ময়মনসিংহ

Mymensingh district

  • গফরগাঁওয়ে ট্রেনের হুক ভেঙে এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ

    গফরগাঁওয়ে ট্রেনের হুক ভেঙে এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির হুক ভেঙে দুটি বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে গফরগাঁও-ধলা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে বড়তলা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এইচ এম বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। পরের ধলা রেলওয়ে স্টেশনের পৌঁছানোর আগে হঠাৎ দুটি বগির হুক ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ত ও থ বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়। বিষয়টি ট্রেন চালকের নজরে এলে তিনি দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

    এদিকে ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় ওই রেলপথে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ওই পথে চলাচলকারী অন্য ট্রেনও কিছু সময়ের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো: হানিফ মিয়া বলেন, ‘ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গফরগাঁও-ধলা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ বগির হুক ভেঙে দুটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চালক বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বগিগুলোর সংযোগ হুক মেরামতের জন্য রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে মেরামতের কাজ শেষ হলে ট্রেনটি পুনরায় নির্ধারিত গন্তব্য দেওয়ানগঞ্জগামী উদ্দেশে ছেড়ে যায়।’ এ,আর

  • ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    ত্রিশালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ শ্রমিক নিহত,৯ জন আহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে শ্রমিকবাহী লেগুনায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আহত হয়েছেন আরো নয়জন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গুজিয়াম এলাকার বগার বাজারে নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাইম মিয়া (২৩) ও ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিগুরকান্দা গ্রামের রায়েরগ্রাম এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে কামাল ফকির (৪০)।

    আহতরা হলেন— গফরগাঁওয়ের সান্তা (২১), লিজা (২২), হাজেরা (৪৩), রুজিনা (৩০), শালিনা (২৭), আকলিমা (৩৬), অজুফা (৩০), রাসেল (২১) ও ত্রিশালের তাসলিমা (২২)।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের বগার বাজার এলাকার দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা রাতের পালার কাজ শেষে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি লেগুনায় ওঠেন। লেগুনাটি নিগারজামান ফিলিং স্টেশনের সামনে ইউটার্ন নেয়ার সময় উল্টো পথে আসা ময়মনসিংহগামী একটি কাভার্ড ভ্যান সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হন নারীসহ আরো নয়জন।

    খবর পেয়ে ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

    দাবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের এজিএম সেলিম আল রাজী জানান, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য মিলের একজন কর্মকর্তা হাসপাতালে রয়েছেন।

    ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, নিহত দু’জনের লাশ বডিব্যাগসহ ত্রিশাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, নিহতদের লাশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।

    ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ ২০২৬-২৭ মৌসুমে খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতায় পড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি অফিসে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকের তালিকা চাওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ।

    একদিকে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘কৃষকের অ্যাপ’ দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। অন্যদিকে, উপজেলা খাদ্য অফিসের বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা তোয়াক্কা না করে নিজস্ব পছন্দসই লোক দিয়ে ভুয়া লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ফলে তালিকা প্রণয়নে চরম অনীহা ব্যক্ত করছেন ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ময়মনসিংহে আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই হাজার ২৫৬ টন। জেলার ১৩টি উপজেলার ১৯টি গুদামে একযোগে চলে ধান সংগ্রহ অভিযান। তবে চলতি বছর আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক করেনি সরকার।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আমন সংগ্রহ মৌসুমে ‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী ইউনিয়নওয়ারি আবাদকারী প্রকৃত কৃষকের তালিকা আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দুই উপায়ে কৃষক নির্বাচন করার কথা— খাদ্য বিভাগের ডিজিটাল মাধ্যম ‘কৃষকের অ্যাপ’ এবং উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণীত আবাদকারী কৃষকের তালিকা। কিন্তু ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, গফরগাঁও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা, নান্দাইল ও হালুয়াঘাট এই ১৩টি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইলে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ইন্সটল করার পর তা খোলেই না। সার্ভার ত্রুটি ও কারিগরি জটিলতায় অ্যাপটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ চাষিরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অ্যাপ বিকল হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহের পুরোটাই নির্ভর করার কথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তালিকার ওপর। কিন্তু এতেও তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ। জেলার একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছর আবাদকারী প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আমরা কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য অফিস সেই তালিকা অনুযায়ী ধান না কিনে নিজেদের সুবিধাজনক লোকজনের তালিকা তৈরি করে লটারির নামে ধান সংগ্রহ দেখায়।

    পরবর্তীতে অভিযোগ উঠলে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অভিযোগ, তাদের পাঠানো হাজার হাজার কৃষকের তালিকা থেকে ৭০-৮০ শতাংশের বেশি নাম বাদ দিয়ে নামমাত্র কয়েকজন কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়। বাকি জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী ও খাদ্য অফিসের সিন্ডিকেটের লোকজনকে জায়গা দেওয়া হয়। এ কারণে প্রতিবছর কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের অসন্তোষের মুখে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন করে পুনরায় কৃষকের তালিকা তৈরিতে অনীহা দেখাচ্ছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

    ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় দুই লাখ ৭০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ কৃষক রয়েছেন। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও হয়রানির কারণে সাধারণ কৃষকরাও খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার কয়েকজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে মাঠপর্যায় থেকে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিলিয়ে নিখুঁত তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান জমা নেওয়ার সময় আমাদের সেই তালিকার কোনো প্রতিফলন থাকে না। খাদ্য অফিস নিজেদের মতো করে তালিকা বানিয়ে লটারির অজুহাত দেয়। কৃষকরা এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। যদি আমাদের তালিকাই মূল্যায়ন না করা হয়, তবে প্রতিবছর এমন নিষ্ফল তালিকা পাঠানোর কোনো মানে হয় না।’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, প্রতিবছর আমরা যে তালিকা দেই; সে অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। অনেক কৃষক আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা তুলে মাত্র ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। আর ধান দিতে গেলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

    অন্যদিকে, অ্যাপ সচল না থাকা ও কৃষি কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান জানান, অ্যাপের কারিগরি দিকটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। আর সংগ্রহ নীতিমালার আলোকেই উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমেই কৃষক চূড়ান্ত করা হয়। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। অ্যাপ-এর কার্যক্রম সারা বছর বন্ধ থাকে, নির্দিষ্ট সময়ে এটি খুলে দেয় সরকার।

    স্থানীয় নাগরিক নেতা ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, ডিজিটাল ‘কৃষকের অ্যাপ’ সচল না থাকা এবং কৃষি ও খাদ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছে। আর সরকারের আসল উদ্দেশ্য কৃষককে ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়া—তা ভেস্তে যেতে বসেছে। অবিলম্বে অ্যাপটি সচল করা এবং কৃষি অফিসের প্রেরিত প্রকৃত কৃষকদের শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম জানান, আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধার নিলেও এসব তাদেরকে আমরা চিনি না। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের তালিকা নিতে হয়।

  • নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্বশত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়া হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    মামলার তদন্ত শেষে আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল। এ,আর

  • ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত

    ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাকে গাজীপুরে নিজের কাছে নিয়ে যেতে গতকাল শুক্রবার সকালে জামালপুরের দড়ি হামিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। সাথে ছিলেন তার মেয়ে মর্জিনা আক্তার ও পাঁচ বছরের নাতি মিনান। কয়েক ঘণ্টার সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একই পরিবারের চার প্রজন্মের চারজনসহ সাতজন নিহত হন।

    নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), নাতনি মর্জিনা আক্তার (২৫) ও প্রপৌত্র মিনান (৫)।

    এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্য তিনজন হলেন অটোরিকশাচালক সুজন আলী (৪৪), আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

    মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘মাকে নিজের কাছে বেড়াতে নিতে এসেছিল। মেয়ে ও নাতিও সাথে যাওয়ার বায়না ধরেছিল। তিনজনকে নিয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, সেটি তারা বুঝতে পারেনি।’

    শুক্রবার সকালে মাকে সাথে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মোফাজ্জল। পরিবারের স্বাভাবিক একটি যাত্রা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিণত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষের শব্দ ছিল বিকট। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রীরা।

    প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুসহ এক নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। রাতেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    শনিবার সকালে জামালপুরের রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয় একই পরিবারের চারজনকে। যে বাড়ি থেকে আগের দিন তারা গাজীপুরের পথে বের হয়েছিলেন, সেখানেই ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সড়কের বাঁকে দ্রুতগতিতে আসা দুই যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    দুর্ঘটনার পর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দায়িত্বশীলতা, যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের বৈধ কাগজপত্র এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হবে।

    একই পরিবারের চারজনকে একসাথে হারানোর ঘটনায় দড়ি হামিদপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি যেন অবিশ্বাস্য এক বাস্তবতা। যাদের সাথে প্রতিদিন দেখা ও কথা হতো, তাদের এভাবে একসাথে হারানোর ঘটনায় স্তব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী।

    একটি সড়ক দুর্ঘটনা একসাথে কেড়ে নিল একটি পরিবারের চার প্রজন্মের চারটি প্রাণ। আজ পাশাপাশি চারটি কবর যেন সেই শোকেরই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।

    মাকে নিতে বেরিয়ে যারা ঘর ছেড়েছিলেন, তারা আর ফিরে এলেন না। ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে—এক পরিবারের চার প্রজন্মের চারজন। এ,আর

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ময়মনসিংহে ২২ নিয়োগপ্রার্থীর আমরণ অনশন

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ময়মনসিংহে ২২ নিয়োগপ্রার্থীর আমরণ অনশন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহে নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ২২ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থী। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    বুধবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

    অনশনকারীদের থেকে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও একই প্রক্রিয়ার ২২ জন প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি।

    তাদের দাবি, দেশের অন্যান্য জেলায় সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ময়মনসিংহে তাদের ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। কেন তাদের নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কার্যালয় থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    অনশন কর্মসূচিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় আমরা ২৫৯ জন সুপারিশ পেয়েছিলাম। প্রথম ধাপে ২১৯ জন ও পরে আরও দুজন নিয়োগ পেলেও আমরা ২২ জন কোনো কারণ ছাড়াই বাদ পড়ে আছি। আমরা আজকের মধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে পেতে চাই। এটি ছাড়া আজ এখান থেকে কেউ ফিরব না। প্রয়োজনে না খেয়ে মারা যাব, তবুও কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    একই দাবি জানিয়ে আরেক অনশনকারী হাসি আক্তার বলেন, ‘অন্যরা নিয়োগ পেয়ে স্কুলে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। কারণটাও আমাদের জানানো হচ্ছে না। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশনস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরব না।’

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ওই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে পরে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; অন্যথায় বর্তমান সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।’

    শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অনশনকারীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। আমাদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি সচিব, মহাপরিচালক ও মন্ত্রী মহোদয়সহ জাতীয় পর্যায়ে অবহিত রয়েছে।’

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অত্যন্ত গোপনীয় নথি। ওই প্রতিবেদনে ঠিক কী উল্লেখ রয়েছে, তা আমাদের জানা বা প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে অবগত আছেন, আমরা শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।’ এ,আর

  • ময়মনসিংহে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

    ময়মনসিংহে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম এল বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার মো: মারুফ (২১) ও স্বাধীন (২০)।

    মামলার এজাহার ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট সকালে ওই ছাত্রীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে মারুফ ও স্বাধীন ঘরে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ভুক্তভোগীর মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন আদালতে বিচারাধীন থাকার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। রায়ের পর মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলো। এ,আর

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভালুকা সদর ইউনিয়নের খারুয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- ধনু আকন্দ (৬৫) ও শাহাব উদ্দিন আকন্দ (৬৩)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির উত্তর পাশে কৃষিজমিতে কাজ করতে যান খারুয়ালী গ্রামের মৃত মজিদ আকন্দের ছেলে ধনু আকন্দ।

    এ সময় জমিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে একই বাড়ির চাচাতো ভাই মৃত আজিজ আকন্দের ছেলে শাহাব উদ্দিন আকন্দ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় শিক্ষক মো. জান্নাতুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সকাল ৯টার দিকে তিনি পল্লী বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

    বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানানো হলেও তারটি সরানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অফিসের কারও অবহেলা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • ভালুকায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ভালুকায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় মো: রতন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের ধলিকুড়ি গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রতন মিয়া ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের লোকজন রতন মিয়ার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে আড়ার সাথে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী জানান, কিছুদিন আগে ছেলেটার মা মারা গেছে। সে দিনমজুরির কাজ করত, তার স্ত্রী ও একটি শিশু সন্তান রয়েছে। কী কারণে সে মারা গেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

    ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: ইসমাইল হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কারখানা শ্রমিক নিহত

    ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কারখানা শ্রমিক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কাঠালী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আনোয়ার হোসেন ফুলপুর উপজেলার কালনাজানি গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে।

    জানা গেছে, আনোয়ার ভালুকার একটি কারখানার সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। সকালে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে কারখানার উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভালুকার দিকে আসছিলেন তিনি।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির মধ্যে সংঘর্ষ হলে আনোয়ার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখানে নেয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • ভালুকায় ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে শিহাব উদ্দিন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শিহাব উদ্দিন দক্ষিণপাড়া এলাকার শরীফুল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সবার অজান্তে শিহাব বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি পর পরিবারের লোকজন ওই ডোবা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পাশের সখিপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মাসুদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মো: নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি সম্পর্কে তার নাতি হয়।

    ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ,আর

  • মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতা মো: জাকির হোসেনের দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ তিন টন সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জাকির ওই এলাকার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

    জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে অভিযানে জাকিরের দোকান মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি, ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও সাত বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জাকিরকে না পাওয়ায় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ইউএনও বলেন, ‘এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ইছাখালি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। এ সময় আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।

    তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ সময় ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়।

    জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও সচল আছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও সড়কে উপজেলার কানিহারী তিরখী কালিরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জসিম (৩৮) সদর উপজেলার ২৩নং ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তিরখী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যুবলীগ নেতার গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ শত ৫৫ কেজি সার জব্দ করেছে পুলিশ।

    রোববার দুপুড়ে উপজেলার পালুহাটি বাজারের ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন (৪৫) এর গোডাউন থেকে এসব সার জব্দ করা হয়। সুজন অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি পালুহাটি গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

    জানা যায়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস আফিয়া আমীন পাপ্পার নেতৃত্বে পালুহাটি বাজারে অভিযান চালায় গৌরীপুর থানা পুলিশ।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান- অবৈধ সার মজুদের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদসহ গৌরীপুর থানা পুলিশ নিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযানের পূর্বেই খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সুজন গোডাউনে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

    উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদ জানান- সুজন একজন খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী, কিন্তৃ তিনি খোলা বাজারে সার বিক্রয় বা মজুত করার বৈধতা রাখেন না।

  • জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জীবিত মাকে সরকারি কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদের ভিত্তিতে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।

    সম্প্রতি মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই জমি ও বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও পুকুর দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।

    পরে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—জীবিত রহিমাকেই কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে।

    দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমির ক্রেতা পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান।

    দলিলের সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: হোসেন মিয়া। দলিলটি সম্পাদন করেন দলিল লেখক ঝন্টু সরকার।

    জীবিত নারীকে ‘মৃত’ বানানোর প্রমাণ মিলল সরেজমিনে

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলিলে যাকে মৃত দেখানো হয়েছে সেই বৃদ্ধা রহিমা জীবিত। নিজের বাড়ির সামনে বসে থাকা ওই বৃদ্ধা ক্ষোভ ও অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমি তো মরছি না। তা অইলে কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

    এ সময় তার পাশে ছিলেন আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম, ছোট ছেলে অলি মিয়া, ছোট ছেলের স্ত্রী হাফছা বেগম ও একমাত্র মেয়ে রোকিয়া বেগম।

    আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখেও মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, আব্দুল জলিল জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও পরিবারের আরো জমি বিক্রি করেছেন তিনি।

    ছোট ছেলে অলি মিয়া বলেন, ‘তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত এবং ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।’ জুয়ার দেনা পরিশোধ করতেই মাকে মৃত দেখিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অলি মিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘মা যদি মারা না গিয়ে থাকেন, তাহলে তার ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিলো? সেই কাগজের ভিত্তিতে ওয়ারিশান সনদই বা কীভাবে হলো? আর এসব কাগজ দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কীভাবে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হলো?’

    দলিল লেখক বলছেন, ‘দায়িত্ব আমার নয়’

    অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, ‘আমাকে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়া হয়েছে। সেগুলো দেখেই দলিল সম্পন্ন করেছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: হামিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখছি।’

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

  • ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা আক্তার নামে চার বছরের এক শিশু। এ সময় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তার মৃত্যু হয়েছে। এতে তার বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধীতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ও ফারজানা আক্তার দম্পতি তাদের মেয়ে আয়েশা আক্তারকে নিয়ে ধীতপুর এলাকায় তার নানা মন্তাজের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সকালে বাড়িতে একটি মাটির ঘরে বাবা সিদ্দিক তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেয়াল ধসে বাবা ও শিশুর ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় এবং বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। আহত সিদ্দিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন। তিনি বলেন, নিহত শিশুর বাবা সিদ্দিক নিজেও অসুস্থ, তাই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

  • ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অপর এক সার ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে খুচরা সার বিক্রেতা নুর এ আলমের গোডাউন থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৩৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি ও ৮৫ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দ করা সার উচাখিলা ইউনিয়নের মূল সার ডিলার শামছুল হকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সার অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় উচাখিলা ইউনিয়নের ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হকের ছেলে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অপরদিকে, একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একই আইনে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান অপরাধের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান জানান, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছে। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সার ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরীতে পশু চিকিৎসক মো: আশিকুর রহমানকে চেম্বারে ঢুকে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগের মামলায় আফরিন রশিদ সেঁজুতি (২০) নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৩ আগস্ট) নগরের আকুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরের জিলা স্কুলের পাশের একটি গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে চেম্বার পরিচালনা করেন পশু চিকিৎসক ডা: আশিকুর রহমান। সেখানে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ বিক্রি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন তার চেম্বারে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও চেম্বারে ভাঙচুর করা হয়।

    ঘটনার ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে এক নারীকে চিকিৎসককে জুতা দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

    চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদ, ঈশানের স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় চেম্বারের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসক।

    এ ঘটনায় চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি ডা: আশিকুর রহমানের।

    শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি, সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

    এদিকে, হামলার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসক বলেন, চাঁদা দাবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধও থাকতে পারে। প্রায় এক বছর আগে একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফরিন রশিদ সেঁজুতির সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখির পেছনে তার হাত রয়েছে—এমন ভুল ধারণা থেকেও তার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পোষা বিড়াল মারা যাওয়ায় ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসকের ওপর হামলা’ শিরোনামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল তদন্ত শুরু করে। ভিডিও পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে শনাক্ত করে রোববার আকুয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলার ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়।

    এ ঘটনায় গ্রেফতার আফরিন রশিদ সেঁজুতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সাথে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

  • ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জালে অবিশ্বাস্যভাবে ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর এলাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তি নিকটবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জাল দিয়ে ছোট মাছ ধরতে গেলে জালে অন্যান্য ছোট মাছের সাথে একটি ইলিশ মাছও ধরা পড়ে। ইলিশটি ৬ থেকে ৭ শ’ গ্রাম ওজনের। মাছটি দেখতে একটু লম্বাটে।

    ইলিশ মাছ সাগর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর মাছ হিসেবে পরিচিত বলে ব্রহ্মপুত্র নদে এই মাছ দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন।

    ইলিশ মাছটি ব্রহ্মপুত্রে কিভাবে এলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘ইলিশ ডিম দেয়ার জন্য সাগর থেকে মেঘনা নদীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে পরিভ্রমণ করে। মেঘনা নদীর সাথে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ থাকায় সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে হয়তো পথ ভুলে ইলিশ মাছটি এখানে চলে এসেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ মাছের খাবার উপযোগী প্লাঙ্কটনের উপস্থিতি কম থাকায় এই মাছটি খেতে মেঘনার ইলিশের মতো এতটা সুস্বাদু হওয়ার কথা নয়।’

  • ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুরা হলো- সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তারা পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

    ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

    ময়মনসিংহে কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
    সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’

    নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

    নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

    র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মরদেহের খণ্ডিত অংশগেুলো একটি বড় ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে আলাদা তিনটি পলিব্যাগে রাখা ছিল।

    নিহত আবু রায়হান তালুকদার একই গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার ও রাহেলা খাতুনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আবু রায়হান নিজ বাড়িতে আসেন। রাতে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুও ওই বাড়িতে ছিল। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে রাজু তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে পৌঁছাননি।

    দুই দিন পর আবু রায়হানের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, তিনি অফিসে যোগ দেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

    খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা দু’জনই মাদকাসক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, পুকুর থেকে ট্রাভেল ব্যাগবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

  • ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও ও নান্দাইল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চর মহিশকুড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে রাতুল (১৯) ও চর মহিশকুড়া গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে বাদল মিয়া (৪৯)।

    গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগড়া গ্রামের রাতুল একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে তিনি একটি ফিশারিতে মাছের খাদ্য দিতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ফিশারিতে বিদ্যুতায়িত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা রাতুলকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে চর মহিশকুড়া গ্রামের বাদল মিয়া সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের সুইচ চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় বিষয়ে নিহত রাতুলের চাচা আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ফিশারিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান ও পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক দু’টি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    ময়মনসিংহে যুবলীগের এক কর্মীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার দায়ে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারীর নাম আফরোজা শেখ ওরফে ইতি। তিনি নিহত যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে সপুর (২৫) দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।

    রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এজলাশ থেকে বের করার সময় আফরোজাকে বিমর্ষ হওয়ার বদলে হস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কারাগারে পাঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসতে হাসতে বলতে থাকেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।’

    আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।

    নুরুন্নাহার, মামলার বাদী ও নিহত শফিকুল ইসলামের মা

    রায়ের পর নিহত শফিকুল ইসলামের মা ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার জানান, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনার পর তিন দিন ধরে খোঁজাখুঁজির নাটক করে আফরোজা। আমার ছেলে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।’

    আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরের বাঁশবাড়ী কলোনি এলাকার বাসিন্দা সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রথমে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে আফরোজা শেখকে বিয়ে করেন শফিকুল। একপর্যায়ে আফরোজা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের ১০ জুন আফরোজা শেখ পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে প্রায় ২০০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পাশের একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

    ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় লোকজন পুকুরে মানুষের একটি হাত ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    এ ঘটনায় শফিকুলের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় পুত্রবধূ আফরোজা শেখ ও তাঁর বড় ভাই দীন ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে আফরোজা শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি একজন নারী এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আফরোজা শেখের ভাই শেখ সাব্বির বলেন, তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাঁর দাবি, তাঁর বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সাব্বিরের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাঁদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর বোন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর একটি সন্তান থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। তাঁরা শুরু থেকেই খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।

  • সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সালিশে নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামে বাদল মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রাবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরি সন্দেহে একই গ্রামের শারফুলের ছেলে রানাকে (২০) বাড়ি থেকে ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে যান লোকজন। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে রানাকে বিএনপি অফিসের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    নাতির চিৎকারে বৃদ্ধ দাদা মো. নবী হোসেন এগিয়ে যান। এ সময় সালিশে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নাতিকে চোর আখ্যা দিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেনকে ধরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় নবী হোসেনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ভাতিজা জলিল জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা নবী হোসেনও মারধরের শিকার হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা সেতুর পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, পুকুর থেকে উদ্ধার শিশুর ভাসমান লাশ

    খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, পুকুর থেকে উদ্ধার শিশুর ভাসমান লাশ

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে মো: রবিউল ইসলাম (৬) নামের এক শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নের ঝালরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মো: আবু সালেকের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশু রবিউল বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০০ গজ দূরে রফিক প্রফেসরের পুকুরে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তার মা।

    মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক

    বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রুপন মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুপন মিয়া সূর্যনগর পূর্ব পাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেল জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় স্ট্যান্ড ফ্যান দিয়ে ধান ওড়ানোর সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • ময়মন‌সিংহে উচ্ছেদ অভিযান : শতা‌ধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো সিটি করপোরেশন

    ময়মন‌সিংহে উচ্ছেদ অভিযান : শতা‌ধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো সিটি করপোরেশন

    ময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দখল-দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।

    সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় স্থায়ী-অস্থায়ী ঘর, টিনশেড ও দোকানপাট।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকনোজ্জামান রোকন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন।

    দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি পেয়ে সাধারণ পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অবৈধ দখলের কারণে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।

    সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে ও কাইলাটী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— সাপমারা গ্রামের নান্টু মিয়ার ছেলে মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি (৫৫) ও কুতুবপুর গ্রামের মরহুম জয়নাল আবেদিনের ছেলে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া (৫৩)।

    জানা যায়, মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তার লাশ উদ্ধার করে।

    অপরদিকে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া একই সময় বৃষ্টির মধ্যে বিলে পেতে রাখা জাল তুলতে যান। এ সময় বজ্রপাতে বিলের মধ্যেই তিনি আহত হন। পরে বৃষ্টি শেষে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে ওই দুই পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

    নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন সরকার সাংবাদিকদের জানান, বজ্রপাতে সদর উপজেলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

  • গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সালেহা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

    নিহত সাদ্দাম মিয়ার স্ত্রী এবং দুই ছেলে-মেয়ে জননী সে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। এরই একপর্যায়ে সালেহা বেগম অভিমান করে শনিবার সকালে স্বামী-সন্তানরা বাড়ির বাইরে চলে যাওয়ার পর নিজ বসতঘরে আড়ার সাথে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। ছেলে তানভীর (৭) ঘরে এসে মাকে ঝুলন্ত দেখে চিৎকার দিলে বাড়ি লোকজন দৌঁড়ে আসে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠিয়েছে।

    গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করি। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • গফরগাঁওয়ে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, ৫ জনকে জরিমানা

    গফরগাঁওয়ে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, ৫ জনকে জরিমানা

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন জায়গায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (সংশোধিত) এর আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর, গফরগাঁও বাস্তবায়নে এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনির নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

    অভিযানে গফরগাঁও থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ১৭৫০ মিটার ৩৫টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এসময়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়।

    এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘মৎস্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলেদের এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকার এক দিন পর শূন্যরেখায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে পরিবারের পক্ষ ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের কাছে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে হস্তান্তর করে বিজিবি ও থানা পুলিশ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেনসহ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিবারের সদস্যরা।

    এর আগে, একইদিন সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয়া হয় ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

    ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ভাই ভবানী বর্মন বলেন, দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চান্দলাই গ্রাম থেকে আমার ভাই ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৮) নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, বুধবার (১০ জুন) সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছ দিয়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে জোর করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ সদস্যরা। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর বাধার কারণে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরে বৃহস্পতিবার তাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধারের পর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

  • ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

    ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

    ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ময়মনসিংহের আলালপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানা গেছে।

  • মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরির ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার দু’জন হলেন— মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মো: সিরাজুলের ছেলে সৌরভ মিয়া (৩০) ও মো: আবুল কালাম কালু মিয়ার ছেলে মো: জনি (২৫)। বুধবার (১৩ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    বাদীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার বিরাশি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো: আশরাফুল আলমের বাবা আব্দুল মোতালেব জমি কেনার জন্য ৩৫ লাখ টাকা ঘরে রেখে সম্প্রতি হজে চলে যান। আশরাফুলের মায়ের শোবার ঘরে একটি স্টিলের ট্র্যাংকে টাকাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। গত ১ মে সন্ধ্যার দিকে আশরাফুলের মা মোসা: হাছিনা বেগম ঘরে তালা দিয়ে পাশের বাড়িতে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজার তালা ও স্টিলের ট্র্যাংকের তালা ভেঙে চোর ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।

    এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার দু’জনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার সৌরভ ও জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শাহাজাহানপুর থানার এ/২৮ শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় সৌরভ মিয়ার ভাড়া বাসার শোবার ঘরের ভেতর থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে গ্রেফতার সৌরভের খালা শারমিন আক্তার শিখার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চর কুষ্টিয়া গ্রামের গোয়াল ঘরের মাচার নিচ থেকে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার দু’জনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন চোর আটক হওয়ায় শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ সংলগ্ন একটি মেয়েদের মেসে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করতে গিয়ে এক যুবক শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির হেফাজতে নেওয়া হয়।

    এর আগে, ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের ওয়াশরুম থেকে পানির কল চুরির সময় সালমান রাফি নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন। পরে তাকে ত্রিশাল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    ওই ঘটনার তিন দিন পর, ২২ এপ্রিল একই এলাকায় আবারও চুরি এসে ধরা পড়ে আরেক যুবক। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা ও একাডেমিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলছেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত টহলের অভাব এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকায় চুরির ঘটনা বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    A M

  • ১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

    ১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

    দীর্ঘ ১৮ বছর পর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। রোববার (১০ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শাহবাজ মিয়া (৫৮), হানিফা (৫০) ও মো: রফিকুল ইসলাম (৫৩)।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ছয়জন অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর তিনজনকে খালাস দেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে উপজেলার শিলাসী গ্রামে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর নিহতের ছেলে কাজল মিয়া গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণে তিনজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাসুদুল আলম খান তান্না এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান।

  • ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরাইয়া আক্তার (১১ মাস) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী চৌরাস্তা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুরাইয়া আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট কড়ইতলা এলাকার ছমির উদ্দিনের মেয়ে। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি তার দাদি সনি খাতুনের কোলে ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু সুরাইয়া আক্তার তার মা ও দাদির সাথে নানার বাড়ি উপজেলার উথুরা থেকে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলি এলাকায় যাচ্ছিল। পথে ভরাডেবা-ঘাটাইল সড়কের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দাদি সনি খাতুন ও তার কোলে থাকা শিশু সুরাইয়া আক্তার ছিটকে নিচে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুর দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু ফারহান আহমেদ শুক্রবার (৮ মে) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে ধামশুর মামারিশপুর সড়কে হালিমুন্নেছা চৌধুরানী বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় গুরুতর আহত হয় সে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশুর (উত্তর পাড়ার) গ্রামের লিটন আহমেদের ছেলে স্থানীয় হলিব্রাইড কিন্ডারগার্টেনের প্লে গ্রুপের ছাত্র ফারহান আহমেদ বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের সাথে হেঁটে তার স্কুলে যাচ্ছিলো। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছলে শিশুটি মায়ের হাত ছেড়ে দৌড়ে স্কুলে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত শিশুর বাবা লিটন আহমেদের বন্ধু নাহিদ।

  • মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় তুমুল সংঘর্ষ

    মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় তুমুল সংঘর্ষ

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা সদরে যানজট নিয়ে ট্রলি ও ভ্যানচালকের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আটানি বাজার ছোট মসজিদ মোড় ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটানি বাজার এলাকায় যানজট নিয়ে তারাটি ইউনিয়নের একটি ট্রলি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার একটি ভ্যানের চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় দোকানি সোহেল বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহেল ও তার ভাইয়ের দুটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আটানি বাজার ছোট মসজিদ মোড়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার দুপাশের অন্তত ১০/১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ইট-পাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র‌্যাব-১৪ সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। কারও ইন্ধন পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ফুলপুরে ২৪ হাজার লিটার প্রেট্রোল ও ডিজেল জব্দ

    ফুলপুরে ২৪ হাজার লিটার প্রেট্রোল ও ডিজেল জব্দ

    ময়মনসিংহের ফুলপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পেট্রোল ও ডিজেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানে ১৯ হাজার ৫শ লিটার ডিজেল ও ৪ হাজার ৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। এসব তেল লাইসেন্স ব্যতীত অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রি করার সত্যতা পাওয়ায় পপি ট্রেডার্সের মালিক হাবিবুর রহমানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    জব্দ করা পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী বিক্রির জন্য নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেল সংকট চলছে। এ অবস্থায় ওই ব্যবসায়ী পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করে লাইসেন্স ব্যতীত অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন।

    ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যেন কেউ ফায়দা নিতে না পারে সেজন্য সব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • হালুয়াঘাটে সুপারি চুরির অভিযোগে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা!

    হালুয়াঘাটে সুপারি চুরির অভিযোগে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা!

    ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারি চুরির অভিযোগে ইমন নামের ৯ বছরের এক শিশুকে ঘরে আটকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ইমন (৯) বাউসা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। অভিযোক্ত ব্যক্তির নাম আতাহার আলী (৩২)। তিনি নিহত শিশু ইমনের প্রতিবেশী।

    স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন আগে শিশু ইমনের বিরুদ্ধে সুপারি চুরির অভিযোগ তুলে আতাহার আলী। পরে সালিশ বসে তাকে জরিমানা করা হয়। আজ সন্ধায় ইমনকে আতাহার ঘরে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে৷ পরে স্থানীয়রা জানতে পারলে পালিয়ে যায় আতাহার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

    স্থানীয় এক নারী জানান, সামান্য সুপারি চুরিকে কেন্দ্র করে ইমনকে ঘরে আটকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।

  • ফুলবাড়িয়ায় আল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ বছরপূর্তি

    ফুলবাড়িয়ায় আল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ বছরপূর্তি

    ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ বছরপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রথম পুনর্মিলনী আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৩ মার্চ) শিবগঞ্জ হাট কালির বাজারের বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী বাস্তবায়ন পরিষদের আয়োজনে এতে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ অন্যরা অংশগ্রহণ করেন।

    বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়িয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন।

    এর আগে পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মহিমা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ অন্যরা।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবাইদ ফেরদৌস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার রিজভী আহমেদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লাইলী আক্তার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বাদশা, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. আব্দুর রাজ্জাক, ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ও গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্যরা। মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এটিএন বাংলা টেলিভিশনের উপস্থাপক মারিয়া শিমু, প্রাক্তন ছাত্র সরকারি কর্মকর্তা শফিক, তাসলিমা ফেরদৌসী শিমু এবং মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

    অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করে পুনর্মিলনী বাস্তবায়ন পরিষদ।

  • প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ১২ নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন তিনি। ফেরার পথে হঠাৎ তার নজরে আসে সড়কের পাশেই একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার সাথে সাথেই তিনি তার গাড়ি বহর থামিয়ে মানবিক কাজে অংশ নেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির জানান, ‘সরকারি প্রটোকল উপেক্ষা করে গাড়ি থেকে নেমে সোজা কবরস্থানে চলে যান তিনি। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে তিনি নিজেই কবরে নেমে পড়েন এবং মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। একজন মন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে আমরা অভিভূত হই।’

    উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে সাধারণ মানুষের লাশের খাটিয়া ধরবেন এবং কবরে নেমে দাফন করবেন, এটা কল্পনাও করা যায় না। তার এই সাদামাটা জীবন আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’

    জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘পদের অহংকার ভুলে মাটির মানুষের কাছে ফিরে আসার এই দৃশ্য বর্তমান সময়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত। একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক আচরণ সমাজের অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

    দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সবার সাথে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি । এরপর তিনি পুনরায় তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক কাজের ছবি ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন।

  • ধোবাউড়ায় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতে আগুন

    ধোবাউড়ায় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতে আগুন

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত তিনটার পর উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের ডোমগাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই নেতা। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

    জানা গেছে, জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলি হোসেনের ছেলে। তার গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী, দুই সন্তান ও বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বসবাস করেন।

    মো. সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছিল। আগুন দেওয়ার ঘটনার পরও আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলা হয়েছে— ‘তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।’ এ ঘটনায় আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।”

    এর আগে গত ১০ মার্চ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিছু মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই পোস্টে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।’

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব আলী হোসেন এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি লাকড়ির ঘরে আগুনের চিহ্ন এবং বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

  • ময়মনসিংহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ বস্তা চাল জব্দ

    ময়মনসিংহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ বস্তা চাল জব্দ

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের ১৪ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সিলমোহরযুক্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ইছাক মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২২) এর বসতঘর ও দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চালের মোট পরিমাণ ৪২০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, সরকারের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে মজুত বা বিক্রির চেষ্টা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান চলমান থাকবে।

    তিনি আরও জানান, জব্দ করা চাল বর্তমানে উপজেলা পরিষদে প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার এসব চাল গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

  • সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় কৃষিবিজ্ঞানে যুক্ত হলো নতুন এক পালক। উচ্চফলন, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে আমন ধানের দুটি নতুন জাত— ‘বিনা ধান ২৭’ ও ‘বিনা ধান ২৮’। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারাদেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮টি। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক দল এই দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উদ্ভিদ প্রজননবিদরা এতে পিআই নাইন ও পিশ নামক দুটি কার্যকর প্রতিরোধী জিন সংযোজন করেছেন, যা ব্লাস্ট রোগের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বিনা ধান ২৭ সম্পর্কে জানান, ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।’

    ওই বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে জানান, বিনা ধান ২৮ উন্নত সংকরায়ন ও মার্কার এসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল, সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালবিশিষ্ট আমন ধানের জাত। আমরা বিশ্বাস করি, এটি কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও বলেন, এই ধানের জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ৫ টন। চালের অ্যামাইলোজ ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হওয়ায় ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয়। সুগন্ধি হলেও এই জাত চাষে বাড়তি কোনো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন নেই, যা উৎপাদন খরচ কমাবে। বাজারে এই জাতের চাল ‘গরিবের পোলাও’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান ২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ—সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • মাছ ধরতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলল দুই বস্তা সরকারি ওষুধ

    মাছ ধরতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলল দুই বস্তা সরকারি ওষুধ

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে দুই বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সময় বস্তাগুলো দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশকে এগুলো উদ্ধার করে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বুধবার (১১ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলেরা। এ সময় জাল টেনে তোলার সময় মুখ বাঁধা দুটি বড় পাটের বস্তা তাদের চোখে পড়ে।

    বস্তার ভেতরে মরদেহ থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়রা গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাগুলোর মুখ খুলে দেখে, ভেতরে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। এরপর পুলিশ বস্তাভর্তি ওষুধ থানায় নিয়ে যায়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো ২০২৩ সালের। সে সময় কেউ হয়তো বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। বস্তায় ভরা থাকায় এবং ওষুধের প্যাকেট সহজে নষ্ট না হওয়ায় সেগুলো নদীর তলদেশে এতদিন রয়ে গেছে।

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইউটিউবই ছিল শিক্ষক, বিটরুট চাষে সফল আজিজুল

    ইউটিউবই ছিল শিক্ষক, বিটরুট চাষে সফল আজিজুল

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের পোল্ট্রিপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক প্রতি বছর নিজের জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে সম্প্রতি ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিটরুট চাষের খবর দেখে তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী হন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নিজের জমিতে বিটরুট চাষ করে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। এখন তার এই সাফল্য দেখে এলাকায় আরও অনেক কৃষক এই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    উপজেলা ও স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিটরুট একটি বিদেশি সবজি। এটি সালাদ, সবজি ও জুসের জন্য অভিজাত হোটেলগুলোতে চাহিদাসম্পন্ন। বিভিন্ন ওষুধি গুণসম্পন্ন এই সবজিটিকে সুপারফুড হিসেবে পরিচিতি আছে। যদিও শীতকালে উৎপাদন বেশি হয়, এখন প্রায় সব সময়ই বাজারে এই সবজি পাওয়া যায়। ডিসেম্বর মাস বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। রোপণের পর প্রায় ৭৫-৮০ দিন সময় লাগে বাজারজাত করার জন্য।

    গত বছর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আজিজুল হক তার জমির ৫ শতাংশে বিটরুট চাষ করেছিলেন। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪৬০ টাকা, আর বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রথমবারের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে চলতি বছর তিনি ১৭ শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ শতাংশ জমির উৎপাদিত বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার টাকায়। বাকি ১৫ শতাংশ জমির বিটরুট বিক্রি করে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

    কৃষক আজিজুল হক বলেন, ইউটিউবে বিটরুটের চাষাবাদ দেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই সবজি চাষ করি। ভিনদেশি এই সবজির চাষাবাদের খবর শোনে প্রথম দিকে অনেকেই হাসাহাসি করেছে। পরে সফলতা ও চাহিদা দেখে এখন অনেক কৃষক এই সবজি চাষাবাদের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করছে।

    উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিটরুটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপারসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রথমদিকে এই সবজি কেউ করতে আগ্রহী ছিল না। আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় আশেপাশের অনেক গ্রামের কৃষকও বিটরুট চাষ শুরু করেছেন।

    ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিটরুট চাষ অত্যন্ত সহজ এবং খরচও কম। অনেক লাভ হয়। আগে কৃষকরা এটি জানতো না। এখন অনেকেই এই ফসল চাষে আগ্রহী।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও নিয়মিত তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

  • ময়মনসিংহে পাম্পে নেই জ্বালানি, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ময়মনসিংহে পাম্পে নেই জ্বালানি, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ময়মনসিংহের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো খোলা আছে সেগুলোর সামনে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অনেক পাম্পের সামনে “স্টক শেষ” বা “তেল নেই” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা গেছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ময়মনসিংহ শহরের পুলিশ লাইন, বাইপাস মোড়সহ নান্দাইল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে নতুন করে তেল সংগ্রহ করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে আনা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে তেল আনতে গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ পেলেই পুনরায় বিক্রি শুরু হবে।

    তেল সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ সাধারণ চালকরা। হাজারীবাগ এলাকার ট্রাকচালক রিয়াজ বলেন, পটুয়াখালী থেকে তরমুজ নিয়ে ভালুকা আসছি, প্রায় ৩৫টি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। কোথাও পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের বেশি দিচ্ছে না।

    ভালুকার মেদুয়ারী এলাকার মোখলেস নামে একজন বলেন, পাম্পে তেল না থাকায় খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

    ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রমজান বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব পাম্প ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। এ সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

    একই চিত্র তুলে ধরে ময়মনসিংহ সদর এলাকার রায়হান হাবিব বলেন, তারাকান্দা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কোথাও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, তবে খোলা বাজারে মিলছে।ভালুকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোস্তফা বলেন, গ্যাস ও ডিজেল পাওয়া গেলেও অকটেন নেই। সহকারী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার শাওন বলেন, সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের অকটেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • ঈদের দিন সড়কে প্রাণ গেল দুইজনের, আহত ৩

    ঈদের দিন সড়কে প্রাণ গেল দুইজনের, আহত ৩

    শনিবার দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় শিমুলিয়া ভান্ডারির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার রুবেল (২০) ও রিতি (৮)। তারা সিএনজির যাত্রী ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সিএনজি নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই রুবেল মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রিতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

    দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ পাঠানো হয়েছে।

    এম কে

    ০১৭১৩৯১৮৬৫৯

  • ময়মনসিংহে চার গাড়ির সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ২, আহত ৬

    ময়মনসিংহে চার গাড়ির সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ২, আহত ৬

    শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকায় ১২টার দিকে উপজেলার ভরাডোবা এলাকার ক্লাবের বাজারে তাফরিদ কটন মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই লেনে থাকা সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাতনামা এক নারী ও এক বৃদ্ধ নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিনারা বলেন, দুইজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে।

    ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

    রোববার বিকালে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা উত্তর ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তার বাবা দক্ষিণ জেলা উলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
    বিজ্ঞাপন

    জানা যায়, সন্ধ্যায় গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন।

    ইকবাল হোসেনের সমর্থকদের অভিযোগ, সমাবেশ শেষে শহরে ফেরার পথে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলকর্মী আবিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর রাতে ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের পক্ষে গৌরীপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক প্রমুখ।

    তাদের দাবি, মনোনয়নবঞ্চিত হিরণপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে ইকবাল সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হিরণ সমর্থকদের ধাওয়ায় মাটিতে পড়ে আবিদ গুরুতর আহত হন।

    এদিন বিকালে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালপন্থিরা গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে এবং আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণপন্থিরা শহরের মধ্যবাজার ধানমহাল এলাকায় আলাদা সমাবেশের আয়োজন করে। বিকাল ৪টা থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, যার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

    গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় আবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    বিএ

  • ময়মন সিংহের ১৫ কলেজে শতভাগ ফেল!

    ময়মন সিংহের ১৫ কলেজে শতভাগ ফেল!

    ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডে শতভাগ পাশ করেছে ৩ টি কলেজে। কেউ পাশ করেনি ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ।

    প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ৩০৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৯ হাজার ২৩৭ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ হাজার ৯৬ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৪ শিক্ষার্থী। শাখাভিত্তিক পাসের হার সবচেয়ে কম ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়।

    শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, জেলার ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার আবদুল জব্বার রাবেয়া খাতুন গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।

    ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ৭টি, জামালপুরের ২টি, শেরপুরের ২টি ও নেত্রকোনার ৪টি কলেজ আছে। এই ১৫টি কলেজ থেকে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন ১৩২ জন। এর মধ্যে ১০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী ছিল চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থী ২ থেকে ৯–এর ঘরে ছিল।

    এবার জিপি এ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৪৮ জন। এ বছর পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪।