানের মতো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অন্যদিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মতো জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার এক আদিবাসী যুবক কৃষ্ণ হাজং।

    বুধবার (২৫ মার্চ) দীর্ঘ চিকিৎসার পর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষ্ণ হাজং।

    নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা, মা, স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার। হঠাৎ করেই জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো।

    প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে কৃষ্ণের পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে গত বছরের মে মাসের শেষদিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

    অসহায় কৃষ্ণের নিভু নিভু জীবনের কথা জানতে পারেন তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় এই মানুষটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত ১৮ জুন থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) কৃষ্ণের নতুন করে চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস শুরু হয়।

    চিকিৎসকরা জানান, কৃষ্ণকে বাঁচাতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ছেলের করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারেননি তার গর্ভধারিণী মা। নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার একটি কিডনি সন্তানকে দান করবেন।

    টানা আট মাস চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ২ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের দিন ধার্য হয়। দীর্ঘ সময়ের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পুরো এই প্রক্রিয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    অবশেষে বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান কৃষ্ণ হাজং। আনন্দঘন ও আবেগাপ্লুত মুহূর্তে হাসপাতালে ছুটে যান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় কৃষ্ণের মা দুই হাত তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে মানবিক নেতাকে আশীর্বাদ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের বিদায় জানান।

    মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবসময় তার চিকিৎসার অগ্রগতির সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি। সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবার কাছে অনুরোধ, আসুন আমরা প্রার্থনা করি- কৃষ্ণ হাজং সুস্থ হয়ে যেন তার পরিবারের হাল ধরতে পারেন।

  • গাছের সঙ্গে ধাক্কা, মিলল কাভার্ডভ্যানভর্তি ভারতীয় শাড়ি

    গাছের সঙ্গে ধাক্কা, মিলল কাভার্ডভ্যানভর্তি ভারতীয় শাড়ি

    নেত্রকোনার বারহাট্টায় চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে অবৈধপথে আসা কাভার্ডভ্যানভর্তি ভারতীয় শাড়ি-কাপড় জব্দ করেছে পুলিশ। গাছের সঙ্গে ধাক্কার পর স্থানীয়দের তল্লাশিতে এসব অবৈধ শাড়ি-কাপড়ের হদিস মেলে।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাঁকুড়াবাজারে এসব কাপড় জব্দ করা হয়। পাচারের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

    এ সময় কাভার্ডভ্যানের চালক ইব্রাহিম (২৫) ও সহকারী সাব্বিরকে (২৭) আটক করা হয়। তাদের বাড়ি গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায়।

    পুলিশ, এলাকাবাসী ও আটক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্ত এলাকায় নৌকা থেকে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস ভর্তি করে একটি কাভার্ডভ্যান গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বারহাট্টা উপজেলার কাঁকুড়া এলাকার একটি গাছের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানটির ধাক্কা লাগে।

    স্থানীয় লোকজন এটি আটকে ভেতরে কী আছে জানতে চান। তাৎক্ষণিক সঠিক জবাব দিতে না পারায় লোকজন কাভার্ডভ্যানটি খুলে ভেতরে চোরাচালানের পণ্য দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় এর চালক ও সহকারীকেও আটক করে।

    থানায় নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি খুলে এতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস দেখতে পায় পুলিশ।

    থানায় আটক চালক ইব্রাহিম বলেন, ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে পণ্যগুলো নিয়ে রওনা হই। সব জায়গায় আমাদের সহযোগী রয়েছে। তারা পথ দেখিয়ে দেয়। সহযোগীদের দেখানো পথে বারহাট্টার কাঁকড়া এলাকায় এসে কাভার্ডভ্যানটি একটি গাছে ধাক্কা লাগে। এতেই এলাকাবাসী সন্দেহ করে এটি আটক করে। চার-পাঁচ দিন ধরে ঘুম নেই। ফলে রাস্তায় গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগে।

    বারহাট্টা উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মী আজিজুল হক ফারুক বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার চোরাচালানের মালামাল ভর্তি গাড়ি আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। বারবার এলাকার লোকজনই চোরাচালানের পণ্য আটক করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নজরদারি বাড়ানো উচিত।

    বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমি গ্রামপুলিশের মাধ্যমে খবর পাই একটি ট্রাক সড়কের পাশের একটি বাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে একটি ঘরের ক্ষতি করেছে। পরে তাড়াহুড়ো করে তারা জরিমানা দিয়ে চলে যেতে চাইলে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আমি বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে নিয়ে যায়।

    বারহাট্টা থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, শাড়ি, কাপড় ও থান কাপড় জব্দ করার সময় সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। জব্দ করা শাড়ি, থ্রিপিস ও থান কাপড় জব্দের তালিকা প্রস্তুতি চলছে।

    নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, জব্দকৃত ট্রাকের মালামাল স্থানীয় লোকজন এবং গণমাধ্যমের কর্মীদের সামনে খোলা হয়েছে। এখন জব্দকৃত মালামালের তালিকা চলছে। ভবিষ্যতেও অবৈধপথে আসা কাপড়সহ মাদক বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    নেত্রকোনার আটপাড়ায় সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে শুনই ইউনিয়নের কালিয়াখালী গ্রামের কালিয়াখালী খালে এ ঘটনা ঘটে। মৃত হৃদয় মিয়া ওই গ্রামের সজলু মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানান, রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে খালে পানি সেচ দিচ্ছিলেন হৃদয়। এ সময় সেচপাম্পে বৈদ্যুতিক সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে অসাবধানতাবশত তিনি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজন ও আশপাশের লোকজন তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে আটপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পানি সেচ দিতে গিয়ে হৃদয় মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় আটপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

  • নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার অনন্য এই মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম ‘বালিশ মিষ্টি’। সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লা থেকে একেবারেই ভিন্ন এই মিষ্টি এখন নেত্রকোনার সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও উপহারের অপরিহার্য অংশ। গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এখনো এই মিষ্টি বানানোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

    নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ডিপিডিটিতে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি এর স্বীকৃতি মিলল। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’ তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে তার বাবা নিখিল চন্দ মোদক এবং এখন তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসাবে তুলে ধরতে কাজ করব।’ এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে বালিশ মিষ্টির এই অর্জন জেলার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক গৌরব যোগ করল। শত বছর আগে গড়ে ওঠা এই মিষ্টি এখন শুধু স্থানীয় স্বাদের সীমায় নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।