ক্যাটাগরি নেত্রকোণা

Netrokona district

  • খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডোবায় পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    মৃতরা হলো জাহেরপুর গ্রামের মো: সেলিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৫) ও একই গ্রামের মো: সেকুল মিয়ার ছেলে শাহাদত (৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওবায়দুল্লাহ ও শাহাদত উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। খবর পেয়ে এসআই মন্জুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    খালিয়াজুড়ী থানার ওসি নাসিরউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি কার্যক্রম শেষে দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে পুরনো গোরস্থানের আধিপত্য বিস্তার ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) আয়তনের পুরোনো গোরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেয়।

    পানেশ্বর পাড়ার দাবি, এটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের তাণ্ডব থেকে বিয়ের বাড়ির গেট এবং গরুর খামারও রক্ষা পায়নি। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে।

    এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামেরই ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, গোরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লাখ টাকার মাটি কাটিয়েছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দেয়াল ও পিলারের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমগড়ার লোকজন জোরপূর্বক সেখানে দোকান করতে চায়। আজ সকালে যুবলীগ নেতা জুঁই, জনি ও কামাল পাশার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করেন, গোরস্থানের সঠিক দলিল তাদের নামেই রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে তারা এর সুষ্ঠু সমাধান চান।

    অন্যদিকে, আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আমাদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে দরবার হয়েছিল। আমগড়া ও নল্লাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানেশ্বর পাড়ার মানুষদের গোরস্থানটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন সেখানে পৌঁছালে মারামারি শুরু হয়।

    রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল পাঠান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা বর্তমানে থমথমে থাকলেও পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে ও কাইলাটী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— সাপমারা গ্রামের নান্টু মিয়ার ছেলে মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি (৫৫) ও কুতুবপুর গ্রামের মরহুম জয়নাল আবেদিনের ছেলে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া (৫৩)।

    জানা যায়, মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তার লাশ উদ্ধার করে।

    অপরদিকে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া একই সময় বৃষ্টির মধ্যে বিলে পেতে রাখা জাল তুলতে যান। এ সময় বজ্রপাতে বিলের মধ্যেই তিনি আহত হন। পরে বৃষ্টি শেষে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে ওই দুই পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

    নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন সরকার সাংবাদিকদের জানান, বজ্রপাতে সদর উপজেলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

  • মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদকাসক্ত এক যুবকের হামলায় তাঁর বাবা ও স্ত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাবাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইমামুল (৩০)। তিনি কালিহালা গ্রামের আবুল হাসেমের (৬০) ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও আবুল হাসেমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রী, মা–বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালান। গতকাল গভীর রাতে স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা চান ইমামুল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় ইমামুল।

    ওই সময় ইমামুলকে থামাতে যান তাঁর বাবা আবুল হাসেম। এ সময় হাসেমকেও মারধর করেন ইমামুল। পরে স্থানীয় লোকজন হাসেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

    আবুল হাসেম বলেন, ‘একটি ঘর থেকে দা এনে ইমামুল আমাকে কোপাতে চায়। প্রাণভয়ে আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে সে দরজা ভেঙে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার হাতের আঙুল কেটে যায়। ইমামুলের কারণে আমরা পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ইমামুলের দুই শিশুসন্তান আছে। তার ভয়ে শিশুরা বেশির ভাগ সময় তাদের মামার বাড়িতে থাকে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ইমামুল অটোরিকশাসহ জমিজমা অনেক কিছুই নষ্ট করেছে, এখন আমি নিঃস্ব।’
    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমামুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন।

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

  • পূর্বধলায় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ

    পূর্বধলায় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ

    নেত্রকোনার পূর্বধলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগ রাত ১২টা ১ মিনিটে জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় পূর্বধলা উপজেলার তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা অমানুর রশিদ খান জুয়েল সমর্থিত আওয়ামী লীগ (একাংশ) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্বধলা জগত পানি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারকে বেছে নেয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দলীয় ব্যানার নিয়ে আসতে দেখা না গেলেও, রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের বেদীতে দলটির নামে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। এটি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

    এ ঘটনার পর পূর্বধলা সদরের প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

  • ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন মীর মো. আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায়। ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন কৈশোর থেকে পারিবারিক নীতি বিচ্যুত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ছোটনকে ত্যাজ্য করে আব্দুল মালেক একটি অ্যাফিডেভিট করেন; যার নাম্বার ৩১০।

    পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে তার দাবি- দাওয়া আদায়ে অসদাচারণের কারণে তার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে তিক্ততার সম্পর্ক চলমান রয়েছে। এসব কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বলে অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মালেক।

    নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ অ্যাফিডেভিট করেন মীর মো. আব্দুল মালেক।

    অ্যাফিডেভিটে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ছেলে ছোটন তার নিষেধ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ছেলে কোনো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না।

  • বউভাতে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, কনের বোনসহ আহত ১৫

    বউভাতে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, কনের বোনসহ আহত ১৫

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বউভাতের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ায় কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কনের ছোটবোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।উপজেলার সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের উতিয়ারকোণা গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত সোমবার উতিয়ারকোণা গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়ার (২২) সঙ্গে পাশের মেদী পাথরকাটা গ্রামের মো. আব্দুল হেকিমের মেয়ের বিয়ে হয়। পরদিন গত মঙ্গলবার বিকালে বরের বাড়ি উতিয়ারকোণা গ্রামে বউভাতের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে যান কনেপক্ষের লোকজন।

    এ সময় কনেপক্ষের লোকজন প্লেটে মাংস কম দেওয়া ও ভাতে দুর্গন্ধের অভিযোগ তোলেন। এসব নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কনের ছোট বোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

    বুধবার এ বিষয়ে বরের বাবা সবুজ মিয়া বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আমার ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠান চলাকালে খাবার খেতে বসে কনেবাড়ির লোকজন আমাদের লোকজনের সঙ্গে অহেতুক তর্কবিতর্ক করে একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকে। এত টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠান করলাম, কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানই মাটি হয়ে গেল।

    এদিকে কনের চাচা গোলাম মোস্তফা বলেন, বরের বাড়িতে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এটি খুবই লজ্জাজনক।

    মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, তারা বউভাত অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

  • বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

    নেত্রকোনার মদনে বাড়ির সীমানাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মঞ্জু মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার উপজেলার মাঘান ইউনিয়নে পদারকোণার নয়াপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন নামে ১ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন নামে ১ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

  • কুকুরের কামড়ে এক দিনেই আহত ২০

    কুকুরের কামড়ে এক দিনেই আহত ২০

    নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় হঠাৎ করে কুকুরের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও ১৫ বছরের নিচের কিশোর–কিশোরীর সংখ্যাই বেশি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় ঘুরে বেড়ানো বেশির ভাগ কুকুরই পূর্ণবয়স্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো উসকানি ছাড়াই পথচারীদের ওপর হামলে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের একা বাইরে যেতে দিতে অভিভাবকেরা ভয় পাচ্ছেন।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কুকুরের উপদ্রব নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তবু এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

    কুকুরের কামড়ে আহত স্থানীয় সাংবাদিক কাওসার তালুকদার বলেন, আমি পৌর শহরের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এসে কুকুর আমাকে আক্রমণ করে মারাত্মক আহত করেছে। পরে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। অতিরিক্ত মূল্যে কিনে এনে ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। তাছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

    এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, কুকুরের উপদ্রব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করারও পরামর্শ দেন।

    এদিকে কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা নিয়েও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

    এ অবস্থায় দ্রুত কেন্দুয়ায় বিনামূল্যে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

    m